ঢাকা শুক্রবার, ১২ জুন ২০২৬, ২৯ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩
নির্বাচন সর্বশেষ
Live Icon ●LIVE

‘ফাঁসির মঞ্চ’ থেকে সংসদে

এশিয়া পোস্ট নিউজ

  ১৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ১৬:১১
লুৎফুজ্জামান বাবর, আজহারুল ইসলাম ও আবদুস সালাম পিন্টু। ছবি : সংগৃহীত

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে দেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে একটি ব্যতিক্রমী ঘটনা ঘটেছে। এমন তিন প্রার্থী সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছেন, যারা গত সরকারের আমলে দীর্ঘ সময় কারাগারে ছিলেন এবং পৃথক মামলায় মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত হয়েছিলেন। রাজনৈতিক অস্থিরতা ও আন্দোলন-পরবর্তী পরিবর্তিত পরিস্থিতিতে তারা মুক্তি পান এবং এবার ভোটের মাঠে অংশ নিয়ে জয় ছিনিয়ে আনেন।

পরিবর্তন অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন

২০২৪ সালের ৫ আগস্ট সরকার পরিবর্তনের পর তাদের মামলাগুলো নতুন করে আইনি পর্যালোচনার আওতায় আসে। পরবর্তীতে আদালতের রায়ে তারা খালাস পান এবং কারাগার থেকে মুক্তি লাভ করেন। এরপর নিজ নিজ এলাকায় সক্রিয় রাজনীতিতে ফিরে যান এবং নির্বাচনে প্রার্থী হন। ভোটাররা তাদের বিপুল ভোটে বিজয়ী করে সংসদে পাঠিয়েছেন।

নেত্রকোনা ৪ আসনে লুৎফুজ্জামান বাবর

লুৎফুজ্জামান বাবর দীর্ঘ ১৮ বছর কারাগারে ছিলেন। ২০০৪ সালের ২১ আগস্ট ঢাকায় আওয়ামী লীগের সমাবেশে গ্রেনেড হামলার মামলায় তাকে ২০০৭ সালে গ্রেপ্তার করা হয়। পরবর্তী সময়ে ওই মামলায় তার বিরুদ্ধে মৃত্যুদণ্ডের রায় ঘোষণা করা হয়। দীর্ঘ কারাবাসের পর রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর তিনি মুক্তি পান।

কারামুক্তির পর নিজ এলাকা নেত্রকোনায় ফিরে সাংগঠনিক কর্মকাণ্ডে যুক্ত হন। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপির প্রতীক ধানের শীষ নিয়ে নেত্রকোনা ৪ (মোহনগঞ্জ, মদন, খালিয়াজুরি) আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন। চূড়ান্ত ফলাফলে নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বীর চেয়ে এক লাখ ২০ হাজারের বেশি ভোট পেয়ে বিজয়ী হন। স্থানীয় পর্যবেক্ষকদের মতে, দীর্ঘ কারাবাস ও রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট তার পক্ষে জনমত গঠনে ভূমিকা রেখেছে।

টাঙ্গাইল ২ আসনে আবদুস সালাম পিন্টু

আবদুস সালাম পিন্টু একই গ্রেনেড হামলা মামলায় মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত ছিলেন। প্রায় ১৭ বছর কারাগারে কাটানোর পর ২০২৪ সালের ২৪ ডিসেম্বর তিনি মুক্তি পান। মুক্তির পর নিজ জেলা টাঙ্গাইলে ফিরে রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড শুরু করেন।

টাঙ্গাইল ২ (গোপালপুর-ভূঞাপুর) আসনে ধানের শীষ প্রতীক নিয়ে নির্বাচনে অংশ নেন তিনি। নির্বাচনে প্রায় দুই লাখ ভোট পেয়ে জয়ী হন। স্থানীয় রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, তার পক্ষে সহানুভূতিশীল ভোট ও দলীয় সংগঠনের সক্রিয়তা বড় ভূমিকা রেখেছে।

