
বেইজিংয়ে এক জরুরি বৈঠকে মিলিত হয়েছেন ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি ও চীনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ওয়াং ই। বুধবার (৬ মে) আরাঘচির এক দিনের এই সফরটি আন্তর্জাতিক মহলে বেশ গুরুত্ব পাচ্ছে। কারণ আগামী ১৪ ও ১৫ মে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বেইজিং সফরে যাচ্ছেন। ট্রাম্প ও শি জিনপিংয়ের বৈঠকের ঠিক এক সপ্তাহ আগে এই বৈঠক অুষ্ঠিত হলো।
চীনের সংবাদ সংস্থা সিনহুয়া এক প্রতিবেদনে এই বৈঠকের তথ্য নিশ্চিত করেছে। তবে ওই প্রতিবেদনে বিস্তারিত কোনো তথ্য জানানো হয়নি।
সংবাদমাধ্যম আলজাজিরার খবরে বলা হয়েছে, বৈঠকের মূল লক্ষ্য হলো ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে চলমান উত্তেজনা প্রশমন করা। পাশাপাশি বেইজিং-তেহরানের দ্বিপাক্ষিক স্বার্থ রক্ষা করা। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরান ও যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর আরাঘচির এটিই প্রথম চীন সফর।
এদিকে বার্তা সংস্থা রয়টার্স চীন ও ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রীরা বেইজিংয়ে বৈঠকে বসেছেন বলে নিশ্চিত করেছে। বৈঠকে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক ছাড়াও আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক পরিস্থিতি নিয়ে তাদের আলোচনা করার কথা রয়েছে।
বুধবার নিজ টেলিগ্রাম চ্যানেলে এ ছবি প্রকাশ করেন ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি। ছবিতে বেইজিংয়ে চীনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ওয়াং ই-এর সঙ্গে তাকে কুশল বিনিময় করতে দেখা যায়।
ইরানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের যৌথ হামলার পর হরমুজ প্রণালি বন্ধ করে দেয় তেহরান। এতে বিশ্বজুড়ে তেল ও গ্যাসের সরবরাহ বাধাগ্রস্ত হয়। ফলে জ্বালানি ও সারের দাম বাড়তে থাকে। বিশ্ব অর্থনীতিতে তেলের দাম বৃদ্ধির বড় ধরনের প্রভাব দেখা দেয়। এপ্রিলে যুদ্ধবিরতি হলেও যুক্তরাষ্ট্র পাল্টা পদক্ষেপ হিসেবে ইরানের বন্দরগুলোতে অবরোধ ঘোষণা করে। এই পরিস্থিতিতে বেইজিং চায় হরমুজ যেন পুনরায় চালু হয়। যদিও চীন বরাবরই ইরানের বন্দরে মার্কিন অবরোধের সমালোচনা করে আসছে, তবে বর্তমান পরিস্থিতিতে তেহরানের জলপথ বন্ধ রাখার সিদ্ধান্তে বেইজিং কিছুটা অস্বস্তিতে রয়েছে।
আল জাজিরার প্রতিবেদনের তথ্যমতে, আরাঘচি ও ওয়াং-এর আলোচনায় দুটি বিষয় প্রাধান্য পাচ্ছে—বিদ্যমান যুদ্ধবিরতি বজায় রাখা এবং হরমুজ প্রণালি খুলে দেওয়া। ইরান চাচ্ছে জাতিসংঘে চীনের সমর্থন, যাতে প্রণালি বন্ধের কারণে তাদের ওপর নতুন কোনো নিষেধাজ্ঞা না আসে।

অন্যদিকে, ট্রাম্পের সঙ্গে বৈঠকের আগে চীন কোনো বড় ধরনের ঝুঁকি নিতে চাচ্ছে না। বেইজিং চায় ইরান যেন এমন কোনো কাজ না করে যাতে ট্রাম্প-শি বৈঠক ক্ষতিগ্রস্ত হয়। অন্যদিকে তেহরান জানতে চায়, ট্রাম্পের সঙ্গে বৈঠকে চীন তাদের স্বার্থ রক্ষায় কতটা অনড় থাকবে।
এদিকে এক ঘোষণায় ডোনাল্ড ট্রাম্প জানিয়েছেন, হরমুজে আটকে পড়া জাহাজ উদ্ধারে মার্কিন সামরিক অভিযান আপাতত স্থগিত রাখা হয়েছে। পাকিস্তানসহ কয়েকটি দেশের অনুরোধে এবং ইরানের সঙ্গে শান্তি আলোচনার উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি হওয়ায় তিনি এই সিদ্ধান্ত নিয়েছেন বলে দাবি জানিয়েছেন তিনি।




