ঢাকা শুক্রবার, ১২ জুন ২০২৬, ২৯ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩
নির্বাচন সর্বশেষ
Live Icon ●LIVE

ইসলামে মুক্তির সংগ্রাম ও স্বাধীনতা

রায়হান রাশেদ

  ২৬ মার্চ ২০২৬, ১৪:১৫
ছবি: সংগৃহীত

২৬ মার্চ মহান স্বাধীনতা দিবস। বাংলাদেশের ইতিহাসে মার্চ মাস অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ১৯৭১ সালের এ মাসে বাঙালি জাতি স্বাধিকার আন্দোলনে ঝাঁপিয়ে পড়েন। পাকিস্তানি শাষকগোষ্ঠীর শোষণ, নিপীড়ন, বঞ্চনা, বৈষম্য, অত্যাচার ও অন্যায়ের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তুলেন। পাকিস্তান হানাদার বাহিনীর কবল থেকে মাতৃভূমিকে রক্ষার দৃঢ় প্রত্যয়ে বাংলাদেশের মানুষ যার কাছে যা আছে, তা নিয়ে বেরিয়ে পড়েন। নারী-পুরুষ সবাই দেশের জন্য জীবন উৎসর্গ করতে যুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়েন।

পরিবর্তন অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন

৯ মাস রক্তক্ষয়ী যুদ্ধের পর অগণিত মানুষের জীবনের বিনিময়ে বাংলাদেশ রাষ্ট্রের জন্ম হয়। বিশ্বের মানচিত্রে জায়গা অর্জন করে লাল-সবুজের পতাকা। বাংলাদেশের মানুষ বুক উঁচু করে দাঁড়ায় পৃথিবীর মঞ্চে।

পরাধীনতার দেয়াল ভেঙে, দাসত্বের ঘর বিচূর্ণ করে স্বাধীনতা অর্জন করা ইসলামের মৌলিক চেতনা। শোষণ ও নির্যাতনের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়ানো ইসলামের আদর্শ। ইসলাম কখনো পরাধীনতাকে আশ্রয় দেয়নি। ইসলাম মানুষকে স্বাধীন রাখতে চায়।

মানুষ বিভিন্ন দেশ ও জাতি-গোষ্ঠীতে বিভক্ত থাকবে—এটাই ইসলামের সৌন্দর্য। ফলে মানুষের থাকবে ভাষার বৈচিত্র্য, সংস্কৃতির ভিন্নতা, রুচির পার্থক্য ও চেহারার অমিল। আল্লাহ তাআলা বলেন, ‘হে মানুষ, আমি তোমাদের সৃষ্টি করেছি এক পুরুষ ও এক নারী থেকে। পরে তোমাদের বিভক্ত করেছি বিভিন্ন জাতি ও গোষ্ঠীতে, যাতে তোমরা একে অন্যের সঙ্গে পরিচিত হতে পার। তোমাদের মধ্যে আল্লাহর কাছে সেই ব্যক্তিই অধিক মর্যাদাসম্পন্ন, যে তোমাদের মধ্যে অধিক মুত্তাকি (আল্লাহকে ভয়কারী)। নিশ্চয়ই আল্লাহ সবকিছু জানেন, সব খবর রাখেন।’ (সুরা হুজুরাত, আয়াত: ১৩)

ভাঙো পরাধীনতার দেয়াল
ইসলামে সব মানুষের সমান অধিকার রয়েছে। এখানে ধনী-গরিব, সাদা-কালো, আরব-অনারবের কোনো পার্থক্য নেই। স্বাধীন মানুষের মধ্যে পার্থক্য থাকতে পারে না। মানুষ যদি পরাধীন হয়, তাহলে তাদের মধ্যে পার্থক্যের দেয়াল গড়ে ওঠে। পরাধীন মানুষকে স্বাধীন মানুষ দাসের চোখে দেখে। এ জন্য হজরত মুহাম্মদ (সা.) বিদায় হজের ভাষণে পৃথিবীর সব মানুষকে স্বাধীন মানুষ হিসেবে ঘোষণা করেছেন। চূর্ণ করে দিয়েছেন পরাধীনতার শিকল। তিনি বলেছেন, ‘কালোর ওপর সাদার প্রাধান্য নেই, অনারবের ওপর আরবের শ্রেষ্ঠত্ব নেই।’ (সহিহ বুখারি)

অন্যায় ও নির্যাতনের বিরুদ্ধে মুহাম্মদ (সা.) নবী হওয়ার আগেও সোচ্চার ছিলেন। সেসময় মানুষের কল্যাণে গড়ে তোলেন সামাজিক সংগঠন ‘হিলফুল ফুজুল’। বেলাল (রা.)-কে দাসত্বের কবল থেকে মুক্ত করে ইসলামের প্রথম মুয়াজ্জিন হিসেবে নিয়োগ দেন তিনি। খাব্বাব ইবনে আরাশ (রা.), আম্মার বিন ইয়াসিরসহ এমন অনেক দাসকে তিনি স্বাধীন জীবন লাভে সহায়তা করেন।

দেশ রক্ষার সংগ্রামে মহানবী (সা.)
পঞ্চম হিজরির শাওয়াল মাসে মক্কার কুরাইশ, মদিনার ইহুদি, বেদুইন ও পৌত্তলিকরা সম্মিলিতভাবে মদিনার মুসলমানদের ওপর আক্রমণ করতে ছুটে আসে। ইতিহাসে এটি খন্দকের যুদ্ধ নামে পরিচিত। খন্দকের এই যুদ্ধ ছিল মদিনার ওপরে গোটা আরব সম্প্রদায়ের এক সর্বব্যাপী হামলা। এ যুদ্ধে কাফেরদের সৈন্য সংখ্যা ছিল ১০ হাজার। মুসলমানদের ৩ হাজার। মদিনার মানুষের মধ্যে ভয় ও শঙ্কা দানা বাঁধে।

রাসুলুল্লাহ (সা.) সাহাবিদের সঙ্গে পরামর্শে বসেন। সালমান (রা.)-এর পরামর্শে মদিনার সার্বভৌমত্ব রক্ষায় মদিনার চতুর্দিকে পরিখা খনন করা হয়। একটি ঘোড়া লাফ দিয়ে যতটুকু যেতে পারে, তার চেয়ে বেশি দূরত্বে গর্ত খনন করা হয়। শুরু হলো পরিখা খনন। ১০ জন করে একটি দল করা হয়। প্রতিটি দল দৈর্ঘ্য ১০ হাত, প্রস্তে ১০ হাত, গভীরতায় ১০ হাত পরিখা খনন করে। ছয় দিনে পরিখা খনন শেষ হয়। পরিখা খননকালে একটি বড় ও শক্ত পাথর সামনে পড়ে, যা ভাঙা অসম্ভব হয়ে পড়ে। রাসুলুল্লাহ (সা.)-কে বিষয়টি জানানো হলে তিনি এসে আঘাত করলে তা ভেঙে চূর্ণবিচূর্ণ হয়ে যায়।

খন্দকের যুদ্ধে মুসলমানদের বিজয় হয়। পরাধীনতার শিকরে বন্দি হওয়া থেকে রক্ষা পায় মদিনা। মদিনাকে পরাধীনতা থেকে এভাবেই স্বাধীন করেন মহানবী (সা.)। খন্দক যুদ্ধ ছাড়াও মহানবী মুসলমানদের স্বাধীনতা রক্ষায় বিভিন্ন সংগ্রাম করেছেন।

