বর্ষা মৌসুম এলেই বাড়ে ম্যালেরিয়ার প্রকোপ। দেশের তিন পার্বত্য জেলা রাঙামাটি, খাগড়াছড়ি ও বান্দরবান রয়েছে এই প্রাণঘাতী রোগের উচ্চ ঝুঁকিতে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, পাহাড়ে ভ্রমণে আসা পর্যটকদের মাধ্যমেও রোগজীবাণু সমতলে ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা রয়েছে।
সম্প্রতি ম্যালেরিয়ায় আক্রান্ত হয়ে এক শীর্ষ সরকারি কর্মকর্তার মৃত্যু এবং দেশের বিভিন্ন এলাকায় নতুন সংক্রমণের খবর জনমনে উদ্বেগ বাড়িয়েছে। এমন প্রেক্ষাপটে দেশজুড়ে পালিত হচ্ছে বিশ্ব ম্যালেরিয়া দিবস।
স্বাস্থ্য বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, গত বছর রাঙামাটিতে ম্যালেরিয়ায় আক্রান্ত হয়ে দুই শিশুর মৃত্যু হয়। চলতি বছরের প্রথম তিন মাসেই জেলায় আক্রান্ত হয়েছেন ১৭৯ জন। ২০২৫ সালে মোট আক্রান্তের সংখ্যা ছিল ৩ হাজার ৬১৪। যদিও সরকার ২০৩০ সালের মধ্যে ম্যালেরিয়া নির্মূলের লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে, পার্বত্য অঞ্চলে সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণ এখনও চ্যালেঞ্জ হয়ে আছে।
স্বাস্থ্য কর্মকর্তারা বলছেন, পাহাড়ে ভ্রমণের পর তিন সপ্তাহ থেকে এক মাসের মধ্যে জ্বর দেখা দিলে দেরি না করে ম্যালেরিয়া পরীক্ষা করা জরুরি। অবহেলা করলে রোগটি মারাত্মক রূপ নিতে পারে।
বাংলাদেশে মশাবাহিত রোগগুলোর মধ্যে ম্যালেরিয়া অন্যতম। স্ত্রী অ্যানোফিলিস মশার মাধ্যমে এই রোগ ছড়ায়। তিন পার্বত্য জেলার সীমান্তবর্তী উপজেলাগুলোকে বেশি ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত করেছে স্বাস্থ্য বিভাগ।
রাঙামাটিতে ২০১৪ সালে ম্যালেরিয়া রোগী ছিল ১৭ হাজার ১৬৬ জন। ধারাবাহিক কর্মসূচির ফলে এ সংখ্যা কমে আসে। ২০২২ সালে রোগী ছিল ৩ হাজার ২১৯, ২০২৩ সালে ৪ হাজার ৭১৩, ২০২৪ সালে ৩ হাজার ৭৭১ এবং ২০২৫ সালে ৩ হাজার ৬১৪ জন। ২০২৫ সালে দুইজনের মৃত্যু হয়, যা ২০১৬ সালের পর প্রথম মৃত্যুর ঘটনা।
জেলা সিভিল সার্জন অফিসের তথ্যমতে, ২০১৪ সালের পর থেকে ২০২১ সাল পর্যন্ত সংক্রমণ কমলেও ২০২২ সালের পর আবার বাড়তে শুরু করেছে। জেলার মধ্যে জুরাছড়ি, বিলাইছড়ি, বরকল ও বাঘাইছড়ি উপজেলায় আক্রান্তের সংখ্যা সবচেয়ে বেশি। নতুন করে রাজস্থলী উপজেলাতেও সংক্রমণ বাড়ছে। ২০২৩ সালে জুরাছড়িতে ১ হাজার ৭৭৮, বরকল ৭৭০, বিলাইছড়ি ৮২০, বাঘাইছড়ি ৮৮৮।
২০২৪ সালে জুরাছড়িতে ১ হাজার ২৩৩ জন, বরকল ৬৪০, বিলাইছড়ি ৬৬০, বাঘাইছড়ি ৬৮৩। ২০২৫ সালে জুরাছড়ি উপজেলায় ১ হাজার ১৫৮, বরকল ৫০০, বিলাইছড়ি ৬৬০, বাঘাইছড়ি ৬১৬ জন। সীমান্তবর্তী এলাকায় মানুষের চলাচল বেশি হওয়ায় সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণ কঠিন হয়ে পড়ছে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।
রাঙামাটি সিভিল সার্জন কার্যালয়ের ম্যালেরিয়াবিষয়ক ফোকাল পারসন মোহাম্মদ আবুল কামাল বলেন, জেলার প্রতিটি উপজেলায় ম্যালেরিয়া পরীক্ষা ও দ্রুত চিকিৎসার ব্যবস্থা রয়েছে। দুর্গম এলাকায় সচেতনতা বাড়াতে নিয়মিত কার্যক্রম চালানো হচ্ছে।
সিভিল সার্জন ডা. নূয়েন খীসা জানান, পর্যটকদের মাধ্যমে সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়া ঠেকাতে বিভিন্ন উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। বিশেষ করে সাজেকের রিসোর্টগুলোতে মশারি ব্যবহারে জোর দেওয়া হচ্ছে।
তিনি বলেন, পাহাড়ে ভ্রমণের পর তিন সপ্তাহ থেকে এক মাসের মধ্যে জ্বর হলে দেরি না করে ম্যালেরিয়া পরীক্ষা করা উচিত।