রংপুর ২ আসনে এটিএম আজহারুল ইসলাম

এটিএম আজহারুল ইসলাম ২০১২ সাল থেকে এক যুগের বেশি সময় কারাবন্দি ছিলেন। মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় তার বিরুদ্ধে মৃত্যুদণ্ডের রায় হয়েছিল। ২০২৪ সালের ২৮ মে তিনি কারাগার থেকে মুক্তি পান।

রংপুর ২ (তারাগঞ্জ-বদরগঞ্জ) আসনে জামায়াতের প্রার্থী হিসেবে নির্বাচনে অংশ নিয়ে বিপুল ভোটে জয়লাভ করেন। এ আসনে তিনি বিএনপি সমর্থিত প্রার্থীকে পরাজিত করেন। তার বিজয়কে অনেকেই উত্তরাঞ্চলের রাজনীতিতে নতুন সমীকরণ হিসেবে দেখছেন।

এই তিন নেতার নির্বাচনী সাফল্য দেশের সাম্প্রতিক রাজনৈতিক পরিবর্তনের প্রতিফলন হিসেবে দেখা হচ্ছে। একসময় মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত হিসেবে কারাগারে থাকা ব্যক্তিদের জনগণ ভোটের মাধ্যমে সংসদে পাঠিয়েছে— এটি দেশের রাজনীতিতে একটি গুরুত্বপূর্ণ বার্তা বহন করছে।

বিশ্লেষকদের মতে, এই ফলাফল শুধু ব্যক্তিগত প্রত্যাবর্তনের গল্প নয়; বরং এটি সামগ্রিক রাজনৈতিক পুনর্বিন্যাসের অংশ। দীর্ঘ কারাবাস, বিতর্কিত বিচারপ্রক্রিয়া নিয়ে জনমত এবং সাম্প্রতিক আন্দোলনের প্রভাব সব মিলিয়ে ভোটাররা ভিন্নধর্মী সিদ্ধান্ত দিয়েছেন।

সংসদের নতুন অধিবেশনে তাদের ভূমিকা কী হবে, তারা নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি কতটা বাস্তবায়ন করতে পারবেন; এখন সে দিকেই নজর রাজনৈতিক মহলের। তবে একটি বিষয় স্পষ্ট, ফাঁসির দণ্ড থেকে ফিরে আসা এই তিন নেতাকে জনগণ এবার গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় নতুন দায়িত্ব দিয়েছে।

