ঢাকা শুক্রবার, ১২ জুন ২০২৬, ২৯ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩
নির্বাচন সর্বশেষ
Live Icon ●LIVE

৩ লাখ কোটি টাকার এডিপি চূড়ান্ত, থোক বরাদ্দের ছড়াছড়ি

এশিয়া পোস্ট প্রতিবেদক

  ০৯ মে ২০২৬, ২১:৫৯
ছবি: সংগৃহীত

আগামী ২০২৬-২৭ অর্থবছরের জন্য রেকর্ড তিন লাখ কোটি টাকার বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচি (এডিপি) প্রাথমিকভাবে চূড়ান্ত করেছে পরিকল্পনা কমিশন। প্রস্তাবিত এডিপিতে শিক্ষা, স্বাস্থ্য, পরিবহন ও বিদ্যুৎ খাতকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়া হলেও বড় অংশজুড়ে রয়েছে বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও বিশেষ উন্নয়ন সহায়তা খাতে থোক বরাদ্দ। বিশেষ করে বাস্তবায়নে দুর্বল শিক্ষা ও স্বাস্থ্য খাতে অস্বাভাবিক থোক বরাদ্দ রাখা হয়েছে।

পরিবর্তন অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন

শনিবার (৯ মে) অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরীর সভাপতিত্বে পরিকল্পনা কমিশনের এক বর্ধিত সভায় এই উন্নয়ন বাজেট অনুমোদন দেওয়া হয়। তবে খাতভিত্তিক বরাদ্দ চূড়ান্ত করার আগে আগামী ১৬ মে কমিশনের আরেকটি বর্ধিত সভা আহ্বান করা হয়েছে। ওই সভার সুপারিশের ভিত্তিতে প্রস্তাবিত এই উন্নয়ন বাজেট আগামী ১৮ মে জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের (এনইসি) সভায় চূড়ান্ত অনুমোদনের জন্য উপস্থাপন করা হবে। ওই সভায় সভাপতিত্ব করবেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

পরিকল্পনা কমিশনের কার্যক্রম বিভাগের প্রস্তুত করা কার্যপত্র অনুযায়ী, আগামী অর্থবছরের এডিপির মোট আকার ধরা হয়েছে ৩ লাখ কোটি টাকা। এর মধ্যে সরকারের নিজস্ব অর্থায়ন বা জিওবি অংশ ১ লাখ ৯০ হাজার কোটি টাকা এবং বৈদেশিক ঋণ ও অনুদান ১ লাখ ১০ হাজার কোটি টাকা। এ ছাড়া স্বায়ত্তশাসিত সংস্থা ও করপোরেশনের নিজস্ব অর্থায়নে বাস্তবায়িত প্রকল্পের জন্য আরও ৮ হাজার ৯২৪ কোটি টাকা যুক্ত হলে মোট উন্নয়ন ব্যয়ের পরিমাণ দাঁড়াবে ৩ লাখ ৮ হাজার ৯২৪ কোটি টাকার বেশি।

বর্ধিত সভার কার্যপত্র অনুযায়ী, আগামী অর্থবছরের এডিপিতে মোট ১ হাজার ১২১টি প্রকল্প অন্তর্ভুক্ত করার প্রস্তাব করা হয়েছে। এর মধ্যে বিনিয়োগ প্রকল্প ৯৪৯টি, কারিগরি সহায়তা প্রকল্প ১০৭টি ও স্বায়ত্তশাসিত সংস্থার নিজস্ব অর্থায়নে ৪৩টি প্রকল্প রয়েছে। এ ছাড়া ১ হাজার ২৭৭টি নতুন অননুমোদিত প্রকল্পও তালিকাভুক্ত করা হয়েছে, যেগুলো ধাপে ধাপে অনুমোদনের জন্য বিবেচনা করা হবে। একই সঙ্গে ২২৩টি প্রকল্প আগামী জুনের মধ্যে শেষ করার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। এনইসি থেকে এসব প্রকল্প নির্ধারিত সময়ের মধ্যে শেষ করার কঠোর নির্দেশনা দেওয়ারও সুপারিশ করা হয়েছে।

প্রস্তাবিত এডিপির সবচেয়ে আলোচিত দিক হচ্ছে থোক বরাদ্দের অস্বাভাবিক বৃদ্ধি। বিভিন্ন মন্ত্রণালয়, বিশেষ উন্নয়ন সহায়তা এবং সামাজিক উন্নয়ন সহায়তা মিলিয়ে প্রায় ১ লাখ ১৮ হাজার ২৮৮ কোটি টাকা থোক বরাদ্দ হিসেবে রাখা হয়েছে। অন্যদিকে সরাসরি প্রকল্পভিত্তিক বরাদ্দ রাখা হয়েছে প্রায় ১ লাখ ৮১ হাজার ৭১১ কোটি টাকা। অর্থাৎ মোট উন্নয়ন বাজেটের এক-তৃতীয়াংশেরও বেশি অংশ এখনও নির্দিষ্ট প্রকল্পের বাইরে রয়েছে।

পরিকল্পনা কমিশনের তথ্য অনুযায়ী, বিশেষ প্রয়োজনে উন্নয়ন সহায়তা খাতে রাখা হয়েছে ৩৮ হাজার ২৭ কোটি টাকা এবং সামাজিক উন্নয়ন সহায়তা খাতে আরও ১৭ হাজার কোটি টাকা। এ ছাড়া বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের আওতায় ৫৯ হাজার ২৯৬ কোটি টাকা ও উন্নয়ন সহায়তা খাতে ৩ হাজার ৯৮৫ কোটি টাকা রাখা হয়েছে, যা অতীতের যে কোনো সময়ের তুলনায় অনেক বেশি।

আর বিপুল অংকের এই থোক বরাদ্দ রাখা হচ্ছে প্রকল্প বাস্তবায়নে সবচেয়ে দুর্বল খাত ও প্রতিষ্ঠানগুলোতেই। স্বাস্থ্যশিক্ষা ও পরিবার কল্যাণ বিভাগ, স্বাস্থ্যসেবা বিভাগ এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়সহ কয়েকটি মন্ত্রণালয় ও বিভাগের প্রস্তাবিত বরাদ্দের প্রায় ৮০ শতাংশই থোক বরাদ্দ হিসেবে রাখা হয়েছে। সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ ও অর্থনীতিবিদরা বলছেন, অনেক মন্ত্রণালয় ও বিভাগ তাদের প্রকল্পভিত্তিক বরাদ্দই পুরোপুরি ব্যবহার করতে পারে না। ফলে থোক বরাদ্দও অব্যবহৃত থেকে যেতে পারে এবং এটি কেবল এডিপির আকার বাড়ানোর কৌশল হয়ে দাঁড়াতে পারে।

