দরপত্রের শর্ত ভেঙে পছন্দের ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে কোটি কোটি টাকার কাজ দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের (ডিএনসিসি) বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় অভিযোগের তীর ডিএনসিসির বিদ্যুৎ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলীর দায়িত্বে থাকা সহকারী প্রকৌশলী সাইফুল ইসলামের বিরুদ্ধে। নথিপত্র বিশ্লেষণে দেখা গেছে, সরকারি ক্রয়বিধি লঙ্ঘন করে সড়কবাতির খুঁটি স্থাপন থেকে শুরু করে ওয়াকিটকি ক্রয় পর্যন্ত একাধিক দরপত্রে বিশেষ সুবিধাপ্রাপ্ত ঠিকাদারদের দেওয়া কাজের মোট মূল্য ৪৩ কোটি টাকা ছাড়িয়েছে।
অসম্পন্ন কাজের সনদে ১৪ কোটির চুক্তি
গত ২৫ আগস্ট মহাখালী ফ্লাইওভার থেকে জাহাঙ্গীর গেট পর্যন্ত সড়কবাতির খুঁটি সরবরাহ ও স্থাপনের জন্য দরপত্র আহ্বান করেন সাইফুল ইসলাম। দরপত্রের শর্তে বলা ছিল, অংশগ্রহণকারী প্রতিষ্ঠানের পণ্য ও সেবা সরবরাহে ন্যূনতম পাঁচ বছরের সাধারণ অভিজ্ঞতা থাকতে হবে। পাশাপাশি গত ১০ বছরে অন্তত ১০ কোটি ৮ লাখ টাকার একক কাজ সফলভাবে সম্পন্নের অভিজ্ঞতা এবং প্রতি বছর ২৩৫টি ডেকোরেটিভ পোল এবং ৩৯৫টি স্মার্ট এলইডি স্ট্রিট লাইট সরবরাহ বা উৎপাদন সক্ষমতা থাকতে হবে।
দরপত্রে ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান প্রোটোস্টার লিমিটেড রাজশাহী সিটি করপোরেশনের একটি অভিজ্ঞতা সনদ দাখিল করে। এতে ২০২২ সালের ৩১ মে থেকে নগরীর তালাইমারী মোড় থেকে কাটাখালী বাজার এবং ভদ্রা রেলক্রসিং থেকে নওদাপাড়া বাস টার্মিনাল মোড় পর্যন্ত সড়কে বৈদ্যুতিক খুঁটি ও বাতি সরবরাহ এবং স্থাপনের ১৬ কোটি ৫৮ লাখ টাকার কাজের অভিজ্ঞতার কথা উল্লেখ করা হয়। তবে ওই সনদে কাজটি সম্পন্নের সময়সীমা উল্লেখ রয়েছে ২০২৬ সালের ৩০ জুন পর্যন্ত। অর্থাৎ কাজটি তখনো চলমান। দরপত্রের শর্ত অনুযায়ী ‘সফলভাবে সম্পন্ন’ কাজের অভিজ্ঞতা প্রতিষ্ঠানটির ছিল না।
শর্ত লঙ্ঘনের এই অভিযোগ উঠলে বাংলাদেশ পাবলিক প্রকিউরমেন্ট অথরিটি (বিপিপিএ) পিপিআর ২০২৫-এর বিধি ১১৮(৪) অনুযায়ী মূল্যায়ন কমিটিকে দরপত্রে উল্লেখিত শর্তের ভিত্তিতে মূল্যায়ন করার নির্দেশ দেয়। দরপত্রের নির্দেশনার ১৫.১(বি) ধারায় স্পষ্ট বলা ছিল, অংশগ্রহণকারী প্রতিষ্ঠানের ডেকোরেটিভ পোল ও স্মার্ট এলইডি স্ট্রিট লাইটসংক্রান্ত সমজাতীয় কাজের অভিজ্ঞতা থাকতে হবে। কিন্তু বিপিপিএর নির্দেশনার পরও এই শর্ত পাশ কাটিয়ে প্রোটোস্টার লিমিটেড সমজাতীয় কাজের অভিজ্ঞতার বদলে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের সাধারণ সড়কবাতি প্রকল্পের ১৪ কোটি ৩৫ লাখ টাকার অভিজ্ঞতা সনদ দাখিল করে। সাইফুল ইসলামের যোগসাজশে মূল্যায়ন কমিটি এই সনদ গ্রহণ করে প্রতিষ্ঠানটিকে যোগ্য ঘোষণা করে। এটি পিপিআর আইনের সরাসরি লঙ্ঘন।
এই দরপত্রে প্রোটোস্টার লিমিটেড, এস এস রহমান ইন্টারন্যাশনাল লিমিটেড ও সালেক পাওয়ার লিমিটেড অংশ নেয়। মূল্যায়ন কমিটি প্রোটোস্টার ও এস এস রহমান ইন্টারন্যাশনালকে কারিগরিভাবে যোগ্য বলে গণ্য করে। শেষ পর্যন্ত গত ১৯ নভেম্বর প্রোটোস্টার লিমিটেডকে কার্যাদেশ দেওয়া হয়। পরে গত বছরের ৪ ডিসেম্বর প্রতিষ্ঠানটির সঙ্গে ১৪ কোটি ২০ লাখ টাকার চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়। প্রোটোস্টার লিমিটেড নামের এই প্রতিষ্ঠানটির ব্যবস্থাপনা পরিচালক জাতীয় ক্রিকেট দলের সাবেক অধিনায়ক আকরাম খান।
আরও ২১ কোটির কাজ পেয়েছে প্রোটোস্টার
একই দিনে বিদ্যুৎ বিভাগের অঞ্চল-৫-এর নির্বাহী প্রকৌশলীর দায়িত্বে থাকা সহকারী প্রকৌশলী আব্দুর রহিম মিয়া জাহাঙ্গীর গেট থেকে ফার্মগেট, বিজয় সরণি (পূর্ব ও পশ্চিম), খেজুর বাগান, বিমানবন্দর থেকে খামারবাড়ি এবং মানিক মিয়া অ্যাভিনিউ পর্যন্ত ডেকোরেটিভ স্ট্রিট লাইট পোল সরবরাহ ও স্থাপনের জন্য আরেকটি দরপত্র আহ্বান করেন। এর আওতায় স্মার্ট এলইডি লাইট, সিএলএমএস, ক্যাবল ও সংশ্লিষ্ট যন্ত্রপাতি ক্রয়ও অন্তর্ভুক্ত ছিল। এই দরপত্রে কেবল প্রোটোস্টার লিমিটেড অংশ নেয়।
দরপত্রের শর্তে বলা হয়, অংশগ্রহণকারী প্রতিষ্ঠানের পণ্য ও সেবা সরবরাহে ন্যূনতম পাঁচ বছরের সাধারণ অভিজ্ঞতা থাকতে হবে। গত ১০ বছরে অন্তত ১৫ কোটি ৫ লাখ টাকার একটি একক কাজ সম্পন্নের অভিজ্ঞতাও বাধ্যতামূলক। পাশাপাশি প্রতি বছরে ডেকোরেটিভ পোল ৩৭৫টি এবং স্মার্ট এলইডি স্ট্রিট লাইট ৬১৫টি সরবরাহ বা উৎপাদন সক্ষমতার শর্ত নির্ধারণ করা হয়।
এই দরপত্রেও প্রোটোস্টার লিমিটেড একই প্রক্রিয়া অনুসরণ করে। প্রথমে রাজশাহী সিটি করপোরেশনের অসম্পন্ন কাজের অভিজ্ঞতা সনদ এবং পরে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের সড়কবাতি প্রকল্পের ১৪ কোটি ৩৫ লাখ টাকার সাধারণ কাজের অভিজ্ঞতা সনদ দাখিল করে। কিন্তু এই দরপত্রে চাহিদা ছিল ১৫ কোটি ৫ লাখ টাকার অভিজ্ঞতার। অর্থাৎ দাখিলকৃত সনদের মূল্য সেই চাহিদার চেয়ে ৭০ লাখ টাকা কম। তারপরেও ডিএনসিসির দরপত্র যাচাই কমিটি গত ১৯ নভেম্বর প্রোটোস্টার লিমিটেডকে কার্যাদেশ দেয়। গত ৪ ডিসেম্বর প্রতিষ্ঠানটির সঙ্গে ২১ কোটি ১৯ লাখ টাকার চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়।
৪৭ হাজারের ওয়াকিটকি কেনা হয়েছে ২ লাখ ৯৪ হাজারে
সড়ক বাতির কাজে শর্ত লঙ্ঘনের পাশাপাশি বাজারদর কয়েকগুণ বাড়িয়ে অযোগ্য ঠিকাদারের কাছ থেকে উচ্চমূল্যে ওয়াকিটকি কেনারও অভিযোগ উঠেছে ডিএনসিসির বিরুদ্ধে। নথি অনুযায়ী, ডিএনসিসি মোট ৩৮০টি ওয়াকিটকি আনুষঙ্গিক সরঞ্জামসহ প্রায় ৭ কোটি ৯৪ লাখ টাকায় কিনেছে। হাইতেরা পিডিসি৬৮০ মডেলের ১০০টি ওয়াকিটকির প্রতিটির দাম ধরা হয়েছে ২ লাখ ৯৪ হাজার টাকা এবং হাইতেরা এইচপি৭৮৮ ইউভি মডেলের ২৮০টির প্রতিটির দাম ১ লাখ ৬৪ হাজার টাকা। অথচ ২০২৩ সালে বাংলাদেশ পুলিশ একই ধরনের ২ হাজার ৪০০টি ওয়াকিটকি কিনেছে প্রতিটি মাত্র ৪৭ হাজার ৫২০ টাকায়। ২০১৯ সালে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন ৪০০টি ওয়াকিটকি কিনেছিল প্রতিটি ৫১ হাজার ৯৩৫ টাকায়।
বাজারমূল্য নির্ধারণে গঠিত কমিটি তিনটি প্রতিষ্ঠান রুশদিয়া এন্টারপ্রাইজ, এসএম করপোরেশন ও মেসার্স দ্য স্টেট আইটি লিমিটেড থেকে দর সংগ্রহ করে। তবে রুশদিয়া ও এসএম করপোরেশনের এ খাতে কোনো পূর্ব অভিজ্ঞতা ছিল না। তাদের ট্রেড লাইসেন্স অনুযায়ী ব্যবসার ধরনও টেলিকমিউনিকেশন সরঞ্জামের সঙ্গে সম্পর্কিত নয়। বিপরীতে আগে ডিএনসিসিকে ওয়াকিটকি সরবরাহ করা নিয়মিত প্রতিষ্ঠান সিস্টেম কমিউনিকেশন লিমিটেডের কাছ থেকে কোনো দর সংগ্রহ করা হয়নি।
তিনটি প্রতিষ্ঠানের জমা দেওয়া দরপত্রের ভাষা, শর্ত ও বিন্যাস প্রায় হুবহু, যা সম্ভাব্য যোগসাজশের ইঙ্গিত বলে প্রতীয়মান হয়। এদের মধ্যে স্টেট আইটি সর্বনিম্ন দর প্রস্তাব করে, রুশদিয়া দ্বিতীয় সর্বোচ্চ এবং এসএম কর্পোরেশন সর্বোচ্চ দর দেয়। স্টেট আইটির প্রস্তাবকে সর্বনিম্ন হিসেবে গ্রহণ করার পরে দাপ্তরিকভাবে যে মূল্য নির্ধারণ করা হয়, সেটি হুবহু এক। অর্থাৎ ঠিকাদারের দরের সঙ্গে লাভ, ট্যাক্স ও ভ্যাট যোগ করে যে দাপ্তরিক মূল্য হওয়ার কথা, সেই দামেই আগেভাগে দরপত্র জমা দেয় স্টেট আইটি।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ডিএনসিসির প্রকৌশলীরা এশিয়া পোস্টকে জানিয়েছেন, ইচ্ছাকৃতভাবে বাজারদর বেশি দেখিয়ে দাপ্তরিক মূল্য নির্ধারণ করা হয়েছে, যাতে ঠিকাদারকে বেশি দামে কাজ দেওয়া যায় এবং সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা আর্থিকভাবে লাভবান হতে পারেন।
দরপত্রে উল্লিখিত যোগ্যতার শর্তও লঙ্ঘনের অভিযোগ রয়েছে। ২০২৪ সালের অক্টোবরে আহ্বান করা দরপত্রে বলা হয়েছিল, দরদাতাদের গত তিন বছরে অন্তত চার কোটি টাকার সমজাতীয় কাজ সম্পন্নের অভিজ্ঞতা থাকতে হবে। কিন্তু কাজ পেয়েছে মেসার্স দ্য স্টেট আইটি লিমিটেড, যারা এই শর্ত পূরণ করতে পারেনি।
প্রতিষ্ঠানটি দুটি অভিজ্ঞতার সনদ জমা দেয়। একটি ছিল ওয়েস্ট জোন পাওয়ার ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি লিমিটেডের সঙ্গে যৌথ উদ্যোগে সম্পন্ন কাজের, যেখানে স্টেট আইটি প্রধান অংশীদার ছিল না। ফলে সেটি বাতিল হয়। অন্য সনদটি ছিল পুলিশ টেলিকম অর্গানাইজেশনের, চুক্তিমূল্য প্রায় ১০ লাখ ৫৬ হাজার মার্কিন ডলার। বাংলাদেশি মুদ্রায় এর পরিমাণ দাঁড়ায় প্রায় ১৩ কোটি টাকা। তবে এই সনদটি মূলত চীনা প্রতিষ্ঠান হাইতেরা কমিউনিকেশনস করপোরেশন লিমিটেডের অনুকূলে ইস্যু করা হয়েছিল।
পুলিশ টেলিকম অর্গানাইজেশনের তৎকালীন পুলিশ সুপার (লজিস্টিকস) এম আনোয়ার জাহিদ বলেন, ‘সনদটি হাইতেরার জন্য দেওয়া হয়েছিল, স্টেট আইটির জন্য নয়। স্টেট আইটি সেখানে কেবল স্থানীয় এজেন্ট হিসেবে কাজ করেছে।’ তারপরেও সেই সনদ ব্যবহার করেই স্টেট আইটিকে যোগ্য বিবেচনা করে কাজ দেওয়া হয়েছে, যা সরকারি ক্রয়বিধির পরিপন্থি।
২০২৪ সালের ডিসেম্বরে দেওয়া এই কার্যাদেশের ক্রয়কারী কর্মকর্তা ছিলেন নির্বাহী প্রকৌশলী সাইফুল ইসলাম। ক্রয়প্রক্রিয়া কমিটিতে আরও ছিলেন ডিএনসিসির সাবেক প্রধান প্রকৌশলী ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মো. মঈন উদ্দিন এবং সহকারী প্রকৌশলী আমিনুর রহমান।
দফায় দফায় দরপত্র
গত বছরের ১ জুন রামপুরা সেতু থেকে কুড়িল মোড় পর্যন্ত সড়কে খুঁটি, স্মার্ট এলইডি বাতি ও অন্যান্য বৈদ্যুতিক সরঞ্জাম স্থাপনের জন্য দরপত্র আহ্বান করা হয়। ঢাকা ওয়াসার অর্থায়নে বাস্তবায়নযোগ্য এই প্রকল্পের প্রাক্কলিত ব্যয় ধরা হয়েছিল ৯ কোটি টাকার বেশি। জমাদানের শেষ তারিখ ছিল ২৯ জুন। কিন্তু তার মাত্র তিন দিন আগে, ২৬ জুন হঠাৎ দরপত্রের শর্তে বড় পরিবর্তন আনা হয় এবং জমাদানের সময় বাড়িয়ে ১০ জুলাই করা হয়। দরপত্র প্রস্তুতকারী কারিগরি কমিটির কোনো অনুমোদন না নিয়েই এই পরিবর্তন করা হয়, যা সরকারি ক্রয়বিধির পরিপন্থি।
শর্ত পরিবর্তনের বিষয়টি বিশ্লেষণে দেখা যায়, শুরুতে আন্তর্জাতিক মানের প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকে পণ্যের গুণগত সনদের বিষয়টি বাধ্যতামূলক ছিল, কিন্তু সংশোধিত শর্তে আন্তর্জাতিক মান বাদ দিয়ে কেবল প্রতিষ্ঠিত সংস্থা বলা হয়। বাতি, ড্রাইভার, ডিসিইউ ও সিএমএস একই ব্র্যান্ডের হওয়ার শর্ত পরিবর্তন করে শুধু ডিসিইউ ও সিএমএস একই প্রতিষ্ঠানের হওয়া বাধ্যতামূলক করা হয়। নতুন করে সিএমএসের সোর্স কোড সরবরাহের শর্ত যোগ করা হয়, যা আন্তর্জাতিকভাবে অস্বাভাবিক। কোনো প্রতিষ্ঠিত কোম্পানি সাধারণত তাদের সফটওয়্যারের সোর্স কোড সরবরাহ করে না।
ডিএনসিসির একাধিক কর্মকর্তা মনে করছেন, এই শর্তটি নির্দিষ্ট একটি সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠানকে সুবিধা দিতে যুক্ত করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, স্থানীয় প্রতিষ্ঠান এনার্জি প্লাস আগেভাগেই ঠিকাদার জেএপি ট্রেডিংকে সোর্স কোড দেওয়ার নিশ্চয়তা দিয়েছিল।
কারিগরি স্পেসিফিকেশনেও পরিবর্তন আনা হয়। প্রথমে ফিলিপস জাইটানিয়াম ড্রাইভার ব্যবহারের কথা সুনির্দিষ্টভাবে বলা হলেও পরে সমমান বা সমতুল্য যুক্ত করা হয়। ইউরোপের নির্দিষ্ট বন্দর থেকে পণ্য আমদানির শর্ত শিথিল করে দরদাতার উল্লিখিত যে কোনো বন্দর গ্রহণযোগ্য করা হয়।
দরপত্রে দুটি প্রতিষ্ঠান অংশ নেয়। মেসার্স জেএপি ট্রেডিং ও এসএস রহমান ইন্টারন্যাশনাল। জেএপি ট্রেডিং ৭ কোটি ৬৪ লাখ টাকার প্রস্তাব দিয়ে সর্বনিম্ন দরদাতা হয়। এসএস রহমান ইন্টারন্যাশনাল দেয় ৮ কোটি ৭ লাখ টাকার প্রস্তাব। অভিযোগ রয়েছে, সাইফুল ইসলামের সঙ্গে জেএপি ট্রেডিংয়ের ঘনিষ্ঠতা রয়েছে এবং তার প্রভাবেই শর্ত পরিবর্তন করা হয়েছে।
নির্বাচিত প্রতিষ্ঠান জেএপি ট্রেডিংয়ের প্রস্তাবেও একাধিক ঘাটতি পাওয়া গেছে। এলইডি বাতির জন্য গুরুত্বপূর্ণ এলভিডি ও আরওএইচএস সনদ জমা দেওয়া হয়নি। ডিসিইউ ও সিএমএসের ক্ষেত্রেও প্রস্তুতকারকের স্বীকৃত কোনো সনদ না দিয়ে স্থানীয় সরবরাহকারীর একটি ঘোষণাপত্র দেওয়া হয়েছে। প্রস্তাবিত বাতির ক্ষেত্রে শর্ত অনুযায়ী ডাবল আইসোলেশন (ক্লাস-২) হওয়ার কথা থাকলেও জেএপি দিচ্ছে সিঙ্গেল আইসোলেশন (ক্লাস-১) মানের পণ্য। ভোল্টেজ, পাওয়ার ফ্যাক্টর ও লুমেন টলারেন্সের মতো গুরুত্বপূর্ণ মানদণ্ডও পূরণ হয়নি।
মূল্য বিশ্লেষণেও বড় অসংগতি পাওয়া গেছে। জেএপি যে বাতি সরবরাহের প্রস্তাব দিয়েছে, তার আন্তর্জাতিক বাজারমূল্য ৬০ থেকে ৭০ মার্কিন ডলার। দেশে সব খরচসহ যা ১৮ থেকে ২০ হাজার টাকার মধ্যে পড়ে। অথচ প্রকল্পে প্রতিটি বাতির প্রাক্কলিত মূল্য ধরা হয়েছে প্রায় এক লাখ টাকা।
এত ঘাটতির পরেও গত বছরে জেএপি ট্রেডিংকে কার্যাদেশ দেওয়া হয়। পরে বিপিপিএর নির্দেশে দরপত্রটি বাতিল হয়। তারপরেও একই প্রতিষ্ঠানকে কাজ দেওয়ার লক্ষ্যে গত রোববার (১৯ এপ্রিল) তৃতীয়বারের মতো দরপত্র বাতিল করে পুনর্দরপত্রের সুপারিশ করা হয়েছে।
যা বলছেন সংশ্লিষ্টরা
নিজের বিরুদ্ধে উত্থাপিত অভিযোগের বিষয়ে সাইফুল ইসলাম বলেন, ‘সড়কবাতি ও খুঁটির দরপত্রে শর্ত লঙ্ঘন হয়নি। ওয়াকিটকি কেনার ক্ষেত্রেও নিয়ম ভাঙা হয়নি। ঢাকা ওয়াসার অর্থায়নে দরপত্রটিতেও পছন্দের ঠিকাদারকে কাজ দিতে চাইলে তিনবার দরপত্র আহ্বান করতে হতো না।’
অঞ্চল-৫-এর দায়িত্বে থাকা সহকারী প্রকৌশলী আব্দুর রহিম মিয়ার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি। ডিএনসিসির প্রশাসক শফিকুল ইসলাম মিল্টন এশিয়া পোস্টকে বলেন, ‘সবগুলো অভিযোগ তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’