জুলাই সনদ ও অভ্যুত্থানের সঙ্গে গাদ্দারি করল বিএনপি: সারজিস
জুলাই সনদ ও অভ্যুত্থানের সঙ্গে গাদ্দারি করল বিএনপি বলে মন্তব্য করেছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) উত্তরাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক সারজিস আলম। মঙ্গলবার (১৭ ফেব্রুয়ারি) বেলা সাড়ে ১১টার দিকে এক ফেসবুক পোস্টে এমন মন্তব্য করেন তিনি। সারজিস আলম ওই পোস্টে উল্লেখ করেছেন, ‘জুলাই সনদ ও অভ্যুত্থানের আকাঙ্ক্ষার সাথে গাদ্দারি করে বিএনপি সরকারের যাত্রা শুরু হলো!’   এদিকে নবনির্বাচিত সংসদ সদস্য হিসেবে শপথ নিলেও সংবিধান সংস্কার পরিষদের সদস্য হিসেবে শপথ নেয়নি বিএনপি। মঙ্গলবার (১৭ ফেব্রুয়ারি) সকালে সংসদ ভবনের শপথ কক্ষে দলটির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমদ এই তথ্য জানান। তিনি বলেন, আমরা কেউ সংবিধান সংস্কার পরিষদের সদস্য নির্বাচিত হইনি এবং সংবিধানে এখনও এটা ধারণ করা হয়নি। গণভোটের রায় অনুযায়ী সংবিধান সংস্কার পরিষদ গঠিত হলে সেটা সংবিধানে আগে ধারণ করতে হবে এবং সংবিধান সংস্কার পরিষদের সদস্যকে কে শপথ নেওয়াবেন সেটার বিধান করতে হবে। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপি জোট ২১২টি এবং জামায়াত জোট পেয়েছে ৭৭টি আসন। দলভিত্তিক হিসেবে—বিএনপি ২০৯টি আসনে, জামায়াত ৬৮টি, এনসিপি ৬টি, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস দুটি, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ, গণঅধিকার পরিষদ, বিজেপি, খেলাফত মজলিস, গণসংহতি আন্দোলন একটি করে আসনে জয়লাভ করেছে। এ ছাড়া স্বতন্ত্র প্রার্থীরা ৭টি আসনে জয়লাভ করেছে। সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জনকারী বিএনপি ধানের শীষ প্রতীকে ৪৯ দশমিক ৯৭ শতাংশ ভোট পেয়েছে। অপরদিকে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ আসন পাওয়া দল বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী দাঁড়িপাল্লা প্রতীকে ৩১ দশমিক ৭৬ শতাংশ ভোট পেয়েছে। অন্যান্য দলের মধ্যে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) শাপলা কলি প্রতীকে ৩২টি আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে ৩ দশমিক ৫ শতাংশ ভোট পেয়েছে।    
জুলাই সনদ ও অভ্যুত্থানের সঙ্গে গাদ্দারি করল বিএনপি: সারজিস
সংবিধান সংস্কার পরিষদের শপথ নেয়নি বিএনপি, নেপথ্যে যেসব কারণ 
নবনির্বাচিত সংসদ সদস্য হিসেবে শপথ নিলেও সংবিধান সংস্কার পরিষদের সদস্য হিসেবে শপথ নেয়নি বিএনপি। মঙ্গলবার (১৭ ফেব্রুয়ারি) সকালে সংসদ ভবনের শপথ কক্ষে দলটির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমদ এর কারণ ব্যাখা করেন। তিনি বলেন, আমরা কেউ সংবিধান সংস্কার পরিষদের সদস্য নির্বাচিত হইনি এবং সংবিধানে এখনও এটা ধারণ করা হয়নি। গণভোটের রায় অনুযায়ী সংবিধান সংস্কার পরিষদ গঠিত হলে সেটা সংবিধানে আগে ধারণ করতে হবে। এবং সংবিধান সংস্কার পরিষদের সদস্যকে কে শপথ নেওয়াবেন সেটার বিধান করতে হবে। তিনি আরও বলেন, এমন ফরম সংবিধানের তৃতীয় তপশিলে আসবে। সেগুলো সাংবিধানিকভাবে সংসদে গৃহীত হওয়ার পরে সংবিধান সংস্কার পরিষদের সদস্যদের শপথ নেওয়ার বিধান করা যাবে। আমরা সংবিধান মেনে এ পর্যন্ত চলেছি। আশা করি সামনের দিনেও চলবো। সালাহউদ্দিন আহমদ দলীয় সদস্যদের উদ্দেশে বলেন, ‘আমি মাননীয় চেয়ারম্যানের নির্দেশে ওনার উপস্থিতিতে আমাদের দলীয় সিদ্ধান্ত জানালাম।’ ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপি জোট ২১২টি এবং জামায়াত জোট পেয়েছে ৭৭টি আসন। দলভিত্তিক হিসেবে—বিএনপি ২০৯টি আসনে, জামায়াত ৬৮টি, এনসিপি ৬টি, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস দুটি, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ, গণঅধিকার পরিষদ, বিজেপি, খেলাফত মজলিস, গণসংহতি আন্দোলন একটি করে আসনে জয়লাভ করেছে। এ ছাড়া স্বতন্ত্র প্রার্থীরা ৭টি আসনে জয়লাভ করেছে। সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জনকারী বিএনপি ধানের শীষ প্রতীকে ৪৯ দশমিক ৯৭ শতাংশ ভোট পেয়েছে। অপরদিকে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ আসন পাওয়া দল বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী দাঁড়িপাল্লা প্রতীকে ৩১ দশমিক ৭৬ শতাংশ ভোট পেয়েছে। অন্যান্য দলের মধ্যে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) শাপলা কলি প্রতীকে ৩২টি আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে ৩ দশমিক ৫ শতাংশ ভোট পেয়েছে।  
সংবিধান সংস্কার পরিষদের শপথ নেয়নি বিএনপি, নেপথ্যে যেসব কারণ 
শপথ নিলেন বিএনপির নবনির্বাচিত এমপিরা
প্রথম ধাপে বিএনপির নবনির্বাচিত সংসদ সদস্যরা শপথ নিয়েছেন।  মঙ্গলবার (১৭ ফেব্রুয়ারি) বেলা পৌনে ১১টায় সংসদ সচিবালয়ের শপথ কক্ষে প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এ এম এম নাসির উদ্দিন তাদের শপথ বাক্য পাঠ করান।  সংখ্যাগরিষ্ঠ দল বিএনপির সংসদ সদস্যরা প্রথমে শপথ নেন। কিছুক্ষণের মধ্যে জামায়াতে ইসলামী ও পরবর্তীতে জাতীয় নাগরিক পার্টিসহ অন্য দল, স্বতন্ত্র সংসদ সদস্যরা শপথ নেবেন। এদিকে, সংসদ সদস্য হিসেবে শপথ নিলেও সংবিধান সংস্কার পরিষদের সদস্য হিসেবে শপথ নেয়নি বিএনপি। এ নিয়ে নতুন শঙ্কা তৈরি হয়েছে।  জামায়াতের নায়েবে আমির সৈয়দ আব্দুল্লাহ মুহাম্মদ তাহের জানান, বিএনপির নবনির্বাচিত সংসদ সদস্যরা সংবিধান সংস্কার পরিষদের সদস্য হিসেবে শপথ না নিলে জামায়াতে ইসলামীর সদস্যরা কোনো শপথই নেবেন না। নির্বাচনে বিএনপি জোট ২১২টি এবং জামায়াত জোট পেয়েছে ৭৭টি আসন। দলভিত্তিক হিসেবে—বিএনপি ২০৯টি আসনে, জামায়াত ৬৮টি, এনসিপি ৬টি, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস দুটি, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ, গণঅধিকার পরিষদ, বিজেপি, খেলাফত মজলিস, গণসংহতি আন্দোলন একটি করে আসনে জয়লাভ করেছে। এ ছাড়া স্বতন্ত্র প্রার্থীরা ৭টি আসনে জয়লাভ করেছে। সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জনকারী বিএনপি ধানের শীষ প্রতীকে ৪৯ দশমিক ৯৭ শতাংশ ভোট পেয়েছে। অপরদিকে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ আসন পাওয়া দল বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী দাঁড়িপাল্লা প্রতীকে ৩১ দশমিক ৭৬ শতাংশ ভোট পেয়েছে। অন্যান্য দলের মধ্যে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) শাপলা কলি প্রতীকে ৩২টি আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে ৩ দশমিক ০৫ শতাংশ ভোট পেয়েছে।
শপথ নিলেন বিএনপির নবনির্বাচিত এমপিরা
সংসদ ভবন এলাকায় ১২ প্লাটুন বিজিবি মোতায়েন
