ঢাকা শুক্রবার, ১২ জুন ২০২৬, ২৯ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩
নির্বাচন সর্বশেষ
Live Icon ●LIVE

এয়ারশিপ পাইলট তৈরিতে নতুন যুগে চীন

এশিয়া পোস্ট ডেস্ক

  ০৭ মে ২০২৬, ২১:৪৬
চীনের নিজস্ব প্রযুক্তিতে তৈরি মানববাহী এয়ারশিপ জিয়াংইয়ুন এএস৭০০। ছবি: সংগৃহীত

চীন প্রথমবারের মতো দেশীয়ভাবে প্রশিক্ষিত এয়ারশিপ পাইলটদের বাণিজ্যিক লাইসেন্স দিয়েছে। দেশটির বেসামরিক বিমান চলাচল প্রশাসন (সিএএসি) বুধবার চারজন পাইলটকে এই লাইসেন্স প্রদান করে। এটি চীনের দ্রুত সম্প্রসারণশীল ‘লো-অ্যাল্টিটিউড ইকোনমি’ বা নিম্ন-উচ্চতার আকাশ অর্থনীতির জন্য গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি।

পরিবর্তন অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন

বৃহস্পতিবার রাষ্ট্রীয় বিমান নির্মাতা প্রতিষ্ঠান অ্যাভিয়েশন ইন্ডাস্ট্রি করপোরেশন অব চায়না (এভিআইসি) জানায়, লাইসেন্সপ্রাপ্ত চার পাইলটকে প্রতিষ্ঠানটির স্পেশাল ভেহিকল রিসার্চ ইনস্টিটিউট প্রশিক্ষণ দিয়েছে। তারা চীনের নিজস্ব প্রযুক্তিতে তৈরি মানববাহী এয়ারশিপ ‘জিয়াংইয়ুন এএস৭০০’ পরিচালনার যোগ্যতা অর্জন করেছেন।

এভিআইসির তথ্য অনুযায়ী, প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত পাইলটরা লাইসেন্স পাওয়ার আগে ৪০০টিরও বেশি ফ্লাইট উড্ডয়ন ও অবতরণের ধাপ সম্পন্ন করেছেন এবং প্রয়োজনীয় সকল মূল্যায়নে সফলভাবে উত্তীর্ণ হয়েছেন।

সব ধরনের মূল্যায়নে সফল হওয়ার পর তারা চীনের প্রথম দেশীয় প্রশিক্ষিত এয়ারশিপ পাইলট হিসেবে স্বীকৃতি পান।

এএস৭০০: চীনের নতুন প্রজন্মের এয়ারশিপ

এভিআইসির স্পেশাল ভেহিকল রিসার্চ ইনস্টিটিউট নির্মিত ‘জিয়াংইয়ুন এএস৭০০’ একটি মানুষ পরিবহনের বেসামরিক এয়ারশিপ। এটি মূলত পর্যটন, জরুরি উদ্ধার, আকাশ টহল, জরিপ ও মানচিত্র প্রণয়ন এবং নগর পরিচালনা ও রক্ষণাবেক্ষণের কাজে ব্যবহারের জন্য তৈরি করা হয়েছে।

হিলিয়াম গ্যাসচালিত এয়ারশিপটি চালকসহ সর্বোচ্চ ১০ জন যাত্রী বহন করতে পারে। এর সর্বোচ্চ ফ্লাইট রেঞ্জ ৭০০ কিলোমিটার এবং এটি একটানা প্রায় ১০ ঘণ্টা আকাশে থাকতে সক্ষম।

সম্প্রতি এএস৭০০ সফলভাবে প্রথম আন্তঃপ্রাদেশিক ফ্লাইট সম্পন্ন করে। সেই যাত্রায় এটি প্রায় এক হাজার কিলোমিটার পথ অতিক্রম করে, যা চীনের নিজস্ব মানববাহী এয়ারশিপের জন্য দীর্ঘতম ফ্লাইট রেকর্ড হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

বাণিজ্যিক চাহিদা দ্রুত বাড়ছে

এভিআইসি জানিয়েছে, এএস৭০০ এয়ারশিপের জন্য ইতোমধ্যে ৪৪টি অর্ডার পাওয়া গেছে। প্রতিটি এয়ারশিপ পরিচালনায় গড়ে দুই থেকে তিনজন পাইলট প্রয়োজন হওয়ায় বড় পরিসরে বাণিজ্যিক কার্যক্রম চালাতে বিপুলসংখ্যক প্রশিক্ষিত পাইলট দরকার হবে।

গবেষণা প্রতিষ্ঠানের এক মুখপাত্র বলেন, বর্তমানে চীনে এয়ারশিপ থাকলেও দক্ষ অপারেটরের ঘাটতি রয়েছে। প্রথম ব্যাচের এই পাইলটরা সেই ঘাটতি পূরণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে এবং এএস৭০০-এর বাণিজ্যিক পরিচালনার ভিত্তি তৈরি করবে।

