আন্তর্জাতিক শ্রমিক দিবস উপলক্ষে রাজধানীতে শ্রমিক সমাবেশ করবে বিএনপি। এই সমাবেশে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন দলের চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। সরকার গঠনের পর রাজপথে এটিই হতে যাচ্ছে ক্ষমতাসীন দল বিএনপির প্রথম বড় ধরনের শক্তি প্রদর্শন। দেশে ফেরার পর নির্বাচনি প্রচারণায় অংশ নিলেও দীর্ঘ ১৭ বছর পর বড় ধরনের জনসভায় উপস্থিত থাকবেন তিনি। জাতির উদ্দেশে গুরুত্বপূর্ণ বার্তা দেবেন দেশের বর্তমান প্রধানমন্ত্রী।
সমাবেশ সফল করতে প্রস্তুতি কমিটির প্রধান ও প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা নজরুল ইসলাম খান গত দুই দিন ধরে দফায় দফায় বৈঠক করেছেন। এসব বৈঠকে বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব ও প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী, শ্রমিক দলের সমন্বয়কারী সংসদ সদস্য শামছুর রহমান শিমুল বিশ্বাস, শ্রমিক দলের সভাপতি আনোয়ার হোসেন ও সাধারণ সম্পাদক নুরুল ইসলাম খানসহ শ্রমিক নেতারা উপস্থিত ছিলেন।
বৈঠক শেষে গতকাল শুক্রবার নয়াপল্টনে সংবাদ সম্মেলনে নজরুল ইসলাম খান বলেন, শ্রমজীবী কর্মজীবী মানুষের সবচেয়ে গৌরবের দিন পহেলা মে, মহান মে দিবস। এই উপলক্ষে ঢাকায় শ্রমিক সমাবেশ করব। সামাবেশে প্রধান অতিথি হিসেবে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান উপস্থিত থাকবেন। আমরা আশা করছি, এটি একটি বিশাল শ্রমিক সমাবেশ হবে।
নজরুল ইসলাম খান জানান, শ্রমিক সমাবেশটি ১ মে দুপুর আড়াইটায় নয়াপল্টনে কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে অনুষ্ঠিত হবে। সমাবেশে সভাপতিত্ব করবেন আনোয়ার হোসেন। মে দিবসের এই সমাবেশ সফল করতে গণমাধ্যমের সাংবাদিকদের সহযোগিতা চান তিনি।
এদিকে সমাবেশ সফল ও লাখো মানুষের উপস্থিতি নিশ্চিত করতে শনিবার (২৫ এপ্রিল) বেলা ১১টায় নয়াপল্টনে যৌথ সভা ডেকেছে বিএনপি। সভায় বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভীসহ দলের যুগ্ম মহাসচিব, অঙ্গসহযোগী সংগঠনের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকসহ বিএনপির ঢাকা বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদকরা উপস্থিত থাকবেন।
বিএনপির একাধিক স্থায়ী কমিটির সদস্যদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, সমাবেশে বিএনপি চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান নির্বাচনি ইশতেহারে শ্রমিকদের দেওয়া প্রতিশ্রুতি অক্ষরে অক্ষরে বাস্তবায়নের আশ্বাস দেবেন। পাশাপাশি চলমান জ্বালানি সংকট থেকে উত্তরণের উপায় তুলে ধরে জাতির উদ্দেশে নতুন বার্তা দেবেন।
জানা গেছে, সমাবেশে ঢাকার পাশের নরসিংদী, টাঙ্গাইল, সাভার, গাজীপুর থেকেও বিপুলসংখ্যক লোক উপস্থিত হবেন। শ্রমিক দলের পাশাপাশি বিএনপির সব সংগঠনের নেতাকর্মীরা উপস্থিত থেকে শক্তির জানান দেবেন। সরকার গঠনের পর আনুষ্ঠানিকভাবে এটিই বিএনপির প্রথম বড় সমাবেশ। তাই ব্যাপক আকারে প্রস্তুতিও চলছে।
দলীয় সূত্রে জানা গেছে, সমাবেশ থেকে বিরোধীদের উদ্দেশে কঠোর বার্তা দেওয়া হতে পারে এবং প্রয়োজন হলে রাজপথে থাকার ঘোষণাও আসতে পারে। সরকারের বিরুদ্ধে অব্যাহত অপপ্রচার ও গুজব প্রতিরোধে প্রয়োজনে কঠোর বার্তা দেওয়া হবে। এ ছাড়া বিরোধী দলের মিথ্যাচার ও গুপ্ত রাজনীতির বিষয়ে দেশবাসীকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানানো হবে।
সমাবেশের প্রস্তুতির বিষয়ে জানতে চাইলে বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী এশিয়া পোস্টকে বলেন, ‘এই দিবসটি (আন্তর্জাতিক শ্রমিক দিবস) শ্রমজীবী মানুষকে উদ্দীপ্ত করে। অধিকারহারা মানুষ মহান মে দিবসে উদ্দীপ্ত হয়। আমরা আশা করছি, জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের পহেলা মের সমাবেশটি একটি ঐতিহাসিক সমাবেশে পরিণত হবে। সমাবেশটি সবদিক থেকে যাতে সফল হয়, সে জন্য ব্যাপক প্রস্তুতি গ্রহণ করেছে জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দল।’
তিনি আরও বলেন, ‘পহেলা মে যে বৃহৎ কর্মসূচি, সেটি সম্পন্ন করার জন্য জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দল যে প্রস্তুতি সভাগুলো করছে, তা অব্যাহত থাকবে। আমরা আশা করছি, আগামী পহেলা মে জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের সমাবেশটি একটি ঐতিহাসিক সমাবেশে পরিণত হবে।’
শ্রমিক দলের কেন্দ্রীয় প্রচার সম্পাদক মঞ্জুরুল ইসলাম মঞ্জু এশিয়া পোস্টকে বলেন, ‘গত বছরও আমরা শ্রমিক সমাবেশ করেছি। সেই সমাবেশে আমাদের চেয়ারম্যান ভার্চুয়ালি বক্তব্য রেখেছিলেন। এবার তিনি উপস্থিত থেকে প্রধান অতিথির বক্তব্য দেবেন। তাই আমাদের প্রস্তুতিও গতবারের চেয়ে অনেক বেশি। এবারের সমাবেশ ঐতিহাসিক হবে এবং সর্বকালের সব রেকর্ড ভেঙে জনসমুদ্রে পরিণত হবে।’




