
সারা দেশে হাম ও হামের উপসর্গে প্রাণ হারাচ্ছে শিশুরা। বহু শিশু হাসপাতালে ভর্তি আছে। চলমান এই মহামারীতে নিষ্পাপ শিশুদের মৃত্যুর দায় ড. মুহাম্মাদ ইউনূস সরকারের বলে অভিযোগ করেছেন দেশের সুপরিচিত ও প্রশংসিত আমলা মাহবুব কবির মিলন।
শনিবার (৯ মে) ফেসবুকে নিজের ভেরিফায়েড আইডিতে এক পোস্টে তিনি এ দাবি করেন। পাঠকদের জন্য তা তুলে ধরা হলো।
পোস্টে মাহবুব কবির লেখেন, ‘হাম বা হাম সন্দেহে নিস্পাপ শিশুদের হত্যার এই দায় ইউনুস সরকারের। কোল খালি করা বাবা মায়ের আহাজারির দায় শতভাগ তাদের। অযোগ্য অপদার্থ অসুস্থ কবর থেকে তুলে এনে এক একজনকে দুই-তিনটা করে মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব দেয়ার অপরিণামদর্শীতার কারণে দেশ ও জাতির ক্ষতির দায় ইউনূস সরকারের। যাদের একটা দোকান চালানো যোগ্যতা ছিল না, তাদেরকে দেয়া হয়েছিল দেশ চালানোর দায়িত্ব।
ইউনূস সাহেব যেদিন বলেছিলেন, ছাত্ররা আমাকে এনেছে, ছাত্ররা যেদিন বলবে, সেদিন আমি ক্ষমতা ছেড়ে যাব। এই কথাই জুলাই ধ্বংসের কফিনে শেষ পেরেক মেরে দিয়েছিলেন তিনি। একটা সরকারপ্রধান কখনোই এ রকম কথা বলতে পারেন না।
তিনি বলেছিলেন, ছাত্ররা মন্ত্রণালয়ে উপদেষ্টাদের সাথে দেশ গঠনে কাজ করবে। সচিবালয়ের ভেতরে এর সর্বনাশা ফল আপনারা সবাই হাড়েহাড়ে টের পেয়েছেন।
সেই সময় রেল মন্ত্রণালয় থেকে এক জুনিয়র কর্মকর্তা আমাকে ফোন করে জানাল, স্যার, রেল ভবনে এসে দেখে যান। কেন কী হয়েছে? স্যার, পুরো বিল্ডিং স্কুল কলেজের ড্রেস পরা কাঁধে ব্যাগ নিয়ে ছাত্ররা ভরে গেছে। এরা রুমে ঢুকে একে ধমক, ওকে ধমক। ম্যাসাকার অবস্থা।
কাঁধে চটের ব্যাগ আর স্যান্ডেল জুতা পরে চলাফেরা করা ভোলাভালা ফেরেশতাসম মানুষ, যিনি রাস্তা উদ্বোধনের ফলকে নিজের নাম লিখেছে বলে রাগে নামফলক ছিঁড়ে চলে আসেন, ভদ্রলোক অফিসিয়াল সব মিটিংয়ে দুই পাশে ছাত্র বসিয়ে সচিব ডিজিকে বসাতেন তাদের পরে। সবাইকে বলে দিতেন এদের কথায় তোমরা চলবে। তাদের জন্য অফিস কক্ষ, রেল উন্নয়নে সারা দেশ ভ্রমণের জন্য ফ্রি টিকিটের ব্যবস্থা করে দিলেন।
শুরু হলো তাদের রেল বাণিজ্য। ফ্রি টিকিট নেয় আর তা কালোবাজারে বিক্রি করে। ভোলাভালা ফেরেশতা উপদেষ্টা রেলের মতো একটা টেকনিক্যাল ডিপার্টমেন্টে রেল ইঞ্জিনের মেরামত, উন্নয়ন, ইত্যাদি বিষয়ে দেখভাল করার জন্য ছাত্রদের নিয়ে একটা কমিটি করে দিলেন। ছাত্ররা নাকি রেল ইঞ্জিনের ত্রুটি এবং ডিজাইন চেঞ্জ করবে!