মহানবীর দেশ প্রেম
মহানবী (সা.) মাতৃভূমি মক্কাকে প্রচণ্ড ভালোবাসতেন। কাফেরদের কর্তৃক নির্যাতিত হয়ে তিনি যখন মক্কা ছাড়ছিলেন, বারবার পেছনে ফিরে মক্কাকে দেখছিলেন। মক্কা ছেড়ে যাওয়ার তীব্র কষ্ট বুকে নিয়ে তিনি বলছিলেন, ‘ভূখণ্ড হিসেবে তুমি কতই না উত্তম, আমার কাছে তুমি কতই না প্রিয়। যদি আমার স্বজাতি আমাকে বের করে না দিত, তবে কিছুতেই আমি অন্য জায়গায় বসবাস করতাম না।’ (সুনানে তিরমিজি, হাদিস: ৩৯২৬)

এ আবেগময় বেদনাকাতর অভিব্যক্তি মহানবী (সা.)-এর দেশপ্রেমের উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত। আরেক হাদিসে আনাস (রা.) বলেন, ‘আমি খায়বার অভিযানে খাদেম হিসেবে রাসুল (সা.)-এর সঙ্গে গেলাম। অভিযান শেষে তিনি যখন ফিরে এলেন, উহুদ পাহাড় তাঁর দৃষ্টিগোচর হলো। তিনি বলেন, ‘এই পাহাড় আমাদের ভালোবাসে, আমরাও একে ভালোবাসি।’ (সহিহ বুখারি, হাদিস: ২৮৮৯)

দেশের সার্বভৌমত্ব রক্ষায় মেলে সওয়াব
দেশ রক্ষার আন্দোলনে যারা মারা যান, তারা শহীদ। নিজের জীবন রক্ষা, পরিবারের সদস্যদের বাঁচানো ও সম্পদের হেফাজত করা ইমানি দায়িত্ব। এসব কাজ করতে গিয়ে যদি কেউ মারা যান, তিনি শহীদি মর্যাদা পাবেন। মুসলমানদের জীবন বাঁচানো ও মুসলিম দেশ রক্ষার জন্য সীমানা পাহারা দেওয়া বড় সওয়াবের কাজ। রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘মুসলিম দেশের সীমান্ত একদিন আর এক রাত পাহারা দেওয়া দুনিয়া ও দুনিয়ার সব সম্পদের চেয়েও উত্তম। আর যদি কেউ এই দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে মারা যায়, তবে কিয়ামত পর্যন্ত তার সওয়াব অব্যাহতভাবে চলতে থাকবে। আল্লাহ তাকে জান্নাতের রিজিক দেবেন আর সে কবরের পরীক্ষার ভয় ও ফিতনা থেকে নিরাপদ থাকবে।’ (সহিহ বুখারি, হাদিস: ২৮৯২)

আল্লাহর বিধানের বাস্তবায়ন
আল্লাহ তাআলা মানুষকে সৃষ্টি করেছেন স্বাধীন করে। স্বাধীনতার চেতনা নিয়েই শিশু জন্মায়। কিন্তু শিশুর বাবা-মা তাকে নিজস্ব মতবাদের ওপর গড়ে তুলে। ইসলামি বিধান অনুযায়ী, স্বাধীন মানুষ ও রাষ্ট্র ব্যক্তি জীবন থেকে শুরু করে রাষ্ট্রীয় পর্যায়ে আল্লাহর বিধান মেনে চলবে। দেশে নামাজ প্রতিষ্ঠা করবে। জাকাত প্রদান করবে। মানুষকে সৎ কাজের আদেশ ও অসৎ কাজ থেকে নিষেধ করবে। আল্লাহ বলেন, ‘তারা এমন লোক যাদের আমি পৃথিবীতে শক্তি-সামর্থ্য (রাষ্ট্র ক্ষমতা) দান করলে তারা নামাজ প্রতিষ্ঠা করবে, জাকাত আদায় করবে এবং সৎকাজে আদেশ দেবে এবং অসৎকাজে নিষেধ করবে। প্রত্যেক কর্মের পরিণাম আল্লাহর ইচ্ছাধীন।’ (সুরা হজ, আয়াত: ৪১)

দেশের নিরাপত্তায় দোয়া করা
মক্কাকে নিরাপদ রাখার জন্য ইবরাহিম (আ.) আল্লাহর কাছে দোয়া করেছিলেন। আমরাও আমাদের দেশ রক্ষার জন্য আল্লাহর কাছে সব সময় এ দোয়া করব—

উচ্চারণ: ‘রাব্বিজআল হাজাল বালাদা আমিনা, ওয়াজ নুবনি, ওয়া বানিইয়‍া আন নাবুদাল আসনাম।’

অর্থ: হে আল্লাহ, এই শহরকে শান্তিময় করে দাও। আমাকে ও আমার সন্তানদের মূর্তিপূজা থেকে দূরে রাখ।’ (সুরা ইবরাহিম, আয়াত: ৩৫)

