টানা বৃষ্টি, দমকা হাওয়া ও ঘনঘন বজ্রপাতের কারণে কিশোরগঞ্জের হাওরাঞ্চলে মারাত্মক কৃষি বিপর্যয় দেখা দিয়েছে। চারদিনের বৈরী আবহাওয়ার প্রভাবে প্রায় ৫ হাজার হেক্টর পাকা বোরো ধানের জমি পানির নিচে তলিয়ে গেছে।
সরেজমিনে দেখা গেছে, প্রতিকূল পরিস্থিতির মধ্যে কৃষকেরা জীবনের ঝুঁকি নিয়ে ধান কাটতে মাঠে নামছেন। অনেকেই কোমরসমান পানিতে নেমে ধান কাটছেন, কেউ নৌকার সাহায্যে, আবার কেউ পানিতে ডুব দিয়ে নষ্ট হয়ে যাওয়া ধান তুলছেন। তবে বজ্রপাতের আতঙ্কে অনেক কৃষক মাঠে যেতে পারছেন না। ফলে ইতোমধ্যে বহু জমির ধান নষ্ট হয়ে গেছে।
কৃষি বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, জেলায় চলতি মৌসুমে ১ লাখ ৬৮ হাজার ২৬২ হেক্টর জমিতে বোরো ধানের চাষ হয়েছে। এর মধ্যে হাওরাঞ্চলের আওতায় রয়েছে ১ লাখ ৪ হাজার ৪৩৫ হেক্টর, যা মোট আবাদি জমির প্রায় ৬২ শতাংশ। লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে প্রায় ১১ লাখ ৯৫ হাজার টন ধান এবং ৭ লাখ ৯৬ হাজার টন চাল উৎপাদনের। এর মধ্যে প্রায় ৪৮ শতাংশ ধান ইতোমধ্যে কাটা হয়েছে।
মিঠামইন উপজেলার হাছানপুর গ্রামের কৃষক সলিমুল্লাহ জানান, তার পাঁচ একর জমি পানির নিচে তলিয়ে গেছে। তিনি অভিযোগ করেন, খালগুলো সময়মতো খনন করা হলে এমন পরিস্থিতি সৃষ্টি হতো না। একই সঙ্গে রোদ না থাকায় ভুট্টা শুকাতে না পারায় সেটিও নষ্ট হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

আরেক কৃষক খলিল মিয়া বলেন, দেড় লাখ টাকা ব্যয়ে আবাদ করা জমিতে বর্তমানে প্রায় এক হাত পানি জমে আছে। শ্রমিক ও কৃষিযন্ত্রের অভাবে ধান কাটাও সম্ভব হচ্ছে না।
একইভাবে মিঠামইনের কৃষক মোহাম্মদ আলী জানান, ১০ একর জমিতে প্রায় ৫ লাখ টাকা ব্যয়ে চাষ করা ধান একটিও ঘরে তুলতে পারেননি। ঋণের বোঝা কীভাবে শোধ করবেন, তা নিয়ে তিনি দুশ্চিন্তায় রয়েছেন।
জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অফিস সূত্রে জানা গেছে, পরিস্থিতি আরও অবনতি হতে পারে। ধারণা করা হচ্ছে, বৃহস্পতিবার (৩০ এপ্রিল) বিকেলের মধ্যে বাইরের পানি হাওরে প্রবেশ করতে পারে, কারণ নদ-নদীর পানি অস্বাভাবিক হারে বৃদ্ধি পাচ্ছে। ইতোমধ্যে ইটনা উপজেলা সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
এ বিষয়ে জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ পরিচালক ড. সাদিকুর রহমান এশিয়া পোস্টকে বলেন, টানা বৃষ্টি ও বজ্রপাতের কারণে কৃষকদের ধান কাটার কাজ ব্যাহত হচ্ছে। ধান পাঁচ থেকে ছয় দিন পানির নিচে থাকলে ক্ষতির পরিমাণ দ্রুত বেড়ে যায়। এ অবস্থায় দ্রুত ৮০ শতাংশ পাকা ধান কেটে ফেলার পরামর্শ দেন তিনি।