প্রকল্প বাস্তবায়নে দুর্বল খাত হিসেবে পরিচিত স্বাস্থ্যসেবা বিভাগে মোট ২৬ হাজার ৮০৮ কোটি টাকার বরাদ্দের মধ্যে ২০ হাজার ৮০০ কোটি টাকাই রাখা হয়েছে থোক বরাদ্দ হিসেবে, যা মোট বরাদ্দের প্রায় ৭৮ শতাংশ। স্বাস্থ্যশিক্ষা ও পরিবার কল্যাণ বিভাগে থোক বরাদ্দের ওপর নির্ভরশীলতা সবচেয়ে বেশি। এ বিভাগের জন্য এডিপিতে বরাদ্দ রয়েছে ৮ হাজার ৪৪৪ কোটি টাকা। এরমধ্যে ৬ হাজার ৮০০ কোটি টাকা রাখা হয়েছে থোক হিসেবে। অর্থাৎ মোট বরাদ্দের ৮০ শতাংশের বেশি থোক বরাদ্দ রাখা হয়েছে। অথচ চলতি অর্থবছরে স্বাস্থ্য খাতের এই দুই বিভাগ কয়েক হাজার কোটি টাকার প্রকল্প বাস্তবায়নেই হিমশিম খাচ্ছে, ৯ মাসে তাদের জন্য বরাদ্দের পাঁচ ভাগের এক ভাগ বাস্তবায়ন করতে পেরেছে।

দেশের আরেক অদক্ষ খাত শিক্ষায় শুধু থোক বরাদ্দই থাকছে সাড়ে ৩১ হাজার কোটি টাকা। এর বাইরে এ খাতের অনুমোদিত প্রকল্পগুলোর জন্য এডিপি বরাদ্দ রাখা হচ্ছে ১৭ হাজার ৪২৬ কোটি টাকা। প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের জন্য প্রস্তাবিত ২১ হাজার ৩৪৮ কোটি টাকার মধ্যে ১৬ হাজার ২৯৯ কোটি টাকা থোক বরাদ্দ রাখা হয়েছে। একইভাবে মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগে ২০ হাজার ৮৩৫ কোটি টাকার মধ্যে থোক বরাদ্দ রয়েছে ১১ হাজার ৫০০ কোটি টাকা। কারিগরি ও মাদ্রাসা শিক্ষা বিভাগের জন্য এডিপিতে বরাদ্দ রাখা হয়েছে ৬ হাজার ১২২ কোটি টাকা, এরমধ্যে থোক হিসেবে রাখা হয়েছে ৩ হাজার ৭৯ কোটি টাকা। অর্থাৎ অর্ধেকেরও বেশি বরাদ্দই থোক।

খাতভিত্তিক বরাদ্দ বিশ্লেষণে দেখা যায়, সবচেয়ে বেশি বরাদ্দ পাচ্ছে পরিবহন ও যোগাযোগ খাত। এ খাতে মোট বরাদ্দ ধরা হয়েছে ৫০ হাজার ৯২ কোটি টাকা, যা মোট এডিপির ১৬ দশমিক ৭০ শতাংশ। দ্বিতীয় সর্বোচ্চ বরাদ্দ শিক্ষা খাতে ৪৭ হাজার ৫৯১ কোটি টাকা বা ১৫ দশমিক ৮৬ শতাংশ। স্বাস্থ্য খাতে বরাদ্দ রাখা হয়েছে ৩৫ হাজার ৫৩৫ কোটি টাকা। বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতে বরাদ্দ ৩২ হাজার ৬৯১ কোটি টাকা এবং গৃহায়ন ও কমিউনিটি সুবিধা খাতে বরাদ্দ রাখা হয়েছে ২০ হাজার ৩৬১ কোটি টাকা।

মন্ত্রণালয়ভিত্তিক বরাদ্দে সবচেয়ে বেশি পাচ্ছে স্থানীয় সরকার বিভাগ ৩৩ হাজার ৭৩৫ কোটি টাকা। দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছে সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগ, যার বরাদ্দ ৩০ হাজার ৭৪১ কোটি টাকা। স্বাস্থ্যসেবা বিভাগ, মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগ, প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয় এবং বিদ্যুৎ বিভাগও বড় বরাদ্দ পাচ্ছে।

স্বাস্থ্য ও শিক্ষা খাতকে সামনে রেখেই এবারের উন্নয়ন বাজেট সাজানো হয়েছে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন। পরিকল্পনা কমিশনের কর্মকর্তারা বলছেন, শিক্ষা ও স্বাস্থ্য খাতে বরাদ্দ বৃদ্ধির মাধ্যমে সরকার মূলত মানবসম্পদ উন্নয়ন, দক্ষ জনশক্তি তৈরি এবং সামাজিক নিরাপত্তা জোরদারের ওপর বিশেষ গুরুত্ব দিচ্ছে। এর মাধ্যমে নির্বাচনি অঙ্গীকার বাস্তবায়ন, কর্মসংস্থান সৃষ্টি, অন্তর্ভুক্তিমূলক প্রবৃদ্ধি, জলবায়ু সহনশীল উন্নয়ন এবং সামাজিক সুরক্ষা নিশ্চিত করতেই বড় আকারের এডিপি নেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে গ্রিন ক্লাইমেট রেজিলিয়েন্ট ডেভেলপমেন্ট (জিসিআরডি), জাতীয় অভিযোজন পরিকল্পনা (এনএপি), এসডিজি এবং ডেল্টা প্লানের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে প্রকল্প বাছাইয়ের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

তবে প্রশ্ন উঠেছে বাস্তবায়ন সক্ষমতা নিয়ে। পরিকল্পনা কমিশনের বাস্তবায়ন পরিবীক্ষণ ও মূল্যায়ন বিভাগ (আইএমইডি) সূত্রে জানা গেছে, চলতি ২০২৫-২৬ অর্থবছরের জুলাই থেকে মার্চ পর্যন্ত ৯ মাসে এডিপি বাস্তবায়ন হার দাঁড়িয়েছে মাত্র ৩৬ দশমিক ১৯ শতাংশ। সরকারি অর্থায়নে বাস্তবায়ন হার ৩৩ শতাংশের সামান্য বেশি এবং বৈদেশিক ঋণ ও অনুদানের ব্যবহার হয়েছে প্রায় ৪০ শতাংশ। অথচ এই বাস্তবতায় আগামী অর্থবছরে আরও বড় উন্নয়ন বাজেট নেওয়া হচ্ছে।

পরিকল্পনা বিভাগের সাবেক সচিব মামুন আল রশিদ বলেন, এডিপি প্রণয়নে একটি স্পষ্ট স্ববিরোধিতা দেখা যাচ্ছে। একদিকে চলতি অর্থবছরে সংশোধিত এডিপি কমিয়ে ২ লাখ কোটি টাকায় নামিয়ে আনা হয়েছে, অন্যদিকে আগামী অর্থবছরের জন্য প্রায় ৩ লাখ কোটি টাকার বিশাল উন্নয়ন বাজেট প্রস্তাব করা হয়েছে।

