সুন্দরবনে ‘অপারেশন ম্যানগ্রোভ শিল্ড’ অভিযানে বনদস্যু ‘বড় জাহাঙ্গীর’ বাহিনীর কাছে জিম্মি থাকা দুই জেলেকে উদ্ধার করেছে কোস্ট গার্ড। এ সময় পৃথক অভিযানে অস্ত্র ও গুলিসহ ‘দয়াল’ বাহিনীর এক সদস্যকে আটক করা হয়েছে।
গত বৃহস্পতিবার (১৬ এপ্রিল) বিকেলে মোংলার মুর্তি খাল সংলগ্ন এলাকা থেকে দুই জেলেকে উদ্ধার করা হয়।
কোস্ট গার্ডের মিডিয়া কর্মকর্তা লেফটেন্যান্ট কমান্ডার সাব্বির আলম সুজন জানান, সুন্দরবনের সব বনদস্যু বাহিনীর বিরুদ্ধে কোস্ট গার্ড কঠোর অবস্থানে রয়েছে। এর অংশ হিসেবে কোস্ট গার্ডের নেতৃত্বে ‘অপারেশন রিস্টোর পিস ইন সুন্দরবন’ এবং ‘অপারেশন ম্যানগ্রোভ শিল্ড’ নামে দুটি বিশেষ অভিযান চালানো হচ্ছে।
তিনি জানান, গত ১৫ এপ্রিল মোংলার জয়মনিঘোল এলাকার শুয়োরমারা খাল সংলগ্ন স্থানে মাছ ধরতে গিয়ে দুই জেলে বড় জাহাঙ্গীর বাহিনীর হাতে অপহৃত হন। ডাকাতরা তাদের জিম্মি রেখে মুক্তিপণ আদায়ের উদ্দেশ্যে নির্যাতন চালায়।
পরে গোয়েন্দা নজরদারির মাধ্যমে জিম্মিদের অবস্থান নিশ্চিত করা হলে ১৬ এপ্রিল বিকেল ৪টার দিকে মোংলার মুর্তি খাল সংলগ্ন এলাকায় বিশেষ অভিযান চালায় কোস্ট গার্ড। অভিযান চলাকালে একটি কাঠের নৌকাসহ দুই জেলেকে উদ্ধার করা হয়। তবে কোস্ট গার্ডের উপস্থিতি টের পেয়ে ডাকাতরা বনের ভেতরে পালিয়ে যাওয়ায় কাউকে আটক করা সম্ভব হয়নি।
অন্যদিকে, গোপন তথ্যের ভিত্তিতে জানা যায়, দয়াল বাহিনী সাতক্ষীরার শ্যামনগর থানার হোগলডরা খাল এলাকায় অবস্থান করছে। এ তথ্যের ভিত্তিতে শুক্রবার (১৭ এপ্রিল) সকাল ৬টার দিকে কোস্ট গার্ড সেখানে অভিযান চালায়। এ সময় ডাকাতরা পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করলে ধাওয়া করে দয়াল বাহিনীর সক্রিয় সদস্য তরিকুলকে আটক করা হয়। তার কাছ থেকে দুটি একনালা বন্দুক ও ৯টি গুলি উদ্ধার করা হয়েছে।
আটক তরিকুল খুলনার কয়রা থানার বাসিন্দা। তিনি দীর্ঘদিন ধরে দয়াল বাহিনীর সক্রিয় সদস্য হিসেবে ডাকাতির সঙ্গে জড়িত ছিলেন বলে জানিয়েছে কোস্ট গার্ড।
আটক ডাকাতদলের সদস্য, জব্দ অস্ত্র ও গুলির বিষয়ে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। পাশাপাশি উদ্ধার হওয়া জেলেদের পরিবারের কাছে হস্তান্তরের কার্যক্রমও চলছে।
কোস্ট গার্ড জানায়, সুন্দরবনকে সম্পূর্ণ দস্যুমুক্ত করতে এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে।




