এসএসসি পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁসের ঘটনায় শিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক মিলনকে খোঁচা দিয়ে ফেসবুকে একটি পোস্ট করেছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) উত্তরাঞ্চলের মুখ্য সমন্বয়ক সারজিস আলম।
শনিবার (২৫ এপ্রিল) বিকেলে দেওয়া পোস্টে তিনি লিখেছেন, ‘নকল আর হবে না! কিন্তু পরীক্ষার আগের রাতে প্রশ্ন পাওয়া যাবে।’
ফেসবুক পোস্টের কমেন্টে একটি লিংক শেয়ার করে সারজিস আলম আরও লিখেছেন, পরীক্ষার আগের রাতে টেলিগ্রাম গ্রুপে টাকার বিনিময়ে প্রশ্ন পাওয়া যাচ্ছে!
এর আগে এসএসসি পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁসের তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়ে এ ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত এবং জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়ে বিবৃবিতে দেয় জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)।
বিবৃতিতে বলা হয়, জাতীয় গণমাধ্যম ‘সময় টেলিভিশন’-এর একটি প্রতিবেদনের মাধ্যমে আমরা অবগত হয়েছি যে, এসএসসি পরীক্ষা ২০২৬-এর প্রশ্নপত্র প্রতারক চক্রের মাধ্যমে লাগামহীনভাবে অনলাইনে ফাঁস হয়েছে, যেই বিষয়ে দায়িত্বশীলদের তরফ থেকে এখন পর্যন্ত কোনো তৎপরতা তৈরি হয়নি। এই ঘটনা শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের চরম দায়িত্বহীনতাকেই স্পষ্ট করে। এনসিপি ওই ঘটনার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাচ্ছে।
‘আমরা লক্ষ্য করছি, শিক্ষামন্ত্রী শিক্ষা ব্যবস্থার উন্নয়ন এবং শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের অধিকার নিশ্চিতকরণের চেয়ে পরীক্ষার হল তদারকিকেই বেশি গুরুত্ব দিচ্ছেন। দিনরাত আমরা নকল রোধের বক্তব্য শুনছি, অথচ প্রশ্নফাঁসের মতো ভয়াবহ ঘটনা ঘটে চললেও সেদিকে মন্ত্রণালয়ের কোনো ভ্রুক্ষেপ নেই। গণমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, গত ২০ তারিখ থেকে এই প্রশ্নফাঁস শুরু হয়েছে অথচ দায়িত্বশীল মহল থেকে এ বিষয়ে কোনো কার্যকর পদক্ষেপ না থাকায় সরকারের এ ধরনের দায়িত্বহীনতা শিক্ষা ব্যবস্থা ধ্বংসের অন্যতম কারণ হয়ে দাঁড়াবে।’
এনসিপি আরও জানায়, পরীক্ষার হলে তদারকির জন্য শিক্ষক ও পরিদর্শকরাই যথেষ্ট। মন্ত্রীর কাজ পরীক্ষার হল ঘুরে ঘুরে রিলস বানানো নয়, বরং বরং মন্ত্রণালয়ের প্রশাসনিক তদারকিই তার প্রধান দায়িত্ব। প্রশ্নফাঁসের মতো ঘটনা প্রমাণ করে এ ব্যাপারে মন্ত্রণালয়ের উদাসীনতা রয়েছে। মন্ত্রী ও মন্ত্রণালয়ের অবহেলায় প্রশ্নফাঁসের মাধ্যমে শিক্ষাব্যবস্থার অপূরণীয় ক্ষতি হচ্ছে, যা কোনোভাবেই কাম্য নয় এবং প্রশ্নফাঁসের বিষয়টির সুরাহা না করে এভাবে পরীক্ষা চালিয়ে যাওয়া সমীচীন হবে না।
এ অবস্থায় এই ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত এবং জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানাচ্ছে জাতীয় নাগরিক পার্টি।