তিনি বলেন, বাস্তব অভিজ্ঞতায় দেখা গেছে, বড় বাজেটের বড় অংশই বাস্তবায়ন করা যায় না। একই প্রশাসনিক সক্ষমতা ও জনবল দিয়ে এত বড় বাজেট বাস্তবায়ন কঠিন হবে।

মামুন আল রশিদ বলেন, থোক বরাদ্দ রাখা কোনো ভালো চর্চা নয়। কারণ এসব অর্থ নির্দিষ্ট প্রকল্পভিত্তিক না হওয়ায় পরে বিভিন্ন অপ্রয়োজনীয় খাতে ব্যয়ের প্রবণতা তৈরি হয়। এতে আর্থিক শৃঙ্খলা ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার ঝুঁকি থাকে।

টিসিবির ট্রাকসেল শুরু আজ, কম দামে মিলবে যেসব পণ্য
ঈদুল আজহা উপলক্ষে নিম্ন আয়ের মানুষদের ট্রেডিং করপোরেশন অব বাংলাদেশের (টিসিবি) ট্রাকসেল কার্যক্রম শুরু হবে। আজ সোমবার (১১ মে) থেকে ২১ মে পর্যন্ত ১০ দিনের জন্য এ কার্যক্রম চলবে। আজ বেলা সাড়ে ১১টায় আগারগাঁওয়ে পিএসসি ভবনের পশ্চিম পাশে টিসিবির এই ট্রাকসেল কার্যক্রম উদ্বোধন করবেন বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির। রোববার এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানিয়েছে টিসিবি। এতে বলা হয়েছে, সরকারি নির্দেশনায় টিসিবির কার্ডধারী নিম্নআয়ের পরিবারের মাঝে ভর্তুকি মূল্যে টিসিবির পণ্য (ভোজ্যতেল, চিনি ও মসুর ডাল) বিক্রয় কার্যক্রম চলমান রয়েছে। এই কার্যক্রমের পাশাপাশি পবিত্র ঈদুল আজহা উপলক্ষে প্রতিদিন ঢাকা মহানগরীতে ৫০টি (ঢাকা জেলাসহ), চট্টগ্রাম মহানগরীতে ২০টি (চট্টগ্রাম জেলাসহ), অন্য ৬ টি বিভাগীয় শহর এবং সংশ্লিষ্ট জেলায় প্রতিটিতে ১৫টি করে এবং অবশিষ্ট ৫৬টি জেলায় ১০টি করে সর্বমোট ৭২০টি ভ্রাম্যমাণ ট্রাকের মাধ্যমে সাশ্রয়ী মূল্যে টিসিবির পণ্য (ভোজ্যতেল, চিনি ও মসুর ডাল) বিক্রির কার্যক্রম গ্রহণ করা হয়েছে। আজ থেকে ২১ মে পর্যন্ত ১০ দিন (শুক্রবার ছাড়া) প্রতিদিন ট্রাক প্রতি ৪০০ জন সাধারণ জনগণের কাছে ট্রাকসেলের মাধ্যমে প্রায় ২৮ দশমিক ৮০ লাখ উপকারভোগীর কাছে প্রায় ১৩ হাজার ৯৩৯ মেট্রিক টন পণ্য বিক্রি করা হবে। যে কোনো ভোক্তা ট্রাক থেকে পণ্য কিনতে পারবেন। ১৩০ টাকা কেজি দরে ২ লিটার তেল, ৮০ টাকায় ১ কেজি চিনি ও ৭০ টাক কেজি দরে মিলবে ২ কেজি মসুর ডাল। ঈদুল আজহা উপলক্ষে প্রায় ৭২ লাখ টিসিবির কার্ডধারী পরিবারের কাছে চলতি মে মাসে প্রায় ৩৪ হাজার ৮৪৮ মেট্রিক টন পণ্য বিক্রি করা হবে। তবে কার্ডধারী পরিবারের কাছে প্রতিমাসে ভর্তুকি মূল্যে বিক্রি করা ভোজ্যতেল, চিনি ও মসুর ডালের পরিমাণ ও মূল্য অপরিবর্তিত থাকবে।
টিসিবির ট্রাকসেল শুরু আজ, কম দামে মিলবে যেসব পণ্য
ঈদে কত টাকায় মিলবে টিসিবির তেল-চিনি-ডাল
পবিত্র ঈদুল আজহাকে সামনে রেখে নিম্ন ও স্বল্প আয়ের মানুষের জন্য স্বস্তির খবর দিয়েছে ট্রেডিং করপোরেশন অব বাংলাদেশ (টিসিবি)। সোমবার (১১ মে) থেকে রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন এলাকায় শুরু হচ্ছে টিসিবির বিশেষ ট্রাকসেল কার্যক্রম, যা চলবে টানা ১০ দিন। রোববার (১০ মে) টিসিবির প্রকাশিত বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, ঈদ উপলক্ষে সাশ্রয়ী দামে ভোজ্যতেল, চিনি ও মসুর ডাল বিক্রির এই কর্মসূচি আগামী ২১ মে পর্যন্ত চলবে। শুক্রবার ছাড়া প্রতিদিন দেশের বিভিন্ন এলাকায় ভ্রাম্যমাণ ট্রাকের মাধ্যমে সাধারণ ভোক্তাদের কাছে এসব পণ্য বিক্রি করা হবে। সংস্থাটি জানিয়েছে, চলমান কার্ডভিত্তিক ভর্তুকি কার্যক্রমের পাশাপাশি এবার অতিরিক্তভাবে ৭২০টি ট্রাক মাঠে নামানো হচ্ছে। এরমধ্যে ঢাকা মহানগরী ও জেলা এলাকায় থাকবে ৫০টি ট্রাক, চট্টগ্রাম মহানগরী ও জেলায় ২০টি। এ ছাড়া অন্য ছয় বিভাগীয় শহর ও সংশ্লিষ্ট জেলায় ১৫টি করে এবং বাকি ৫৬ জেলায় ১০টি করে ট্রাক পরিচালিত হবে। প্রতিটি ট্রাক থেকে প্রতিদিন প্রায় ৪০০ ক্রেতা পণ্য কিনতে পারবেন। সেই হিসাবে প্রায় ২৮ লাখ ৮০ হাজার মানুষ এই কর্মসূচির আওতায় সুবিধা পাবেন বলে জানিয়েছে টিসিবি। ট্রাকসেলে একজন ক্রেতা কিনতে পারবেন—প্রতি লিটার ১৩০ টাকা দরে ২ লিটার ভোজ্যতেল, ৮০ টাকায় এক কেজি চিনি ও ৭০ টাকা দরে দুই কেজি মসুর ডাল। টিসিবি আরও জানিয়েছে, মে মাসজুড়ে প্রায় ৭২ লাখ কার্ডধারী পরিবারের কাছেও ভর্তুকি মূল্যে পণ্য বিক্রি অব্যাহত থাকবে। এ জন্য প্রায় ৩৪ হাজার ৮৪৮ টন পণ্য সরবরাহ করা হবে। তবে কার্ডধারীদের জন্য নির্ধারিত পণ্যের পরিমাণ ও দাম আগের মতোই অপরিবর্তিত থাকবে।
