
জনপ্রিয় প্রতিভা অন্বেষণ কর্মসূচি ‘নতুন কুঁড়ি স্পোর্টস ২০২৬’ উদ্বোধন করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। শনিবার (২ মে) বিকেল পাঁচটায় সিলেট জেলা স্টেডিয়ামে পায়রা ও বেলুন উড়িয়ে দেশব্যাপী এই কর্মসূচি উদ্বোধন করেন তিনি।
অনুষ্ঠানে শিশু-কিশোরদের উদ্দেশে প্রধানমন্ত্রী বলেন, আগামীর বাংলাদেশ সম্পূর্ণরূপে নির্ভর করছে তোমাদের ওপর। তোমরা যত ভালোভাবে গড়ে উঠবে, বাংলাদেশ তত শক্তিশালী ভিত্তির ওপর দাঁড়াবে। আমাদের সময় প্রায় শেষ, এখন বাংলাদেশ তোমাদের দিকে তাকিয়ে আছে। আমরা শুরু করে দিয়ে যাব, তোমাদেরকে এগিয়ে নিতে যেতে হবে।
নতুন কুঁড়ি স্পোর্টস চালুর প্রেক্ষাপট তুলে ধরে তিনি বলেন, সাড়ে চার বছর আগে লন্ডনে বসে বর্তমান ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী আমিনুলকে সঙ্গে নিয়ে আমরা নতুন কুঁড়ি স্পোর্টস চালুর পরিকল্পনা করি।
সারা দেশ থেকে ভার্চুয়ালি যুক্ত খুদে খেলোয়াড়দের উদ্দেশে সরকারপ্রধান বলেন, তোমরা প্রত্যেকে বাংলাদেশের অ্যাম্বাসেডর হতে হবে, পারবে? তোমাদেরকে বাংলাদেশের দায়িত্ব নিতে হবে। কারণ, তোমরাই বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ। তোমাদের মধ্য থেকে ইনশাআল্লাহ ভবিষ্যতে আন্তর্জাতিক মানের খেলোয়াড় তৈরি হবে, ডাক্তার তৈরি হবে, আইনজীবী, ইঞ্জিনিয়ার, আর্কিটেক্ট তৈরি হবে। তোমাদের মধ্য থেকে নেতৃত্ব তৈরি হবে এবং তোমরা সামনে দেশকে এগিয়ে নিয়ে যাবে।
পড়াশোনায় মনোযোগ দেওয়ার পরামর্শ দিয়ে তিনি বলেন, পড়ালেখা করতে হবে। এই ক্ষেত্রে মাফ দেওয়া যাবে না। কিন্তু পাশাপাশি প্রত্যেককে খেলাধুলা করতে হবে। নিজেদেরকে তৈরি করতে হবে। মনে রাখবে, তোমাকে ঠিক করে নিতে হবে তুমি কী করবে। যখন লক্ষ্য স্থির করতে পারবে তখন সামনে যেতে হবে। খেলার ক্ষেত্রে হোক, পড়ালেখার ক্ষেত্রে হোক–আমরা সামর্থ্য অনুযায়ী তোমাদের পাশে আছি। সরকার, রাষ্ট্র তোমাদের পাশে আছে।
তারেক রহমান বলেন, এই বাংলাদেশ একসময় পরাধীন ছিল। আমাদের পূর্বপুরুষরা এই দেশকে স্বাধীন করেছেন অস্ত্র হাতে যুদ্ধ করে। বিভিন্ন সময়ে সমস্যা হয়েছে। ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট এই দেশের ছাত্র-জনতা এই দেশকে স্বাধীন করেছে। আবার আমরা সামনে এগিয়ে চলার পথ পেয়েছি।
অনুষ্ঠানে ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী আমিনুল হক ও ক্রীড়া সচিব এ এস এম মামুন কাওছার বক্তব্য দেন। এর আগে বাংলাদেশ ক্রীড়া শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বিকেএসপির শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণে ফুটবল, ক্রিকেট, কাবাডি, মার্শালাটসহ আট ধরনের প্রদর্শনী উপভোগ করেন অতিথিরা।
যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের তত্ত্বাবধানে আয়োজিত নতুন কুঁড়ি স্পোর্টস কর্মসূচি ক্রীড়া পরিদপ্তরের মাধ্যমে বাস্তবায়িত হচ্ছে। আশির দশকের বহুল জনপ্রিয় প্রতিভা অন্বেষণ কর্মসূচি ‘নতুন কুঁড়ি’র সফলতার ধারাবাহিকতায় আগামী দিনের খেলোয়াড় তৈরির একটি শক্তিশালী প্ল্যাটফর্ম হিসেবে ‘নতুন কুঁড়ি স্পোর্টস’কে দেখা হচ্ছে।
লেখাপড়ার পাশাপাশি খেলাধুলার মাধ্যমে ১২-১৪ বছর বয়সি শিশু-কিশোরদের সুপ্ত ক্রীড়া প্রতিভা অন্বেষণ, বাছাই এবং রাষ্ট্রীয়ভাবে তাদের মেধা বিকাশের সুযোগ সৃষ্টি করাই ‘নতুন কুঁড়ি স্পোর্টস’র মূল উদ্দেশ্য। মেগা এই ক্রীড়া আয়োজনে ৮টি ইভেন্ট অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। ক্রিকেট, ফুটবল, কাবাডি, অ্যাথলেটিক্স, দাবা, ব্যাডমিন্টন, সাঁতার ও মার্শাল আর্ট প্রতিযোগিতায় শিশু-কিশোররা তাদের প্রতিভা প্রমাণের সুযোগ পাবে।
নির্ধারিত সময়ে ১ লাখ ৬০ হাজার ৭৭৯ জন কিশোর-কিশোরী নতুন কুঁড়ির জন্য অনলাইন রেজিস্ট্রেশন সম্পন্ন করেছে। এর মধ্যে ১ লাখ ১৬ হাজার ৬৪৬ জন কিশোর ও ৪৪ হাজার ১৩৩ জন কিশোরী। পরিসংখ্যান অনুযায়ী সর্বোচ্চ ১৫ হাজার ৩২৪ জন আবেদনকারী রয়েছে সিলেট জেলায়। এরপরই ৯ হাজার ৩০৫ রয়েছে চট্টগ্রাম ও ৮ হাজার ৮৯৬ জন রয়েছে ঢাকায়।




