ঢাকা শুক্রবার, ১২ জুন ২০২৬, ২৯ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩
নির্বাচন সর্বশেষ
Live Icon ●LIVE

পুষ্টির বদলে ক্ষয়, কে নেবে দায়

মেহেদী হাসান শিয়াম, চাঁপাইনবাবগঞ্জ

  ২৮ এপ্রিল ২০২৬, ১৭:২২
গুগল নোটবুক এলএম-এর সাহায্যে তৈরি ছবি।

শিশুশিক্ষার্থীদের পুষ্টিগত উন্নয়নের স্বার্থে নেওয়া মধ্যাহ্নভোজ (মিড-ডে মিল) ব্যবস্থাপনা নিয়ে বিতর্ক থামছে না। বিভিন্ন জেলা থেকে একের পর এক অভিযোগ আসছে শিক্ষার্থীদের জন্য পচা খাবার সরবরাহের। এ নিয়ে খবর ছড়ানোর পর সংশ্লিষ্ট কিছু এলাকার প্রশাসন নড়েচড়ে বসে।

পরিবর্তন অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন

সম্প্রতি দুই জেলায় কয়েকজন শিক্ষার্থী অসুস্থ হওয়ার ঘটনায় দোষীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার কথা জানিয়েছে সরকার। খাবার খেয়ে শিক্ষার্থীরা ক্ষতির মুখে পড়ায় কিছু এলাকায় বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে এই কার্যক্রম। তবে পুষ্টিকর খাবার সরবরাহ করার দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রতিষ্ঠান শিশুদের ক্ষতির মুখে ঠেলে দেওয়ার দায় নিতে অপারগ। ফলে প্রশ্ন উঠেছে–পুষ্টির পরিবর্তে ক্ষতি সৃষ্টির এই দায় কে নেবে?

কেস স্টাডিতে চাঁপাইনবাবগঞ্জ
চলতি মাসের ২২ থেকে ২৬ এপ্রিলের মধ্যে চাঁপাইনবাবগঞ্জের সদর, শিবগঞ্জ ও গোমস্তাপুর উপজেলায় দেড় শতাধিক শিক্ষার্থী অসুস্থ হয়েছে। এর জেরে বন্ধ করা হয়েছে জেলার দুটি উপজেলায় মিড-ডে মিল কার্যক্রম। শুরু থেকে অব্যবস্থাপনা থাকলেও দায় নিচ্ছে না সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান গাক (গ্রাম উন্নয়ন কর্ম)।

গত ২২ এপ্রিল চাঁপাইনবাবগঞ্জ পৌর এলাকার শংকরবাটি ১ নম্বর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ৮ শিক্ষার্থী পাউরুটি খেয়ে অসুস্থ হয়ে পড়ে। ওই রাতেই সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মারুফ আফজাল রাজনের নেতৃত্বে পরিচালিত ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযানে ‘গাক’র গুদামে পচা ও মানহীন খাবারের মজুত পাওয়া যায়। এই অপরাধে এনজিও প্রতিনিধি মিজানুর রহমানকে ৪০ হাজার টাকা জরিমানা ও গুদাম সিলগালা করে সদরে স্কুল ফিডিং কার্যক্রম বন্ধের নির্দেশ দেওয়া হয়।

এর রেশ কাটতে না কাটতেই ২৫ এপ্রিল শিবগঞ্জের চাতরা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে পাউরুটি খেয়ে ২০ শিক্ষার্থী অসুস্থ হয়। সবচেয়ে ভয়াবহ পরিস্থিতি তৈরি হয় ২৬ এপ্রিল গোমস্তাপুরের মকরমপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে। সেখানে টিফিনের ডিম খাওয়ার পর শতাধিক শিক্ষার্থীর শরীরে একযোগে চুলকানি ও অ্যালার্জিজনিত বিষক্রিয়া দেখা দেয় বলে জানান চিকিৎসকরা।

ভুক্তভোগী শিক্ষার্থী সুমাইয়া খাতুনের অভিভাবক আব্দুল করিম বলেন, পুষ্টির কথা বলে আমাদের বাচ্চাদের বিষ খাওয়ানো হচ্ছে। এ রকম অনিয়মের সঙ্গে জড়িতদের কঠোর শাস্তি চাই।

আরেক অভিভাবক রাবেয়া খাতুন জানান, পচা ডিম খেয়ে তার মেয়ের শরীরের বিভিন্ন অংশ ফুলে লাল হয়ে গেছে। সময় থাকতে সংশ্লিষ্টদের আরও তৎপর হওয়া প্রয়োজন।

এ বিষয়ে চাঁপাইনবাবগঞ্জের সচেতন নাগরিক কমিটির সদস্য সচিব মুনিরুজ্জামান বলেন, তদারকির দায়িত্বে থাকা কর্মকর্তাদের উদাসীনতার সুযোগে সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান মুনাফার লোভে শিশুদের জীবন নিয়ে ছিনিমিনি খেলছে। যেখানে শিশুদের মেধা বিকাশের জন্য পুষ্টিকর খাবারের কথা ছিল, সেখানে বিষাক্ত খাবার সরবরাহ কেবল অনিয়ম নয় বরং একটি ফৌজদারি অপরাধ। অনিয়মের শিকড় উপড়ে ফেলে শিশুদের জন্য নিরাপদ ও মানসম্মত মিড-ডে মিল নিশ্চিত করতে হবে।

শিক্ষকদের ক্ষোভ
২০২৫ সালের ১৭ নভেম্বর নাচোল ছাড়া জেলার বাকি ৪টি উপজেলায় এই কর্মসূচির উদ্বোধন করা হয়। জেলার ৬১৮টি বিদ্যালয়ের ১ লাখ ২১ হাজার ৪৪৫ শিক্ষার্থীকে পুষ্টিকর টিফিন দেওয়ার কথা থাকলেও উদ্বোধনের দিন থেকেই শুরু হয় অনিয়ম। প্রথম দিনে দুধ ও বনরুটি দেওয়ার সূচি থাকলেও শিশুদের শুধু দুধ খাইয়েই দায়িত্ব সারে এই প্রকল্পের খাবার সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান গাক। এরপর থেকেই খাবারের মান ও বণ্টন নিয়ে শুরু হয় নানা বিতর্ক।

শিবগঞ্জের মিঠিপুর-জগন্নাথপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের একজন শিক্ষক নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, ‘শুরুর দিকে পাউরুটি ও বিস্কুটের মান ভালো ছিল। কিন্তু এখন নির্দিষ্ট ওজনের চেয়ে অনেক কম খাবার দেওয়া হচ্ছে।’

শিশুদের পুষ্টির নামে আধাসিদ্ধ ডিম ও কাঁচা কলাও পরিবেশন করা হচ্ছে বলে জানান সদর উপজেলার শিক্ষক কামাল উদ্দীন। তিনি বলেন, ‘প্রাণ কোম্পানির পক্ষ থেকে যেসব দুধ সরবরাহ করা হতো, সেগুলোতেও দুর্গন্ধ পাওয়া গেছে।’