জান্নাতে আল্লাহর পাশে ঘর চেয়েছেন যে নারী 
ফেরাউন ছিল মিসরের বাদশাহদের উপাধি। হজরত ইসার (আ.) জন্মের তিন হাজার বছর আগ থেকে বাদশাহ সিকান্দারের যুগ পর্যন্ত ফেরাউনের একত্রিশতম বংশ মিসরের ওপর রাজত্ব করে আসছে। মুসার (আ.) জন্মের সময় মিসরের বাদশাহ ছিল দ্বিতীয় রিমসিস বা রামেসিস। সে মিসরের শাসকদের উনবিংশ বংশধর। তারই কাছে মুসা (আ.) বেড়ে উঠেন। (কাসাসুল কোরআন, মূল: মাওলানা হিফজুর রহমান, অনুবাদ: আব্দুস সাত্তার আইনী, মাকতাবাতুল ইসলাম, খণ্ড: ৪, পৃষ্ঠা: ১২-১৫) আসিয়া বিনতে মুজাহিম মিসরের ফেরাউন দ্বিতীয় রিমসিসের স্ত্রী। আসিয়া ধনী পরিবারের ভদ্র, শালীন ও জ্ঞানী মেয়ে। তিনি এক আল্লাহ বিশ্বাস করতেন। মানুষ ভালোবাসতেন, মানুষের প্রতি দয়া করতেন। অসহায়ের পাশে দাঁড়াতেন।  স্বামী ফেরাউন নিজেকে স্রষ্টা দাবি করত। সে ছিল অত্যাচারী ও বদমেজাজি বাদশাহ। অহংকার, দম্ভ ও অহমিকায় পরিপূর্ণ ছিল তার মসনদ।  ফেরাউন বনি ইসরায়েলিদের পছন্দ করত না। অত্যাচার করত। ফেরাউন স্বপ্নের ব্যাখ্যায় জানতে পেরেছিল, বনি ইসরায়েলের এক ছেলেসন্তান তার মসনদ ধ্বংস করে দেবে। সে বনি ইসরায়েলে জন্ম নেওয়া পুত্রসন্তানদের হত্যার আদেশ জারি করেছিল। এ সময় মুসার (আ.) জন্ম হয়। আল্লাহ মুসাকে (আ.) ফেরাউনের কবল থেকে রক্ষা করেছিলেন।  আল্লাহর আদেশে শিশু মুসার মা তাঁকে বিশেষ ব্যবস্থাপনায় কাঠের সিন্দুকে ভরে নীল নদে ভাসিয়ে দেন। এই সিন্দুক ফেরাউনের স্ত্রী আল্লাহবিশ্বাসী আসিয়ার হাতে পড়ে। শিশু মুসার অপূর্ব সুন্দর চেহারা আসিয়ার মনে দাগ কাটে। তাঁর প্রতি মায়া জন্মায়। মাতৃত্বের আকাঙ্ক্ষা প্রবলভাবে জেগে ওঠে আসিয়ার মনে। তিনি তাকে লালন-পালনের দায়িত্ব নেন।  ছেলেসন্তান দেখে ফেরাউন চটে যায়। কিন্তু স্ত্রীর ব্যক্তিত্বের কাছে হেরে যায় সে। আসিয়ার কাছে রাজকীয় সুখানন্দে মুসা লালিত-পালিত হতে থাকেন, বড় হতে থাকেন। আসিয়া লাভ করেন মুসার (আ.) পালকমাতা হওয়ার গৌরব। পবত্রি কোরআনে এরশাদ এসেছে, ‘ফেরাউনের স্ত্রী বলল, এ শিশু আমার ও তোমার চোখ শীতলকারী। তাকে হত্যা করো না। এ আমাদের উপকারে আসতে পারে অথবা আমরা তাকে সন্তান হিসেবে গ্রহণ করতে পারি। অথচ তারা উপলব্ধি করতে পারেনি।’  (সুরা কাসাস, আয়াত: ৯)  আসিয়া ফেরাউনের স্ত্রী ছিলেন ঠিকই, কিন্তু ফেরাউনের দুশ্চরিত্রের কোনো স্বভাব তাকে গ্রাস করতে পারেনি। অত্যাচারীর ঘরে থেকেও তিনি ছিলেন মানবতাবাদী ও মানুষের হিতৈষী।  আসিয়া তখন অবিশ্বাসী। তার স্বামী ফেরাউনই খোদা। একদিন নারীদের অন্দরমহলে বসে আছেন আসিয়া। ফেরাউনের অন্য স্ত্রী, মেয়ে ও দাসীরাও আছেন সেখানে। প্রাসাদের কোষাধ্যক্ষের স্ত্রী ফেরাউনের এক মেয়ের চুল বিনুনি করছিল। হঠাৎ তার হাত থেকে চিরুনি পড়ে গেল। সে বলল, ‘আল্লাহ অবিশ্বাসীরা ধ্বংস হোক’। ফেরাউনের মেয়ে এ কথা শুনে চমকে গেল। বলল, ‘আমার বাবা ছাড়াও কি কোনো রব আছে।’ তিনি বললেন, হ্যাঁ, তিনি আমার রব, আপনার আব্বারও রব, দুনিয়ার সবকিছুর পালনকর্তা।’ ফেরাউনের মেয়ে তার গালে থাপ্পড় বসিয়ে দিল। বিষয়টি জানাল বাবাকে।  ফেরাউন তাকে ডেকে পাঠাল। তার রব এবং ইবাদত সম্পর্কে জিজ্ঞেস করল। সে বলল, ‘আমি আমার রব, আপনার রব এবং প্রত্যেক বস্তুর রবের ইবাদত করি। শুধু তাঁরই ইবাদত করব।’ ফেরাউন জ্বলে উঠল। তাকে নানাবিধ শাস্তি দিল। তাঁর হাত-পায়ে পেরেক মেরে দিল। সাপ ছেড়ে দিল তাঁর ওপর। তবুও সে ঈমানে অবিচল রইল। আল্লাহপ্রেমে ডুবে রইল।  ফেরাউন বলল, ‘তুমি নিবৃত্ত না হলে তোমার ছেলেকে জবাই করব।’  সে বলল, ‘তোমার যা ইচ্ছা করো, আমার রব শুধু তিনিই।’  ফেরাউন তার চোখের সামনে এক ছেলেকে জবাই করে ফেলল। ছেলের আত্মা তাকে সুসংবাদ দিল। আল্লাহর প্রতিদানের কথা বলল। বিশ্বাসী নারী ধৈর্য ধরল। ঈমানের ওপর অবিচল রইল। ফেরাউন আরেকদিন এসে তাকে আল্লাহকে ভুলে যাওয়ার প্রস্তাব করল। বিশ্বাসী নারী আল্লাহপ্রেমে মজে রইল। ফেরাউন তার আরেক ছেলেকে চোখের সামনে জবাই করে দিল। এই ছেলের আত্মা আগের ছেলের মতো সুসংবাদ দিল। আল্লাহর প্রতিদানের কথা স্মরণ করাল।  একদিন বিশ্বাসী নারীকেও জবাই করল ফেরাউন। তার আত্মাও জান্নাতের নেয়ামত ও আল্লাহর প্রতিদানের কথা সগৌরবে বলল। বিশ্বাসী নারী এবং তার দুই সন্তানের আত্মার কথা শুনে ঈমান আনেন ফেরাউনের স্ত্রী আসিয়া। (তাফসিরে ইবনে কাসির, খণ্ড: ৮, পৃষ্ঠা: ১১৪)   নিজের স্ত্রী অন্যের উপাসনা করে—এমন খবর জানতে পেরে ফেরাউন স্ত্রীকে বোঝাতে থাকে। নিজের বিশাল সাম্রাজ্য ও প্রজাদের কথা বলে। কিন্তু আসিয়া সত্য ধর্মের ওপর পাহাড়ের মতো অবিচল, অটল থাকে। ফেরাউন দেখল, কাজ হয় না। স্ত্রী ফিরে আসছে না তার দলে। সে বিশেষ লোকদের সঙ্গে পরামর্শ করে আসিয়াকে হত্যার আদেশ দেয়।   