একই গ্রামের দুজন প্রেম করে মাত্র ৫ মাস আগে বিয়ে করেছিলেন। কিন্তু সেই প্রেম সফল হয়নি, সংসারও করা হয়নি। ছেলের পরিবার বিয়ে মেনে না নেওয়ায় ৫ মাস পরও বাসরঘর হয়নি তাদের। রাগে-অভিমানে ইঁদুর মারার বিষ খেয়ে স্বামী ও স্ত্রী দুইজন আত্মহত্যা করেছেন।
রোববার (২৬ এপ্রিল) সকাল ১০টার দিকে সুনামগঞ্জের দিরাই উপজেলার মির্জাপুর গ্রামে ঘটনাটি ঘটে।
মারা যাওয়া স্বামী-স্ত্রী হলেন উপজেলার রফিনগর ইউনিয়নের মির্জাপুর গ্রামের আজিজুর রহমান অরফে কুঞ্জন মিয়ার ছেলে মাহফুজুর রহমান (১৮) ও একই গ্রামের মোর্শেদ মিয়ার মেয়ে মনিকা আক্তার (১৫)।
স্বামীর বাড়ির লোকজনের দাবি, দাম্পত্য কলহের জেরে স্বামী-স্ত্রী বিষ খেয়ে আত্মহত্যা করেছেন। তবে স্ত্রীর বাড়ির লোকদের অভিযোগ, প্রেমের বিয়ে মেনে না নিয়ে শ্বশুরবাড়ির লোকজন প্রায়ই মনিকাকে নির্যাতন করতেন। মনিকার খাবারের সঙ্গে বিষজাতীয় কিছু মিশিয়ে দিলে সেই খাবার খেয়ে অসুস্থ হয়ে পড়লে খবর পেয়ে তার স্বামী মাহফুজও সেই খাবার খেয়ে মারা গেছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, মাহফুজুর রহমান মোবাইল ফোনের কথা বলা থেকে প্রেম করে একই গ্রামের মনিকা আক্তারকে বিয়ে করেন ৫ মাস আগে। কিন্তু মাহফুজের পরিবার সেই বিয়ে মেনে নেয়নি। শর্ত অনুযায়ী বিয়ের পরই মাহফুজকে কাজের জন্য ঢাকায় পাঠানো হয়। সম্প্রতি বাড়ি ফিরলেও পৃথকভাবে থাকতে হতো মনিকা-মাহফুজকে। একদিন তাদেরকে একত্রে দেখতে পেয়ে গালাগালি ও মারধর করে তার বাবা। পরে রাগে-অভিমানে দুজন একসঙ্গে আত্মহত্যা করার সিদ্ধান্ত নেয়। ইঁদুর মারার কথা বলে ছোট ভাইকে দিয়ে বাজার থেকে চারটি বিষের ট্যাবলেট আনায় মাহফুজ। সিদ্ধান্ত অনুযায়ী স্বামী-স্ত্রী একসঙ্গে ইঁদুর মারার ট্যাবলেট খেয়ে আত্মহত্যার কথা থাকলেও মনিকা আগেই দুইটি ট্যাবলেট খেয়ে ফেলে এবং মোবাইল ফোনে স্বামীকে জানায়। পরে স্বামী মাহফুজ হাওর থেকে বাড়ি ফিরে এসে দুইটি ট্যাবলেট খেয়ে খেয়ে অসুস্থ হয়ে পড়েন।
পরবর্তীতে দুজনকে দ্রুত উদ্ধার করে দিরাই উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মনিকা আক্তারকে মৃত ঘোষণা করেন। উন্নত চিকিৎসার জন্য মাহফুজকে সিলেটের এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করা হলে পথেই তার মৃত্যু হয়।
মনিকার চাচা বদরুল আলম বলেন, আমরা এই মৃত্যুর ঘটনার সুষ্টু তদন্ত চাই। পুলিশ আজকে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করতে গিয়েছে। আমরা সোমবার থানায় অভিযোগ দাখিল করব।
রফিনগর ইউনিয়ন পরিষদের ৫নং ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য ওয়াহিদুল ইসলাম বলেন, যতদূর জানি মাহফুজ ও মনিকার মৃত্যুর জন্য মাহফুজের পরিবার অনেকটাই দায়ী। তারা এই বিয়ে মেনে নিতে পারেনি। বিয়ের পর বাসরঘরই করা হয়নি তাদের, শর্ত অনুযায়ী মাহফুজকে ঢাকায় পাঠিয়ে দিয়েছিলেন। সম্প্রতি মাহফুজ বাড়ি ফিরলেও স্বামী-স্ত্রীকে নাকি পৃথক ঘরে রাখা হতো। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে মাহফুজকে মারধরও করা হয়েছে। রাগে-অভিমানে নাকি তারা একসঙ্গে আত্মহত্যার সিদ্ধান্ত নেয়। শুনেছি মনিকার চাচা থানায় অভিযোগ করবেন।
এ বিষয়ে দিরাই থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. এনামুল হক চৌধুরী বলেন, বিষপানে তাদের মৃত্যু হয়েছে বলে জেনেছি। কী কারণে তারা আত্মহত্যা করেছে সঠিকভাবে জানা যায়নি। পুলিশ বিষয়টি খতিয়ে দেখছে। অভিযোগ পেলে তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। ময়নাতদন্তের জন্য স্বামী-স্ত্রীর মরদেহ সুনামগঞ্জ সদর হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে।