এই হলো তার চিন্তাভাবনার কোয়ালিটি। লেখালেখি শুরু করার পর তিনি সব বাতিল করেছিলেন। একটা উদাহরণ দিলাম মাত্র। সচিবালয় তাই ছিল।
আলঝেইমার, পারকিনসন্স, ডিমনেশিয়া আর বহুমূত্র রোগ নিয়ে দেশ চালানো যায় না।
আমলাদের বাধার জন্য কাজ করতে পারেনি বলে অনেক উপদেষ্টা অভিযোগ করেছিলেন। এমনকি প্লেন সচিবালয়ের উপরে ভেঙে পড়ার প্রার্থনাও একজন করেছিলেন। কারা বাধা দিয়েছিল? তাদের ব্যবস্থা নিয়েছিলেন? প্রধান উপদেষ্টার কাছে তাদের বিরুদ্ধে কমপ্লেইন করেছিলেন? মন্ত্রণালয়ের একটা উইং চালাবার ক্ষমতা ছিল না আপনাদের। দুই-তিনটা মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব নিয়েছিলেন কেন? কাজ করতে পারেননি, প্রধান উপদেষ্টাকে গিয়ে বলেননি কেন, আমি একটার বেশি চালাতে পারব না। আপনি আরও লোক নিন। মজায় ছিলেন! আরও পাঁচ বছর, দশ বছরের মজা!
মব কালচার আর আইনশৃঙ্খলা ধ্বংসের দায় আপনাদের। প্রতিদিন প্রতি বেলা আন্দোলনের দায় আপনাদের। আন্দোলন কঠোর হস্তে দমন করতে না পারার ব্যর্থতা আপনাদের।
সহকারী স্বাস্থ্য উপদেষ্টা বলেছেন, সেই সময় হামের প্রস্তুতি নিয়ে যথাসময়ে দপ্তর, অধিদপ্তর এবং আন্তর্জাতিক সংস্থা মন্ত্রণালয়কে অবহিত করেনি। তো আপনারা কী করেছিলেন? আপনাদের দায় ছিল না তা জানার?
কোন সিজনে কোন রোগের প্রাদুর্ভাব। তা সামাল দেওয়ার প্রস্তুতি আছে কি না। ক্যালেন্ডার অনুযায়ী স্বাস্থ্য বিভাগের সকল দপ্তরের অবস্থা, প্রস্তুতি, করণীয়, সরঞ্জাম, উপকরণ, ঔষধপথ্যের মজুত ইত্যাদি সব বিষয়ে জেনে নেওয়া তো মন্ত্রণালয়ের অন্যতম প্রধান দায়িত্ব। প্রধান উপদেষ্টা, উপদেষ্টা, সহকারী উপদেষ্টা, সচিব, আপনারা শত শত বাচ্চার হাম এবং হাম উপসর্গে করুণ মৃত্যুর দায় এড়াবেন কীভাবে?
বিয়ের ১১ বছর পর অনেক চেষ্টার ফসল জন্ম নেওয়া টেস্ট টিউব বেবির হামে মারা যাওয়া বাচ্চার বাবা মায়ের কান্না আর আহাজারি দেখেছেন? লিংক কমেন্টে দিয়ে দিলাম। কী শাস্তি হওয়া উচিত আপনাদের?’
হুঁশিয়ারি দিয়ে শেষে মাহবুব কবির বলেন, ‘আমি রাজনীতিবীদ, বুদ্ধিজীবী বা সুশীল নই। এটা আমার স্বার্থহীন ব্যক্তিগত মতামত মাত্র। অনেক ভুল হতে পারে। ক্ষমা করে দেবেন। কিন্তু ব্যক্তিগত আক্রমণ করে একটা বর্ণ উচ্চারণ করলেই ব্লক। সরি।’