এয়ারশিপ ফ্লাইট স্কুল গড়ার পরিকল্পনা

চাহিদা বৃদ্ধির কথা বিবেচনায় নিয়ে চীন এখন দেশটির প্রথম বিশেষায়িত এয়ারশিপ ফ্লাইট স্কুল প্রতিষ্ঠার পরিকল্পনা করছে। এভিআইসি জানায়, ভবিষ্যতে— আরও বেশি পাইলট ও প্রশিক্ষক তৈরি করা হবে, নিয়োগ কার্যক্রম বাড়ানো হবে, প্রশিক্ষণ ব্যবস্থাকে আরও মানসম্মত করা হবে এবং বাজারের চাহিদার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে দক্ষ জনবল গড়ে তোলা হবে।

‘লো-অ্যাল্টিটিউড ইকোনমি’তে বড় বিনিয়োগ

চীনের বেসামরিক বিমান চলাচল প্রশাসনের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালে দেশটির লো-অ্যাল্টিটিউড অর্থনীতির বাজারমূল্য প্রায় ১ দশমিক ৫ ট্রিলিয়ন ইউয়ানে পৌঁছেছে, যা ২০৩৫ সালের মধ্যে ৩ দশমিক ৫ ট্রিলিয়ন ইউয়ান ছাড়িয়ে যেতে পারে।

এই খাতের উন্নয়নে চীন ইতোমধ্যে নীতিগত উদ্যোগ জোরদার করেছে। দেশটির শিল্প ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, ২০২৬ সালের শিল্প উন্নয়ন পরিকল্পনায় মহাকাশ প্রযুক্তি, লো-অ্যাল্টিটিউড অর্থনীতি, নতুন উপকরণ ও বায়োফার্মাসিউটিক্যালসহ ভবিষ্যতমুখী শিল্পগুলোকে অগ্রাধিকার দেওয়া হবে।

এছাড়া সম্প্রতি চীনের আইনপ্রণেতারা দেশটির বেসামরিক বিমান চলাচল আইন সংশোধন করেছেন। সংশোধিত আইনে লো-অ্যাল্টিটিউড অর্থনীতির উন্নয়ন, বিমান নিরাপত্তা এবং বেসামরিক বিমান উৎপাদন ও পরিবহন খাতের জন্য নতুন নীতিগত সহায়তা যুক্ত করা হয়েছে।

