সুনামগঞ্জের মধ্যনগর উপজেলার ইকরছড়ি (এরনবিল) হাওরের জামখলা খালের বাঁধ ভেঙে কিছু বোরো জমির ফসল পানিতে তলিয়ে যাচ্ছে।
মঙ্গলবার (২৮ এপ্রিল) সকালে উপজেলার বংশীকুন্ডা দক্ষিণ ইউনিয়নের হামিদপুর গ্রামের কাছে সুরেশ্বরী নদীর শাখা নদী মনাই নদীর পানির চাপে এরনবিলের জামগড়া খালের এই বাঁধটি ভেঙে যায়।
স্থানীয় কৃষকদের দাবি, এই বাঁধের ভেতরে ইকরছড়ি (এরনবিল) হাওরে এলাকার হামিদপুর, চান্দালিপাড়া, চাঁনপুর, গড়াকাটা, হরিনাকান্দী, তেলিগাঁও, বাগারপাড়া গ্রামের কৃষকরা প্রায় ২০০ একর বোরো জমি চাষাবাদ করেন। ইতোমধ্যে হাওরে অর্ধেক জমির ধান কাটা হয়েছে। হঠাৎ করে খালের বাঁধটি ভেঙে যাওয়ায় বোরো ধান পানির নিচে তলিয়ে যাচ্ছে।
হামিদপুর গ্রামের বাসিন্দা বংশীকুন্ডা দক্ষিণ ইউনিয়ন পরিষদের ৫নং ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য মো. কামাল মিয়া বলেন, এরনবিল হাওরের জামখলা খালের ওপর বাঁধটি আমরা স্থানীয় লোকজন দিয়ে থাকি। বিলের ভেতরে ৬-৭ টি গ্রামের মানুষ ধান চাষ করেন। অনেকেই ধান কেটে নিয়েছেন, আবার কিছু কৃষকের ধান রয়েছে। হয়তো শতাধিক বিঘা জমির ধান তলিয়ে যেতে পারে। তবে লোকজন ধান কেটে তোলার চেষ্টা করছে।
সুনামগঞ্জ পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. হাওলাদার বলেন, মধ্যনগরে একটি জলমহালের বাঁধ ভেঙে পানি ঢুকছে বলে জানা গেছে। এটা বোরো ফসলরক্ষার কোনো বাঁধ নয়। জলমহালের তীরে হয়তো কিছু ধান থাকতে পারে।
মধ্যনগর উপজেলার ভারপ্রাপ্ত উপজেলা নির্বাহী অফিসার সঞ্জয় ঘোষ বলেন, এটি ফসলরক্ষার কোনো বাঁধ নয়। ইকরছড়ি বিলের খালের ওপরে দেওয়া একটি গ্রামীণ মাটির রাস্তা। পাহাড়ি ঢলের পানির চাপে এটি ভেঙে গেছে। যেখানে পানি ঢুকছে সেটি প্রকৃতপক্ষে জলমহাল। জলমহালের তীরে ১১৪ হেক্টর জমি চাষাবাদ করা হয়েছিল। ইতোমধ্যে ৫০ হেক্টর জমির ধান কাটা হয়ে গেছে। পানিতে হয়তো ৫-১০ হেক্টর জমির ধান তলিয়ে যেতে পারে। তবে স্থানীয় লোকজন ধান কেটে তোলার ও বাঁধটি মেরামতের চেষ্টা করছেন।