তদন্তে প্রমাণিত
চাঁপাইনবাবগঞ্জ পৌর এলাকার শংকরবাটি ১নং সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে সরবরাহ করা স্কুল ফিডিংয়ের পাউরুটি খেয়ে অসুস্থ হওয়ার খবর পাওয়ার পরপরই ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তাসহ বিভিন্ন স্তরের কর্মকর্তারা। পরে ওইসব পাউরুটি জব্দ করা হয়। পরে জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা সাইফুল ইসলামের নেতৃত্বে গঠিত তদন্ত কমিটি পাউরুটির নিম্নমানের প্রমাণ পেয়েছে।

তদন্ত প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, পাউরুটিগুলো হাতে ধরলেই ঝুরঝুর করে ভেঙে যাচ্ছিল, যা বাসি খাবারের স্পষ্ট লক্ষণ। এই প্রতিবেদনটি ইতিমধ্যে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে। এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা সাইফুল ইসলাম।

দায় নিতে অনীহা
চাঁপাইনবাবগঞ্জে বিপুলসংখ্যক শিক্ষার্থী অসুস্থ হওয়ার ঘটনায় সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান ‘গাক’ পরিস্থিতির পুরোপুরি দায় নিতে অনীহা প্রকাশ করেছে। এই প্রতিষ্ঠানটির বিরুদ্ধে নিম্নমানের খাদ্য সরবরাহের অভিযোগ উঠলেও তারা একে নিছক ভুল হিসেবে দাবি করছে।

এ বিষয়ে গাক-এর সিনিয়র পরিচালক মাহবুব আলম জানান, তারা নিজস্ব কারখানায় খাবার তৈরি করেন না বরং চুক্তিবদ্ধ প্রতিষ্ঠান ‘বিস্কুট বিপণনী’ ও ‘খাজা বেকারি’র মাধ্যমে পণ্যগুলো সংগ্রহ করে শিক্ষার্থীদের জন্য বিতরণ করেন।

চাঁপাইনবাবগঞ্জ পৌর এলাকার শংকরবাটি স্কুলের ঘটনা স্বীকার করে তিনি বলেন, ১৬ প্যাকেট মেয়াদোত্তীর্ণ খাবারের মধ্য থেকে একটি প্যাকেট ভুলবশত ওই বিদ্যালয়ে চলে গিয়েছিল এবং এই ভুলের কথা বিস্কুট বিপণনী কর্তৃপক্ষও স্বীকার করেছে।

তবে শিবগঞ্জ ও গোমস্তাপুর উপজেলার গণ-অসুস্থতার বিষয়টি নিয়ে তিনি সংশয় প্রকাশ করেছেন। ডিম খাওয়ার ফলে শতাধিক শিক্ষার্থীর অ্যালার্জি ও অসুস্থতা হওয়াকে নজিরবিহীন উল্লেখ করে তিনি এর পেছনে অন্য কোনো পক্ষের শত্রুতা বা ষড়যন্ত্র রয়েছে কি না, তা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন।

মাহবুব আলম বলেন, শুরু থেকেই অত্যন্ত তৎপর ছিলাম এবং ঘটনার প্রেক্ষাপটে ইতিমধ্যে একজনকে চাকরি থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া আগামীতে খাবারের মান কঠোরভাবে যাচাইয়ের জন্য চুক্তিবন্ধ বেকারিগুলোতে নিজস্ব লোকবল নিয়োগের সিদ্ধান্ত নিয়েছে কর্তৃপক্ষ।

খাদ্য আদালতে মামলা
চাঁপাইনবাবগঞ্জ পৌর এলাকার শংকরবাটি ১ নম্বর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে স্কুল ফিডিংয়ের পাউরুটি খেয়ে শিক্ষার্থী অসুস্থ হওয়ার ঘটনায় মামলা হয়েছে। মঙ্গলবার (২৮ এপ্রিল) সকালে রাজশাহীর বনরুটি প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠান ‘বিস্কুট বিপণনী’র বিরুদ্ধে মামলা করেছেন জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা সাইফুল ইসলাম।

চাঁপাইনবাবগঞ্জের বিশুদ্ধ খাদ্য আদালতে এই মামলাটি করেছেন বলে নিশ্চিত করেছেন সাইফুল ইসলাম। জেলা শিক্ষা অফিসের এমন পদক্ষেপে সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে তোলপাড় সৃষ্টি হয়েছে।

সার্বিক পরিস্থিতির বিষয়ে চাঁপাইনবাবগঞ্জের জেলা প্রশাসক (ডিসি) আবু ছালেহ মো. মুসা জঙ্গী এশিয়া পোস্টকে বলেন, স্কুল ফিডিংয়ের খাবার খেয়ে জেলার তিনটি উপজেলার তিনটি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা অসুস্থ হয়েছে। বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে নিয়ে গত সোমবার জেলা সিভিল সার্জনকে প্রধান করে তিনটি পৃথক তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে।

তিনি জানান, কমিটিকে আগামী ৭ কার্যদিবসের মধ্যে বিস্তারিত তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। আশা করা হচ্ছে–তদন্ত কমিটির প্রতিবেদন পেলে এসব ঘটনার নেপথ্যে থাকা প্রকৃত কারণ ও দোষীদের চিহ্নিত করা সম্ভব হবে।

মি-ডে মিল কেন?
শিশুশিক্ষার্থীদের পুষ্টিগত উন্নয়নের স্বার্থে ২০১৯ সালে প্রাথমিক স্কুলগুলোতে মধ্যাহ্নভোজ (মিড-ডে মিল) চালুর উদ্যোগ নেওয়া হয়। দুপুরে রান্না করা খাবার দেওয়ার মাধ্যমে প্রকল্প বাস্তবায়ন শুরু করে প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর। রান্না করা খাবার নিয়ে সমালোচনা সৃষ্টি হলে একপর্যায়ে বন্ধ হয়ে যায় এই কার্যক্রম।

গত বছর অন্তর্বর্তী সরকারের সরকারের সময় আবার মিড-ডে মিল চালুর উদ্যোগ নেওয়া হয়। রান্না করা খাবারের পরিবর্তে পুষ্টিকর শুকনা খাবার দেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়। প্রাথমিকভাবে ২০২৫ সালের ১৫ নভেম্বর ১৫০ উপজেলায় শুরু হয় এই কার্যক্রম। আওতায় আনা হয় ১৯ হাজার ৪১৯টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ৩১ লাখ ১৩ হাজার শিক্ষার্থীকে।

পরিকল্পনা ছিল খাদ্য তালিকায় এনার্জির ২৫ দশমিক ৯ শতাংশ, মাইক্রোনিউট্রিয়েন্টের ৩২ দশমিক ২ শতাংশ, প্রোটিনের ১৬ দশমিক ৪ শতাংশ এবং ফ্যাটের ২১ দশমিক ৭ শতাংশ সরবরাহ নিশ্চিত করা।