বিরল প্রজাতির সাপের সন্ধান
চীনের কুয়াংসি হুয়াপিং ন্যাশনাল নেচার রিজার্ভে বিজ্ঞানীরা অত্যন্ত বিরল প্রজাতির একটি ক্ষুদ্রাকার সাপের সন্ধান পেয়েছেন। নতুন এই প্রজাতিটি অদ্ভুত আত্মরক্ষার কৌশলের কারণে স্থানীয়ভাবে ‘দুই মাথা’ বিশিষ্ট সাপ হিসেবে পরিচিতি। সম্প্রতি আন্তর্জাতিক শ্রেণিবিন্যাস বিদ্যাসংক্রান্ত জার্নাল ‘জুসিস্টেমেটিকস অ্যান্ড ইভোলিউশন’-এ এই আবিষ্কারের তথ্য প্রকাশ করা হয়। কুয়াংসি ন্যাচারাল হিস্ট্রি মিউজিয়ামের একদল গবেষক সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে প্রায় ৭৬০ মিটার উচ্চতায় একটি বনাঞ্চলে মাঠ পর্যায়ে জরিপ চালানোর সময় সাপটির দেখা পান। পরবর্তীতে শারীরিক গঠন পর্যবেক্ষণ এবং ডিএনএ বিশ্লেষণের মাধ্যমে নতুন এ প্রজাতিটি সম্পর্কে নিশ্চিত হন গবেষকরা। গবেষণায় দেখা গেছে, নতুন আবিষ্কৃত এই সাপটি লম্বায় মাত্র ২২ সেন্টিমিটার ও এটি বিষহীন। বাদামি রঙের পিঠের ওপর সাতটি কালো ডোরাকাটা দাগ এবং আঁশের প্রান্তগুলো গাঢ় হওয়ার কারণে শরীরে একটি জালিকা সদৃশ নকশা তৈরি হয়েছে। এটি মাটির নিচে বা পাতার স্তূপের নিচে থাকতে পছন্দ করে। মূলত কেঁচো ও পোকামাকড়ের লার্ভা খেয়ে এরা জীবনধারণ করে। সাপটি অত্যন্ত শান্ত প্রকৃতির, ধীরগতিসম্পন্ন এবং প্রধানত নিশাচর। সাপটির একটি অদ্ভুত আত্মরক্ষার কৌশল রয়েছে। কোনো শিকারি প্রাণী বা বাহ্যিক বিপদের আভাস পেলে এটি নিজের শরীরকে ইংরেজি ‘আট’ সংখ্যার মতো পেঁচিয়ে ফেলে এবং তার ভোঁতা লেজটিকে মাথার মতো উঁচিয়ে ধরে। এই কৌশলের ফলে শিকারি প্রাণী বিভ্রান্ত হয়ে লেজটিকে মাথা মনে করে আক্রমণ করে, আর এই সুযোগে সাপটি রক্ষা পায়। এই আচরণের কারণেই একে ডাকনামে ‘দুই মাথা’ বিশিষ্ট সাপ বলা হচ্ছে। হুয়াপিং রিজার্ভে চলতি বছরে এটি দ্বিতীয় নতুন কোনো প্রজাতির সন্ধান। এর আগে এখান থেকে ‘হুয়াপিং লিফ লিটার টোড’ নামক এক প্রকার ব্যাঙ আবিষ্কৃত হয়েছিল, যা ছিল বিশ্বের ৯ হাজারতম নথিভুক্ত উভচর প্রজাতি। তথ্য: সিনহুয়া
বিরল প্রজাতির সাপের সন্ধান
চীনে বৈধ উদ্ভাবন পেটেন্ট ৬৩ লাখ ছাড়াল
২০২৫ সালের শেষ নাগাদ চীনে মোট ৬৩ লাখ ১৮ হাজার বৈধ উদ্ভাবন পেটেন্ট নিবন্ধিত হয়েছে, যা আগের বছরের তুলনায় ১১ দশমিক ১ শতাংশ বেশি। বৃহস্পতিবার (৭ মে) প্রকাশিত ‘চীনের মেধাস্বত্ত্ব সুরক্ষা ২০২৫’ শীর্ষক শ্বেতপত্রে এ তথ্য জানিয়েছে দেশটির জাতীয় মেধাস্বত্ত্ব প্রশাসন। প্রতিবেদন অনুযায়ী, বুদ্ধিবৃত্তিক সম্পদ সুরক্ষা ব্যবস্থাকে আরও শক্তিশালী করার ক্ষেত্রে দ্রুত এগিয়েছে চীন। বিচারিক ও প্রশাসনিক প্রয়োগ জোরদার হওয়ায় আইপি সুরক্ষায় জনসন্তুষ্টির হারও সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছেছে, যা এখন দাঁড়িয়েছে ৮২ দশমিক ৮১ পয়েন্টে। এদিকে, বিদেশে আইপি বিরোধ মোকাবিলায় সহায়তা দেওয়ার জন্য গড়ে তোলা বিশেষ প্ল্যাটফর্মও উল্লেখযোগ্য ভূমিকা রাখছে। গত বছরে এই প্ল্যাটফর্মের সহায়তায় চীনা প্রতিষ্ঠানগুলো প্রায় ২৭৫ কোটি ইউয়ান ক্ষতি পুনরুদ্ধার করতে পেরেছে। তথ্য: সিসিটিভি
চীনে বৈধ উদ্ভাবন পেটেন্ট ৬৩ লাখ ছাড়াল
ভারতের রাফায়েল ভূপাতিতে সহযোগিতার কথা স্বীকার করল চীন
