
ঘূর্ণিঝড় আম্ফানের আঘাতে ভেঙে যাওয়া সাতক্ষীরার আশাশুনি উপজেলার প্রতাপনগরের গড়ইমহল সড়ক ছয় বছরেও মেরামত হয়নি। ভাঙা অংশে স্থানীয় উদ্যোগে নির্মিত অস্থায়ী বাঁশের সাঁকো দিয়ে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করছেন সাত গ্রামের কয়েক হাজার মানুষ।
স্থানীয় সূত্র জানায়, ২০২০ সালে ঘূর্ণিঝড় আম্ফানের সময় জলোচ্ছ্বাসের তীব্র স্রোতে সড়কটির একটি বড় অংশ বিলীন হয়ে যায়। এরপর দীর্ঘ সময় নৌকায় পারাপার করে চলাচল করতে হয়েছে এলাকাবাসীকে। পরে ইউনিয়ন পরিষদের সীমিত সহায়তা ও স্থানীয় মানুষের উদ্যোগে বাঁশের সাঁকো নির্মাণ করা হয়।
সড়কটি সাত গ্রামের মানুষের প্রধান যোগাযোগপথ। প্রতিদিন শিক্ষার্থী, কৃষক, ব্যবসায়ী, চাকরিজীবীসহ নানা শ্রেণি-পেশার মানুষ এই পথ ব্যবহার করেন। তবে ঝুঁকিপূর্ণ সাঁকো দিয়ে চলাচল করতে গিয়ে প্রায়ই দুর্ঘটনার শিকার হচ্ছেন পথচারীরা।
স্থানীয় বাসিন্দা রানুফা খাতুন বলেন, আম্ফানের সময় তাদের ভিটাবাড়ি নদীগর্ভে বিলীন হয়ে যায়। দীর্ঘ ১১ মাস সাইক্লোন সেন্টারে আশ্রয় নিয়ে থাকতে হয়েছে। তিনি বলেন, সবচেয়ে বড় কষ্ট হচ্ছে সন্তানদের লেখাপড়া নিয়ে। নিরাপদ রাস্তা না থাকায় স্কুল-কলেজে যাতায়াতে সমস্যায় পড়তে হচ্ছে।
আরেক বাসিন্দা খালেক গাজী বলেন, ছয় বছর ধরে শুধু আশ্বাস শুনছি। আগে নৌকায় পার হতে হতো, এখন বাঁশের সাঁকো দিয়ে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে চলতে হচ্ছে। কেউ অসুস্থ হলে দ্রুত হাসপাতালে নেওয়ারও ব্যবস্থা নেই।
নাকনা গ্রামের বাসিন্দা চিকিৎসক নিহার সরকার বলেন, এই সড়ক দিয়ে প্রতাপনগর ইউনিয়ন পরিষদ, বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও স্থানীয় বাজারে যাতায়াত করা হয়। সড়কটি ভেঙে যাওয়ায় পুরো এলাকার যোগাযোগব্যবস্থা মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে।
শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, বাঁশের সাঁকো দিয়ে চলাচলের সময় প্রায়ই দুর্ঘটনা ঘটে। অনেকেই পড়ে গিয়ে আহত হয়েছে। বর্ষা মৌসুমে দুর্ভোগ আরও বেড়ে যায় বলে জানান স্থানীয়রা। সাঁকো পিচ্ছিল হয়ে গেলে শিশু ও বৃদ্ধদের চলাচল অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে ওঠে।
প্রতাপনগর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আবু দাউদ ঢালী বলেন, কুড়িকাহুনিয়ার কাঁঠালতলা থেকে মকবুল দোকানদারের বাড়ি পর্যন্ত প্রায় ৭০০ ফুট সড়ক বিলীন হয়েছে। সেখানে অস্থায়ী বাঁশের সাঁকো নির্মাণ করা হলেও মানুষের দুর্ভোগ কমেনি। তিনি দ্রুত স্থায়ী সড়ক নির্মাণের দাবি জানান।
আশাশুনি উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা মো. আমিরুল ইসলাম বলেন, বাজেট স্বল্পতার কারণে স্থায়ী সংস্কারকাজ করা সম্ভব হয়নি। স্থানীয় চাহিদার ভিত্তিতে ২০২৩-২৪ অর্থবছরে প্রায় ৩ লাখ ৯৪ হাজার টাকা ব্যয়ে অস্থায়ী ভাসমান বাঁশের সাঁকো নির্মাণ করা হয়েছে।
তিনি বলেন, জায়গাটি গভীর হওয়ায় বিপুল পরিমাণ মাটি ভরাট প্রয়োজন, যা ব্যয়বহুল। প্রয়োজনীয় বরাদ্দ পেলে ভবিষ্যতে স্থায়ী উদ্যোগ নেওয়া হবে।




