
রংপুরে বদরগঞ্জে কিশোর গ্যাংয়ের দুই গ্রুপের সংঘর্ষে আরিফুল ইসলাম নামে এক ভ্যানচালক নিহত হয়েছেন।
মঙ্গলবার (৫ মে) বিকেল ৪টায় বালুয়াভাটা গ্রামে এই হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। নিহত আরিফুল পৌর শহরের ৯নং ওয়ার্ডের পাঠানপাড়া গ্রামের রেজাউল ইসলামের ছেলে।
পুলিশ ও এলাকাবাসী সূত্রে জানা গেছে, মঙ্গলবার রংপুর আদালতে একটি মামলায় কিশোর গ্যাংয়ের মমিনুল গ্রুপের পাঁচজন হাজিরা দিতে যান। একই মামলার আসামি কিশোর গ্যাংয়ের ফিরোজ শাহ ওরফে মার্ডার ফিরোজের নেতৃত্বে মমিনুল গ্রুপের ওপর হামলা করে। এতে মমিনুলসহ কয়েকজন আহত হন। তখন সেখানেই বিষয়টি মীমাংসা করা হয়।
পুলিশ জানায়, ওই ঘটনার জের ধরে বদরগঞ্জে বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে আবারও পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়। প্রতিশোধ নিতে মমিনুলের নেতৃত্বে তার লোকজন দেশীয় অস্ত্র নিয়ে ফিরোজ বাহিনীকে খুঁজতে থাকে। একপর্যায়ে ফিরোজ বাহিনীর কিশোর গ্যাংয়ের সদস্যের সঙ্গে সংঘর্ষে জড়ালে পাঠানপাড়া গ্রামের ভ্যানচালক আরিফুল গুরুতর আহত হন। হাসপাতালে নেওয়ার পর চিকিৎসক তাকে মৃত্যু ঘোষণা করেন।
নিহত আরিফুলের বাবা রেজাউল ইসলাম বলেন, ‘মোর বাবাক পাঠান পাড়ার লোকে বলে মারছে। মোর তিনটে ব্যাটার একটা ব্যাটাক বাচপার পাও নাই। আর দুইটার একটাক মারি ফেলাইলো। বাপের ঘারত ছেলের লাশ, এর চেয়ে দুঃখ পৃথিবীতে আর হয় না। আমার ছেলে কোনো অপরাধ করে নেই। আমি অপরাধীকে মানিয়ে নেওয়া লোক নোয়াই। আমি এর কঠোর বিচার চাই। উচিত বিচার চাই, না হলে আমি আত্মহত্যা করব।’
বদরগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জরুরি বিভাগের চিকিৎসক যাদোন্দ্রনাথ বলেন, রোগীকে হাসপাতালে নিয়ে আসার পথেই মারা গেছে। আমরা এখানে মৃত্যু পেয়েছি।
বদরগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) হাসান জাহিদ সরকার বলেন, কোর্টে আগের মামলার হাজিরা দিতে গিয়ে মারামারি হয়েছে। পাঠান পাড়ার লোকজন সঙ্গবদ্ধ হয়ে এসে একটা দোকান ভেঙে চলে যাওয়ার পর ফিরোজ গ্রুপ এসে একটা নিরীহ ছেলেকে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখে পাঠান পাড়ার নাম শুনে তাকে মেরেছে। ফিরোজের বিরুদ্ধে এর আগেও তিনটি হত্যা মামলাসহ ১১টি মামলা রয়েছে। নতুন করে এই ঘটনার এজাহার নেওয়া হচ্ছে।