এ জন্য সপ্তাহের পাঁচ দিন (শুক্র ও শনিবার ব্যতীত) ফর্টিফায়েড বিস্কুট, কলা বা মৌসুমি ফল, বনরুটি, ডিম এবং ইউএইচটি দুধ দেওয়া হচ্ছে প্রাথমিকের শিশুশিক্ষার্থীদের। এর মধ্যে রবিবার ১২০ গ্রাম ওজনের বনরুটি এবং সিদ্ধ ডিম, সোমবার বনরুটি এবং ২০০ গ্রাম ইউএইচটি দুধ, মঙ্গলবার ৭৫ গ্রাম ওজনের ফর্টিফায়েড বিস্কুট এবং কলা বা মৌসুমি ফল, বুধবার এবং বৃহস্পতিবারে বনরুটি এবং সিদ্ধ ডিম দেওয়ার কথা।

প্রতিমন্ত্রীর ক্ষোভ
সারা দেশে মিড-ডি মিল নিয়ে অসংগতির খবরে গত শনিবার (২৫ এপ্রিল) নরসিংদী পৌর শহরের বাসাইল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে মিড-ডে মিলের কার্যক্রম পরিদর্শন করেন প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ।

তিনি বাসাইল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে মিড-ডে মিলে সরবরাহকৃত বনরুটি ও ডিম পর্যবেক্ষণ করেন। এসবের মান দেখে তিনি কিছু ত্রুটি দেখতে পান বলে সাংবাদিকদের জানান। তিনি বলেন, শিক্ষার্থীদের আকৃষ্ট করতে দেওয়া মিড-ডে মিলের মাধ্যমে কোনো শিক্ষার্থী অসুস্থ হওয়ার মতো ত্রুটি-বিচ্যুতি যেন না হয় সে বিষয়ে সতর্ক করা হচ্ছে।

তিনি আরও বলেন, যে জিনিসগুলো খুব তাড়াতাড়ি নষ্ট হয়ে যেতে পারে যেমন বনরুটি, সেগুলো বদলে দেওয়ার চিন্তাভাবনা হচ্ছে। এরই মধ্যে ওয়ার্ল্ড ফুড প্রোগ্রাম, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পুষ্টিবিদদের ডেকেছি। আরও লম্বা সময় সংরক্ষিত থাকতে পারে এমন কী খাবার আমরা শিক্ষার্থীদের দিতে পারি সেটা নিয়ে পরামর্শের জন্য। যেন নষ্ট হয়ে যাওয়ার ভয়টা কমে যায়। এসব নিয়ে কাজ করছি।

অসংগতির মধ্যে বিস্তৃতির উদ্যোগ
মিড-ডে মিল বর্তমানে দেশের ১৫০ উপজেলায় চালু রয়েছে। এটি আরও ৩৪৯টি উপজেলায় বিস্তৃতির উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। এ বিষয়ে গত ১৩ এপ্রিল প্রকল্প পরিচালক ও যুগ্ম সচিব মোহাম্মদ হারুন অর রশীদ সাংবাদিকদের বলেন, গত বছর দেশের ১৫০টি উপজেলায় আমরা ফিডিং কর্মসূচি চালু করেছিলাম। নতুন করে ৩৪৯টি উপজেলায় প্রকল্পটি চালু করা হবে।

তিনি জানান, এ পর্যায়ে দেশের সব মহানগর, জেলা শহর এবং গ্রামের স্কুলগুলো এ কর্মসূচির আওতায় নিয়ে আসা হবে। ইতোমধ্যে নতুন প্রকল্পের কাজ অনেক দূর এগিয়েছে।

অসংগতি নিয়ে প্রশ্নের জবাবে হারুন অর রশীদ বলেন, বিভিন্ন জায়গা থেকে বেশকিছু অভিযোগ এসেছে। প্রকল্পটি যেহেতু নতুন তাই কিছুটা গরমিল হতে পারে। তবে অভিযোগ প্রাপ্তির পর আমরা সংশ্লিষ্ট ঠিকাদারকে কারণ দর্শানোর নোটিশ দিয়েছি। তাদের চূড়ান্তভাবে সতর্ক করা হয়েছে। পাশাপাশি অভিযোগগুলো পর্যালোচনায় কমিটি করা হয়েছে।

