চলমান যুদ্ধ বন্ধে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে সম্ভাব্য গোপন আলোচনার খবরে আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারে অস্থিরতা বেড়েছে। এর জেরে তেলের দাম একদিনেই প্রায় ৫ শতাংশ পর্যন্ত বৃদ্ধি পেয়েছে। বৃহস্পতিবার (২৬ মার্চ) এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে আলজাজিরা।
আন্তর্জাতিক বেঞ্চমার্ক ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ৫.২ শতাংশ বেড়ে ব্যারেলপ্রতি ১০৭.৫৪ ডলারে পৌঁছেছে। একই সময়ে যুক্তরাষ্ট্রের প্রধান সূচক ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েট (ডব্লিউটিআই) ৪.৯ শতাংশ বেড়ে ৯৪.৭১ ডলারে দাঁড়িয়েছে।
এর আগে রয়টার্স জানিয়েছিল, এদিন আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম প্রায় ২.০৩ শতাংশ বেড়ে ব্যারেলপ্রতি দাম দাঁড়িয়েছে ১০৪ ডলারে। আর ডব্লিউটিআই ২.১৪ শতাংশ বেড়ে ব্যারেলপ্রতি ৯২.২৫ ডলারে পৌঁছেছে।
বিশ্লেষকদের মতে, ইরান-সংকট ঘিরে অনিশ্চয়তা এবং সম্ভাব্য কূটনৈতিক তৎপরতার খবর বাজারে মিশ্র সংকেত দিচ্ছে। একদিকে যুদ্ধের ঝুঁকি সরবরাহ ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা বাড়াচ্ছে, অন্যদিকে আলোচনার সম্ভাবনা ভবিষ্যৎ বাজার পরিস্থিতি নিয়ে জল্পনা তৈরি করছে।
এর ফলে বিনিয়োগকারীরা দ্রুত অবস্থান বদল করছেন, যা স্বল্প সময়েই দামে এই ঊর্ধ্বগতির অন্যতম কারণ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
আন্তর্জাতিক জ্বালানি সংস্থা (আইইএ) এই সংকটকে এযাবৎকালের সবচেয়ে বড় তেল সরবরাহ বিঘ্ন বলে চিহ্নিত করেছে। হরমুজ প্রণালি দিয়ে সাধারণত বিশ্বের এক-পঞ্চমাংশ তেল ও গ্যাস চলাচল করে, যা এখন প্রায় পুরোপুরি বন্ধ।
একই সঙ্গে বাজার তথ্যের ভিত্তিতে রয়টার্সের হিসাব অনুযায়ী, ইউক্রেনের ড্রোন হামলা ও ট্যাংকার জব্দের ঘটনায় রাশিয়ার তেল রপ্তানির অন্তত ৪০ শতাংশ স্থগিত হয়ে পড়েছে। ইরাকের তেল উৎপাদনও ব্যাপকভাবে কমে গেছে এবং মজুত ট্যাংকগুলো সংকটজনক পর্যায়ে পৌঁছেছে।
পরিস্থিতি সামলাতে জাপান আন্তর্জাতিক জ্বালানি সংস্থার প্রধান ফাতিহ বিরোলের কাছে সমন্বিতভাবে অতিরিক্ত তেল মজুত ছাড়ার অনুরোধ করেছে। অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্রে তেলের মজুত বেড়ে ২০২৪ সালের জুনের পর সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছেছে, যা বিশ্লেষকদের পূর্বাভাসকে বহুগুণে ছাড়িয়ে গেছে। অর্থাৎ গত ২০ মার্চে মার্কিন অপরিশোধিত তেলের মজুত ৬৯ লাখ ব্যারেল বেড়ে ৪৫ কোটি ৬২ লাখ ব্যারেলে দাঁড়িয়েছে।