নবনির্বাচিত সংসদ সদস্য ও মন্ত্রিসভার শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠানের নিরাপত্তা নিশ্চিতে জাতীয় সংসদ ভবন এলাকায় ১২ প্লাটুন বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) মোতায়েন করা হয়েছে। মঙ্গলবার (১৭ ফেব্রুয়ারি) বিজিবির পক্ষ থেকে পাঠানো এক বার্তায় এ তথ্য জানানো হয়েছে। বিজিবি জানায়, নবনির্বাচিত সংসদ সদস্য ও মন্ত্রিসভার শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠানের নিরাপত্তা নিশ্চিতে জাতীয় সংসদ ভবন এলাকায় ১২ প্লাটুন বিজিবি মোতায়েন করা হয়েছে। এদিকে শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠান উপলক্ষে রাজধানীর জাতীয় সংসদ ভবন এলাকায় বিশেষ ট্রাফিক নির্দেশনা দিয়েছে ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি)। আজ সকাল ৮টা থেকে সন্ধ্যা ৭টা পর্যন্ত যানজট এড়াতে মানিক মিয়া অ্যাভিনিউ ও লেক রোড এড়িয়ে চলতে বলা হয়েছে।  শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠানে প্রায় ১ হাজার ২০০ জন দেশি-বিদেশি অতিথি অংশগ্রহণ করার কথা রয়েছে, যার মধ্যে ভারত, পাকিস্তানসহ দক্ষিণ এশিয়ার বিভিন্ন রাষ্ট্রের প্রতিনিধি রয়েছেন।  
সংসদ ভবন এলাকায় ১২ প্লাটুন বিজিবি মোতায়েন
সংসদ ভবনে আসছেন নবনির্বাচিত এমপিরা
শপথ নিতে সংসদ ভবন প্রাঙ্গণে আসতে শুরু করেছেন নবনির্বাচিত সংসদ সদস্যরা। মঙ্গলবার (১৭ ফেব্রুয়ারি) সকাল ৯টা থেকে সংসদ ভবনের গেটে নবনির্বাচিত এমপিদের গাড়ি প্রবেশ করতে দেখা গেছে।  শপথ অনুষ্ঠান উপলক্ষে সংসদ ও তার চারপাশের ব্যাপক নিরাপত্তাব্যবস্থা দেখা গেছে। যারা নির্বাচিত হয়েছেন, তাদের জাতীয় পরিচয়পত্র দেখা হচ্ছে। এ ছাড়া সংসদ ভবনের আশপাশে যান চলাচলের নির্দেশনা দিয়েছে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ (ডিএমপি)। জাতীয় সংসদ সচিবালয়ের এক স্মারকপত্র থেকে জানা গেছে, জাতীয় সংসদ সচিবালয়ের শপথগ্রহণ কক্ষে মঙ্গলবার (১৭ ফেব্রুয়ারি) সকাল ১০টায় নবনির্বাচিত সংসদ সদস্যদের শপথবাক্য পাঠ করাবেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার এএমএম নাসির উদ্দিন। এ ছাড়া জাতীয় সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায় মঙ্গলবার বিকেল ৪টায় নতুন মন্ত্রিসভার সদস্যদের শপথবাক্য পাঠ করাবেন রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন। দীর্ঘদিনের ঐতিহ্য ভেঙে নতুন সরকারের শপথগ্রহণ অনুষ্ঠান বঙ্গভবনের পরিবর্তে এবার জাতীয় সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায় অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। নিয়ম অনুসারে, নবনির্বাচিত সংসদ সদস্যদের (এমপি) শপথগ্রহণের পর সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জনকারী বিএনপির সংসদীয় বোর্ডের একটি সভা অনুষ্ঠিত হবে। সেখানে তাদের সংসদীয় নেতা নির্বাচন করা হবে। এরপর দলের নেতা রাষ্ট্রপতির সঙ্গে দেখা করবেন এবং তাকে জানাবেন যে সংসদে দলটির নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা রয়েছে এবং আনুষ্ঠানিকভাবে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে নিয়োগের জন্য আবেদন করবেন। রাষ্ট্রপতি সংসদ নেতাকে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে নিয়োগ দেবেন, যিনি পরবর্তীতে মন্ত্রিসভার সদস্যদের নির্বাচন করবেন। রাষ্ট্রপ্রধান হিসেবে মো. সাহাবুদ্দিন প্রথমে প্রধানমন্ত্রীকে