ঘরে ঢুকে ঘুমন্ত বৃদ্ধাকে কুপিয়ে হত্যা, স্ত্রী হাসপাতালে
সিরাজগঞ্জের উল্লাপাড়া উপজেলায় পূর্ব বিরোধের এক দুগ্ধ সমিতির সাবেক ম্যানেজারকে নিজ বাড়িতে কুপিয়ে হত্যার ঘটনা ঘটেছে। এসময় তার স্ত্রীও আহত হয়। এ ঘটনায় একজনকে আটক করে পুলিশে সোপর্দ করেছে পুলিশ। রোববার (১০ মে) রাতে উপজেলার লাহিড়ী মোহনপুর ইউনিয়নের দত্তপাড়া এলংজানি গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।  নিহত সোবহান প্রামানিক (৭০) স্থানীয় এক দুগ্ধ সিমিতির সাবেক ম্যানেজার বলে জানা গেছে। এসময় তার স্ত্রী শেফালী খাতুনকেও কুপিয়ে আহত করা হয়েছে। আহত অবস্থায় তাকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। এ ঘটনায় আটককৃত হায়দুল ইসলাম (৫০) ওই গ্রামের ইসমাইলের ছেলে। স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, রাতে নিজ ঘরে ঘুমিয়ে ছিলেন সোবহান প্রামানিক ও তার স্ত্রী। এসময় দুর্বৃত্তরা ঘরে ঢুকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে তাদের ওপর হামলা চালায়। এতে ঘটনাস্থলেই সোবহান প্রামানিক নিহত হন। গুরুতর আহত হন তার স্ত্রী শেফালী খাতুন। পরে হামলাকারীরা দ্রুত ঘটনাস্থল ত্যাগ করে। ঘটনার পর স্থানীয়দের সন্দেহ হলে একই গ্রামের হায়দুল ইসলাম নামে একজনকে আটক করে পুলিশে সোপর্দ করা হয়। আটক হায়দুল ইসলাম ওই গ্রামের ইসমাইলের ছেলে। খবর পেয়ে উল্লাপাড়া মডেল থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য সিরাজগঞ্জ মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল মর্গে পাঠিয়েছে।  আরও জানা গেছে, একটি খাস পুকুরকে কেন্দ্র করে দীর্ঘদিন ধরে মোল্লা বংশ ও প্রামাণিক বংশের মধ্যে বিরোধ চলছিল। প্রায় দুই বছর আগে একই বিরোধকে কেন্দ্র করে ওই এলাকায় সংঘর্ষে বাবা-ছেলে নিহত হওয়ার ঘটনাও ঘটে। সেই ঘটনার জের ধরেই এই হত্যাকাণ্ড ঘটতে পারে বলে ধারণা করছেন তারা। এ বিষয়ে উল্লাপাড়া মডেল থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোক্তারুজ্জামান বলেন, ঘটনার খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। একজনকে আটক করেছে এলাকাবাসী। সে জড়িত কিনা যাচাই-বাছাই করা হচ্ছে। হত্যার কারণ ও জড়িতদের শনাক্তে তদন্ত চলছে।
ঘরে ঢুকে ঘুমন্ত বৃদ্ধাকে কুপিয়ে হত্যা, স্ত্রী হাসপাতালে
টর্চ জ্বালিয়ে জামায়াত কর্মীকে গুলি
নোয়াখালীর বেগমগঞ্জ দুর্বৃত্তের ছোড়া গুলিতে মাইনুল ইসলাম মাহিন (২৫) নামে এক জামায়াত কর্মী গুলিবিদ্ধ হয়েছেন।  রোববার (১০ মে) রাত সাড়ে ১১টার দিকে উপজেলার আমানউল্লাহপুর ইউনিয়নের আইয়ুবপুর গ্রামের ছাদু নেতার বাড়ি সংলগ্ন রাস্তায় এ ঘটনা ঘটে। গুলিবিদ্ধ মাহিন আইয়ুবপুর গ্রামের ছাদু নেতার বাড়ির আবুল হোসেনের ছেলে। গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট নোয়াখালী জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।  প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, সোমবার রাত সাড়ে ১১টায় নিজ বাড়ির সামনের রাস্তায় তার বন্ধুদের সঙ্গে কথা বলছিলেন মাহিন। হঠাৎ একটি সিএনজিচালিত অটোরিকশাযোগে কাপড়ে মুখ বাঁধা অবস্থায় ৪/৫ জন সেখানে এসে টর্চ লাইটের আলো জ্বালিয়ে হঠাৎ একটি গুলি করে। গুলিটি তার পায়ে লেগে সে পড়ে গেলে একই স্থানে আবারও গুলি করে তারা দ্রুত সিএনজিচালিত অটোরিকশাযোগে ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যায়। পরবর্তীতে স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে গুরুতর আহত অবস্থায় ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট নোয়াখালী জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করে। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে ঢাকায় রেফার করে। ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী শাইখুল আরেফিন শিহাব বলেন, আমরা রাস্তায় দাঁড়িয়ে কথা বলছিলাম। হঠাৎ কয়েকজন সিএনজিতে করে এসে গুলি করে আবার চলে যায়। তাদের মুখ কাপড় দিয়ে বাঁধা ছিল। বেগমগঞ্জ উপজেলা জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি আবদুর রহিম বলেন, অজ্ঞাত কয়েকজন সিএনজিযোগে আমাদের মাহিন নামে এক কর্মীকে গুলি করে পালিয়ে যায়। এটা রাজনৈতিক প্রতিহিংসা হতে পারে বলে আমরা প্রাথমিক ধারণা করছি। গুলিবিদ্ধ মাহিনকে ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট নোয়াখালী জেনারেল হাসপাতাল থেকে চিকিৎসকরা ঢাকায় রেফার করেছেন।  হাসপাতালের ইমারজেন্সি মেডিকেল অফিসার ডা. হাসান আল মুলক বলেন, গুলিবিদ্ধ অবস্থায় হাসপাতালে আসার পর রোগীর অবস্থা গুরুতর হওয়ায় আমরা তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজে রেফার করেছি। এ বিষয়ে বেগমগঞ্জ থানার পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) হাবিবুর রহমান বলেন, আমানউল্লাহ পুরে একজন গুলিবিদ্ধ হয়েছে। ঘটনা জানার পর আমরা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছি। কারা গুলি করেছে তা এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি।  
টর্চ জ্বালিয়ে জামায়াত কর্মীকে গুলি
সিলেট-আখাউড়া রেলপথ / জোড়াতালির লাইনে ‘মৃত্যুফাঁদ’ হয়ে উঠছে শতবর্ষী রুট
