মানুষের মধ্যে নানা বিষয় বা কথা নিয়ে বাগ্বিতণ্ডা হয়। বিশ্বাস-অবিশ্বাসের প্রশ্ন আসে। নিজের মত প্রতিষ্ঠা বা নিজের কথাকে বিশ্বাস করানোর জন্য অনেকে আল্লাহর নামে কসম বা শপথ করেন। কেউ কসম করেন পবিত্র কোরআন স্পর্শ করে। প্রশ্ন হলো, কোরআন ছুঁয়ে কসম করা কি জায়েজ।
পৃথিবীর শ্রেষ্ঠ বই পবিত্র কোরআন। এর কথা আল্লাহর কথা। এটি নাজিল হয়েছে পৃথিবীর সেরা মানুষ হজরত মুহাম্মদ (সা.)-এর ওপর। এর মধ্যে কোনো ভুল নেই। আল্লাহ বলেন, ‘এটা সেই বই, যাতে কোনো সন্দেহ (ভুল) নেই। মুত্তাকিনদের জন্য এটা পথনির্দেশ।’ (সুরা বাকারা, আয়াত: ২)
কোরআন একটি গতিশীল ও কিয়ামত পর্যন্ত স্থায়ী মুজেজা বা অলৌকিকতা। কিয়ামত পর্যন্ত এটি টিকে থাকবে। মানুষকে সৎ পথ দেখাবে। রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘আমি তোমাদের মধ্যে এমন দুটি বিষয় রেখে যাচ্ছি, যা আঁকড়ে থাকলে তোমরা কোনো দিন পথহারা হবে না। তা হলো কোরআন ও আমার সুন্নত।’ (মুয়াত্তায়ে মালেক, হাদিস: ১৫৯৪)
কোরআনই মুসলমানদের সংবিধান। এতে আছে মানুষের জন্য পথনির্দেশ। মানুষের যাপিত জীবনে যা কিছু প্রয়োজন, এর সবকিছুর সমাধান আছে কোরআনে। এটি ইসলামি আইনের মূল উৎসও। কোরআন মুসলমানদের কাছে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বই। মুসলমানরা কোরআনকে সবচেয়ে বেশি ভালোবাসেন। কোরআনকে হৃদয়ে ধারণ করেন। ভালোবাসা বা গুরুত্বের জায়গা থেকে অনেকে জেনে না-জেনে কোরআন ছুঁয়ে কসম করেন।
আল্লাহ তাআলার নাম ছাড়া অন্য কিছুর নামে কসম করা নিষেধ। এরপরও যদি কেউ কোরআনের নামে বা কোরআন হাতে নিয়ে কসম করে, তাহলে তা রক্ষা করা আবশ্যক। কসম ভঙ্গ করলে কাফফারা দেওয়া আবশ্যক।
ঢাকা থেকে প্রকাশিত আবুল হাসান মুহাম্মাদ আবদুল্লাহ সম্পাদিত মাসিক আল-কাউসারে এক ফতোয়ায় বলা হয়েছে, ‘কোরআন শরিফের কসম করা জায়েজ নয়। নাজায়েজ হলেও কেউ যদি বলে, ‘আমি কোরআনের কসম করে বলছি’, তাহলে এর দ্বারা কসম হয়ে যাবে। এ শপথ ভঙ্গ করলে কাফফারাও ওয়াজিব হবে। আর যদি কসম শব্দ না বলে শুধু বলে যে, কোরআন ছুঁয়ে বা মাথায় নিয়ে বলছি, তবে এর দ্বারা কসম হবে না। (ফাতহুল কাদির, খণ্ড: ৪, পৃষ্ঠা: ৩৫৬, ইমদাদুল আহকাম, খণ্ড: ৩, পৃষ্ঠা: ৩৮)
কসমের কাফফারা হলো, ১০ জন অসহায় দরিদ্রকে দুই বেলা পেট ভরে খাওয়ানো অথবা ১০ জন দরিদ্রকে দশ সেট কাপড় দেওয়া। এর কোনোটিতে সক্ষম না হলে ধারাবাহিক তিনটি রোজা রেখে কাফফারা আদায় করতে হবে। (সুরা মায়িদা, আয়াত: ৮৯, দুররুল মুখতার, খণ্ড: ৩, পৃষ্ঠা: ৭২৫)। কাফফারার পুরো টাকা একত্রে এক ব্যক্তিকে দিয়ে দিলে আদায় হবে না। পুরো টাকা একজনকে দিতে চাইলে দশ দিনে দিতে হবে।
আস-সুন্নাহ ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান শায়খ আহমাদুল্লাহ ইউটিউবে এক প্রশ্নের জবাবে বলেন, ‘কসম বা শপথ করতে হয় আল্লাহর নামে। কোরআন স্পর্শ করে শপথ করা শপথের মূল পদ্ধতি নয়। এরপরও কেউ যদি এরকম শপথ করে, তার উদ্দেশ্য যেহেতু আল্লাহর নামে শপথ করা, এ জন্য সে শপথ রক্ষা না করলে তার কসমের কাফফারা দিতে হবে।’