ঈদে কত টাকায় মিলবে টিসিবির তেল-চিনি-ডাল
সরকার বড় প্রকল্পের বদলে সামাজিক কর্মসূচিকে গুরুত্ব দিচ্ছে: অর্থমন্ত্রী
অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেছেন, সরকার বড় প্রকল্পের বদলে সামাজিক কর্মসূচিকে বেশি গুরুত্ব দিচ্ছে। কারণ দেশের সাধারণ মানুষকে অর্থনীতির মূলধারায় সম্পৃক্ত না করে টেকসই উন্নয়ন সম্ভব নয়। রোববার (১০ মে) রাজধানীর আগারগাঁওয়ে পিকেএসএফ ভবনে আয়োজিত একটি প্রকল্পের উদ্বোধনী সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন তিনি। আমির খসরু বলেন, প্রকল্প গ্রহণের ক্ষেত্রে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে কতগুলো কঠোর মানদণ্ড বা বেঞ্চমার্ক নির্ধারণ করেছে সরকার। যেকোনো প্রকল্প হাতে নেওয়ার আগে তার ভ্যালু, রিটার্ন অন ইনভেস্টমেন্ট, কর্মসংস্থান সৃষ্টির সক্ষমতা এবং পরিবেশগত প্রভাবকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে দেখা হচ্ছে।  তিনি বলেন, সরকারি টাকা মানেই জনগণের ট্যাক্সের টাকা, তাই প্রতিটি প্রকল্পের পেছনে সুনির্দিষ্ট চিন্তাভাবনা, আউটপুট এবং জনগণের কাছে দায়বদ্ধতা থাকতে হবে। বর্তমানে পরিকল্পনা কমিশনে থাকা প্রায় ১৩০০ প্রকল্পের অনেকগুলোতেই কোনো রিটার্ন বা কর্মসংস্থানের সুযোগ নেই এবং পরিবেশগত দিক বিবেচনা করা হয়নি বলে সেগুলো সরকার বাতিল করা হচ্ছে। তিনি আরও বলেন, সরকারের মূল স্লোগান হলো অর্থনীতির গণতন্ত্রায়ণ বা ডেমোক্রেটাইজেশন অব ইকোনমি। শুধু রাজনীতিতে গণতন্ত্র থাকলে চলবে না, অর্থনীতিতেও সাধারণ মানুষের অংশগ্রহণ ও অধিকার নিশ্চিত করতে হবে। ডেমোক্রেটাইজেশন অব ইকোনমির তিনটি প্রধান স্তম্ভের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, প্রথমত, বাংলাদেশের প্রত্যেক নাগরিকের অর্থনীতিতে অংশগ্রহণের অধিকার নিশ্চিত করা। দ্বিতীয়ত, অর্থনীতির সুফল বা বেনিফিট সাধারণ মানুষের কাছে পৌঁছে দেওয়া এবং তৃতীয়ত যারা সবসময় অর্থনৈতিক পরিকল্পনার বাইরে ছিল তাদের মূলধারায় সম্পৃক্ত করা। যদিও বাংলাদেশে এই কাজ করা অত্যন্ত কঠিন, তবুও সরকার সাহসের সঙ্গে এই পথেই এগোচ্ছে। সরকার এখন মেগা প্রকল্পের বদলে সামাজিক সুরক্ষা কর্মসূচিতে বেশি মনোযোগ দিচ্ছে। যাতে বিশেষ গোষ্ঠীর বদলে সাধারণ মানুষ উপকৃত হয় বলে জানান তিনি। ফ্যামিলি কার্ড কর্মসূচির প্রসঙ্গ তুলে আমির খসরু বলেন, একজন নারী সারাদিন সংসার সামলান, পরিবারের সবার দেখভাল করেন, অথচ ঘর ও সমাজ কোথাও তার যথাযথ স্বীকৃতি নেই। ফ্যামিলি কার্ডের মাধ্যমে সরাসরি তার হাতে অর্থ পৌঁছে দেওয়া হবে। এতে পরিবার ও সমাজে তার অবস্থান আরও শক্তিশালী হবে। নারীরা পরিবারের বাজেট পরিচালনায় সবচেয়ে দক্ষ। তারা সীমিত আয়ের মধ্যেও সংসার চালাতে জানেন এবং সঞ্চয় করতে পারেন। তাদের হাতে অর্থ গেলে সেটি স্থানীয় অর্থনীতিতেও ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে। কৃষকদের জন্য ‘ফার্মার্স কার্ড’ কর্মসূচির কথাও তিনি তুলে ধরেন। তিনি বলেন, সব কৃষকের ব্যাংকঋণে প্রবেশাধিকার নেই। তাই সরাসরি কৃষকের হাতে সহায়তা পৌঁছে দিতে আমরা ফার্মার্স কার্ড চালুর উদ্যোগ নিয়েছি। এর মাধ্যমে তারা অন্তত সার ও বীজ কেনার মতো মৌলিক প্রয়োজন মেটাতে পারবেন। উত্তরাধিকার সূত্রে পাওয়া অর্থনৈতিক বোঝা এবং মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধের প্রভাব বয়ে নিয়েও বর্তমান সরকার দিনরাত কাজ করে যাচ্ছে উল্লেখ করে আমির খসরু বলেন, বাংলাদেশের উন্নয়নের স্বপ্ন বাস্তবায়ন কোনো একটি দলের নয় বরং সবার সম্মিলিত প্রচেষ্টার বিষয়। 
সরকার বড় প্রকল্পের বদলে সামাজিক কর্মসূচিকে গুরুত্ব দিচ্ছে: অর্থমন্ত্রী
পিরোজপুরের মরিচের ঝাঁজ চীন-জাপান-থাইল্যান্ডে