২০২৫ সালে পেহেলগাম হত্যাকাণ্ড ঘিরে সংঘাতে জড়িয়ে পড়ে পাকিস্তান ও ভারত। স্বল্পমেয়াদি ওই যুদ্ধে ভারতের বিমানবাহিনীর বহরে থাকা অত্যাধুনিক রাফায়েল যুদ্ধবিমান ভূপাতিতের দাবি করেছিল ইসলামাবাদ। যুদ্ধকালীন সময় ফ্রান্সের তৈরি রাফায়েল যুদ্ধবিমান ভূপাতিত করতে পাকিস্তানকে কারিগরি সহায়তা করার কথা অবশেষে স্বীকার করেছে চীন। বৃহস্পতিবার (৭ মে) চীনের রাষ্ট্রীয় সম্প্রচার মাধ্যম সিসিটিভিকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে এ কথা স্বীকার করেন এভিয়েশন ইন্ডাস্ট্রি করপোরেশন অব চায়নার (এভিআইসি) চেংডু এয়ারক্রাফট ডিজাইন অ্যান্ড রিসার্চ ইনস্টিটিউটের প্রকৌশলী ঝাং হেং। এই প্রকৌশলী পাকিস্তানকে প্রযুক্তিগত সহায়তা প্রদানকারীদের মধ্যে অন্যতম ছিলেন। চেংডু এয়ারক্রাফট চীনের উন্নত যুদ্ধবিমান ও ড্রোনের নকশার অন্যতম প্রধান নির্মাতা। সাক্ষাৎকারে ঝাং হেং বলেন, ‘সহায়ক ঘাঁটিতে আমরা প্রায়ই যুদ্ধবিমানের উড্ডয়নের গর্জন ও বিমান হামলার সাইরেনের একটানা আর্তনাদ শুনতাম। মে মাসের বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গেই তাপমাত্রা প্রায় ৫০ ডিগ্রি সেলসিয়াসের কাছাকাছি পৌঁছে যেত। এটা আমাদের জন্য মানসিক ও শারীরিকভাবে এক চরম অগ্নিপরীক্ষা ছিল।’ রাফায়েল যুদ্ধবিমান ভূপাতিতে চীনের তৈরি জে-১০সিই যুদ্ধবিমান ব্যবহার করেছিল পাকিস্তানের বিমানবাহিনী। ঝাং হেং জানান, তার দল মূলত এই লক্ষ্য থেকেই কাজ করছে যে, ঘটনাস্থলে সহায়তা আরও কার্যকরভাবে দেওয়া যায় এবং তাদের সরঞ্জাম যেন পুরো যুদ্ধক্ষমতা অনুযায়ী সঠিকভাবে কাজ করতে পারে। তিনি বলেন, রাফায়েল ভূপাতিত করা শুধু জে-১০সিই-এর সক্ষমতার স্বীকৃতিই ছিল না; বরং রাতদিন একসেঙ্গ কাজ করার মাধ্যমে আমাদের মধ্যে যে গভীর বন্ধন তৈরি হয়েছে, এটি তারও একটি প্রমাণ। চেংডু এয়ারক্রাফটের আরেক কর্মকর্তা জু দা জে-১০সিই যুদ্ধবিমানকে ‘সন্তানের’ সঙ্গে তুলনা করেছেন। তিনি বলেন, আমরা যুদ্ধবিমানটি সন্তানের মতো লালনপালন করেছি, যত্ন নিয়েছি। অবশেষে ব্যবহারকারীর হাতে তুলে দিয়েছি। আর এটি বড় পরীক্ষার সম্মুখীন হয়েছিল। জে-১০সিই যে অসাধারণ ফলাফল অর্জন করেছে, তাতে আমরা খুব একটা অবাক হইনি। সাউথ চায়না মর্নিং পোস্টকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে জু দা আরও বলেন, আসলে, এই ফলাফল অবশ্যম্ভাবী বলেই মনে হয়েছিল। বিমানটির শুধু সঠিক সুযোগের প্রয়োজন ছিল। আর যখন সেই মুহূর্তটি এলো, এটি ঠিক তেমনই ফল দিয়েছে যেমনটা আমরা আশা করতাম। প্রতিবেদন অনুযায়ী, চীন প্রথমবারের মতো নিশ্চিত করেছে যে, গত বছর ভারতের সঙ্গে পাকিস্তানের যুদ্ধের সময় তারা ঘটনাস্থলে কারিগরি সহায়তা প্রদান করেছিল। নয়াদিল্লিতে এই যুদ্ধটি ‘অপারেশন সিঁদুর’ নামে পরিচিত। ইসলামাবাদে পরিচিত ‘অপারেশন বুনিয়ান-উন-মারসুস’ নামে। গত বছর ২২ এপ্রিল জম্মু ও কাশ্মীরের পেহেলগামে সন্ত্রাসী হামলায় ২৬ জন নিহত হওয়ার পর ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে উত্তেজনা বৃদ্ধি পায়। ওই ঘটনার জন্য পাকিস্তানকে দায়ী করে থাকে ভারত। এর জবাবে ভারত ‘অপারেশন সিঁদুর’ পরিচালনা করে, যার লক্ষ্য ছিল পাকিস্তান ও পাকিস্তান-অধিকৃত কাশ্মীরে অবস্থিত ‘সন্ত্রাসী’ নয়টি স্থান। ভারতের এই পদক্ষেপের ফলে জইশ-ই-মোহাম্মদ, লস্কর-ই-তৈবা এবং হিজবুল মুজাহিদিনসহ বিভিন্ন গোষ্ঠীর সঙ্গে যুক্ত ১০০ জনেরও বেশি ‘সন্ত্রাসী’ নিহত হয়। চীনের সামরিক ‘পরীক্ষাগার’ পাকিস্তান জে-১০সি ৪.