শপথপাঠ করাবেন, এরপর মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী এবং উপমন্ত্রীদের শপথপাঠ করাবেন। এদিকে বিএনপির এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে জানা যায়, অনুষ্ঠানে প্রায় এক হাজার ২০০ দেশি-বিদেশি অতিথি উপস্থিত থাকবেন। আমন্ত্রিত বিদেশি অতিথিদের মধ্যে রয়েছেন ভুটানের প্রধানমন্ত্রী শেরিং তোবগে, ভারতের লোকসভার স্পিকার ওম বিড়লা, পাকিস্তানের পরিকল্পনামন্ত্রী আহসান ইকবাল এবং মালদ্বীপের প্রেসিডেন্ট মোহাম্মদ মুইজ্জু। এ ছাড়া নেপালের পররাষ্ট্রমন্ত্রী বালা নন্দ শর্মা ও শ্রীলঙ্কার স্বাস্থ্যমন্ত্রী নলিন্দা জয়তিসারের উপস্থিত থাকার কথা রয়েছে। যুক্তরাজ্যের ভারত-প্রশান্ত মহাসাগরবিষয়ক আন্ডার সেক্রেটারি সীমা মালহোত্রারও অনুষ্ঠানে যোগ দেওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে বলে দলীয় সূত্রে উল্লেখ করা হয়েছে। শপথ অনুষ্ঠানে সার্কভুক্ত দেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে বলে জানিয়েছেন আইন উপদেষ্টা আসিফ নজরুল। নির্বাচনে বিএনপি জোট ২১২টি এবং জামায়াত জোট পেয়েছে ৭৭টি আসন। দলভিত্তিক হিসেবে—বিএনপি ২০৯টি আসনে, জামায়াত ৬৮টি, এনসিপি ৬টি, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস দুটি, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ, গণঅধিকার পরিষদ, বিজেপি, খেলাফত মজলিস, গণসংহতি আন্দোলন একটি করে আসনে জয়লাভ করেছে। এ ছাড়া স্বতন্ত্র প্রার্থীরা ৭টি আসনে জয়লাভ করেছে। সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জনকারী বিএনপি ধানের শীষ প্রতীকে ৪৯ দশমিক ৯৭ শতাংশ ভোট পেয়েছে। অপরদিকে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ আসন পাওয়া দল বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী দাঁড়িপাল্লা প্রতীকে ৩১ দশমিক ৭৬ শতাংশ ভোট পেয়েছে। অন্যান্য দলের মধ্যে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) শাপলা কলি প্রতীকে ৩২টি আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে ৩ দশমিক ০৫ শতাংশ ভোট পেয়েছে।
সংসদ ভবনে আসছেন নবনির্বাচিত এমপিরা
জুলাই সনদ ও অভ্যুত্থানের সঙ্গে গাদ্দারি করল বিএনপি: সারজিস
জুলাই সনদ ও অভ্যুত্থানের সঙ্গে গাদ্দারি করল বিএনপি: সারজিস
জুলাই সনদ ও অভ্যুত্থানের সঙ্গে গাদ্দারি করল বিএনপি বলে মন্তব্য করেছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) উত্তরাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক সারজিস আলম। মঙ্গলবার (১৭ ফেব্রুয়ারি) বেলা সাড়ে ১১টার দিকে এক ফেসবুক পোস্টে এমন মন্তব্য করেন তিনি। সারজিস আলম ওই পোস্টে উল্লেখ করেছেন, ‘জুলাই সনদ ও অভ্যুত্থানের আকাঙ্ক্ষার সাথে গাদ্দারি করে বিএনপি সরকারের যাত্রা শুরু হলো!’   এদিকে নবনির্বাচিত সংসদ সদস্য হিসেবে শপথ নিলেও সংবিধান সংস্কার পরিষদের সদস্য হিসেবে শপথ নেয়নি বিএনপি। মঙ্গলবার (১৭ ফেব্রুয়ারি) সকালে সংসদ ভবনের শপথ কক্ষে দলটির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমদ এই তথ্য জানান। তিনি বলেন, আমরা কেউ সংবিধান সংস্কার পরিষদের সদস্য নির্বাচিত হইনি এবং সংবিধানে এখনও এটা ধারণ করা হয়নি। গণভোটের রায় অনুযায়ী সংবিধান সংস্কার পরিষদ গঠিত হলে সেটা সংবিধানে আগে ধারণ করতে হবে এবং সংবিধান সংস্কার পরিষদের সদস্যকে কে শপথ নেওয়াবেন সেটার বিধান করতে হবে। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপি জোট ২১২টি এবং জামায়াত জোট পেয়েছে ৭৭টি আসন। দলভিত্তিক হিসেবে—বিএনপি ২০৯টি আসনে, জামায়াত ৬৮টি, এনসিপি ৬টি, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস দুটি, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ, গণঅধিকার পরিষদ, বিজেপি, খেলাফত মজলিস, গণসংহতি আন্দোলন একটি করে আসনে জয়লাভ করেছে। এ ছাড়া স্বতন্ত্র প্রার্থীরা ৭টি আসনে জয়লাভ করেছে। সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জনকারী বিএনপি ধানের শীষ প্রতীকে ৪৯ দশমিক ৯৭ শতাংশ ভোট পেয়েছে। অপরদিকে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ আসন পাওয়া দল বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী দাঁড়িপাল্লা প্রতীকে ৩১ দশমিক ৭৬ শতাংশ ভোট পেয়েছে। অন্যান্য দলের মধ্যে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) শাপলা কলি প্রতীকে ৩২টি আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে ৩ দশমিক ৫ শতাংশ ভোট পেয়েছে।    
সংবিধান সংস্কার পরিষদের শপথ নেয়নি বিএনপি, নেপথ্যে যেসব কারণ 
সংবিধান সংস্কার পরিষদের শপথ নেয়নি বিএনপি, নেপথ্যে যেসব কারণ 
নবনির্বাচিত সংসদ সদস্য হিসেবে শপথ নিলেও সংবিধান সংস্কার পরিষদের সদস্য হিসেবে শপথ নেয়নি বিএনপি। মঙ্গলবার (১৭ ফেব্রুয়ারি) সকালে সংসদ ভবনের শপথ কক্ষে দলটির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমদ এর কারণ ব্যাখা করেন। তিনি বলেন, আমরা কেউ সংবিধান সংস্কার পরিষদের সদস্য নির্বাচিত হইনি এবং সংবিধানে এখনও এটা ধারণ করা হয়নি। গণভোটের রায় অনুযায়ী সংবিধান সংস্কার পরিষদ গঠিত হলে সেটা সংবিধানে আগে ধারণ করতে হবে। এবং সংবিধান সংস্কার পরিষদের সদস্যকে কে শপথ নেওয়াবেন সেটার বিধান করতে হবে। তিনি আরও বলেন, এমন ফরম সংবিধানের তৃতীয় তপশিলে আসবে। সেগুলো সাংবিধানিকভাবে সংসদে গৃহীত হওয়ার পরে সংবিধান সংস্কার পরিষদের সদস্যদের শপথ নেওয়ার বিধান করা যাবে। আমরা সংবিধান মেনে এ পর্যন্ত চলেছি। আশা করি সামনের দিনেও চলবো। সালাহউদ্দিন আহমদ দলীয় সদস্যদের উদ্দেশে বলেন, ‘আমি মাননীয় চেয়ারম্যানের নির্দেশে ওনার উপস্থিতিতে আমাদের দলীয় সিদ্ধান্ত জানালাম।’ ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপি জোট ২১২টি এবং জামায়াত জোট পেয়েছে ৭৭টি আসন। দলভিত্তিক হিসেবে—বিএনপি ২০৯টি আসনে, জামায়াত ৬৮টি, এনসিপি ৬টি, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস দুটি, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ, গণঅধিকার পরিষদ, বিজেপি, খেলাফত মজলিস, গণসংহতি আন্দোলন একটি করে আসনে জয়লাভ করেছে। এ ছাড়া স্বতন্ত্র প্রার্থীরা ৭টি আসনে জয়লাভ করেছে। সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জনকারী বিএনপি ধানের শীষ প্রতীকে ৪৯ দশমিক ৯৭ শতাংশ ভোট পেয়েছে। অপরদিকে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ আসন পাওয়া দল বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী দাঁড়িপাল্লা প্রতীকে ৩১ দশমিক ৭৬ শতাংশ ভোট পেয়েছে। অন্যান্য দলের মধ্যে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) শাপলা কলি প্রতীকে ৩২টি আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে ৩ দশমিক ৫ শতাংশ ভোট পেয়েছে।  