ব্রিটিশ আমলের শতবর্ষী সিলেট-আখাউড়া রেলপথ এখন যেন চলমান ঝুঁকির আরেক নাম। জরাজীর্ণ লাইন, পুরোনো ইঞ্জিন, ঝুঁকিপূর্ণ সেতু আর ঘনঘন যান্ত্রিক ত্রুটিতে প্রতিদিনই বাড়ছে দুর্ভোগ। শুধু মার্চ-এপ্রিলেই অন্তত ৩০টি ট্রেন বিলম্ব আর একের পর এক দুর্ঘটনা এই রুটকে যাত্রীদের কাছে ‘মহাআতঙ্কে’ পরিণত করেছে। লক্কর-ঝক্কর ইঞ্জিন আর নড়বড়ে রেললাইন পাড়ি দিয়ে আসা পর্যটকদের নিত্যদিনই পোহাতে হচ্ছে ভোগান্তি।  সিলেট রুটে মার্চ ও এপ্রিল মাসেই ট্রেনের আলোচিত ৪টি দুর্ঘটনা ঘটছে। গত ২৬ মার্চ ভৈরব বাজার জংশনে ঢাকা থেকে চট্টগ্রামগামী ট্রেনের বগি লাইনচ্যুত হওয়ায় সিলেট রুটের ট্রেন চলাচল বন্ধ থাকে। এর চার দিন পর ৩১ মার্চে মৌলভীবাজারের ভানুগাছ-শমশেরনগর এলাকায় উপবন এক্সপ্রেস ট্রেনের ইঞ্জিন বিকল হওয়ার কারণে ট্রেন চলাচল বিঘ্নিত হয়। এরপর দিন ১ এপ্রিল কুমিল্লায় সিলেট থেকে ছেড়ে আসা চট্টগ্রামগামী উদয়ন এক্সপ্রেস ট্রেনের তিনটি বগি বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে। এ সময় বগি তিনটি লাইনের ওপর রেখে প্রায় ১ কিলোমিটার দূরে চলে যায় ট্রেনটি। সবশেষ গত ২ এপ্রিল হবিগঞ্জের মাধবপুর উপজেলার মনতলায় সিলেটগামী তেলবাহী ট্রেনের ৫টি ওয়াগন লাইনচ্যুত হয়ে ১৪ ঘণ্টার বেশি সময় রেল যোগাযোগ বন্ধ ছিল। ব্রিটিশ আমলের রেলপথে আধুনিকতার অভাব অনুসন্ধানে জানা গেছে, ব্রিটিশ শাসন আমলে আসাম ও চট্টগ্রামের মধ্যে সরাসরি যোগাযোগ স্থাপনে ১৮৯৮ সালে সিলেট, কুলাউড়া ও আখাউড়া হয়ে চট্টগ্রাম পর্যন্ত রেললাইন স্থাপন করা হয়। পুরোনো ইঞ্জিন ও দুর্বল অবকাঠামোর কারণে নিয়মিত ইঞ্জিন বিকল হওয়ায় ঘটনা ঘটছে। বিশেষ করে পাহাড়ি এলাকায় রাতের বেলা আপ উঠার সময় বেশিরভাগ ট্রেন আটকা পড়ে। বর্তমানে ঢাকা-চট্টগ্রাম থেকে সিলেট রুটে প্রতিদিন ছয়টি আন্তঃনগর ট্রেন চলে। এর মধ্যে চারটি ট্রেন সিলেট-ঢাকা এবং দুটি সিলেট-চট্টগ্রামে চলাচল করে। এই ছয়টি ট্রেনে প্রতিদিন প্রায় ৩০ থেকে ৩৫ হাজার যাত্রী আসা যাওয়া করেন। এরসঙ্গে রয়েছে মৌলভীবাজার ও সিলেট আসা পর্যটক। সবমিলিয়ে বছরে প্রায় ১০ কোটি যাত্রী ভোগান্তি নিয়েই চলতে হয় সবসময়। আরও জানা গেছে, ২৬১০, ২৯০২ সহ বেশকিছু নম্বরের পুরাতন ইঞ্জিন সিলেট রুটে দেওয়া হয়েছে। এই ইঞ্জিনগুলো অনেক পুরাতন থাকায় লাউয়াছড়া বনাঞ্চলের পাহাড়ি এলাকায় উঠার সময় বিকল হয়ে যায়। আর এতে অনেক সময় পুরাতন ইঞ্জিনগুলো আংশিক বিকল ও পুরোপুরি বিকল হয়ে যায়। তবে বিভিন্ন ট্রেনে ভালো ইঞ্জিন যখন দেওয়া হয় তখন সহজেই পাহাড়ি এলাকা অতিক্রম করতে পারে। পুরাতন ইঞ্জিন নিয়ে প্রায় প্রতিদিন ট্রেনের শিডিউল বিলম্বিত হয়। কারণ যে ইঞ্জিন ঢাকা থেকে সিলেট আসে একই ট্রেন একই ইঞ্জিন নিয়ে আবার ফিরতে হয়। রেলপথে বাড়ছে নিরাপত্তা শঙ্কা এদিকে সিলেট-আখাউড়া রেলপথে অন্তত ১০টি সেতু ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়েছে। এসব সেতুতে রেলের গতি কমিয়ে চালানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। রেললাইন থেকে নিয়মিত নাট, বল্টু ও ক্লিপও চুরি হচ্ছে। এতে তীব্র গরমে লাইন বাঁকা হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। টুকটাক লাইন মেরামত করা হলেও বড় ধরনের মেরামতের উদ্যোগ নিচ্ছে না কর্তৃপক্ষ। পুরাতন রেললাইন থাকায় কোনো কারণ ছাড়াই ট্রেন লাইনচ্যুত হয়। ফলে এই অঞ্চলে সাধারণ যাত্রী ও আগত পর্যটকেরা যাতায়াত ব্যবস্থায় চরম ভোগান্তি পোহাতে হয়। বাংলাদেশ রেলওয়ে বলছে, দেশে চাহিদার তুলনায় ৭০ শতাংশ ট্রেনের ইঞ্জিন আছে। এজন্য পুরাতন ইঞ্জিন দিয়ে চলতে হচ্ছে। প্রয়োজনে ইঞ্জিন মেরামত করা হয়। এছাড়া বিকল্প কোনো রাস্তা নেই। অবকাঠামো যেখানে প্রয়োজন সেখানে মেরামত করা হয়। এই অঞ্চলে রেলের অবকাঠামো যে পুরোপুরি ঝুঁকিপূর্ণ সেটা বলা যাচ্ছে না, আবার পুরো খারাপ সেটাও বলা যাচ্ছে না। ঘনঘন রেলের ইঞ্জিন বিকল হওয়ায় বিষয়ে বাংলাদেশ রেলওয়ের অতিরিক্ত মহাপরিচালক (রোলিং স্টক) আহমেদ মাহবুব চৌধুরী এশিয়া পোস্টকে বলেন, ‘হঠাৎ করে এই রুটে কেন এই সমস্যাটা বেড়ে গেলো আমিও বুঝতে পারছি না। এর বিশেষ কোনো কারণ আছে কিনা, তা দেখতে হবে। ট্রেনের ইঞ্জিনের সমস্যা আছে ঠিক, তবে ঈদের পর থেকে বেশি সমস্যা হচ্ছে। আমরা খোঁজ খবর নিচ্ছি কী কারণে এই সমস্যাটা বেড়ে গেছে।’ এ বিষয়ে বাংলাদেশ রেলওয়ের অতিরিক্ত মহাপরিচালক (অবকাঠামো) আল ফাত্তাহ মো. মাসউদুর রহমান এশিয়া পোস্টকে বলেন, ‘সারাদেশে আমাদের ৮৫টি রেলের ইঞ্জিন প্রয়োজন। তবে আমাদের কাছে ৭০ শতাংশ ইঞ্জিন থাকায় কিছু সমস্যা হচ্ছে। এ কারণেই অনেক ট্রেনের বিলম্ব হয়। নতুন করে এডিপির একটি প্রকল্প শুরু করেছি, আগামী দুই থেকে তিন বছরের মধ্যে এ সমস্যা সমাধান হবে।’ অবকাঠামোর বিষয়ে তিনি আরও বলেন, ‘রেললাইনের অবস্থা অনুযায়ী মেরামত করা হয়। অবকাঠামো একেবারে ভালো বলবো না, তবে একেবারে খারাপও না। লাইনের অবস্থা অনুযায়ী রেলের গতি নির্ধারণ করে দেওয়া হয়। অবকাঠামোর জন্য আমাদের পূর্বাঞ্চলের রেললাইন পুনর্বাসনের জন্য একটি নতুন প্রকল্প অনুমোদনের প্রক্রিয়াধীন আছে। এটা অনুমোদন হলে বিভিন্ন কাজ করা যাবে।’  
জোড়াতালির লাইনে ‘মৃত্যুফাঁদ’ হয়ে উঠছে শতবর্ষী রুট
ফেনীতে ছেলের ছুরিকাঘাতে মায়ের মৃত্যু, বাবা-বোনের অবস্থা আশঙ্কাজনক