৫ প্রজন্মের যুদ্ধবিমানের রপ্তানি সংস্করণ জে-১০সিই-কে জে-১০ সিরিজের সবচেয় উন্নত মডেল হিসেবে বিবেচনা করা হয়। চীনের বাইরে জে-১০সি-এর একমাত্র ব্যবহারকারী দেশ হলো পাকিস্তান। ২০২০ সালে বেইজিংয়ের কাছে এই যুদ্ধবিমান ৩৬টি এবং ২৫০টি পিএল-১৫ ক্ষেপণাস্ত্রের অর্ডার দিয়েছিল ইসলামাবাদ। ২০২৫ সালের জুলাই মাসে ভারতীয় সেনাবাহিনী জানায়, পাকিস্তানের সামরিক সরঞ্জামের ৮১ শতাংশই চীনে উৎপাদিত। আর চীন তার সামরিক প্রযুক্তি পরীক্ষার জন্য পাকিস্তানকে ‘জীবন্ত পরীক্ষাগার’ হিসেবে ব্যবহার করছে। স্টকহোম ইন্টারন্যাশনাল পিস রিসার্চ ইনস্টিটিউটের (এসআইপিআরআই) মতে, চীন ২০১৫ সাল থেকে পাকিস্তানের কাছে ৮ দশমিক ২ বিলিয়ন ডলার মূল্যের অস্ত্র বিক্রি করেছে। ২০২০ থেকে ২০২৪ সালের মধ্যে চীন বিশ্বের চতুর্থ বৃহত্তম অস্ত্র রপ্তানিকারক দেশ হিসেবে স্থান করে নেয়। এই রপ্তানির প্রায় দুই-তৃতীয়াংশ বা ৬৩ শতাংশ পাকিস্তানে গেছে, যা ইসলামাবাদকে চীনের সবচেয়ে বড় অস্ত্র ক্রেতায় পরিণত করেছে।
ভারতের রাফায়েল ভূপাতিতে সহযোগিতার কথা স্বীকার করল চীন
চীনের তৈরি যন্ত্রাংশেই সারানো হচ্ছে ফাস্ট টেলিস্কোপ
আধুনিক চীনের বিস্ময় বিশ্বের বৃহত্তম একক ডিশ রেডিও টেলিস্কোপে (ফাস্ট) প্রথমবারের মতো একটি গুরুত্বপূর্ণ যন্ত্রাংশ প্রতিস্থাপন করা হচ্ছে সম্পূর্ণ দেশীয় প্রযুক্তি দিয়ে। চীনা বিজ্ঞান একাডেমির জাতীয় জ্যোতির্বিজ্ঞান পর্যবেক্ষণাগার জানিয়েছে, টেলিস্কোপটিতে ব্যবহৃত ছয়টি বিশাল ইস্পাতের ক্যাবল বদলে নতুন দেশীয় ক্যাবল বসানো হচ্ছে। এসব ক্যাবলের দৈর্ঘ্য প্রায় ৪ হাজার মিটার এবং প্রতিটির ওজন ৬ টনেরও বেশি। জুনের শেষ পর্যন্ত এই প্রতিস্থাপন কাজ চলবে। ক্যাবলগুলো ফাস্ট টেলিস্কোপের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অংশ ‘ফিড কেবিন’কে ধরে রাখে এবং নিয়ন্ত্রণ করে। প্রায় ৩০ টন ওজনের কেবিনটি ছয়টি ক্যাবলের মাধ্যমে ঝুলে থাকে। প্রয়োজন অনুযায়ী সংকুচিত ও ঘুরে টেলিস্কোপের প্রতিফলক পৃষ্ঠের ওপর নির্ভুলভাবে অবস্থান নির্ধারণ করতে পারে এগুলো। ১৪০ মিটার উচ্চতায় ও প্রায় ২০৬ মিটার বিস্তৃত এলাকায় ফিড কেবিনটি চলাচল করে। প্রতিদিন ক্যাবলগুলোকে শত শতবার বাঁক নেওয়া ও চাপ সহ্য করতে হয়, তাই এগুলোকে বেশ টেকসই হতে হয়। প্রকৌশলীদের মতে, কার্যকর পরিচালনার জন্য ক্যাবলগুলোকে অন্তত পাঁচ বছর টিকে থাকতে হবে। ২০১৬ সালে ফাস্ট চালু হওয়ার পর স্টিল ক্যাবলগুলো আমদানি করা হতো। সর্বশেষ প্রতিস্থাপন করা হয়েছিল ২০২১ সালে। দেশীয় ক্যাবল ব্যবহারের আগে গবেষকরা ব্যাপক পরীক্ষা চালান। এর মধ্যে ছিল ৬২ হাজারবার পুলি অপারেশন এবং ২ লাখবার পালস ফ্যাটিগ টেস্ট। ২০২৫ সালের আগস্টে নতুন দেশীয় ক্যাবল তিন দফা পরীক্ষায় সফলভাবে উত্তীর্ণ হয়। সূত্র: সিজিটিএন
চীনের তৈরি যন্ত্রাংশেই সারানো হচ্ছে ফাস্ট টেলিস্কোপ
দক্ষিণ চীন সাগরে ফিলিপাইনকে উসকানি বন্ধের আহ্বান চীনের
দক্ষিণ চীন সাগরে চীনের সামুদ্রিক বৈজ্ঞানিক গবেষণায় ম্যানিলার বিঘ্ন ঘটানোর প্রতিক্রিয়ায় দেশটিকে অবিলম্বে অবৈধ হয়রানি, অপপ্রচার ও উসকানিমূলক কর্মকাণ্ড বন্ধের আহ্বান জানিয়েছে চীন। বৃহস্পতিবার (৭ মে) চীনের কোস্টগার্ড (সিসিজি) এই কড়া বার্তা দেয়। সিসিজির মুখপাত্র চিয়াং লুয়ে জানান, বুধবার ফিলিপাইন কোস্টগার্ডের একটি ‘আইল্যান্ডার’ বিমান উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে চীনের বৈজ্ঞানিক গবেষণা জাহাজ ‘সিয়াংইয়াংহং ৩৩’-এর খুব কাছে চলে আসে এবং কাজে বাধা দেওয়ার চেষ্টা করে। সেই সময় জাহাজটি চীনের হউথেং চিয়াও-সংলগ্ন জলসীমায় একটি বৈধ সামুদ্রিক পরিবেশগত জরিপ পরিচালনা করছিল।  