প্রথমিক পর্যায়ের সরকারি স্কুলে মিড-ডে মিলের (শিক্ষার্থীদের জন্য দুপুরে পুষ্টিকর খাবার) ব্যবস্থা করে প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর। তবে দেশের বিভিন্নপ্রান্ত থেকে খবর আসতে থাকে–নিম্নমানের খাবার সরবরাহ করছে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান।
গত এক সপ্তাহের মধ্যে ফেনী, চাঁদপুর ও শেরপুরসহ কয়েকটি জেলার স্কুলে ছত্রাক ধরা রুটি এবং পচা ডিম দেওয়া হয় শিক্ষার্থীদের। বিষয়টি নিয়ে শিক্ষক ও অভিভাবকদের মধ্যে ক্ষোভ সৃষ্টি এবং গণমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশ হলে নড়েচড়ে বসে সংশ্লিষ্ট এলাকার শিক্ষা অফিস।
ডিম ও রুটির পর এবার ঝালকাঠির নলছিটি উপজেলায় শিক্ষার্থীদের জন্য সরবরাহ করা হয়েছে পচা কলা। মঙ্গলবার (৭ এপ্রিল) উপজেলার অন্তত পাঁচটি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে পচা কলা সরবরাহ করে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান ‘আইল্যান্ড ট্রেডিং লিমিটেড’।
বিষয়টি নিয়ে বুধবার (৮ এপ্রিল) খোঁজ নিয়ে জানা যায়, পচা কলা দেখে ক্ষুব্ধ হয়ে ওঠেন অভিভাবক ও স্থানীয়রা। তারা ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিদের প্রতিবাদ জানালে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। পরে তোপের মুখে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিরা ঘটনাস্থল ত্যাগ করেন।
এ বিষয়ে নলছিটি উপজেলার অনুরাগ গৌরীপাশা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক নার্গিস সুলতানা পারভিন এশিয়া পোস্টকে বলেন, আমার স্কুলে দেওয়া কলার মান এতটাই খারাপ ছিল, যা খাওয়ার উপযুক্ত না। গতকাল (মঙ্গলবার) আমাদের স্কুলে খাবার রাখা হয়নি। আমরা ফেরত দিয়ে দিছি। শুনেছি এ রকম আরও কয়েকটি স্কুলে খাবার রাখেনি, ফেরত দিয়ে দিছে।
জেলা শিক্ষা অফিস সূত্রে জানা যায়, ১৬৭টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ২০২৫ সালের ১৭ নভেম্বর থেকে মিড-ডে মিল কর্মসূচি চালু হয়। এর আওতায় আছে প্রায় ১৪ হাজার শিক্ষার্থী। তাদেরকে প্রতিদিন রুটি, বিস্কুট, ডিম, কলা ও দুধ—এই পাঁচ উপাদানের মধ্যে অন্তত দুটি দেওয়া বাধ্যতামূলক।
অভিভাবকদের অভিযোগ, শিশুদের টিফিনে অত্যন্ত নিম্নমানের খাবার দেওয়া হয়। অনেক ক্ষেত্রে খাওয়ার অনুপযোগী। শিশুদের পুষ্টি নিশ্চিত করতে সরকার বিপুল অর্থ ব্যয় করছে। অথচ ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান নিম্নমানের খাবার সরবরাহ করে শিশুদের স্বাস্থ্যঝুঁকির মধ্যে ফেলছে।
এ বিষয়ে নলছিটি উপজেলার ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান আইল্যান্ড ট্রেডিং লিমিটেডের এক কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে এশিয়া পোস্টকে জানান, কলা সরবরাহের জন্য স্থানীয় এজেন্ট নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। কোনো এজেন্ট নিম্নমানের কলা সরবরাহ করলে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
স্থানীয় এক এজেন্ট সজল ফকির বলেন, প্রতিদিন প্রায় ১৪ হাজার কলা সরবরাহ করতে হয়। কিছু কলার মান খারাপ হতে পারে। কলাগুলো রাজশাহী ও চাঁপাইনবাবগঞ্জ থেকে আনা হয়, পরিবহনের সময় কিছু কলায় দাগ পড়ে।
এ বিষয়ে জানতে উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা শিরিন বেগমের সঙ্গে ফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি কল রিসিভ করেননি। কার্যালয়ে গিয়েও তাকে পাওয়া যায়নি।
পরে যোগাযোগ করা হয় জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. শাহিনুল ইসলাম মজুমদারের সঙ্গে। তিনি বলেন, প্রতিটা স্কুলের প্রধান শিক্ষকদের বলে দেওয়া হয়েছে, যদি কোনো স্কুলে পচা কলা নিয়ে আসে তা ফেরত দিয়ে দিতে।