পিরোজপুরে উৎপাদিত ঘৃত্তকুমারী জাতের মরিচ দেশ ছাড়িয়ে বিদেশের বাজারে সম্ভাবনা তৈরি করেছে। বিশেষ জাতের এই মরিচ চীন, জাপান ও থাইল্যান্ডসহ বিভিন্ন দেশে রপ্তানি হচ্ছে। মরিচ ব্যবসার সঙ্গে জড়িত কয়েক হাজার পরিবার আর্থিকভাবে স্বাবলম্বী হয়ে উঠেছে। জেলার অধিকাংশ পরিবার নিজেদের চাহিদা মেটাতে বাড়ির আঙিনায় বোম্বাই মরিচ গাছ রোপণ করে থাকে। তবে নেছারাবাদ ও নাজিরপুর উপজেলার বিভিন্ন গ্রামে এটি এখন বাণিজ্যিক আকার ধারণ করেছে। প্রথমে পারিবারিক চাহিদা পূরণের জন্য চাষ শুরু হলেও ধীরে ধীরে এর লাভজনক দিক বিবেচনায় কৃষকরা ব্যাপকভাবে চাষাবাদে আগ্রহী হয়ে ওঠেন। নেছারাবাদ উপজেলার আটঘর, কুড়িয়ানা, মাহামুদকাঠি ও কামারকাঠি এবং নাজিরপুর উপজেলার বেলুয়া, মুগারঝোড়, বৈঠাকাটা ও বিলডুমুরিয়াসহ বিভিন্ন এলাকায় এখন ব্যাপকভাবে এ মরিচের চাষ হচ্ছে। আল আমিন ও বাবু হালদার নামে দুই কৃষক জানান, একটি গাছ উৎপাদন মৌসুমে টানা সাত থেকে আট মাস ফল দেয়। প্রতিটি গাছে চারশ থেকে এক হাজার পর্যন্ত মরিচ পাওয়া যায়। মৌসুমভেদে প্রতিটি মরিচ ৩ থেকে ১০ টাকা পর্যন্ত বিক্রি হয়। ফলে অল্প জায়গায় অধিক লাভ হওয়ায় কৃষকদের মধ্যে এ চাষের আগ্রহ দিন দিন বাড়ছে। জিয়ারুল নামে এক ব্যবসায়ী জানান, ২০১২ সালে প্রথমবারের মতো পিরোজপুর থেকে জাপানে বোম্বাই মরিচ রপ্তানি করা হয়। এরপর থেকে প্রতিবছর নিয়মিতভাবে বিদেশে মরিচ পাঠানো হচ্ছে। বর্তমানে চীন, জাপান ও থাইল্যান্ডে এর চাহিদা উল্লেখযোগ্য হারে বেড়েছে। স্থানীয়ভাবে ‘বোম্বাই মরিচ’ নামে পরিচিত ঘৃত্তকুমারী জাতের এই মরিচে রয়েছে তীব্র ঝাল ও মনোমুগ্ধকর ঘ্রাণ। এসব বৈশিষ্ট্যের কারণে এর ব্যাপক চাহিদা রয়েছে। বর্তমানে পিরোজপুর থেকে প্রতি বছর প্রায় ৩০০ টন বোম্বাই মরিচ বিদেশে রপ্তানি হচ্ছে। এতে আয় হচ্ছে কয়েক কোটি টাকার বৈদেশিক মুদ্রা। কৃষি বিভাগ বলছে, অনুকূল আবহাওয়া ও মাটির গুণাগুণের কারণে পিরোজপুরের বোম্বাই মরিচের স্বাদ ও ঝালের বিশেষত্ব তৈরি হয়েছে। সঠিক পরিকল্পনা ও সরকারি সহায়তা পেলে এ খাত থেকে আরও বেশি বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনের সম্ভাবনা রয়েছে। পিরোজপুর কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক সৌমিত্র সরকার বলেন, বোম্বাই মরিচ একটি অত্যন্ত লাভজনক ফসল। উৎপাদন আরও বাড়ানো গেলে বিদেশি বাজারের সঙ্গে কৃষকদের সরাসরি সংযোগ তৈরির উদ্যোগ নেওয়া হবে।
পিরোজপুরের মরিচের ঝাঁজ চীন-জাপান-থাইল্যান্ডে
আখাউড়া স্থলবন্দর / ত্বরিত রপ্তানি, মন্থর আমদানি
বাংলাদেশ-ভারতের মধ্যকার বাণিজ্যের গুরুত্বপূর্ণ রুট আখাউড়া স্থলবন্দর। দুই দেশের ব্যবসায়ীদের পণ্য আনা-নেওয়ার মাধ্যমে রাষ্ট্রীয় কোষাগারে জমা হয় অর্থ। কিন্তু এই বন্দর প্রতিষ্ঠার ৩০ বছরেও রপ্তানি ও আমদানিতে উল্লেখযোগ্য ভারসাম্য ফেরেনি। নানা সময়ে জটিলটা দেখা দিলেও রপ্তানির গতি বলা চলে এখনও ত্বরিত। আমদানিতে মন্থরতার কারণে অবৈধপথে চোরাই পণ্য কারবারিদের দৌরাত্ম্য লাগামহীন। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, নীতিগত সীমাবদ্ধতা, নিষেধাজ্ঞা এবং আমদানি সংকুচিত হওয়ায় বন্দরের সামগ্রিক বাণিজ্যপ্রবাহকে অনেকটা ব্যাহত করছে। সরকারের রাজস্ব আয় বাড়াতে হলে নীতিগত সিদ্ধান্তে পরিবর্তন আনা প্রয়োজন। এ জন্য বন্দর দিয়ে আমাদানিতে জোর দিতে হবে। এতে চোরাকারবারিদের অবৈধ বাজারের সিন্ডিকেট স্তিমিত করা সম্ভব হবে। কমে আসবে প্রতিবেশী দুই দেশের মধ্যে বাণিজ্য ঘাটতি। আখাউড়া স্থলবন্দর সিঅ্যান্ডএফ এজেন্ট অ্যাসোসিয়েশনের জ্যেষ্ঠ সহসভাপতি নিছার উদ্দিন ভূঁইয়া এশিয়া পোস্টকে বলেন, ব্যবসায়ীরা নতুন নতুন পণ্য রপ্তানির চেষ্টা করছেন। একই সঙ্গে তারা চান—নিষিদ্ধ ছাড়া সব ধরনের পণ্য আমদানির অনুমতি দেওয়া হোক। এতে বন্দর দিয়ে আমদানি বাড়বে এবং সরকারের রাজস্বও বৃদ্ধি পাবে। রপ্তানিতেও ধাক্কা বন্দর সূত্রে জানা যায়, ২০২৪ সালে গণঅভ্যুত্থানের পর অন্তর্বর্তী সরকারের সময় বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে কূটনৈতিক টানাপোড়েন দেখা দেয়। দুই দেশের সম্পর্কের অবনতির সরাসরি প্রভাব পড়ে এই বন্দরে। পরিস্থিতি জটিল হয় গত বছরের মে মাসের মাঝামাঝি সময়; ভারত সরকার বাংলাদেশের কয়েকটি স্থলবন্দর দিয়ে কিছু উচ্চ চাহিদাসম্পন্ন পণ্য আমদানিতে নিষেধাজ্ঞা দেয়। তাৎক্ষণিক আখাউড়া স্থলবন্দরের রপ্তানি