মুখপাত্র আরও জানান, চীনা কোস্টগার্ড আইন ও বিধি অনুযায়ী পরিস্থিতি মোকাবিলা করেছে এবং চীনা জাহাজের নিরাপদ কার্যক্রম নিশ্চিত করতে ওই বিমানের গতিবিধি পর্যবেক্ষণ করেছে। তিনি আরও বলেন, চীন তার সার্বভৌমত্ব রক্ষায় এবং দক্ষিণ চীন সাগরে শান্তি ও স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে প্রয়োজনীয় সব ধরনের ব্যবস্থা গ্রহণ অব্যাহত রাখবে। সূত্র: সিনহুয়া, সিসিটিভি
দক্ষিণ চীন সাগরে ফিলিপাইনকে উসকানি বন্ধের আহ্বান চীনের
বিরল প্রজাতির সাপের সন্ধান
বিরল প্রজাতির সাপের সন্ধান
চীনের কুয়াংসি হুয়াপিং ন্যাশনাল নেচার রিজার্ভে বিজ্ঞানীরা অত্যন্ত বিরল প্রজাতির একটি ক্ষুদ্রাকার সাপের সন্ধান পেয়েছেন। নতুন এই প্রজাতিটি অদ্ভুত আত্মরক্ষার কৌশলের কারণে স্থানীয়ভাবে ‘দুই মাথা’ বিশিষ্ট সাপ হিসেবে পরিচিতি। সম্প্রতি আন্তর্জাতিক শ্রেণিবিন্যাস বিদ্যাসংক্রান্ত জার্নাল ‘জুসিস্টেমেটিকস অ্যান্ড ইভোলিউশন’-এ এই আবিষ্কারের তথ্য প্রকাশ করা হয়। কুয়াংসি ন্যাচারাল হিস্ট্রি মিউজিয়ামের একদল গবেষক সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে প্রায় ৭৬০ মিটার উচ্চতায় একটি বনাঞ্চলে মাঠ পর্যায়ে জরিপ চালানোর সময় সাপটির দেখা পান। পরবর্তীতে শারীরিক গঠন পর্যবেক্ষণ এবং ডিএনএ বিশ্লেষণের মাধ্যমে নতুন এ প্রজাতিটি সম্পর্কে নিশ্চিত হন গবেষকরা। গবেষণায় দেখা গেছে, নতুন আবিষ্কৃত এই সাপটি লম্বায় মাত্র ২২ সেন্টিমিটার ও এটি বিষহীন। বাদামি রঙের পিঠের ওপর সাতটি কালো ডোরাকাটা দাগ এবং আঁশের প্রান্তগুলো গাঢ় হওয়ার কারণে শরীরে একটি জালিকা সদৃশ নকশা তৈরি হয়েছে। এটি মাটির নিচে বা পাতার স্তূপের নিচে থাকতে পছন্দ করে। মূলত কেঁচো ও পোকামাকড়ের লার্ভা খেয়ে এরা জীবনধারণ করে। সাপটি অত্যন্ত শান্ত প্রকৃতির, ধীরগতিসম্পন্ন এবং প্রধানত নিশাচর। সাপটির একটি অদ্ভুত আত্মরক্ষার কৌশল রয়েছে। কোনো শিকারি প্রাণী বা বাহ্যিক বিপদের আভাস পেলে এটি নিজের শরীরকে ইংরেজি ‘আট’ সংখ্যার মতো পেঁচিয়ে ফেলে এবং তার ভোঁতা লেজটিকে মাথার মতো উঁচিয়ে ধরে। এই কৌশলের ফলে শিকারি প্রাণী বিভ্রান্ত হয়ে লেজটিকে মাথা মনে করে আক্রমণ করে, আর এই সুযোগে সাপটি রক্ষা পায়। এই আচরণের কারণেই একে ডাকনামে ‘দুই মাথা’ বিশিষ্ট সাপ বলা হচ্ছে। হুয়াপিং রিজার্ভে চলতি বছরে এটি দ্বিতীয় নতুন কোনো প্রজাতির সন্ধান। এর আগে এখান থেকে ‘হুয়াপিং লিফ লিটার টোড’ নামক এক প্রকার ব্যাঙ আবিষ্কৃত হয়েছিল, যা ছিল বিশ্বের ৯ হাজারতম নথিভুক্ত উভচর প্রজাতি। তথ্য: সিনহুয়া
চীনে বৈধ উদ্ভাবন পেটেন্ট ৬৩ লাখ ছাড়াল
চীনে বৈধ উদ্ভাবন পেটেন্ট ৬৩ লাখ ছাড়াল
২০২৫ সালের শেষ নাগাদ চীনে মোট ৬৩ লাখ ১৮ হাজার বৈধ উদ্ভাবন পেটেন্ট নিবন্ধিত হয়েছে, যা আগের বছরের তুলনায় ১১ দশমিক ১ শতাংশ বেশি। বৃহস্পতিবার (৭ মে) প্রকাশিত ‘চীনের মেধাস্বত্ত্ব সুরক্ষা ২০২৫’ শীর্ষক শ্বেতপত্রে এ তথ্য জানিয়েছে দেশটির জাতীয় মেধাস্বত্ত্ব প্রশাসন। প্রতিবেদন অনুযায়ী, বুদ্ধিবৃত্তিক সম্পদ সুরক্ষা ব্যবস্থাকে আরও শক্তিশালী করার ক্ষেত্রে দ্রুত এগিয়েছে চীন। বিচারিক ও প্রশাসনিক প্রয়োগ জোরদার হওয়ায় আইপি সুরক্ষায় জনসন্তুষ্টির হারও সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছেছে, যা এখন দাঁড়িয়েছে ৮২ দশমিক ৮১ পয়েন্টে। এদিকে, বিদেশে আইপি বিরোধ মোকাবিলায় সহায়তা দেওয়ার জন্য গড়ে তোলা বিশেষ প্ল্যাটফর্মও উল্লেখযোগ্য ভূমিকা রাখছে। গত বছরে এই প্ল্যাটফর্মের সহায়তায় চীনা প্রতিষ্ঠানগুলো প্রায় ২৭৫ কোটি ইউয়ান ক্ষতি পুনরুদ্ধার করতে পেরেছে। তথ্য: সিসিটিভি
