কক্সবাজারে হাম আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা দিন দিন বাড়ছে। জেলায় ইতোমধ্যে হামের উপসর্গ নিয়ে ইতোমধ্যে পাঁচজনের মৃত্যু হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে কৃষক আজিজুল হকের ৮ মাস বয়সি যমজ দুই মেয়ে।
জেলার রামু উপজেলার ঝিলংজা ও মিঠাছড়ার মাঝামাঝি সম্মুলকচড় এলাকার আজিজুল হক ও মরিয়ম খাতুন দম্পতির আদরের দুই কন্যা ছিল রুশফি ও রাফিজা। পরিবার সূত্রে জানা গেছে, গত রমজানের শেষের দিকে জ্বর ও কাশিতে আক্রান্ত হলে প্রথমে স্থানীয়ভাবে চিকিৎসা দেওয়া হয়। অবস্থার অবনতি হলে কক্সবাজার সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় গত ২ এপ্রিল এক কন্যা এবং দুদিন অপর কন্যার মৃত্যু হয়।
আজিজুল হক বলেন, কৃষিকাজ করে জীবিকা নির্বাহ করি। তাদের চার ছেলে ও তিন মেয়ে। এদের মধ্যে আট মাসের দুই মেয়ে যমজ। অভাবের সংসার হলেও সন্তানদের বাঁচাতে প্রায় অর্ধলাখ টাকা খরচ করেছেন।
তিনি বলেন, রমজানের শুরু থেকে জ্বর ও কাশি নিয়ে চিকিৎসকের কাছে গেলে হাসপাতালে ভর্তি হতে বলেন। কিছুদিন চিকিৎসা নিয়ে ভালো হয়ে বাড়ি ফেরে। ঈদের আগের দিন আবার জ্বর ও কাশি হলে স্থানীয়ভাবে চিকিৎসা নেয়। অবস্থার অবনতি হলে সদর হাসপাতালে ভর্তি করানো হয়। গত বৃহস্পতিবার (২ এপ্রিল) রুশনি মারা যায়। দুদিন পর শনিবার (৪ এপ্রিল) রাফিজাও মারা যায়।
মা মরিয়ম খাতুন দুই কন্যাকে হারিয়ে শোকে কাতর। মরিয়ম বলেন, সবার ছোট মেয়ে দুটির চিকিৎসার কমতি রাখিনি। ধারদেনা করে চিকিৎসা চালিয়েছি। তাদের জন্য অর্ধলাখ টাকা খরচ হলেও বাঁচাতে পারিনি। ডাক্তাররা জানিয়েছেন, হাম রোগে আক্রান্ত হয়ে তাদের মৃত্যু হয়েছে।
আদরের দুই মেয়ে অসুস্থ থাকায় ঈদের আনন্দ তাদের ছোঁয়নি। তখন থেকে পরিবারে চলছে মাতম। দুই সন্তান হারানোর শোকে মা মরিয়মও মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছেন, অসুস্থ হয়ে শয্যাশায়ী রয়েছেন। মরিয়ম বলেন, এখন আমিও অসুস্থ। টাকার অভাবে চিকিৎসা নিতে পারছি না।
প্রতিবেশীরা বলেন, ঈদ আনন্দ বয়ে আনেনি এই পরিবারে। শোকের ভারে এখনো নীরব তাদের ঘর—চুলায়ও ঠিকমতো আগুন জ্বলছে না। শুধু আজিজুল হক ও মরিয়ম খাতুন দম্পতি নয়, দুই শিশুর এমন মৃত্যুতে পুরো এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে।
প্রতিবেশী জাফর বলেন, দুই সন্তানকে হারিয়ে পাগলপ্রায় আজিজুল হক দম্পতি। বিশেষ করে মা মরিয়ম খাতুন খাবারদাবার ছেড়ে দিয়ে শয্যাশায়ী।
কক্সবাজার জেলা সদর হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, বুধবার (৮ এপ্রিল) পর্যন্ত হামের উপসর্গ নিয়ে পাঁচজনের মৃত্যু হয়েছে। জেলায় এখন পর্যন্ত ৭৬ জন হামে আক্রান্ত হয়েছে। এর শুধু সদর উপজেলারই ৪৯ জন।