প্রায় ৩০ শতাংশ পর্যন্ত কমে যায়। ব্যবসায়ী ও আখাউড়া শুল্ক স্টেশনের তথ্য বলছে, চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে বাংলাদেশে নির্বাচিত সরকার ক্ষমতা গ্রহণের পর পরিস্থিতির পরিবর্তন দেখা গেছে। বাড়তে শুরু করেছে পণ্য রপ্তানি। চলতি অর্থবছরের মার্চ পর্যন্ত ৪৩৭ কোটি ১৮ লাখ ৯৪ হাজার টাকার পণ্য রপ্তানি হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে হিমায়িত মাছ, সিমেন্ট, শুঁটকি, পাথর, আটা, ময়দা ও ভোজ্যতেল। ২০২৪-২৫ অর্থবছরে রপ্তানি হয়েছিল ৫১৪ কোটি ৩৪ লাখ টাকা। আখাউড়া স্থলবন্দরের ব্যবসায়ী রাজিব ভূঁইয়া বলেন, কূটনৈতিক টানাপোড়েন কাটিয়ে রপ্তানি আবার বাড়ছে। নিষেধাজ্ঞার আওতায় থাকা পণ্যগুলো শুরু না হলে পূর্ণ সম্ভাবনা আসবে না। এসব পণ্য রপ্তানির অনুমতি মিললে আয় যেমন বাড়বে, তেমনি বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনও বৃদ্ধি পাবে। নেতিবাচক প্রভাব ১৯৯৪ সাল থেকে চালু হওয়া এই বন্দর দিয়ে উত্তর-পূর্ব ভারতের সঙ্গে বাংলাদেশের বাণিজ্য হয়ে থাকে। আমদানির নিম্নগতি বন্দর অর্থনীতিতে নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে। ব্যবসায়ীদের মতে, বর্তমানে ভারত থেকে যেসব পণ্য আনার অনুমতি রয়েছে, তার বেশিরভাগই ত্রিপুরার বাইরে থেকে আনতে হয়। এতে পরিবহন ব্যয় বেড়ে যাওয়ায় মুনাফা কমে যাচ্ছে, ফলে আমদানিতে আগ্রহ হারাচ্ছেন অনেকে। ব্যবসায়ীদের দাবির একটা হিসাব পাওয়া যায় শুল্ক স্টেশনের তথ্য থেকে। দেখা যাচ্ছে চলতি অর্থবছরের মার্চ পর্যন্ত এই বন্দর দিয়ে শুধু চাল, জিরা ও আগরবাতি আমদানি হয়েছে; যা মোট এক কোটি ৯৬ লাখ ৩৩ হাজার টাকার পণ্য। এর মাধ্যমে সরকার রাজস্ব পেয়েছে ৭১ লাখ ৩২ হাজার টাকা। ২০২৪-২৫ অর্থবছরে আমদানি হয়েছিল সাত কোটি ৩১ লাখ টাকার পণ্য। বিষয়টি স্বীকার করে শুল্ক কর্তৃপক্ষ জানায়, নীতিগত সীমাবদ্ধতা ও নিষেধাজ্ঞার বাধা দূর করা গেলে বন্দরটি আবারও দেশের অন্যতম কার্যকর বাণিজ্য কেন্দ্র হিসেবে পূর্ণ সক্ষমতায় ফিরতে পারবে। আখাউড়া স্থলবন্দরের শুল্ক স্টেশনের সহকারী কমিশনার কাজী আল মাসুম বলেন, যেসব পণ্যের ওপর নিষেধাজ্ঞা রয়েছে, সেগুলোই আগে বেশি রপ্তানি হতো। ব্যবসায়ীদের দাবিগুলো জাতীয় রাজস্ব বোর্ডে পাঠানো হয়েছে। দুই দেশের আলোচনার মাধ্যমে দ্রুত সমাধানের আশা করা হচ্ছে।
ত্বরিত রপ্তানি, মন্থর আমদানি
টিসিবির ট্রাকসেল শুরু আজ, কম দামে মিলবে যেসব পণ্য
টিসিবির ট্রাকসেল শুরু আজ, কম দামে মিলবে যেসব পণ্য
ঈদুল আজহা উপলক্ষে নিম্ন আয়ের মানুষদের ট্রেডিং করপোরেশন অব বাংলাদেশের (টিসিবি) ট্রাকসেল কার্যক্রম শুরু হবে। আজ সোমবার (১১ মে) থেকে ২১ মে পর্যন্ত ১০ দিনের জন্য এ কার্যক্রম চলবে। আজ বেলা সাড়ে ১১টায় আগারগাঁওয়ে পিএসসি ভবনের পশ্চিম পাশে টিসিবির এই ট্রাকসেল কার্যক্রম উদ্বোধন করবেন বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির। রোববার এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানিয়েছে টিসিবি। এতে বলা হয়েছে, সরকারি নির্দেশনায় টিসিবির কার্ডধারী নিম্নআয়ের পরিবারের মাঝে ভর্তুকি মূল্যে টিসিবির পণ্য (ভোজ্যতেল, চিনি ও মসুর ডাল) বিক্রয় কার্যক্রম চলমান রয়েছে। এই কার্যক্রমের পাশাপাশি পবিত্র ঈদুল আজহা উপলক্ষে প্রতিদিন ঢাকা মহানগরীতে ৫০টি (ঢাকা জেলাসহ), চট্টগ্রাম মহানগরীতে ২০টি (চট্টগ্রাম জেলাসহ), অন্য ৬ টি বিভাগীয় শহর এবং সংশ্লিষ্ট জেলায় প্রতিটিতে ১৫টি করে এবং অবশিষ্ট ৫৬টি জেলায় ১০টি করে সর্বমোট ৭২০টি ভ্রাম্যমাণ ট্রাকের মাধ্যমে সাশ্রয়ী মূল্যে টিসিবির পণ্য (ভোজ্যতেল, চিনি ও মসুর ডাল) বিক্রির কার্যক্রম গ্রহণ করা হয়েছে। আজ থেকে ২১ মে পর্যন্ত ১০ দিন (শুক্রবার ছাড়া) প্রতিদিন ট্রাক প্রতি ৪০০ জন সাধারণ জনগণের কাছে ট্রাকসেলের মাধ্যমে প্রায় ২৮ দশমিক ৮০ লাখ উপকারভোগীর কাছে প্রায় ১৩ হাজার ৯৩৯ মেট্রিক টন পণ্য বিক্রি করা হবে। যে কোনো ভোক্তা ট্রাক থেকে পণ্য কিনতে পারবেন। ১৩০ টাকা কেজি দরে ২ লিটার তেল, ৮০ টাকায় ১ কেজি চিনি ও ৭০ টাক কেজি দরে মিলবে ২ কেজি মসুর ডাল। ঈদুল আজহা উপলক্ষে প্রায় ৭২ লাখ টিসিবির কার্ডধারী পরিবারের কাছে চলতি মে মাসে প্রায় ৩৪ হাজার ৮৪৮ মেট্রিক টন পণ্য বিক্রি করা হবে। তবে কার্ডধারী পরিবারের কাছে প্রতিমাসে ভর্তুকি মূল্যে বিক্রি করা ভোজ্যতেল, চিনি ও মসুর ডালের পরিমাণ ও মূল্য অপরিবর্তিত থাকবে।