ভারতের রাফায়েল ভূপাতিতে সহযোগিতার কথা স্বীকার করল চীন
ভারতের রাফায়েল ভূপাতিতে সহযোগিতার কথা স্বীকার করল চীন
২০২৫ সালে পেহেলগাম হত্যাকাণ্ড ঘিরে সংঘাতে জড়িয়ে পড়ে পাকিস্তান ও ভারত। স্বল্পমেয়াদি ওই যুদ্ধে ভারতের বিমানবাহিনীর বহরে থাকা অত্যাধুনিক রাফায়েল যুদ্ধবিমান ভূপাতিতের দাবি করেছিল ইসলামাবাদ। যুদ্ধকালীন সময় ফ্রান্সের তৈরি রাফায়েল যুদ্ধবিমান ভূপাতিত করতে পাকিস্তানকে কারিগরি সহায়তা করার কথা অবশেষে স্বীকার করেছে চীন। বৃহস্পতিবার (৭ মে) চীনের রাষ্ট্রীয় সম্প্রচার মাধ্যম সিসিটিভিকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে এ কথা স্বীকার করেন এভিয়েশন ইন্ডাস্ট্রি করপোরেশন অব চায়নার (এভিআইসি) চেংডু এয়ারক্রাফট ডিজাইন অ্যান্ড রিসার্চ ইনস্টিটিউটের প্রকৌশলী ঝাং হেং। এই প্রকৌশলী পাকিস্তানকে প্রযুক্তিগত সহায়তা প্রদানকারীদের মধ্যে অন্যতম ছিলেন। চেংডু এয়ারক্রাফট চীনের উন্নত যুদ্ধবিমান ও ড্রোনের নকশার অন্যতম প্রধান নির্মাতা। সাক্ষাৎকারে ঝাং হেং বলেন, ‘সহায়ক ঘাঁটিতে আমরা প্রায়ই যুদ্ধবিমানের উড্ডয়নের গর্জন ও বিমান হামলার সাইরেনের একটানা আর্তনাদ শুনতাম। মে মাসের বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গেই তাপমাত্রা প্রায় ৫০ ডিগ্রি সেলসিয়াসের কাছাকাছি পৌঁছে যেত। এটা আমাদের জন্য মানসিক ও শারীরিকভাবে এক চরম অগ্নিপরীক্ষা ছিল।’ রাফায়েল যুদ্ধবিমান ভূপাতিতে চীনের তৈরি জে-১০সিই যুদ্ধবিমান ব্যবহার করেছিল পাকিস্তানের বিমানবাহিনী। ঝাং হেং জানান, তার দল মূলত এই লক্ষ্য থেকেই কাজ করছে যে, ঘটনাস্থলে সহায়তা আরও কার্যকরভাবে দেওয়া যায় এবং তাদের সরঞ্জাম যেন পুরো যুদ্ধক্ষমতা অনুযায়ী সঠিকভাবে কাজ করতে পারে। তিনি বলেন, রাফায়েল ভূপাতিত করা শুধু জে-১০সিই-এর সক্ষমতার স্বীকৃতিই ছিল না; বরং রাতদিন একসেঙ্গ কাজ করার মাধ্যমে আমাদের মধ্যে যে গভীর বন্ধন তৈরি হয়েছে, এটি তারও একটি প্রমাণ। চেংডু এয়ারক্রাফটের আরেক কর্মকর্তা জু দা জে-১০সিই যুদ্ধবিমানকে ‘সন্তানের’ সঙ্গে তুলনা করেছেন। তিনি বলেন, আমরা যুদ্ধবিমানটি সন্তানের মতো লালনপালন করেছি, যত্ন নিয়েছি। অবশেষে ব্যবহারকারীর হাতে তুলে দিয়েছি। আর এটি বড় পরীক্ষার সম্মুখীন হয়েছিল। জে-১০সিই যে অসাধারণ ফলাফল অর্জন করেছে, তাতে আমরা খুব একটা অবাক হইনি। সাউথ চায়না মর্নিং পোস্টকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে জু দা আরও বলেন, আসলে, এই ফলাফল অবশ্যম্ভাবী বলেই মনে হয়েছিল। বিমানটির শুধু সঠিক সুযোগের প্রয়োজন ছিল। আর যখন সেই মুহূর্তটি এলো, এটি ঠিক তেমনই ফল দিয়েছে যেমনটা আমরা আশা করতাম। প্রতিবেদন অনুযায়ী, চীন প্রথমবারের মতো নিশ্চিত করেছে যে, গত বছর ভারতের সঙ্গে পাকিস্তানের যুদ্ধের সময় তারা ঘটনাস্থলে কারিগরি সহায়তা প্রদান করেছিল। নয়াদিল্লিতে এই যুদ্ধটি ‘অপারেশন সিঁদুর’ নামে পরিচিত। ইসলামাবাদে পরিচিত ‘অপারেশন বুনিয়ান-উন-মারসুস’ নামে। গত বছর ২২ এপ্রিল জম্মু ও কাশ্মীরের