
রংপুরের মিঠাপুকুর উপজেলায় টেন্ডার প্রক্রিয়া ছাড়াই প্রায় ৬ লাখ টাকার গাছ কেটে বিক্রি করার অভিযোগ উঠেছে একটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) কাছে লিখিত অভিযোগ করা হয়েছে।
মঙ্গলবার (৫ মে) বিকেলে অভিযোগের বিষয়টি নিশ্চিত করেন মিঠাপুকুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. পারভেজ।
অভিযুক্ত নিরুপমা রাণী উপজেলার ভাংনী মাঠেরহাট সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক।
অভিযোগপত্র ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, কোনো টেন্ডার ছাড়াই বিদ্যালয় প্রাঙ্গণের ১০টি কাঁঠাল গাছ, ১টি শিশু গাছ, ২টি কড়ই গাছসহ কয়েকটি গাছ কেটে বিক্রি করা হয়। এসব গাছের আনুমানিক মূল্য প্রায় ৫ থেকে ৬ লাখ টাকা। অভিযোগে বলা হয়, গাছ কাটার সময় এলাকাবাসীকে জানানো হয়েছিল এগুলো সরকারি টেন্ডারের মাধ্যমে বিক্রি করা হয়েছে। পরে স্থানীয়রা জানতে পারেন, কোনো টেন্ডার হয়নি।
অভিযোগে আরও বলা হয়, সহকারী শিক্ষা কর্মকর্তা ও স্থানীয় কয়েকজনের সহযোগিতায় গাছগুলো কেটে বিক্রি করে অর্থ আত্মসাৎ করা হয়েছে। এছাড়া বিদ্যালয়ের বাউন্ডারি ওয়াল নির্মাণকাজের সময় এক স্থানীয় কাঠ ব্যবসায়ীর কাছ থেকে ভয়ভীতি দেখিয়ে ৫ হাজার টাকা নেওয়ার অভিযোগও রয়েছে।
অভিযোগকারী ও স্থানীয় বিএনপি নেতা মোসলেম উদ্দিন বলেন, বিদ্যালয়ের বাউন্ডারির পাশের জমিতে থাকা গাছ কাটার পর সেটি স্কুলের দাবি করা হয় এবং পরে মামলা করার ভয় দেখিয়ে তার স্ত্রীর কাছ থেকে টাকা নেওয়া হয়। এছাড়া বাউন্ডারি নির্মাণে অনিয়ম ও অর্থ আত্মসাতের অভিযোগও করেন তিনি।
স্থানীয় এক ভ্যানচালক জানান, স্কুল মাঠের একটি গাছ কাটার জন্য তাকে ৩৫০০ টাকায় ভাড়া করা হয়েছিল এবং কাটা কাঠ নির্দিষ্ট স্থানে নেওয়া হয়।
অভিযোগের বিষয়ে প্রধান শিক্ষক নিরুপমা রাণী বলেন, নিয়ম মেনেই টেন্ডারের মাধ্যমে চারটি কাঁঠাল গাছ ও একটি শিশু গাছ বিক্রি করা হয়েছে। তিনি বাউন্ডারি নির্মাণে অনিয়মের অভিযোগ অস্বীকার করেন।
একই সঙ্গে ৫ হাজার টাকা নেওয়ার বিষয়টি স্বীকার করে তিনি বলেন, এটি সহকারী শিক্ষা কর্মকর্তাকে জানিয়ে নেওয়া হয়েছে। তবে টেন্ডার সংক্রান্ত কোনো নথিপত্র তিনি দেখাতে পারেননি।
মিঠাপুকুর উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা নিখিল চন্দ্র দাস বলেন, তিনি সম্প্রতি যোগ দিয়েছেন। সহকারী শিক্ষা কর্মকর্তার কাছ থেকে শুনেছেন, এক বছর আগে নিয়ম মেনেই গাছগুলো বিক্রি করা হয়েছে। তবে অভিযোগ পেলে তদন্ত করা হবে বলে জানান তিনি।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. পারভেজ বলেন, বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে। তদন্ত শেষে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।