ফেনীর দাগনভূঞায় মাদক সেবনের টাকা না পেয়ে ছেলের ছুরিকাঘাতে লাকি বেগম (৪৫) নামের এক নারীর মৃত্যু হয়েছে। এ ঘটনায় গুরুতর আহত হয়েছেন তার স্বামী মোহাম্মদ মোস্তফা (৫৫) ও মেয়ে মিথিলা মোস্তফা (১৮)। আশঙ্কাজনক অবস্থায় তাদের চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। রোববার (১০ মে) রাত সাড়ে ৯টার দিকে উপজেলার সিন্দুরপুর ইউনিয়নের দিলপুর গ্রামের মকবুল আহমদ হুদুর বাড়িতে এ ঘটনা ঘটে। ঘটনার পর অভিযুক্ত ছেলে মোহাম্মদ রাফিককে (২১) আটক করেছে পুলিশ। এ সময় হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত দুটি ছুরি জব্দ করা হয়। পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, রাফিক দীর্ঘদিন ধরে মাদকাসক্ত ছিলেন। রোববার রাতে তিনি বাড়িতে এসে মাদক সেবনের জন্য মায়ের কাছে টাকা চান। মা টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানালে এবং তাকে শাসন করলে রাফিক ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠেন। একপর্যায়ে ধারালো ছুরি দিয়ে তিনি মায়ের ওপর হামলা করেন। মাকে বাঁচাতে বোন মিথিলা এগিয়ে গেলে তাকেও ছুরিকাঘাত করা হয়। পরে বাবা মোহাম্মদ মোস্তফা তাদের রক্ষা করতে গেলে তাকেও এলোপাতাড়ি কুপিয়ে জখম করা হয়। পরিবারের সদস্যদের চিৎকারে স্থানীয়রা এগিয়ে এসে রাফিককে আটক করে পুলিশে খবর দেন। পরে আহতদের উদ্ধার করে ফেনী ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক লাকি বেগমকে মৃত ঘোষণা করেন। হাসপাতালের জরুরি বিভাগের চিকিৎসক শাহরিয়ার কবির জানান, হাসপাতালে আনার আগেই অতিরিক্ত রক্তক্ষরণে লাকি বেগমের মৃত্যু হয়। আহত দুজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে তাদের চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। দাগনভূঞা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মুহাম্মদ ফয়জুল আজীম নোমান এশিয়া পোস্টকে জানান, খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে অভিযুক্ত রাফিককে আটক করেছে। হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত দুটি ছুরি জব্দ করা হয়েছে। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে রাফিক অনলাইনে ছুরি কেনার কথা স্বীকার করেছেন। ওসি আরও জানান, নিহত নারীর মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে রাখা হয়েছে। এ ঘটনায় আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন।
ফেনীতে ছেলের ছুরিকাঘাতে মায়ের মৃত্যু, বাবা-বোনের অবস্থা আশঙ্কাজনক
নিজের গরুর শিংয়ের আঘাতে বৃদ্ধের মৃত্যু
মৌলভীবাজারের কুলাউড়ায় নিজের গরুর শিংয়ের আঘাতে মো. কালাম মিয়া (৬৫) নামের এক বৃদ্ধের মৃত্যু হয়েছে। রোববার (১০ মে) সন্ধ্যায় উপজেলার হাজীপুর ইউনিয়নের চকরনচাপ গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। স্থানীয় সূত্র ও পুলিশ জানায়, বিকেল ৫টার দিকে প্রতিদিনের মতো মাঠ থেকে গরু আনতে যান কালাম মিয়া। সন্ধ্যার দিকে গরুটি হঠাৎ অস্বাভাবিক আচরণ শুরু করে। একপর্যায়ে সেটি আক্রমণাত্মক হয়ে কালাম মিয়াকে শিং দিয়ে আঘাত করে। এতে তিনি গুরুতর আহত হন। পরে ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয় বলে স্থানীয়রা জানান। কুলাউড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মনিরুজ্জামান মোল্যা ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে যায়। এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় আইনগত প্রক্রিয়া চলছে।
নিজের গরুর শিংয়ের আঘাতে বৃদ্ধের মৃত্যু
ঘরে ঢুকে ঘুমন্ত বৃদ্ধাকে কুপিয়ে হত্যা, স্ত্রী হাসপাতালে
ঘরে ঢুকে ঘুমন্ত বৃদ্ধাকে কুপিয়ে হত্যা, স্ত্রী হাসপাতালে
সিরাজগঞ্জের উল্লাপাড়া উপজেলায় পূর্ব বিরোধের এক দুগ্ধ সমিতির সাবেক ম্যানেজারকে নিজ বাড়িতে কুপিয়ে হত্যার ঘটনা ঘটেছে। এসময় তার স্ত্রীও আহত হয়। এ ঘটনায় একজনকে আটক করে পুলিশে সোপর্দ করেছে পুলিশ। রোববার (১০ মে) রাতে উপজেলার লাহিড়ী মোহনপুর ইউনিয়নের দত্তপাড়া এলংজানি গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।  নিহত সোবহান প্রামানিক (৭০) স্থানীয় এক দুগ্ধ সিমিতির সাবেক ম্যানেজার বলে জানা গেছে। এসময় তার স্ত্রী শেফালী খাতুনকেও কুপিয়ে আহত করা হয়েছে। আহত অবস্থায় তাকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। এ ঘটনায় আটককৃত হায়দুল ইসলাম (৫০) ওই গ্রামের ইসমাইলের ছেলে। স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, রাতে নিজ ঘরে ঘুমিয়ে ছিলেন সোবহান প্রামানিক ও তার স্ত্রী। এসময় দুর্বৃত্তরা ঘরে ঢুকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে তাদের ওপর হামলা চালায়। এতে ঘটনাস্থলেই সোবহান প্রামানিক নিহত হন। গুরুতর আহত হন তার স্ত্রী শেফালী খাতুন। পরে হামলাকারীরা দ্রুত ঘটনাস্থল ত্যাগ করে। ঘটনার পর স্থানীয়দের সন্দেহ হলে একই গ্রামের হায়দুল ইসলাম নামে একজনকে আটক করে পুলিশে সোপর্দ করা হয়। আটক হায়দুল ইসলাম ওই গ্রামের ইসমাইলের ছেলে। খবর পেয়ে উল্লাপাড়া মডেল থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য সিরাজগঞ্জ মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল মর্গে পাঠিয়েছে।  আরও জানা গেছে, একটি খাস পুকুরকে কেন্দ্র করে দীর্ঘদিন ধরে মোল্লা বংশ ও প্রামাণিক বংশের মধ্যে বিরোধ চলছিল। প্রায় দুই বছর আগে একই বিরোধকে কেন্দ্র করে ওই এলাকায় সংঘর্ষে বাবা-ছেলে নিহত হওয়ার ঘটনাও ঘটে। সেই ঘটনার জের ধরেই এই হত্যাকাণ্ড ঘটতে পারে বলে ধারণা করছেন তারা। এ বিষয়ে উল্লাপাড়া মডেল থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোক্তারুজ্জামান বলেন, ঘটনার খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। একজনকে আটক করেছে এলাকাবাসী। সে জড়িত কিনা যাচাই-বাছাই করা হচ্ছে। হত্যার কারণ ও জড়িতদের শনাক্তে তদন্ত চলছে।