পেহেলগামে সন্ত্রাসী হামলায় ২৬ জন নিহত হওয়ার পর ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে উত্তেজনা বৃদ্ধি পায়। ওই ঘটনার জন্য পাকিস্তানকে দায়ী করে থাকে ভারত। এর জবাবে ভারত ‘অপারেশন সিঁদুর’ পরিচালনা করে, যার লক্ষ্য ছিল পাকিস্তান ও পাকিস্তান-অধিকৃত কাশ্মীরে অবস্থিত ‘সন্ত্রাসী’ নয়টি স্থান। ভারতের এই পদক্ষেপের ফলে জইশ-ই-মোহাম্মদ, লস্কর-ই-তৈবা এবং হিজবুল মুজাহিদিনসহ বিভিন্ন গোষ্ঠীর সঙ্গে যুক্ত ১০০ জনেরও বেশি ‘সন্ত্রাসী’ নিহত হয়। চীনের সামরিক ‘পরীক্ষাগার’ পাকিস্তান জে-১০সি ৪.৫ প্রজন্মের যুদ্ধবিমানের রপ্তানি সংস্করণ জে-১০সিই-কে জে-১০ সিরিজের সবচেয় উন্নত মডেল হিসেবে বিবেচনা করা হয়। চীনের বাইরে জে-১০সি-এর একমাত্র ব্যবহারকারী দেশ হলো পাকিস্তান। ২০২০ সালে বেইজিংয়ের কাছে এই যুদ্ধবিমান ৩৬টি এবং ২৫০টি পিএল-১৫ ক্ষেপণাস্ত্রের অর্ডার দিয়েছিল ইসলামাবাদ। ২০২৫ সালের জুলাই মাসে ভারতীয় সেনাবাহিনী জানায়, পাকিস্তানের সামরিক সরঞ্জামের ৮১ শতাংশই চীনে উৎপাদিত। আর চীন তার সামরিক প্রযুক্তি পরীক্ষার জন্য পাকিস্তানকে ‘জীবন্ত পরীক্ষাগার’ হিসেবে ব্যবহার করছে। স্টকহোম ইন্টারন্যাশনাল পিস রিসার্চ ইনস্টিটিউটের (এসআইপিআরআই) মতে, চীন ২০১৫ সাল থেকে পাকিস্তানের কাছে ৮ দশমিক ২ বিলিয়ন ডলার মূল্যের অস্ত্র বিক্রি করেছে। ২০২০ থেকে ২০২৪ সালের মধ্যে চীন বিশ্বের চতুর্থ বৃহত্তম অস্ত্র রপ্তানিকারক দেশ হিসেবে স্থান করে নেয়। এই রপ্তানির প্রায় দুই-তৃতীয়াংশ বা ৬৩ শতাংশ পাকিস্তানে গেছে, যা ইসলামাবাদকে চীনের সবচেয়ে বড় অস্ত্র ক্রেতায় পরিণত করেছে।
চীনের তৈরি যন্ত্রাংশেই সারানো হচ্ছে ফাস্ট টেলিস্কোপ
চীনের তৈরি যন্ত্রাংশেই সারানো হচ্ছে ফাস্ট টেলিস্কোপ
আধুনিক চীনের বিস্ময় বিশ্বের বৃহত্তম একক ডিশ রেডিও টেলিস্কোপে (ফাস্ট) প্রথমবারের মতো একটি গুরুত্বপূর্ণ যন্ত্রাংশ প্রতিস্থাপন করা হচ্ছে সম্পূর্ণ দেশীয় প্রযুক্তি দিয়ে। চীনা বিজ্ঞান একাডেমির জাতীয় জ্যোতির্বিজ্ঞান পর্যবেক্ষণাগার জানিয়েছে, টেলিস্কোপটিতে ব্যবহৃত ছয়টি বিশাল ইস্পাতের ক্যাবল বদলে নতুন দেশীয় ক্যাবল বসানো হচ্ছে। এসব ক্যাবলের দৈর্ঘ্য প্রায় ৪ হাজার মিটার এবং প্রতিটির ওজন ৬ টনেরও বেশি। জুনের শেষ পর্যন্ত এই প্রতিস্থাপন কাজ চলবে। ক্যাবলগুলো ফাস্ট টেলিস্কোপের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অংশ ‘ফিড কেবিন’কে ধরে রাখে এবং নিয়ন্ত্রণ করে। প্রায় ৩০ টন ওজনের কেবিনটি ছয়টি ক্যাবলের মাধ্যমে ঝুলে থাকে। প্রয়োজন অনুযায়ী সংকুচিত ও ঘুরে টেলিস্কোপের প্রতিফলক পৃষ্ঠের ওপর নির্ভুলভাবে অবস্থান নির্ধারণ করতে পারে এগুলো। ১৪০ মিটার উচ্চতায় ও প্রায় ২০৬ মিটার বিস্তৃত এলাকায় ফিড কেবিনটি চলাচল করে। প্রতিদিন ক্যাবলগুলোকে শত শতবার বাঁক নেওয়া ও চাপ সহ্য করতে হয়, তাই এগুলোকে বেশ টেকসই হতে হয়। প্রকৌশলীদের মতে, কার্যকর পরিচালনার জন্য ক্যাবলগুলোকে অন্তত পাঁচ বছর টিকে থাকতে হবে। ২০১৬ সালে ফাস্ট চালু হওয়ার পর স্টিল ক্যাবলগুলো আমদানি করা হতো। সর্বশেষ প্রতিস্থাপন করা হয়েছিল ২০২১ সালে। দেশীয় ক্যাবল ব্যবহারের আগে গবেষকরা ব্যাপক পরীক্ষা চালান। এর মধ্যে ছিল ৬২ হাজারবার পুলি অপারেশন এবং ২ লাখবার পালস ফ্যাটিগ টেস্ট। ২০২৫ সালের আগস্টে নতুন দেশীয় ক্যাবল তিন দফা পরীক্ষায় সফলভাবে উত্তীর্ণ হয়। সূত্র: সিজিটিএন