শপথ নিলেন বিএনপির নবনির্বাচিত এমপিরা
শপথ নিলেন বিএনপির নবনির্বাচিত এমপিরা
প্রথম ধাপে বিএনপির নবনির্বাচিত সংসদ সদস্যরা শপথ নিয়েছেন।  মঙ্গলবার (১৭ ফেব্রুয়ারি) বেলা পৌনে ১১টায় সংসদ সচিবালয়ের শপথ কক্ষে প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এ এম এম নাসির উদ্দিন তাদের শপথ বাক্য পাঠ করান।  সংখ্যাগরিষ্ঠ দল বিএনপির সংসদ সদস্যরা প্রথমে শপথ নেন। কিছুক্ষণের মধ্যে জামায়াতে ইসলামী ও পরবর্তীতে জাতীয় নাগরিক পার্টিসহ অন্য দল, স্বতন্ত্র সংসদ সদস্যরা শপথ নেবেন। এদিকে, সংসদ সদস্য হিসেবে শপথ নিলেও সংবিধান সংস্কার পরিষদের সদস্য হিসেবে শপথ নেয়নি বিএনপি। এ নিয়ে নতুন শঙ্কা তৈরি হয়েছে।  জামায়াতের নায়েবে আমির সৈয়দ আব্দুল্লাহ মুহাম্মদ তাহের জানান, বিএনপির নবনির্বাচিত সংসদ সদস্যরা সংবিধান সংস্কার পরিষদের সদস্য হিসেবে শপথ না নিলে জামায়াতে ইসলামীর সদস্যরা কোনো শপথই নেবেন না। নির্বাচনে বিএনপি জোট ২১২টি এবং জামায়াত জোট পেয়েছে ৭৭টি আসন। দলভিত্তিক হিসেবে—বিএনপি ২০৯টি আসনে, জামায়াত ৬৮টি, এনসিপি ৬টি, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস দুটি, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ, গণঅধিকার পরিষদ, বিজেপি, খেলাফত মজলিস, গণসংহতি আন্দোলন একটি করে আসনে জয়লাভ করেছে। এ ছাড়া স্বতন্ত্র প্রার্থীরা ৭টি আসনে জয়লাভ করেছে। সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জনকারী বিএনপি ধানের শীষ প্রতীকে ৪৯ দশমিক ৯৭ শতাংশ ভোট পেয়েছে। অপরদিকে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ আসন পাওয়া দল বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী দাঁড়িপাল্লা প্রতীকে ৩১ দশমিক ৭৬ শতাংশ ভোট পেয়েছে। অন্যান্য দলের মধ্যে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) শাপলা কলি প্রতীকে ৩২টি আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে ৩ দশমিক ০৫ শতাংশ ভোট পেয়েছে।
সংসদ ভবন এলাকায় ১২ প্লাটুন বিজিবি মোতায়েন
সংসদ ভবন এলাকায় ১২ প্লাটুন বিজিবি মোতায়েন
নবনির্বাচিত সংসদ সদস্য ও মন্ত্রিসভার শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠানের নিরাপত্তা নিশ্চিতে জাতীয় সংসদ ভবন এলাকায় ১২ প্লাটুন বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) মোতায়েন করা হয়েছে। মঙ্গলবার (১৭ ফেব্রুয়ারি) বিজিবির পক্ষ থেকে পাঠানো এক বার্তায় এ তথ্য জানানো হয়েছে। বিজিবি জানায়, নবনির্বাচিত সংসদ সদস্য ও মন্ত্রিসভার শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠানের নিরাপত্তা নিশ্চিতে জাতীয় সংসদ ভবন এলাকায় ১২ প্লাটুন বিজিবি মোতায়েন করা হয়েছে। এদিকে শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠান উপলক্ষে রাজধানীর জাতীয় সংসদ ভবন এলাকায় বিশেষ ট্রাফিক নির্দেশনা দিয়েছে ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি)। আজ সকাল ৮টা থেকে সন্ধ্যা ৭টা পর্যন্ত যানজট এড়াতে মানিক মিয়া অ্যাভিনিউ ও লেক রোড এড়িয়ে চলতে বলা হয়েছে।  শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠানে প্রায় ১ হাজার ২০০ জন দেশি-বিদেশি অতিথি অংশগ্রহণ করার কথা রয়েছে, যার মধ্যে ভারত, পাকিস্তানসহ দক্ষিণ এশিয়ার বিভিন্ন রাষ্ট্রের প্রতিনিধি রয়েছেন।