আমাদের হৃদয়ের বাদশা হজরত মুহাম্মদ (সা.) উত্তম চরিত্রের বাতিঘর। তাঁর জীবনে কোনো কলুষতা নেই। অপরাধ নেই। নেই অন্ধকারের কালিমা। তাঁর জীবন ছিল পূণ্য ও কল্যাণের আলোয় সমুজ্জ্বল। পাপ-পঙ্কিলতা তাঁকে স্পর্শও করতে পারেনি। এমন সুমহান চরিত্রের মানুষ পৃথিবী আর কখনোই দেখেনি, ভবিষ্যতে দেখবেও না।
মুহাম্মদ (সা.)-এর আলো জীবনে ধারণ করে অন্ধাকারাচ্ছন্ন মানুষ হয়েছে সভ্যতার রাজপুত্র। তাঁর আদর্শের জামা পরে সভ্যতাবিচ্ছিন্ন পথভোলারা হয়েছে আদর্শবান ও প্রকৃত মানুষ। ভ্রষ্টতায় নিমজ্জিতরা পেয়েছে সুশোভিত জান্নাতের সন্ধান। তাঁর সলোকে প্রতিভাস্বর হয়েছে দিগ-দিগন্ত। আল্লাহ তাআলা তাঁর চারিত্রিক সুষমা ঘোষণা করেছেন এভাবে—‘তোমাদের মধ্যে যারা আল্লাহ ও আখেরাতকে ভয় করে এবং আল্লাহকে অধিকতর স্মরণ করে তাদের জন্যে রাসুলুল্লাহর মধ্যে রয়েছে উত্তম আদর্শ।’ (সুরা আহজাব, আয়াত: ২১)
আমাদের গর্বের ধন মুহাম্মাদ (সা.)-এর চরিত্র সম্পর্কে মহান আল্লাহ বলেন, ‘নিশ্চয় তুমি মহান চরিত্রে অধিষ্ঠিত।’ (সুরা কলম, আয়াত: ৪)
পৃথিবীর প্রতিটি মুসলমানের দৃঢ় বিশ্বাস ও ইমানি চেতনা হলো, ইতিহাসের সবচেয়ে উত্তম ও সচ্চরিত্রবান মানুষ প্রাণের নবী মুহাম্মদ (সা.)। তাঁর প্রতিটি কথা, কাজ ও মৌন সমর্থনে রয়েছে মানুষের কল্যাণ।
নবুওয়াত পূর্ববর্তী জীবনে সবার কাছে প্রশংসিত হিসেবে তিনি ছিলেন ‘আলআমিন’ (বিশ্বস্ত, আমানতদার)। নবুওয়াত পরবর্তী জীবনে চরম শত্রুতাপূর্ণ পরিবেশেও তিনি ছিলেন ধৈর্য, সহনশীলতা, সাহস, দৃঢ়চিত্ততা, দয়া, সহমর্মিতা, পরোপকার, পরমত সহিষ্ণুতা, লজ্জা ও ক্ষমাশীলতা প্রভৃতি অনন্য গুণের জীবন্ত প্রতীক। রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘আমি প্রেরিত হয়েছি সর্বোত্তম চরিত্রের পূর্ণতা দানের জন্য।’ (মুসতাদরাকে হাকেম, হাদিস: ৪২২১)
মাইকেল এইচ হার্ট তার দ্যা হান্ড্রেড ১০০ : অ্যা র্যাংকিং অব দ্য মোস্ট ইনফ্লুয়েন্সিয়াল পারসন ইন হিস্ট্রি গ্রন্থে বলেছেন, ‘আমি পৃথিবীর সর্বোচ্চ প্রভাবশালী ব্যক্তিদের তালিকায় মুহাম্মদকে প্রথম স্থানে রেখেছি। এর কারণ হলো তিনি ধর্মীয় ও দুনিয়ার দিক দিয়ে পৃথিবীর ইতিহাসে সর্বাধিক সফল ব্যক্তি।’
মুহাম্মদ (সা.)-এর আগে পৃথিবীতে প্রেরিত নবী-রাসুলদের ওপর যত আসমানি বই নাজিল হয়েছে, সব বইয়ে আছে তাঁর কথা। তাওরাত, জাবুর, বাইবেলসহ (ইঞ্জিল) প্রতিটি বইয়ে তাঁর আগমনের বার্তা দেওয়া হয়েছে। তাঁর শ্রেষ্ঠ মানুষ হওয়ার সুসংবাদ দেওয়া হয়েছে। তাকে ইহ-পরকালের সব বিষয়ের জ্ঞান দেওয়া হয়েছে। তিনি সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ জ্ঞানী।
তিনি শুধু মুসলিমদের জন্য নয়, পুরো পৃথিবীর মানুষের জন্য রহমত নিয়ে এসেছেন। তিনি রহমতের নবী। বিশ্বমানবতার পরিপূর্ণ কল্যাণের জন্যই তাঁর আগমন। আল্লাহ বলেন, ‘হে নবী, আমি তোমাকে সারা বিশ্বের জন্য রহমত হিসেবে পাঠিয়েছি।’ (সুরা আম্বিয়া, আয়াত: ১০৭)
নবী (সা.) শত্রুকেও ভালোবাসতেন। তাদের জন্য মনের অলিন্দে মায়া পুষতেন। তিনি কারও জন্য বদদোয়া করতেন না।
মুহাম্মদ (সা.) কোমল হৃদয়ের অধিকারী। তিনি হৃদয়জুড়ে মানুষের জন্য ভালোবাসা পুষতেন। তাঁর হৃদয় আকাশের মতো উন্মুক্ত ছিল সব মানুষের জন্য। তিনি প্রতিটি কাজে নম্রতা অবলম্বন করতেন। সবার সঙ্গে উত্তম আচরণ করতেন। অসহায়ের পাশে দাঁড়াতেন।