ঈদে কত টাকায় মিলবে টিসিবির তেল-চিনি-ডাল
ঈদে কত টাকায় মিলবে টিসিবির তেল-চিনি-ডাল
পবিত্র ঈদুল আজহাকে সামনে রেখে নিম্ন ও স্বল্প আয়ের মানুষের জন্য স্বস্তির খবর দিয়েছে ট্রেডিং করপোরেশন অব বাংলাদেশ (টিসিবি)। সোমবার (১১ মে) থেকে রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন এলাকায় শুরু হচ্ছে টিসিবির বিশেষ ট্রাকসেল কার্যক্রম, যা চলবে টানা ১০ দিন। রোববার (১০ মে) টিসিবির প্রকাশিত বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, ঈদ উপলক্ষে সাশ্রয়ী দামে ভোজ্যতেল, চিনি ও মসুর ডাল বিক্রির এই কর্মসূচি আগামী ২১ মে পর্যন্ত চলবে। শুক্রবার ছাড়া প্রতিদিন দেশের বিভিন্ন এলাকায় ভ্রাম্যমাণ ট্রাকের মাধ্যমে সাধারণ ভোক্তাদের কাছে এসব পণ্য বিক্রি করা হবে। সংস্থাটি জানিয়েছে, চলমান কার্ডভিত্তিক ভর্তুকি কার্যক্রমের পাশাপাশি এবার অতিরিক্তভাবে ৭২০টি ট্রাক মাঠে নামানো হচ্ছে। এরমধ্যে ঢাকা মহানগরী ও জেলা এলাকায় থাকবে ৫০টি ট্রাক, চট্টগ্রাম মহানগরী ও জেলায় ২০টি। এ ছাড়া অন্য ছয় বিভাগীয় শহর ও সংশ্লিষ্ট জেলায় ১৫টি করে এবং বাকি ৫৬ জেলায় ১০টি করে ট্রাক পরিচালিত হবে। প্রতিটি ট্রাক থেকে প্রতিদিন প্রায় ৪০০ ক্রেতা পণ্য কিনতে পারবেন। সেই হিসাবে প্রায় ২৮ লাখ ৮০ হাজার মানুষ এই কর্মসূচির আওতায় সুবিধা পাবেন বলে জানিয়েছে টিসিবি। ট্রাকসেলে একজন ক্রেতা কিনতে পারবেন—প্রতি লিটার ১৩০ টাকা দরে ২ লিটার ভোজ্যতেল, ৮০ টাকায় এক কেজি চিনি ও ৭০ টাকা দরে দুই কেজি মসুর ডাল। টিসিবি আরও জানিয়েছে, মে মাসজুড়ে প্রায় ৭২ লাখ কার্ডধারী পরিবারের কাছেও ভর্তুকি মূল্যে পণ্য বিক্রি অব্যাহত থাকবে। এ জন্য প্রায় ৩৪ হাজার ৮৪৮ টন পণ্য সরবরাহ করা হবে। তবে কার্ডধারীদের জন্য নির্ধারিত পণ্যের পরিমাণ ও দাম আগের মতোই অপরিবর্তিত থাকবে।
সরকার বড় প্রকল্পের বদলে সামাজিক কর্মসূচিকে গুরুত্ব দিচ্ছে: অর্থমন্ত্রী
সরকার বড় প্রকল্পের বদলে সামাজিক কর্মসূচিকে গুরুত্ব দিচ্ছে: অর্থমন্ত্রী
অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেছেন, সরকার বড় প্রকল্পের বদলে সামাজিক কর্মসূচিকে বেশি গুরুত্ব দিচ্ছে। কারণ দেশের সাধারণ মানুষকে অর্থনীতির মূলধারায় সম্পৃক্ত না করে টেকসই উন্নয়ন সম্ভব নয়। রোববার (১০ মে) রাজধানীর আগারগাঁওয়ে পিকেএসএফ ভবনে আয়োজিত একটি প্রকল্পের উদ্বোধনী সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন তিনি। আমির খসরু বলেন, প্রকল্প গ্রহণের ক্ষেত্রে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে কতগুলো কঠোর মানদণ্ড বা বেঞ্চমার্ক নির্ধারণ করেছে সরকার। যেকোনো প্রকল্প হাতে নেওয়ার আগে তার ভ্যালু, রিটার্ন অন ইনভেস্টমেন্ট, কর্মসংস্থান সৃষ্টির সক্ষমতা এবং পরিবেশগত প্রভাবকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে দেখা হচ্ছে।  তিনি বলেন, সরকারি টাকা মানেই জনগণের ট্যাক্সের টাকা, তাই প্রতিটি প্রকল্পের পেছনে সুনির্দিষ্ট চিন্তাভাবনা, আউটপুট এবং জনগণের কাছে দায়বদ্ধতা থাকতে হবে। বর্তমানে পরিকল্পনা কমিশনে থাকা প্রায় ১৩০০ প্রকল্পের অনেকগুলোতেই কোনো রিটার্ন বা কর্মসংস্থানের সুযোগ নেই এবং পরিবেশগত দিক বিবেচনা করা হয়নি বলে সেগুলো সরকার বাতিল করা হচ্ছে। তিনি আরও বলেন, সরকারের মূল স্লোগান হলো অর্থনীতির গণতন্ত্রায়ণ বা ডেমোক্রেটাইজেশন অব ইকোনমি। শুধু রাজনীতিতে গণতন্ত্র থাকলে চলবে না, অর্থনীতিতেও সাধারণ মানুষের অংশগ্রহণ ও অধিকার নিশ্চিত করতে হবে। ডেমোক্রেটাইজেশন অব ইকোনমির তিনটি প্রধান স্তম্ভের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, প্রথমত, বাংলাদেশের প্রত্যেক নাগরিকের অর্থনীতিতে অংশগ্রহণের অধিকার নিশ্চিত করা। দ্বিতীয়ত, অর্থনীতির সুফল বা বেনিফিট সাধারণ মানুষের কাছে পৌঁছে দেওয়া এবং তৃতীয়ত যারা সবসময় অর্থনৈতিক পরিকল্পনার