টর্চ জ্বালিয়ে জামায়াত কর্মীকে গুলি
টর্চ জ্বালিয়ে জামায়াত কর্মীকে গুলি
নোয়াখালীর বেগমগঞ্জ দুর্বৃত্তের ছোড়া গুলিতে মাইনুল ইসলাম মাহিন (২৫) নামে এক জামায়াত কর্মী গুলিবিদ্ধ হয়েছেন।  রোববার (১০ মে) রাত সাড়ে ১১টার দিকে উপজেলার আমানউল্লাহপুর ইউনিয়নের আইয়ুবপুর গ্রামের ছাদু নেতার বাড়ি সংলগ্ন রাস্তায় এ ঘটনা ঘটে। গুলিবিদ্ধ মাহিন আইয়ুবপুর গ্রামের ছাদু নেতার বাড়ির আবুল হোসেনের ছেলে। গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট নোয়াখালী জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।  প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, সোমবার রাত সাড়ে ১১টায় নিজ বাড়ির সামনের রাস্তায় তার বন্ধুদের সঙ্গে কথা বলছিলেন মাহিন। হঠাৎ একটি সিএনজিচালিত অটোরিকশাযোগে কাপড়ে মুখ বাঁধা অবস্থায় ৪/৫ জন সেখানে এসে টর্চ লাইটের আলো জ্বালিয়ে হঠাৎ একটি গুলি করে। গুলিটি তার পায়ে লেগে সে পড়ে গেলে একই স্থানে আবারও গুলি করে তারা দ্রুত সিএনজিচালিত অটোরিকশাযোগে ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যায়। পরবর্তীতে স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে গুরুতর আহত অবস্থায় ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট নোয়াখালী জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করে। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে ঢাকায় রেফার করে। ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী শাইখুল আরেফিন শিহাব বলেন, আমরা রাস্তায় দাঁড়িয়ে কথা বলছিলাম। হঠাৎ কয়েকজন সিএনজিতে করে এসে গুলি করে আবার চলে যায়। তাদের মুখ কাপড় দিয়ে বাঁধা ছিল। বেগমগঞ্জ উপজেলা জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি আবদুর রহিম বলেন, অজ্ঞাত কয়েকজন সিএনজিযোগে আমাদের মাহিন নামে এক কর্মীকে গুলি করে পালিয়ে যায়। এটা রাজনৈতিক প্রতিহিংসা হতে পারে বলে আমরা প্রাথমিক ধারণা করছি। গুলিবিদ্ধ মাহিনকে ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট নোয়াখালী জেনারেল হাসপাতাল থেকে চিকিৎসকরা ঢাকায় রেফার করেছেন।  হাসপাতালের ইমারজেন্সি মেডিকেল অফিসার ডা. হাসান আল মুলক বলেন, গুলিবিদ্ধ অবস্থায় হাসপাতালে আসার পর রোগীর অবস্থা গুরুতর হওয়ায় আমরা তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজে রেফার করেছি। এ বিষয়ে বেগমগঞ্জ থানার পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) হাবিবুর রহমান বলেন, আমানউল্লাহ পুরে একজন গুলিবিদ্ধ হয়েছে। ঘটনা জানার পর আমরা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছি। কারা গুলি করেছে তা এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি।  
জোড়াতালির লাইনে ‘মৃত্যুফাঁদ’ হয়ে উঠছে শতবর্ষী রুট
সিলেট-আখাউড়া রেলপথ / জোড়াতালির লাইনে ‘মৃত্যুফাঁদ’ হয়ে উঠছে শতবর্ষী রুট
ব্রিটিশ আমলের শতবর্ষী সিলেট-আখাউড়া রেলপথ এখন যেন চলমান ঝুঁকির আরেক নাম। জরাজীর্ণ লাইন, পুরোনো ইঞ্জিন, ঝুঁকিপূর্ণ সেতু আর ঘনঘন যান্ত্রিক ত্রুটিতে প্রতিদিনই বাড়ছে দুর্ভোগ। শুধু মার্চ-এপ্রিলেই অন্তত ৩০টি ট্রেন বিলম্ব আর একের পর এক দুর্ঘটনা এই রুটকে যাত্রীদের কাছে ‘মহাআতঙ্কে’ পরিণত করেছে। লক্কর-ঝক্কর ইঞ্জিন আর নড়বড়ে রেললাইন পাড়ি দিয়ে আসা পর্যটকদের নিত্যদিনই পোহাতে হচ্ছে ভোগান্তি।  সিলেট রুটে মার্চ ও এপ্রিল মাসেই ট্রেনের আলোচিত ৪টি দুর্ঘটনা ঘটছে। গত ২৬ মার্চ ভৈরব বাজার জংশনে ঢাকা থেকে চট্টগ্রামগামী ট্রেনের বগি লাইনচ্যুত হওয়ায় সিলেট রুটের ট্রেন চলাচল বন্ধ থাকে। এর চার দিন পর ৩১ মার্চে মৌলভীবাজারের ভানুগাছ-শমশেরনগর এলাকায় উপবন এক্সপ্রেস ট্রেনের ইঞ্জিন বিকল হওয়ার কারণে ট্রেন চলাচল বিঘ্নিত হয়। এরপর দিন ১ এপ্রিল কুমিল্লায় সিলেট থেকে ছেড়ে আসা চট্টগ্রামগামী উদয়ন এক্সপ্রেস ট্রেনের তিনটি বগি বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে। এ সময় বগি তিনটি লাইনের ওপর রেখে প্রায় ১ কিলোমিটার দূরে চলে যায় ট্রেনটি। সবশেষ গত ২ এপ্রিল হবিগঞ্জের মাধবপুর উপজেলার মনতলায় সিলেটগামী তেলবাহী ট্রেনের ৫টি ওয়াগন লাইনচ্যুত হয়ে ১৪ ঘণ্টার বেশি সময় রেল যোগাযোগ বন্ধ ছিল। ব্রিটিশ আমলের রেলপথে আধুনিকতার অভাব অনুসন্ধানে জানা গেছে, ব্রিটিশ শাসন আমলে আসাম ও চট্টগ্রামের মধ্যে সরাসরি যোগাযোগ স্থাপনে ১৮৯৮ সালে সিলেট, কুলাউড়া ও আখাউড়া হয়ে চট্টগ্রাম পর্যন্ত রেললাইন স্থাপন করা হয়। পুরোনো ইঞ্জিন ও দুর্বল অবকাঠামোর কারণে নিয়মিত ইঞ্জিন বিকল হওয়ায় ঘটনা ঘটছে। বিশেষ করে পাহাড়ি এলাকায় রাতের বেলা আপ উঠার সময় বেশিরভাগ ট্রেন আটকা পড়ে। বর্তমানে ঢাকা-চট্টগ্রাম থেকে সিলেট রুটে প্রতিদিন ছয়টি আন্তঃনগর ট্রেন চলে। এর মধ্যে চারটি ট্রেন সিলেট-ঢাকা এবং দুটি সিলেট-চট্টগ্রামে চলাচল করে। এই ছয়টি ট্রেনে প্রতিদিন প্রায় ৩০ থেকে ৩৫ হাজার যাত্রী আসা যাওয়া করেন। এরসঙ্গে রয়েছে মৌলভীবাজার ও সিলেট আসা পর্যটক। সবমিলিয়ে বছরে প্রায় ১০ কোটি যাত্রী ভোগান্তি নিয়েই চলতে হয় সবসময়। আরও জানা গেছে, ২৬১০, ২৯০২ সহ বেশকিছু নম্বরের পুরাতন ইঞ্জিন সিলেট রুটে দেওয়া হয়েছে। এই ইঞ্জিনগুলো অনেক পুরাতন থাকায় লাউয়াছড়া বনাঞ্চলের পাহাড়ি