জাতীয়তাবাদী স্বেচ্ছাসেবক দলের নতুন কমিটিতে আসতে পারেন ছাত্রদলের একাধিক সাবেক শীর্ষস্থানীয় নেতা। কমিটি পুনর্গঠনে বিএনপির হাইকমান্ড ইতিমধ্যেই সংগঠনটির নেতাদের সঙ্গে আলোচনা করেছে। তার আলোকে দ্রুত চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত আসতে পারে। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনপরবর্তী প্রেক্ষাপটে সংগঠনকে আরও গতিশীল করা এবং তৃণমূলে কার্যক্রম আরও জোরদার করার লক্ষ্যে নতুন নেতৃত্ব নির্বাচনের ওপর জোর দেওয়া হচ্ছে।
২০২২ সালের ৪ সেপ্টেম্বর এস এম জিলানীকে সভাপতি এবং রাজিব আহসানকে সাধারণ সম্পাদক করে তিন বছর মেয়াদি কমিটি গঠন করা হয়। সেই কমিটির মেয়াদ ইতিমধ্যেই শেষ হয়েছে। এর মধ্যে পরিস্থিতিও বদলেছে। জিলানী সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছেন। রাজিব আহসান সংসদ সদস্য হওয়ার পাশাপাশি প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্বও পালন করছেন। ফলে দুজনের কেউই আগের মতো সংগঠনে সময় দিতে পারছেন না। এই বাস্তবতায় নতুন নেতৃত্বের প্রয়োজনীয়তা সামনে এসেছে।
গত শনিবার রাতে বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমানের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন স্বেচ্ছাসেবক দলের সভাপতি এস এম জিলানী, সাধারণ সম্পাদক রাজিব আহসান, সিনিয়র সহসভাপতি ইয়াসিন আলী এবং সাংগঠনিক সম্পাদক নাজমুল হাসান। কমিটি পুনর্গঠনের বিষয়ে তারা হাইকমান্ডের দৃষ্টি আকর্ষণ করেন। এ সময় বিষয়টি দেখবেন বলে আশ্বস্ত করেন তারেক রহমান।
দলীয় সূত্রে জানা গেছে, শীর্ষস্থানীয় চার নেতার সঙ্গে আলোচনায় কমিটি পুনর্গঠনের বিষয়ে ইতিবাচক সাড়া মিলেছে। নতুন কমিটি প্রসঙ্গে বর্তমান সাধারণ সম্পাদক রাজিব আহসান বলেন, ‘আমরা যত দিন দায়িত্বে আছি, নিষ্ঠার সঙ্গে তা পালন করে যাব। দল নতুন নেতৃত্ব আনলে তাকে স্বাগত জানাব।’
সভাপতি পদে যারা আলোচনায়
নেতৃত্ব সংগঠনের ভেতর থেকে আসবে, নাকি বাইরে থেকে আনা হবে; মূলত এ নিয়ে আলোচনা চলছে। সভাপতি পদে বর্তমান কমিটির সিনিয়র সহসভাপতি ইয়াসিন আলী ও সাংগঠনিক সম্পাদক নাজমুল হাসানের নাম আলোচনায় আছে। পাশাপাশি আলোচনায় রয়েছেন সহসভাপতি ফখরুল ইসলাম রবিন এবং ঢাকা মহানগর দক্ষিণ স্বেচ্ছাসেবক দলের সাবেক সাধারণ সম্পাদক নজরুল ইসলাম।

নজরুল ইসলাম এশিয়া পোস্টকে বলেন, ‘বর্তমান সভাপতি সংসদ সদস্য এবং সাধারণ সম্পাদক প্রতিমন্ত্রী। দুজনই সফল। কিন্তু রাষ্ট্রীয় কাজে তারা এখন ব্যস্ত সময় পার করছেন। সে কারণে সংগঠনের গতিশীলতার স্বার্থে নতুন কমিটি খুবই প্রয়োজন।’
সাধারণ সম্পাদক পদে আলোচনায় সাবেক ছাত্রনেতারা
সাধারণ সম্পাদক পদে আলোচনায় রয়েছেন সাবেক একাধিক ছাত্রনেতা। তাদের মধ্যে রয়েছেন ছাত্রদলের সাবেক সভাপতি ফজলুর রহমান খোকন ও কাজী রওনাকুল ইসলাম শ্রাবণ এবং সাবেক সাধারণ সম্পাদক ইকবাল হোসেন শ্যামল ও সাইফ মাহমুদ জুয়েল। ঢাকা মহানগর দক্ষিণ স্বেচ্ছাসেবক দলের সভাপতি জহির উদ্দিন তুহিনের নামও রয়েছে আলোচনায়।

সাইফ মাহমুদ জুয়েল এশিয়া পোস্টকে বলেন, ‘আমি আমাদের সাংগঠনিক অভিভাবক তারেক রহমানের ওপর পূর্ণ আস্থাশীল। তিনি আমাকে যেখানে যোগ্য মনে করবেন, সেখানেই দায়িত্ব দেবেন।’
ঢেলে সাজানোর উদ্যোগ
চলতি বছরের শেষদিকে বিএনপির জাতীয় কাউন্সিল হওয়ার কথা রয়েছে। এটিকে সামনে রেখে অঙ্গসংগঠনগুলোর কাঠামো ঢেলে সাজানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। স্বেচ্ছাসেবক দলের কমিটি পুনর্গঠনের উদ্যোগ সেই প্রক্রিয়ারই অংশ। দলীয় সূত্র বলছে, নতুন কমিটির মাধ্যমে সাংগঠনিক কার্যক্রমে গতি আসবে এবং রাজনৈতিক কর্মসূচি বাস্তবায়ন সহজ হবে।
স্বেচ্ছাসেবক দলের সাংগঠনিক সম্পাদক নাজমুল হাসান বলেন, ‘সংগঠনের কমিটি পুনর্গঠন একটি চলমান প্রক্রিয়া। আমাদের সাংগঠনিক অভিভাবক তারেক রহমান যখন উপযুক্ত সময় মনে করবেন, তখন নতুন কমিটি ঘোষণা করবেন।’
এ বিষয়ে জানতে চাইলে বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী এশিয়া পোস্টকে বলেন, ‘আমার কাছে অফিসিয়ালি এ ধরনের কোনো তথ্য নেই। তবে সংগঠনের গতিশীলতার স্বার্থে পরিবর্তন আসতেই পারে। এটি চলমান প্রক্রিয়া।’