বাইরে ছিল তাদের মূলধারায় সম্পৃক্ত করা। যদিও বাংলাদেশে এই কাজ করা অত্যন্ত কঠিন, তবুও সরকার সাহসের সঙ্গে এই পথেই এগোচ্ছে। সরকার এখন মেগা প্রকল্পের বদলে সামাজিক সুরক্ষা কর্মসূচিতে বেশি মনোযোগ দিচ্ছে। যাতে বিশেষ গোষ্ঠীর বদলে সাধারণ মানুষ উপকৃত হয় বলে জানান তিনি। ফ্যামিলি কার্ড কর্মসূচির প্রসঙ্গ তুলে আমির খসরু বলেন, একজন নারী সারাদিন সংসার সামলান, পরিবারের সবার দেখভাল করেন, অথচ ঘর ও সমাজ কোথাও তার যথাযথ স্বীকৃতি নেই। ফ্যামিলি কার্ডের মাধ্যমে সরাসরি তার হাতে অর্থ পৌঁছে দেওয়া হবে। এতে পরিবার ও সমাজে তার অবস্থান আরও শক্তিশালী হবে। নারীরা পরিবারের বাজেট পরিচালনায় সবচেয়ে দক্ষ। তারা সীমিত আয়ের মধ্যেও সংসার চালাতে জানেন এবং সঞ্চয় করতে পারেন। তাদের হাতে অর্থ গেলে সেটি স্থানীয় অর্থনীতিতেও ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে। কৃষকদের জন্য ‘ফার্মার্স কার্ড’ কর্মসূচির কথাও তিনি তুলে ধরেন। তিনি বলেন, সব কৃষকের ব্যাংকঋণে প্রবেশাধিকার নেই। তাই সরাসরি কৃষকের হাতে সহায়তা পৌঁছে দিতে আমরা ফার্মার্স কার্ড চালুর উদ্যোগ নিয়েছি। এর মাধ্যমে তারা অন্তত সার ও বীজ কেনার মতো মৌলিক প্রয়োজন মেটাতে পারবেন। উত্তরাধিকার সূত্রে পাওয়া অর্থনৈতিক বোঝা এবং মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধের প্রভাব বয়ে নিয়েও বর্তমান সরকার দিনরাত কাজ করে যাচ্ছে উল্লেখ করে আমির খসরু বলেন, বাংলাদেশের উন্নয়নের স্বপ্ন বাস্তবায়ন কোনো একটি দলের নয় বরং সবার সম্মিলিত প্রচেষ্টার বিষয়। 
পিরোজপুরের মরিচের ঝাঁজ চীন-জাপান-থাইল্যান্ডে
পিরোজপুরের মরিচের ঝাঁজ চীন-জাপান-থাইল্যান্ডে
পিরোজপুরে উৎপাদিত ঘৃত্তকুমারী জাতের মরিচ দেশ ছাড়িয়ে বিদেশের বাজারে সম্ভাবনা তৈরি করেছে। বিশেষ জাতের এই মরিচ চীন, জাপান ও থাইল্যান্ডসহ বিভিন্ন দেশে রপ্তানি হচ্ছে। মরিচ ব্যবসার সঙ্গে জড়িত কয়েক হাজার পরিবার আর্থিকভাবে স্বাবলম্বী হয়ে উঠেছে। জেলার অধিকাংশ পরিবার নিজেদের চাহিদা মেটাতে বাড়ির আঙিনায় বোম্বাই মরিচ গাছ রোপণ করে থাকে। তবে নেছারাবাদ ও নাজিরপুর উপজেলার বিভিন্ন গ্রামে এটি এখন বাণিজ্যিক আকার ধারণ করেছে। প্রথমে পারিবারিক চাহিদা পূরণের জন্য চাষ শুরু হলেও ধীরে ধীরে এর লাভজনক দিক বিবেচনায় কৃষকরা ব্যাপকভাবে চাষাবাদে আগ্রহী হয়ে ওঠেন। নেছারাবাদ উপজেলার আটঘর, কুড়িয়ানা, মাহামুদকাঠি ও কামারকাঠি এবং নাজিরপুর উপজেলার বেলুয়া, মুগারঝোড়, বৈঠাকাটা ও বিলডুমুরিয়াসহ বিভিন্ন এলাকায় এখন ব্যাপকভাবে এ মরিচের চাষ হচ্ছে। আল আমিন ও বাবু হালদার নামে দুই কৃষক জানান, একটি গাছ উৎপাদন মৌসুমে টানা সাত থেকে আট মাস ফল দেয়। প্রতিটি গাছে চারশ থেকে এক হাজার পর্যন্ত মরিচ পাওয়া যায়। মৌসুমভেদে প্রতিটি মরিচ ৩ থেকে ১০ টাকা পর্যন্ত বিক্রি হয়। ফলে অল্প জায়গায় অধিক লাভ হওয়ায় কৃষকদের মধ্যে এ চাষের আগ্রহ দিন দিন বাড়ছে। জিয়ারুল নামে এক ব্যবসায়ী জানান, ২০১২ সালে প্রথমবারের মতো পিরোজপুর থেকে জাপানে বোম্বাই মরিচ রপ্তানি করা হয়। এরপর থেকে প্রতিবছর নিয়মিতভাবে বিদেশে মরিচ পাঠানো হচ্ছে। বর্তমানে চীন, জাপান ও থাইল্যান্ডে এর চাহিদা উল্লেখযোগ্য হারে বেড়েছে। স্থানীয়ভাবে ‘বোম্বাই মরিচ’ নামে পরিচিত ঘৃত্তকুমারী জাতের এই মরিচে রয়েছে তীব্র ঝাল ও মনোমুগ্ধকর ঘ্রাণ। এসব বৈশিষ্ট্যের কারণে এর ব্যাপক চাহিদা রয়েছে। বর্তমানে পিরোজপুর থেকে প্রতি বছর প্রায় ৩০০ টন বোম্বাই মরিচ বিদেশে রপ্তানি হচ্ছে। এতে আয় হচ্ছে কয়েক কোটি টাকার বৈদেশিক মুদ্রা। কৃষি বিভাগ বলছে, অনুকূল আবহাওয়া ও মাটির গুণাগুণের কারণে পিরোজপুরের বোম্বাই মরিচের স্বাদ ও ঝালের বিশেষত্ব তৈরি হয়েছে। সঠিক পরিকল্পনা ও সরকারি সহায়তা পেলে এ খাত থেকে আরও বেশি বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনের সম্ভাবনা রয়েছে। পিরোজপুর কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক সৌমিত্র সরকার বলেন, বোম্বাই মরিচ একটি অত্যন্ত লাভজনক ফসল। উৎপাদন আরও বাড়ানো গেলে বিদেশি বাজারের সঙ্গে কৃষকদের সরাসরি সংযোগ তৈরির উদ্যোগ নেওয়া হবে।