মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ পরিস্থিতি শান্ত হতে পারে এমন খবরে আন্তর্জাতিক বাজারে স্বর্ণের দাম হঠাৎ করেই বেড়ে গেছে। একই সঙ্গে মার্কিন ডলারের দাম কিছুটা কমে যাওয়াও স্বর্ণের দাম বাড়ার পেছনে বড় কারণ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বুধবার (২৫ মার্চ) বাংলাদেশ সময় সকাল ৮টা ১৮ মিনিটে সরাসরি লেনদেনে স্বর্ণের দাম ছিল আউন্সপ্রতি ৪ হাজার ৫৮৭ ডলার ৯ সেন্ট, যা আগের দিনের চেয়ে ২ দশমিক ৫ শতাংশ বেশি। আর যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে এপ্রিলে ডেলিভারি দেওয়া হবে এমন স্বর্ণের দাম বেড়েছে ৪ দশমিক ২ শতাংশ।
সহজভাবে বলতে গেলে, ডলারের দাম কমলে অন্য দেশের মানুষের জন্য স্বর্ণ কেনা তুলনামূলক সস্তা হয়ে যায়। এতে স্বর্ণের চাহিদা বাড়ে, আর দামও বাড়তে থাকে।
সিঙ্গাপুরের ওসিবিসি ব্যাংকের বিশ্লেষক ক্রিস্টোফার ওং বলেন, মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ নিয়ে উত্তেজনা কমানোর আশা আর ডলারের দাম কমায় নিরাপদ বিনিয়োগ হিসেবে আবারও স্বর্ণের চাহিদা বাড়ছে। এতে বোঝা যাচ্ছে, নিরাপদ বিনিয়োগ হিসেবে স্বর্ণের গুরুত্ব কিন্তু শেষ হয়নি। কিছুদিন আগে ডলারের কাছে চাপে পড়লেও এখন সেই চাপ কমে যাওয়ায় পরিস্থিতি বদলাচ্ছে।
তার মতে, অদূর ভবিষ্যতে স্বর্ণের বাজার আমেরিকার কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নীতি, ডলারের বাজার আর ভূরাজনৈতিক পরিস্থিতির ওপর নির্ভর করছে।
এদিকে মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধবিরতির সম্ভাবনায় তেলের সরবরাহ স্বাভাবিক হওয়ার আশায় বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দাম ব্যারেলপ্রতি ১০০ ডলারের নিচে নেমে এসেছে। এতে মুদ্রাস্ফীতি নিয়ে সাধারণ মানুষের উদ্বেগ কিছুটা কমেছে।
আরও পড়ুন: ইরান যুদ্ধে জয় ঘোষণা ট্রাম্পের
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প গত মঙ্গলবার জানিয়েছেন, ইরানের সাথে যুদ্ধ বন্ধের আলোচনায় অগ্রগতি হচ্ছে। ওয়াশিংটন ইতিমধ্যে তেহরানকে ১৫ দফার একটি সমঝোতা প্রস্তাব পাঠিয়েছে বলেও বিভিন্ন সূত্রে নিশ্চিত হওয়া গেছে।
সাধারণত জ্বালানি তেলের দাম বাড়লে পরিবহন ও উৎপাদন খরচ বেড়ে যায়, যা মুদ্রাস্ফীতিকে উসকে দেয়। মুদ্রাস্ফীতি বাড়লে বিনিয়োগের সুরক্ষা হিসেবে স্বর্ণের চাহিদা বাড়ে। তবে সুদের হার বেশি থাকলে স্বর্ণের মতো সম্পদ যা থেকে কোনো সুদ পাওয়া যায় না সেখানে বিনিয়োগে আগ্রহ কিছুটা কমে যায়।
সিএমই ফেডওয়াচ টুলের তথ্য বলছে, চলতি বছরে যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় ব্যাংক ফেডারেল রিজার্ভ সুদের হার কমাবে এমন সম্ভাবনা এখন প্রায় নেই বললেই চলে।
আরও দেখুন: ইরানে হামলা চালিয়ে যেতে ট্রাম্পকে চাপ দিচ্ছেন সৌদি যুবরাজ
জেপি মরগান এক বার্তায় জানিয়েছে, সংঘাত শুরু হওয়ার আগের সময়ের তুলনায় স্বর্ণের দাম এখনো প্রায় ১৭ শতাংশ নিচে রয়েছে। ঐতিহাসিকভাবে দামের এই পতনকে স্বর্ণ কেনার একটি ভালো সুযোগ। তাদের মতে, মধ্যপ্রাচ্য সংকট যত দীর্ঘ হবে, স্বর্ণের বাজার তত শক্তিশালী হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
স্বর্ণের পাশাপাশি অন্যান্য মূল্যবান ধাতুর দামও আজ ঊর্ধ্বমুখী। আন্তর্জাতিক বাজারে স্পট সিলভার ৩.৬ শতাংশ বেড়ে প্রতি আউন্স ৭৩.৭৮ ডলারে, প্লাটিনাম ২.২ শতাংশ বেড়ে ১,৯৭৮.১০ ডলারে এবং প্যালাডিয়াম ১.৫ শতাংশ বেড়ে ১,৪৬১.৫৬ ডলারে দাঁড়িয়েছে।