এলাকায় উঠার সময় বিকল হয়ে যায়। আর এতে অনেক সময় পুরাতন ইঞ্জিনগুলো আংশিক বিকল ও পুরোপুরি বিকল হয়ে যায়। তবে বিভিন্ন ট্রেনে ভালো ইঞ্জিন যখন দেওয়া হয় তখন সহজেই পাহাড়ি এলাকা অতিক্রম করতে পারে। পুরাতন ইঞ্জিন নিয়ে প্রায় প্রতিদিন ট্রেনের শিডিউল বিলম্বিত হয়। কারণ যে ইঞ্জিন ঢাকা থেকে সিলেট আসে একই ট্রেন একই ইঞ্জিন নিয়ে আবার ফিরতে হয়। রেলপথে বাড়ছে নিরাপত্তা শঙ্কা এদিকে সিলেট-আখাউড়া রেলপথে অন্তত ১০টি সেতু ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়েছে। এসব সেতুতে রেলের গতি কমিয়ে চালানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। রেললাইন থেকে নিয়মিত নাট, বল্টু ও ক্লিপও চুরি হচ্ছে। এতে তীব্র গরমে লাইন বাঁকা হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। টুকটাক লাইন মেরামত করা হলেও বড় ধরনের মেরামতের উদ্যোগ নিচ্ছে না কর্তৃপক্ষ। পুরাতন রেললাইন থাকায় কোনো কারণ ছাড়াই ট্রেন লাইনচ্যুত হয়। ফলে এই অঞ্চলে সাধারণ যাত্রী ও আগত পর্যটকেরা যাতায়াত ব্যবস্থায় চরম ভোগান্তি পোহাতে হয়। বাংলাদেশ রেলওয়ে বলছে, দেশে চাহিদার তুলনায় ৭০ শতাংশ ট্রেনের ইঞ্জিন আছে। এজন্য পুরাতন ইঞ্জিন দিয়ে চলতে হচ্ছে। প্রয়োজনে ইঞ্জিন মেরামত করা হয়। এছাড়া বিকল্প কোনো রাস্তা নেই। অবকাঠামো যেখানে প্রয়োজন সেখানে মেরামত করা হয়। এই অঞ্চলে রেলের অবকাঠামো যে পুরোপুরি ঝুঁকিপূর্ণ সেটা বলা যাচ্ছে না, আবার পুরো খারাপ সেটাও বলা যাচ্ছে না। ঘনঘন রেলের ইঞ্জিন বিকল হওয়ায় বিষয়ে বাংলাদেশ রেলওয়ের অতিরিক্ত মহাপরিচালক (রোলিং স্টক) আহমেদ মাহবুব চৌধুরী এশিয়া পোস্টকে বলেন, ‘হঠাৎ করে এই রুটে কেন এই সমস্যাটা বেড়ে গেলো আমিও বুঝতে পারছি না। এর বিশেষ কোনো কারণ আছে কিনা, তা দেখতে হবে। ট্রেনের ইঞ্জিনের সমস্যা আছে ঠিক, তবে ঈদের পর থেকে বেশি সমস্যা হচ্ছে। আমরা খোঁজ খবর নিচ্ছি কী কারণে এই সমস্যাটা বেড়ে গেছে।’ এ বিষয়ে বাংলাদেশ রেলওয়ের অতিরিক্ত মহাপরিচালক (অবকাঠামো) আল ফাত্তাহ মো. মাসউদুর রহমান এশিয়া পোস্টকে বলেন, ‘সারাদেশে আমাদের ৮৫টি রেলের ইঞ্জিন প্রয়োজন। তবে আমাদের কাছে ৭০ শতাংশ ইঞ্জিন থাকায় কিছু সমস্যা হচ্ছে। এ কারণেই অনেক ট্রেনের বিলম্ব হয়। নতুন করে এডিপির একটি প্রকল্প শুরু করেছি, আগামী দুই থেকে তিন বছরের মধ্যে এ সমস্যা সমাধান হবে।’ অবকাঠামোর বিষয়ে তিনি আরও বলেন, ‘রেললাইনের অবস্থা অনুযায়ী মেরামত করা হয়। অবকাঠামো একেবারে ভালো বলবো না, তবে একেবারে খারাপও না। লাইনের অবস্থা অনুযায়ী রেলের গতি নির্ধারণ করে দেওয়া হয়। অবকাঠামোর জন্য আমাদের পূর্বাঞ্চলের রেললাইন পুনর্বাসনের জন্য একটি নতুন প্রকল্প অনুমোদনের প্রক্রিয়াধীন আছে। এটা অনুমোদন হলে বিভিন্ন কাজ করা যাবে।’  
ফেনীতে ছেলের ছুরিকাঘাতে মায়ের মৃত্যু, বাবা-বোনের অবস্থা আশঙ্কাজনক
ফেনীতে ছেলের ছুরিকাঘাতে মায়ের মৃত্যু, বাবা-বোনের অবস্থা আশঙ্কাজনক
ফেনীর দাগনভূঞায় মাদক সেবনের টাকা না পেয়ে ছেলের ছুরিকাঘাতে লাকি বেগম (৪৫) নামের এক নারীর মৃত্যু হয়েছে। এ ঘটনায় গুরুতর আহত হয়েছেন তার স্বামী মোহাম্মদ মোস্তফা (৫৫) ও মেয়ে মিথিলা মোস্তফা (১৮)। আশঙ্কাজনক অবস্থায় তাদের চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। রোববার (১০ মে) রাত সাড়ে ৯টার দিকে উপজেলার সিন্দুরপুর ইউনিয়নের দিলপুর গ্রামের মকবুল আহমদ হুদুর বাড়িতে এ ঘটনা ঘটে। ঘটনার পর অভিযুক্ত ছেলে মোহাম্মদ রাফিককে (২১) আটক করেছে পুলিশ। এ সময় হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত দুটি ছুরি জব্দ করা হয়। পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, রাফিক দীর্ঘদিন ধরে মাদকাসক্ত ছিলেন। রোববার রাতে তিনি বাড়িতে এসে মাদক সেবনের জন্য মায়ের কাছে টাকা চান। মা টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানালে এবং তাকে শাসন করলে রাফিক ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠেন। একপর্যায়ে ধারালো ছুরি দিয়ে তিনি মায়ের ওপর হামলা করেন। মাকে বাঁচাতে বোন মিথিলা এগিয়ে গেলে তাকেও ছুরিকাঘাত করা হয়। পরে বাবা মোহাম্মদ মোস্তফা তাদের রক্ষা করতে গেলে তাকেও এলোপাতাড়ি কুপিয়ে জখম করা হয়। পরিবারের সদস্যদের চিৎকারে স্থানীয়রা এগিয়ে এসে রাফিককে আটক করে পুলিশে খবর দেন। পরে আহতদের উদ্ধার করে ফেনী ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক লাকি বেগমকে মৃত ঘোষণা করেন। হাসপাতালের জরুরি বিভাগের চিকিৎসক শাহরিয়ার কবির জানান, হাসপাতালে আনার আগেই অতিরিক্ত রক্তক্ষরণে লাকি বেগমের মৃত্যু হয়। আহত দুজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে তাদের চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। দাগনভূঞা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মুহাম্মদ ফয়জুল আজীম নোমান এশিয়া পোস্টকে জানান, খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে অভিযুক্ত রাফিককে আটক করেছে। হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত দুটি ছুরি জব্দ করা হয়েছে। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে রাফিক অনলাইনে ছুরি কেনার কথা স্বীকার করেছেন। ওসি আরও জানান, নিহত নারীর মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে রাখা হয়েছে। এ ঘটনায় আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন।