
চীন প্রথমবারের মতো দেশীয়ভাবে প্রশিক্ষিত এয়ারশিপ পাইলটদের বাণিজ্যিক লাইসেন্স দিয়েছে। দেশটির বেসামরিক বিমান চলাচল প্রশাসন (সিএএসি) বুধবার চারজন পাইলটকে এই লাইসেন্স প্রদান করে। এটি চীনের দ্রুত সম্প্রসারণশীল ‘লো-অ্যাল্টিটিউড ইকোনমি’ বা নিম্ন-উচ্চতার আকাশ অর্থনীতির জন্য গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি।
বৃহস্পতিবার রাষ্ট্রীয় বিমান নির্মাতা প্রতিষ্ঠান অ্যাভিয়েশন ইন্ডাস্ট্রি করপোরেশন অব চায়না (এভিআইসি) জানায়, লাইসেন্সপ্রাপ্ত চার পাইলটকে প্রতিষ্ঠানটির স্পেশাল ভেহিকল রিসার্চ ইনস্টিটিউট প্রশিক্ষণ দিয়েছে। তারা চীনের নিজস্ব প্রযুক্তিতে তৈরি মানববাহী এয়ারশিপ ‘জিয়াংইয়ুন এএস৭০০’ পরিচালনার যোগ্যতা অর্জন করেছেন।
এভিআইসির তথ্য অনুযায়ী, প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত পাইলটরা লাইসেন্স পাওয়ার আগে ৪০০টিরও বেশি ফ্লাইট উড্ডয়ন ও অবতরণের ধাপ সম্পন্ন করেছেন এবং প্রয়োজনীয় সকল মূল্যায়নে সফলভাবে উত্তীর্ণ হয়েছেন।
সব ধরনের মূল্যায়নে সফল হওয়ার পর তারা চীনের প্রথম দেশীয় প্রশিক্ষিত এয়ারশিপ পাইলট হিসেবে স্বীকৃতি পান।
এএস৭০০: চীনের নতুন প্রজন্মের এয়ারশিপ
এভিআইসির স্পেশাল ভেহিকল রিসার্চ ইনস্টিটিউট নির্মিত ‘জিয়াংইয়ুন এএস৭০০’ একটি মানুষ পরিবহনের বেসামরিক এয়ারশিপ। এটি মূলত পর্যটন, জরুরি উদ্ধার, আকাশ টহল, জরিপ ও মানচিত্র প্রণয়ন এবং নগর পরিচালনা ও রক্ষণাবেক্ষণের কাজে ব্যবহারের জন্য তৈরি করা হয়েছে।
হিলিয়াম গ্যাসচালিত এয়ারশিপটি চালকসহ সর্বোচ্চ ১০ জন যাত্রী বহন করতে পারে। এর সর্বোচ্চ ফ্লাইট রেঞ্জ ৭০০ কিলোমিটার এবং এটি একটানা প্রায় ১০ ঘণ্টা আকাশে থাকতে সক্ষম।
সম্প্রতি এএস৭০০ সফলভাবে প্রথম আন্তঃপ্রাদেশিক ফ্লাইট সম্পন্ন করে। সেই যাত্রায় এটি প্রায় এক হাজার কিলোমিটার পথ অতিক্রম করে, যা চীনের নিজস্ব মানববাহী এয়ারশিপের জন্য দীর্ঘতম ফ্লাইট রেকর্ড হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
বাণিজ্যিক চাহিদা দ্রুত বাড়ছে
এভিআইসি জানিয়েছে, এএস৭০০ এয়ারশিপের জন্য ইতোমধ্যে ৪৪টি অর্ডার পাওয়া গেছে। প্রতিটি এয়ারশিপ পরিচালনায় গড়ে দুই থেকে তিনজন পাইলট প্রয়োজন হওয়ায় বড় পরিসরে বাণিজ্যিক কার্যক্রম চালাতে বিপুলসংখ্যক প্রশিক্ষিত পাইলট দরকার হবে।
গবেষণা প্রতিষ্ঠানের এক মুখপাত্র বলেন, বর্তমানে চীনে এয়ারশিপ থাকলেও দক্ষ অপারেটরের ঘাটতি রয়েছে। প্রথম ব্যাচের এই পাইলটরা সেই ঘাটতি পূরণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে এবং এএস৭০০-এর বাণিজ্যিক পরিচালনার ভিত্তি তৈরি করবে।
এয়ারশিপ ফ্লাইট স্কুল গড়ার পরিকল্পনা
চাহিদা বৃদ্ধির কথা বিবেচনায় নিয়ে চীন এখন দেশটির প্রথম বিশেষায়িত এয়ারশিপ ফ্লাইট স্কুল প্রতিষ্ঠার পরিকল্পনা করছে। এভিআইসি জানায়, ভবিষ্যতে— আরও বেশি পাইলট ও প্রশিক্ষক তৈরি করা হবে, নিয়োগ কার্যক্রম বাড়ানো হবে, প্রশিক্ষণ ব্যবস্থাকে আরও মানসম্মত করা হবে এবং বাজারের চাহিদার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে দক্ষ জনবল গড়ে তোলা হবে।
‘লো-অ্যাল্টিটিউড ইকোনমি’তে বড় বিনিয়োগ
চীনের বেসামরিক বিমান চলাচল প্রশাসনের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালে দেশটির লো-অ্যাল্টিটিউড অর্থনীতির বাজারমূল্য প্রায় ১ দশমিক ৫ ট্রিলিয়ন ইউয়ানে পৌঁছেছে, যা ২০৩৫ সালের মধ্যে ৩ দশমিক ৫ ট্রিলিয়ন ইউয়ান ছাড়িয়ে যেতে পারে।
এই খাতের উন্নয়নে চীন ইতোমধ্যে নীতিগত উদ্যোগ জোরদার করেছে। দেশটির শিল্প ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, ২০২৬ সালের শিল্প উন্নয়ন পরিকল্পনায় মহাকাশ প্রযুক্তি, লো-অ্যাল্টিটিউড অর্থনীতি, নতুন উপকরণ ও বায়োফার্মাসিউটিক্যালসহ ভবিষ্যতমুখী শিল্পগুলোকে অগ্রাধিকার দেওয়া হবে।
এছাড়া সম্প্রতি চীনের আইনপ্রণেতারা দেশটির বেসামরিক বিমান চলাচল আইন সংশোধন করেছেন। সংশোধিত আইনে লো-অ্যাল্টিটিউড অর্থনীতির উন্নয়ন, বিমান নিরাপত্তা এবং বেসামরিক বিমান উৎপাদন ও পরিবহন খাতের জন্য নতুন নীতিগত সহায়তা যুক্ত করা হয়েছে।




