নাটোরের গুরুদাসপুরে মাইকিং করে চা ও কফির দাম বৃদ্ধি করলেন চা ব্যবসায়ী সমিতি। শুধু মাইকিং নয়, প্রতিটি দোকানে সাঁটানো হয়েছে দাম বৃদ্ধির প্রচারপত্র। আর হঠাৎ করে এভাবে চা-কফির মূল্য বৃদ্ধি করায় ক্রেতাদের মধ্যে অসন্তোষ সৃষ্টি হয়েছে।
শনিবার (১১ এপ্রিল) উপজেলার বিভিন্ন স্থানে মাইকিং করে চা ও কফির দাম বৃদ্ধির প্রচারণা চালায় চা ব্যবসায়ী সমবায় সমিতি।
মাইকিংয়ে জানানো হয়, বর্তমান জাতীয় ও বিশ্ব পরিস্থিতির দরুন গ্যাস, খড়ি, বিদ্যুৎ, চা পাতা ও চিনিসহ সব নিত্যপণ্যের সার্বিক মূল্য বৃদ্ধি পাওয়ায় এখন থেকে প্রতিকাপ লাল চা ৫ টাকা থেকে বাড়িয়ে ৭, ব্ল্যাক কফি ১০ ও দুধ কফি-দুধ চা ২০ টাকা নির্ধারণ করা হলো। মূল্যবৃদ্ধির এই বাড়তি চাপের কারণে ভোগান্তি বা অসুবিধার জন্য আমরা আন্তরিকভাবে দুঃখিত। প্রচারে চা স্টল ব্যবসায়ী সমবায় সমিতি, চাঁচকৈড় বাজার গুরুদাসপুর নাটোর।
চা-কফির দাম বৃদ্ধির বিষয়ে স্থানীয় মিজানুর রহমান, রাজু সরকার জিবন কর্মকারসহ আরও অনেকে জানান, তারা সারাদিন বাজারের চায়ের স্টল অন্তত ৮/১০ কাপ চা কিনে খান। কাজের চাপের মধ্যে বা বন্ধুদের সঙ্গে আড্ডা দিতেও তারা চা বা কফি পান করেন। অধিকাংশ মানুষ বাড়ির বাইরে চা কিংবা কফি পান করেন। দুদিন আগেও সব দোকানেই প্রতি কাপ লাল চা ৫ করে দাম ছিল। এখন সেই চা ৭ করে দাম করেছে। এক কাপ চায়ে ২ টাকা বেশি নেওয়া হচ্ছে। এটা একটা বিরক্তির কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
তারা আরও বলেন, এখন সবকিছুরই দাম বৃদ্ধি হচ্ছে দোকানিদের বা তাদের সমিতির ইচ্ছেমতো। যেন কোনো কিছুই দেখার কেউ নেই এ দেশে। তাদের ঘোষণা হিসেবে প্রতি কাপ লাল চা ও ব্ল্যাক কফিতে ২ টাকা, দুধ চা ও দুধ কফিতে ৫ টাকা মূল্য বৃদ্ধি করা হয়েছে। বিষয়টি নিয়ে স্থানীয় প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করেন তারা।
চা দোকানি মোহন ঘোষ জানান, বর্তমানে চায়ের দোকান চালাতে গিয়ে তাদের খরচ অনেক বেড়ে গেছে। সরকার হঠাৎ করে গ্যাস সিলিন্ডারের দাম বৃদ্ধি করেছে প্রায় ৪০০ টাকা। আর চা তৈরি করতে তাদের আগুন প্রয়োজন হয়। সেই আগুনটা তারা গ্যাস সিলিন্ডার দিয়ে ব্যবহার করেন। হঠাৎ গ্যাসের দাম বেড়ে গেলে তারা কি করবেন? লোকসান দিয়ে তো আর চা বেচতে পারবেন না।
তিনি আরও জানান, সমিতির পক্ষ থেকে দাম বৃদ্ধি করা হয়েছে। তবে দাম বৃদ্ধ হলেও তার দোকানে ক্রেতাদের সঙ্গে এখনও কোনো ঝামেলা হয়নি। সবাই জানে চা পাতা, চিনি ও গ্যাসের দাম বেড়ে যাওয়ায় চা-কফির দাম বেড়েছে। আবার সবকিছুর দাম কমলে তারাও দাম কমিয়ে দেবেন।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে গুরুদাসপুর চা ব্যাবসায়ী সমবায় সমিতির কোষাধক্ষ্য আফতাব হোসেন ও সদস্য আরিফ হোসেন এশিয়া পোস্টকে বলেন, যারা গ্যাস সিলিন্ডার ব্যাবহার করে চা বানায় বিক্রি করে তাদের জন্য ৫ টাকা কাপ চা বিক্রি করা এখন লোকসান হয়ে গেছে। সবকিছুর দাম বাড়ায় তারাও চা-কফির দাম বাড়িয়েছে। তবে এখনও অনেকেই আগের দামে বা ৬ টাকা ৭ টাকা করে বিক্রি করছে। আর খড়ি দিয়ে যেসব দোকানি চা বিক্রি করে তারা এখনও দাম বৃদ্ধি করেনি। এমন করে সবকিছুর দাম বড়তে থাকলে চা কফির দাম আস্তে আস্তে সবাই বাড়িয়ে দিবে।