একদিন ফেরাউনের সৈন্য-সামন্তরা আসিয়ার চার হাত-পায়ে পেরেক মেরে বুকের ওপর ভারী পাথর রেখে উত্তপ্ত সূর্যের নিচে ফেলে দেয়। কোনো কোনো বর্ণনায় আছে, ফেরাউন একটি ভারী পাথর তাঁর মাথার ওপর ফেলে দেয়। (তাফসিরে মাজহারির সূত্রে তাফসিরে মারেফুল কোরআন, মূল: মুফতি মুহাম্মাদ শফি, অনুবাদ: মাওলানা মুহিউদ্দীন খান, পৃষ্ঠা: ১৩৮৯) আসিয়ার দেহ রক্তাক্ত হয়। শরীর ক্ষতবিক্ষত হয়। তবু তিনি মুখে জারি রাখেন আল্লাহর নাম। অন্তরে জাগিয়ে রাখেন প্রভুপ্রেমের স্বাদ। জীবনের বিনিময়ে ঈমানকে রক্ষা করেন। দুনিয়ার রাজপ্রাসাদের বিনিময়ে আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করেন জান্নাতে আল্লাহর পাশে একটি ঘর।  তাঁর প্রার্থনার কথা কোরআনে এসেছে এভাবে—‘হে আমার প্রতিপালক, আমার জন্য আপনার কাছে জান্নাতে একটি ঘর নির্মাণ করুন। আমাকে ফেরাউন ও তার দুষ্কর্ম থেকে উদ্ধার করুন। আমাকে মুক্তি দিন অত্যাচারী সম্প্রদায় থেকে।’ (সুরা তাহরিম, আয়াত: ১১) 
জান্নাতে আল্লাহর পাশে ঘর চেয়েছেন যে নারী 
নামাজ ছেড়ে মায়ের ডাকে সাড়া দেওয়া যাবে?
আমরা হয়তো মোবাইলে ব্যস্ত বা পড়াশোনা করছি কিংবা সামান্য কাজে লেগে আছি, কিন্তু ওই দিকে মা আমাদের ডাকছেন—তখন অনেকেই বলি, ‘একটু পরে আসছি’। সাধারণত নিজেদের ব্যস্ততা বেশি প্রাধান্য দিয়ে থাকি। কখনো আবার ইচ্ছে করে না শোনার ভান করে থাকি বা সাড়া না দিয়ে এড়িয়ে যাই। আমাদের কারও কারও কাছে শিক্ষকের আহ্বান, বন্ধু-বান্ধবের আড্ডা, খেলাধুলা মায়ের ডাকের চেয়ে বেশি প্রাধান্য পায়। তাদের ডাকে সাড়া দেওয়ার মতো সময় থাকে না। মনে রাখতে হবে, মায়ের ডাকে সাড়া দেওয়া, তার কথামতো চলা, তাকে সময় দেওয়া সওয়াবের কাজ। আপনি নফল নামাজ পড়ছেন, ওই দিকে আপনার মা ডাকছেন। ভাবছেন, এদিকে আমার নামাজ, ওই দিকে মা ডাকছেন—এ অবস্থায় কী করতে পারি। হজরত মুহাম্মদ (সা.) এ বিষয়ের সমাধান দিয়েছেন।  প্রখ্যাত সাহাবি আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘দোলনায় শুধু তিন ব্যক্তিই কথা বলেছে। মরিয়মের ছেলে ইসা (আ.) ও জুরাইজের সঙ্গী। জুরাইজ ছিল একজন ইবাদতকারী ও আল্লাহভীরু মানুষ। সে একটি গির্জা নির্মাণ করেছিল। এক দিন গির্জায় নামাজরত ছিল। এমন সময় তার মা এসে ডাকলেন—জুরাইজ। জুরাইজ তখন মনে মনে ভাবতে লাগল, ‘হায় আল্লাহ! একদিকে আমার মা আরেক দিকে নামাজ।’ সে নামাজে মন দিল। তার মা ফিরে গেলেন। পরদিন মা আবার এলেন। তখনও জুরাইজ নামাজে। মা ডাকলেন—জুরাইজ। জুরাইজ মনে মনে ভাবল, হায় আল্লাহ! আমার মা আমার নামাজ...।’ তারপর সে নামাজে মনোযোগী হলো। মা চলে গেলেন। পরের দিন যথারীতি তিনি আবার এলেন। জুরাইজ তখনও নামাজে মশগুল। মা ডাকলেন—জুরাইজ।’ জুরাইজ মনে মনে বলল, হে আল্লাহ, আমার মা একদিকে অন্যদিকে আমার নামাজ...।’ (আমি কোন দিকে যাব!) এই ভেবে সে নামাজে মন দিল। তখন মা বললেন, হে আল্লাহ, কোনো বারাঙ্গনার মুখ না দেখা পর্যন্ত ওর মৃত্যু দিয়ো না।’ বনি ইসরায়েলের মধ্যে জুরাইজের ইবাদত-বন্দেগি বিপুল চর্চা পেল। মানুষের মুখে মুখে জুরাইজ। এদিকে এক গণিকা নারী ছিল প্রবাদতুল্য সুন্দরী। সে বলল, তোমরা চাইলে আমি জুরাইজকে পরীক্ষায় ফেলে দিতে পারি। রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেন, এরপর সেই গণিকা জুরাইজের কাছে এলো। জুরাইজ তার দিকে তাকাল না। এদিকে গির্জায় এক রাখালের যাতায়াত ছিল। অপরাধিনী তার কাছে গেল। তাকে পাপ কাজের সুযোগ দিল। রাখাল তার সঙ্গে মিলিত হলো। এরপর সে গর্ভধারণ করল। সন্তান প্রসব করে বলে বেড়াল, এটা জুরাইজের সন্তান। গণিকার এ কথা শুনে বনি ইসরায়েলের লোকেরা ছুটে এল। জুরাইজকে গির্জা থেকে টেনে-হিঁচড়ে নামাল। গির্জা ভেঙে ফেলল। মারধর করল। বিস্মিত জুরাইজ জানতে চাইল, ‘তোমাদের কী হয়েছে?’ লোকেরা বলল, তুমি এই বারাঙ্গনার সঙ্গে পাপ কাজ করেছো। সে তোমার সন্তান প্রসব করেছে। জুরাইজ জিজ্ঞেস করল, প্রসবিত সেই শিশুটি কোথায়? তারা শিশুকে নিয়ে এলো। জুরাইজ বলল, আমাকে নামাজ পড়তে দাও। সে নামাজ আদায় করল। এরপর শিশুটির কাছে এসে পেটে খোঁচা দিয়ে বলল, ‘এই খোকন, তোমার বাবা কে?’ শিশুটি রাখালের নাম বলল। এরপর সবাই ছুটে এলো জুরাইজের দিকে। তার কপালে চুমো খেল। তাকে ছুঁয়ে বরকত নিতে নিতে বলল, ‘আমরা সোনা দিয়ে তোমার গির্জাঘরটি বানিয়ে দিই।’ জুরাইজ বলল, ‘না, মাটির ছিল, মাটি দিয়েই বানিয়ে দাও।’ তারা তাই করল।’ তৃতীয়জন বনি ইসরায়েলের এক শিশু। (সহিহ বুখারি, হাদিস: ৩৪৩৬) মনীষী মুহাম্মাদ ইবনে মুনকাদির (রহ.) বলেন, ‘আপনি নামাজ (নফল) পড়াবস্থায় যদি আপনার মা-বাবা ডাক দেন, তাহলে নামাজ ছেড়ে তার ডাকে সাড়া দেবেন।’ রাসুলুল্লাহ (সা.) তখন মসজিদে নববিতে বসে আছেন। এক সাহাবি মা-বাবাকে কাঁদিয়ে তাঁর কাছে এলেন। উদ্দেশ্য বাইয়াত নেবেন। নবী (সা.) জানতে পারলেন, লোকটি তার মা-বাবাকে কাঁদিয়ে এসেছে। তিনি বললেন, ‘তুমি তাদের কাছে ফিরে যাও। তাদের যেভাবে কাঁদিয়েছো, সেভাবে গিয়ে হাসাও।’ (সুনানে আবু দাউদ, হাদিস: ২৫২৮)   আস-সুন্নাহ ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান শায়খ আহমাদুল্লাহ ‘নফল নামাজ ছেড়ে মায়ের ডাকে সাড়া না দিলে গোনাহ হবে কি না’ এমন প্রশ্নের জবাবে বলেন, ‘মা যদি স্বাভাবিকভাবে ডাকেন—যে ডাকে বোঝা যায়, খুব দরকারে তিনি ডাকছেন না—এমনি ডাকছেন, তাহলে নামাজ শেষ করে মায়ের ডাকে সাড়া দিলে কোনো গুনাহ হবে না। তবে তিনি যদি গুরুত্বপূর্ণ কাজ বা জটিল কোনো বিষয়ের জন্য ডাকেন—বারবার ডাকেন—তাহলে নফল নামাজ ছেড়ে মায়ের ডাকে সাড়া দিতে হবে।’
নামাজ ছেড়ে মায়ের ডাকে সাড়া দেওয়া যাবে?
সৌদি পৌঁছেছেন ৫০ হাজার ৯০৪ হজযাত্রী
পবিত্র হজ পালনের জন্য বাংলাদেশ থেকে সৌদি আরবে পৌঁছেছেন ৫০ হাজার ৯০৪ হজযাত্রী। সরকারি-বেসরকারি মোট ১৩০টি ফ্লাইটে সৌদিতে পৌঁছান তারা। রোববার (১০ মে) ঢাকা হজ অফিস থেকে পাঠানো সবশেষ প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে। এতে বলা হয়, রোববার সকাল ১০টা পর্যন্ত বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের ৬০টি ফ্লাইটে সৌদি আরব পৌঁছান ২৩ হাজার ৯৬০ জন, সৌদি এয়ারলাইনসের ৪৮টি ফ্লাইটে ১৮ হাজার ৪৮৮ জন ও ফ্লাইনাস এয়ারলাইনসের ২২টি ফ্লাইটে ৮ হাজার ৪৫৬ হজযাত্রী সৌদি আরব পৌঁছান। ধর্ম মন্ত্রণালয়ের তথ্য বলছে, এ বছর এখন পর্যন্ত সৌদি আরবে গিয়ে ১২ হজযাত্রীর মৃত্যু হয়েছে। এ পর্যন্ত যেসব হজযাত্রী মারা গেছেন তাদের মধ্যে দশজন পুরুষ ও দুজন নারী। এদের মধ্যে দশজন পবিত্র মক্কায় ও দুজন মদিনায় মারা গেছেন। বাংলাদেশ থেকে এ বছরের প্রথম হজ ফ্লাইটটি যাত্রা করে ১৮ এপ্রিল। ওই দিন ৪১৮ হজযাত্রী নিয়ে ফ্লাইটটি হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে সৌদি আরবের জেদ্দার বাদশাহ আবদুল আজিজ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের উদ্দেশ্যে ছেড়ে যায়।   এবার সরকারি ব্যবস্থাপনায় হজ করতে যাবেন ৫ হাজার ৫৬৫ জন। বেসরকারি ব্যবস্থাপনায় যাবেন ৭৩ হাজার ৯৩৫ জন। চাঁদ দেখা সাপেক্ষে ২৬ মে পবিত্র হজ অনুষ্ঠিত হবে। হজের আনুষ্ঠানিকতা শেষে ৩০ মে থেকে ফিরতি ফ্লাইট শুরু হবে এবং তা শেষ হবে ১ জুলাই।
সৌদি পৌঁছেছেন ৫০ হাজার ৯০৪ হজযাত্রী
আজকের নামাজের সময়সূচি
ইমানের পর সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ নামাজ। নামাজ ইসলামের পাঁচ স্তম্ভের একটি। প্রাপ্তবয়স্ক মুসলমানের ওপর পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ পড়া ফরজ। জামাতে নামাজ আদায় করা সুন্নতে মুয়াক্কাদা, যা ওয়াজিবের সঙ্গে তুলনীয়। পাঁচ ওয়াক্ত নামাজের বাইরেও ওয়াজিব, সুন্নত ও নফল নামাজ আছে। নামাজ আদায়কারী আল্লাহর প্রিয়। তার জন্য রয়েছে বহু পুরস্কার। নামাজ পড়া ছাড়া কোনো মুসলিম পূর্ণাঙ্গ মুমিন হতে পারবে না। কোরআনের অনেক জায়গায় নামাজ পড়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। নামাজের আদেশ করা হয়েছিল পূর্ববর্তী নবী-রাসুলদেরও। তাই সময়মতো পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ আদায় করা ইমানি দায়িত্ব। রোববার (১০ মে), ২৭ বৈশাখ ১৪৩৩ বাংলা, ২১ জিলকদ ১৪৪৭ হিজরি। ঢাকা ও এর পার্শ্ববর্তী এলাকার নামাজের সময় তুলে ধরা হলো— জোহর-১১:৫৬ মিনিট আসর-৪:৩২ মিনিট মাগরিব-৬:৩৪ মিনিট এশা-৭:৫৩ মিনিট ফজর (সোমবার)-৩:৫৬ মিনিট অন্যান্য বিভাগে নামাজের সময়সূচিতে কয়েক মিনিট যোগ/বিয়োগ করতে হবে। বিয়োগ চট্টগ্রাম : ৫ মিনিট সিলেট : ৬ মিনিট যোগ খুলনা : ৩ মিনিট রাজশাহী : ৭ মিনিট রংপুর : ৮ মিনিট বরিশাল : ১ মিনিট
আজকের নামাজের সময়সূচি
একসঙ্গে তিনজন থাকলে যেভাবে কথা বলতে নিষেধ করেছেন মহানবী (সা.)
কোনো আড্ডা বা বৈঠকে তিনজন একসঙ্গে থাকলে একজনকে পাশ কাটিয়ে দুজন পরস্পর কানাঘুষা করা যাবে না। এ রকম করতে নিষেধ করেছেন হজরত মুহাম্মদ (সা.)। একজনকে পাশ কাটিয়ে কানাঘুষা শুরু করলে তৃতীয় ব্যক্তি নিজেকে অনুপ্রবেশকারী ভাববে। এ রকম আচরণ তাকে আতঙ্কিত করবে। সে কষ্ট পাবে। চিন্তিত হবে। সে নিজেকে একা ও নিঃসঙ্গ অনুভব করবে। এ কারণেই হাদিসে তা থেকে নিষেধ করা হয়েছে।  রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘যখন কোথাও তোমরা তিনজন থাকো, তখন একজনকে বাদ দিয়ে দুজনে কানে কানে কথা বলবে না। এতে তার মনে দুঃখ হবে। তবে তোমরা মানুষের মধ্যে মিশে গেলে তা করতে দোষ নেই।’ (সহিহ বুখারি, হাদিস: ৫৯৩২) আরেক হাদিসে এসেছে, রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘তোমরা তিনজন আলাপরত থাকলে একজনকে পাশ কাটিয়ে দুজন কানাঘুষায় লিপ্ত হয়ো না।’ হাদিসটি বর্ণনা করে সুফিয়ান (রহ.) বলেন, ‘একজনকে বাদ রেখে দুজনে কানাকানি করলে তৃতীয়জনের মনে দুঃখ লাগে।’ কানাঘুষা করলে তৃতীয় ব্যক্তি কষ্ট পায়। কাউকে কষ্ট দেওয়া ইসলাম সমর্থন করে না। মানুষকে কষ্ট দেওয়া আল্লাহর পছন্দ নয়। রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘একজনকে বাদ রেখে দুজন পরস্পর আলাপে লিপ্ত হবে না। কারণ এতে তার মনে কষ্ট লাগবে। আর মুমিনকে কষ্ট দেওয়া আল্লাহ তাআলার পছন্দ নয়।’ (সুনানে তিরমিজি, হাদিস: ২৮২৫) ইবনে উমর (রা.) বলেন, রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘তৃতীয়জনকে বাদ রেখে দুজনে আলাপচারিতায় মেতে উঠবে না। কারণ এতে তৃতীয়জন কষ্ট পায়। বর্ণনাকারী আবু সালেহ বলেন, ‘আমি ইবনে উমরকে (রা.) জিজ্ঞাসা করলাম, যদি চারজন থাকে? উত্তরে তিনি বললেন, ‘তাহলে সমস্যা নেই।’ (সুনানে আবু দাউদ, হাদিস: ৪৮৫২)    পবিত্র কোরআনে এরশাদ হয়েছে, ‘যে কথাই মানুষ উচ্চারণ করে (তা সংরক্ষণের জন্য) তার কাছে একজন সদা তৎপর প্রহরী আছে।’ (সুরা কাফ, আয়াত: ১৮)। আরেক আয়াতে আল্লাহ বলেন, ‘আর তোমরা লোকের সঙ্গে উত্তমভাবে কথা বলবে।’ (সুরা বাকারা, আয়াত: ৮৩)
একসঙ্গে তিনজন থাকলে যেভাবে কথা বলতে নিষেধ করেছেন মহানবী (সা.)
জান্নাতে আল্লাহর পাশে ঘর চেয়েছেন যে নারী 
জান্নাতে আল্লাহর পাশে ঘর চেয়েছেন যে নারী 
ফেরাউন ছিল মিসরের বাদশাহদের উপাধি। হজরত ইসার (আ.) জন্মের তিন হাজার বছর আগ থেকে বাদশাহ সিকান্দারের যুগ পর্যন্ত ফেরাউনের একত্রিশতম বংশ মিসরের ওপর রাজত্ব করে আসছে। মুসার (আ.) জন্মের সময় মিসরের বাদশাহ ছিল দ্বিতীয় রিমসিস বা রামেসিস। সে মিসরের শাসকদের উনবিংশ বংশধর। তারই কাছে মুসা (আ.) বেড়ে উঠেন। (কাসাসুল কোরআন, মূল: মাওলানা হিফজুর রহমান, অনুবাদ: আব্দুস সাত্তার আইনী, মাকতাবাতুল ইসলাম, খণ্ড: ৪, পৃষ্ঠা: ১২-১৫) আসিয়া বিনতে মুজাহিম মিসরের ফেরাউন দ্বিতীয় রিমসিসের স্ত্রী। আসিয়া ধনী পরিবারের ভদ্র, শালীন ও জ্ঞানী মেয়ে। তিনি এক আল্লাহ বিশ্বাস করতেন। মানুষ ভালোবাসতেন, মানুষের প্রতি দয়া করতেন। অসহায়ের পাশে দাঁড়াতেন।  স্বামী ফেরাউন নিজেকে স্রষ্টা দাবি করত। সে ছিল অত্যাচারী ও বদমেজাজি বাদশাহ। অহংকার, দম্ভ ও অহমিকায় পরিপূর্ণ ছিল তার মসনদ।  ফেরাউন বনি ইসরায়েলিদের পছন্দ করত না। অত্যাচার করত। ফেরাউন স্বপ্নের ব্যাখ্যায় জানতে পেরেছিল, বনি ইসরায়েলের এক ছেলেসন্তান তার মসনদ ধ্বংস করে দেবে। সে বনি ইসরায়েলে জন্ম নেওয়া পুত্রসন্তানদের হত্যার আদেশ জারি করেছিল। এ সময় মুসার (আ.) জন্ম হয়। আল্লাহ মুসাকে (আ.) ফেরাউনের কবল থেকে রক্ষা করেছিলেন।  আল্লাহর আদেশে শিশু মুসার মা তাঁকে বিশেষ ব্যবস্থাপনায় কাঠের সিন্দুকে ভরে নীল নদে ভাসিয়ে দেন। এই সিন্দুক ফেরাউনের স্ত্রী আল্লাহবিশ্বাসী আসিয়ার হাতে পড়ে। শিশু মুসার অপূর্ব সুন্দর চেহারা আসিয়ার মনে দাগ কাটে। তাঁর প্রতি মায়া জন্মায়। মাতৃত্বের আকাঙ্ক্ষা প্রবলভাবে জেগে ওঠে আসিয়ার মনে। তিনি তাকে লালন-পালনের দায়িত্ব নেন।  ছেলেসন্তান দেখে ফেরাউন চটে যায়। কিন্তু স্ত্রীর ব্যক্তিত্বের কাছে হেরে যায় সে। আসিয়ার কাছে রাজকীয় সুখানন্দে মুসা লালিত-পালিত হতে থাকেন, বড় হতে থাকেন। আসিয়া লাভ করেন মুসার (আ.) পালকমাতা হওয়ার গৌরব। পবত্রি কোরআনে এরশাদ এসেছে, ‘ফেরাউনের স্ত্রী বলল, এ শিশু আমার ও তোমার চোখ শীতলকারী। তাকে হত্যা করো না। এ আমাদের উপকারে আসতে পারে অথবা আমরা তাকে সন্তান হিসেবে গ্রহণ করতে পারি। অথচ তারা উপলব্ধি করতে পারেনি।’  (সুরা কাসাস, আয়াত: ৯)  আসিয়া ফেরাউনের স্ত্রী ছিলেন ঠিকই, কিন্তু ফেরাউনের দুশ্চরিত্রের কোনো স্বভাব তাকে গ্রাস করতে পারেনি। অত্যাচারীর ঘরে থেকেও তিনি ছিলেন মানবতাবাদী ও মানুষের হিতৈষী।  আসিয়া তখন অবিশ্বাসী। তার স্বামী ফেরাউনই খোদা। একদিন নারীদের অন্দরমহলে বসে আছেন আসিয়া। ফেরাউনের অন্য স্ত্রী, মেয়ে ও দাসীরাও আছেন সেখানে। প্রাসাদের কোষাধ্যক্ষের স্ত্রী ফেরাউনের এক মেয়ের চুল বিনুনি করছিল। হঠাৎ তার হাত থেকে চিরুনি পড়ে গেল। সে বলল, ‘আল্লাহ অবিশ্বাসীরা ধ্বংস হোক’। ফেরাউনের মেয়ে এ কথা শুনে চমকে গেল। বলল, ‘আমার বাবা ছাড়াও কি কোনো রব আছে।’ তিনি বললেন, হ্যাঁ, তিনি আমার রব, আপনার আব্বারও রব, দুনিয়ার সবকিছুর পালনকর্তা।’ ফেরাউনের মেয়ে তার গালে থাপ্পড় বসিয়ে দিল। বিষয়টি জানাল বাবাকে।  ফেরাউন তাকে ডেকে পাঠাল। তার রব এবং ইবাদত সম্পর্কে জিজ্ঞেস করল। সে বলল, ‘আমি আমার রব, আপনার রব এবং প্রত্যেক বস্তুর রবের ইবাদত করি। শুধু তাঁরই ইবাদত করব।’ ফেরাউন জ্বলে উঠল। তাকে নানাবিধ শাস্তি দিল। তাঁর হাত-পায়ে পেরেক মেরে দিল। সাপ ছেড়ে দিল তাঁর ওপর। তবুও সে ঈমানে অবিচল রইল। আল্লাহপ্রেমে ডুবে রইল।  ফেরাউন বলল, ‘তুমি নিবৃত্ত না হলে তোমার ছেলেকে জবাই করব।’  সে বলল, ‘তোমার যা ইচ্ছা করো, আমার রব শুধু তিনিই।’  ফেরাউন তার চোখের সামনে এক ছেলেকে জবাই করে ফেলল। ছেলের আত্মা তাকে সুসংবাদ দিল। আল্লাহর প্রতিদানের কথা বলল। বিশ্বাসী নারী ধৈর্য ধরল। ঈমানের ওপর অবিচল রইল। ফেরাউন আরেকদিন এসে তাকে আল্লাহকে ভুলে যাওয়ার প্রস্তাব করল। বিশ্বাসী নারী আল্লাহপ্রেমে মজে রইল। ফেরাউন তার আরেক ছেলেকে চোখের সামনে জবাই করে দিল। এই ছেলের আত্মা আগের ছেলের মতো সুসংবাদ দিল। আল্লাহর প্রতিদানের কথা স্মরণ করাল।  একদিন বিশ্বাসী নারীকেও জবাই করল ফেরাউন। তার আত্মাও জান্নাতের নেয়ামত ও আল্লাহর প্রতিদানের কথা সগৌরবে বলল। বিশ্বাসী নারী এবং তার দুই সন্তানের আত্মার কথা শুনে ঈমান আনেন ফেরাউনের স্ত্রী আসিয়া। (তাফসিরে ইবনে কাসির, খণ্ড: ৮, পৃষ্ঠা: ১১৪)   নিজের স্ত্রী অন্যের উপাসনা করে—এমন খবর জানতে পেরে ফেরাউন স্ত্রীকে বোঝাতে থাকে। নিজের বিশাল সাম্রাজ্য ও প্রজাদের কথা বলে। কিন্তু আসিয়া সত্য ধর্মের ওপর পাহাড়ের মতো অবিচল, অটল থাকে। ফেরাউন দেখল, কাজ হয় না। স্ত্রী ফিরে আসছে না তার দলে। সে বিশেষ লোকদের সঙ্গে পরামর্শ করে আসিয়াকে হত্যার আদেশ দেয়।   একদিন ফেরাউনের সৈন্য-সামন্তরা আসিয়ার চার হাত-পায়ে পেরেক মেরে বুকের ওপর ভারী পাথর রেখে উত্তপ্ত সূর্যের নিচে ফেলে দেয়। কোনো কোনো বর্ণনায় আছে, ফেরাউন একটি ভারী পাথর তাঁর মাথার ওপর ফেলে দেয়। (তাফসিরে মাজহারির সূত্রে তাফসিরে মারেফুল কোরআন, মূল: মুফতি মুহাম্মাদ শফি, অনুবাদ: মাওলানা মুহিউদ্দীন খান, পৃষ্ঠা: ১৩৮৯) আসিয়ার দেহ রক্তাক্ত হয়। শরীর ক্ষতবিক্ষত হয়। তবু তিনি মুখে জারি রাখেন আল্লাহর নাম। অন্তরে জাগিয়ে রাখেন প্রভুপ্রেমের স্বাদ। জীবনের বিনিময়ে ঈমানকে রক্ষা করেন। দুনিয়ার রাজপ্রাসাদের বিনিময়ে আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করেন জান্নাতে আল্লাহর পাশে একটি ঘর।  তাঁর প্রার্থনার কথা কোরআনে এসেছে এভাবে—‘হে আমার প্রতিপালক, আমার জন্য আপনার কাছে জান্নাতে একটি ঘর নির্মাণ করুন। আমাকে ফেরাউন ও তার দুষ্কর্ম থেকে উদ্ধার করুন। আমাকে মুক্তি দিন অত্যাচারী সম্প্রদায় থেকে।’ (সুরা তাহরিম, আয়াত: ১১) 
নামাজ ছেড়ে মায়ের ডাকে সাড়া দেওয়া যাবে?
নামাজ ছেড়ে মায়ের ডাকে সাড়া দেওয়া যাবে?
আমরা হয়তো মোবাইলে ব্যস্ত বা পড়াশোনা করছি কিংবা সামান্য কাজে লেগে আছি, কিন্তু ওই দিকে মা আমাদের ডাকছেন—তখন অনেকেই বলি, ‘একটু পরে আসছি’। সাধারণত নিজেদের ব্যস্ততা বেশি প্রাধান্য দিয়ে থাকি। কখনো আবার ইচ্ছে করে না শোনার ভান করে থাকি বা সাড়া না দিয়ে এড়িয়ে যাই। আমাদের কারও কারও কাছে শিক্ষকের আহ্বান, বন্ধু-বান্ধবের আড্ডা, খেলাধুলা মায়ের ডাকের চেয়ে বেশি প্রাধান্য পায়। তাদের ডাকে সাড়া দেওয়ার মতো সময় থাকে না। মনে রাখতে হবে, মায়ের ডাকে সাড়া দেওয়া, তার কথামতো চলা, তাকে সময় দেওয়া সওয়াবের কাজ। আপনি নফল নামাজ পড়ছেন, ওই দিকে আপনার মা ডাকছেন। ভাবছেন, এদিকে আমার নামাজ, ওই দিকে মা ডাকছেন—এ অবস্থায় কী করতে পারি। হজরত মুহাম্মদ (সা.) এ বিষয়ের সমাধান দিয়েছেন।  প্রখ্যাত সাহাবি আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘দোলনায় শুধু তিন ব্যক্তিই কথা বলেছে। মরিয়মের ছেলে ইসা (আ.) ও জুরাইজের সঙ্গী। জুরাইজ ছিল একজন ইবাদতকারী ও আল্লাহভীরু মানুষ। সে একটি গির্জা নির্মাণ করেছিল। এক দিন গির্জায় নামাজরত ছিল। এমন সময় তার মা এসে ডাকলেন—জুরাইজ। জুরাইজ তখন মনে মনে ভাবতে লাগল, ‘হায় আল্লাহ! একদিকে আমার মা আরেক দিকে নামাজ।’ সে নামাজে মন দিল। তার মা ফিরে গেলেন। পরদিন মা আবার এলেন। তখনও জুরাইজ নামাজে। মা ডাকলেন—জুরাইজ। জুরাইজ মনে মনে ভাবল, হায় আল্লাহ! আমার মা আমার নামাজ...।’ তারপর সে নামাজে মনোযোগী হলো। মা চলে গেলেন। পরের দিন যথারীতি তিনি আবার এলেন। জুরাইজ তখনও নামাজে মশগুল। মা ডাকলেন—জুরাইজ।’ জুরাইজ মনে মনে বলল, হে আল্লাহ, আমার মা একদিকে অন্যদিকে আমার নামাজ...।’ (আমি কোন দিকে যাব!) এই ভেবে সে নামাজে মন দিল। তখন মা বললেন, হে আল্লাহ, কোনো বারাঙ্গনার মুখ না দেখা পর্যন্ত ওর মৃত্যু দিয়ো না।’ বনি ইসরায়েলের মধ্যে জুরাইজের ইবাদত-বন্দেগি বিপুল চর্চা পেল। মানুষের মুখে মুখে জুরাইজ। এদিকে এক গণিকা নারী ছিল প্রবাদতুল্য সুন্দরী। সে বলল, তোমরা চাইলে আমি জুরাইজকে পরীক্ষায় ফেলে দিতে পারি। রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেন, এরপর সেই গণিকা জুরাইজের কাছে এলো। জুরাইজ তার দিকে তাকাল না। এদিকে গির্জায় এক রাখালের যাতায়াত ছিল। অপরাধিনী তার কাছে গেল। তাকে পাপ কাজের সুযোগ দিল। রাখাল তার সঙ্গে মিলিত হলো। এরপর সে গর্ভধারণ করল। সন্তান প্রসব করে বলে বেড়াল, এটা জুরাইজের সন্তান। গণিকার এ কথা শুনে বনি ইসরায়েলের লোকেরা ছুটে এল। জুরাইজকে গির্জা থেকে টেনে-হিঁচড়ে নামাল। গির্জা ভেঙে ফেলল। মারধর করল। বিস্মিত জুরাইজ জানতে চাইল, ‘তোমাদের কী হয়েছে?’ লোকেরা বলল, তুমি এই বারাঙ্গনার সঙ্গে পাপ কাজ করেছো। সে তোমার সন্তান প্রসব করেছে। জুরাইজ জিজ্ঞেস করল, প্রসবিত সেই শিশুটি কোথায়? তারা শিশুকে নিয়ে এলো। জুরাইজ বলল, আমাকে নামাজ পড়তে দাও। সে নামাজ আদায় করল। এরপর শিশুটির কাছে এসে পেটে খোঁচা দিয়ে বলল, ‘এই খোকন, তোমার বাবা কে?’ শিশুটি রাখালের নাম বলল। এরপর সবাই ছুটে এলো জুরাইজের দিকে। তার কপালে চুমো খেল। তাকে ছুঁয়ে বরকত নিতে নিতে বলল, ‘আমরা সোনা দিয়ে তোমার গির্জাঘরটি বানিয়ে দিই।’ জুরাইজ বলল, ‘না, মাটির ছিল, মাটি দিয়েই বানিয়ে দাও।’ তারা তাই করল।’ তৃতীয়জন বনি ইসরায়েলের এক শিশু। (সহিহ বুখারি, হাদিস: ৩৪৩৬) মনীষী মুহাম্মাদ ইবনে মুনকাদির (রহ.) বলেন, ‘আপনি নামাজ (নফল) পড়াবস্থায় যদি আপনার মা-বাবা ডাক দেন, তাহলে নামাজ ছেড়ে তার ডাকে সাড়া দেবেন।’ রাসুলুল্লাহ (সা.) তখন মসজিদে নববিতে বসে আছেন। এক সাহাবি মা-বাবাকে কাঁদিয়ে তাঁর কাছে এলেন। উদ্দেশ্য বাইয়াত নেবেন। নবী (সা.) জানতে পারলেন, লোকটি তার মা-বাবাকে কাঁদিয়ে এসেছে। তিনি বললেন, ‘তুমি তাদের কাছে ফিরে যাও। তাদের যেভাবে কাঁদিয়েছো, সেভাবে গিয়ে হাসাও।’ (সুনানে আবু দাউদ, হাদিস: ২৫২৮)   আস-সুন্নাহ ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান শায়খ আহমাদুল্লাহ ‘নফল নামাজ ছেড়ে মায়ের ডাকে সাড়া না দিলে গোনাহ হবে কি না’ এমন প্রশ্নের জবাবে বলেন, ‘মা যদি স্বাভাবিকভাবে ডাকেন—যে ডাকে বোঝা যায়, খুব দরকারে তিনি ডাকছেন না—এমনি ডাকছেন, তাহলে নামাজ শেষ করে মায়ের ডাকে সাড়া দিলে কোনো গুনাহ হবে না। তবে তিনি যদি গুরুত্বপূর্ণ কাজ বা জটিল কোনো বিষয়ের জন্য ডাকেন—বারবার ডাকেন—তাহলে নফল নামাজ ছেড়ে মায়ের ডাকে সাড়া দিতে হবে।’
সৌদি পৌঁছেছেন ৫০ হাজার ৯০৪ হজযাত্রী
সৌদি পৌঁছেছেন ৫০ হাজার ৯০৪ হজযাত্রী
পবিত্র হজ পালনের জন্য বাংলাদেশ থেকে সৌদি আরবে পৌঁছেছেন ৫০ হাজার ৯০৪ হজযাত্রী। সরকারি-বেসরকারি মোট ১৩০টি ফ্লাইটে সৌদিতে পৌঁছান তারা। রোববার (১০ মে) ঢাকা হজ অফিস থেকে পাঠানো সবশেষ প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে। এতে বলা হয়, রোববার সকাল ১০টা পর্যন্ত বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের ৬০টি ফ্লাইটে সৌদি আরব পৌঁছান ২৩ হাজার ৯৬০ জন, সৌদি এয়ারলাইনসের ৪৮টি ফ্লাইটে ১৮ হাজার ৪৮৮ জন ও ফ্লাইনাস এয়ারলাইনসের ২২টি ফ্লাইটে ৮ হাজার ৪৫৬ হজযাত্রী সৌদি আরব পৌঁছান। ধর্ম মন্ত্রণালয়ের তথ্য বলছে, এ বছর এখন পর্যন্ত সৌদি আরবে গিয়ে ১২ হজযাত্রীর মৃত্যু হয়েছে। এ পর্যন্ত যেসব হজযাত্রী মারা গেছেন তাদের মধ্যে দশজন পুরুষ ও দুজন নারী। এদের মধ্যে দশজন পবিত্র মক্কায় ও দুজন মদিনায় মারা গেছেন। বাংলাদেশ থেকে এ বছরের প্রথম হজ ফ্লাইটটি যাত্রা করে ১৮ এপ্রিল। ওই দিন ৪১৮ হজযাত্রী নিয়ে ফ্লাইটটি হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে সৌদি আরবের জেদ্দার বাদশাহ আবদুল আজিজ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের উদ্দেশ্যে ছেড়ে যায়।   এবার সরকারি ব্যবস্থাপনায় হজ করতে যাবেন ৫ হাজার ৫৬৫ জন। বেসরকারি ব্যবস্থাপনায় যাবেন ৭৩ হাজার ৯৩৫ জন। চাঁদ দেখা সাপেক্ষে ২৬ মে পবিত্র হজ অনুষ্ঠিত হবে। হজের আনুষ্ঠানিকতা শেষে ৩০ মে থেকে ফিরতি ফ্লাইট শুরু হবে এবং তা শেষ হবে ১ জুলাই।
আজকের নামাজের সময়সূচি
আজকের নামাজের সময়সূচি
ইমানের পর সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ নামাজ। নামাজ ইসলামের পাঁচ স্তম্ভের একটি। প্রাপ্তবয়স্ক মুসলমানের ওপর পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ পড়া ফরজ। জামাতে নামাজ আদায় করা সুন্নতে মুয়াক্কাদা, যা ওয়াজিবের সঙ্গে তুলনীয়। পাঁচ ওয়াক্ত নামাজের বাইরেও ওয়াজিব, সুন্নত ও নফল নামাজ আছে। নামাজ আদায়কারী আল্লাহর প্রিয়। তার জন্য রয়েছে বহু পুরস্কার। নামাজ পড়া ছাড়া কোনো মুসলিম পূর্ণাঙ্গ মুমিন হতে পারবে না। কোরআনের অনেক জায়গায় নামাজ পড়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। নামাজের আদেশ করা হয়েছিল পূর্ববর্তী নবী-রাসুলদেরও। তাই সময়মতো পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ আদায় করা ইমানি দায়িত্ব। রোববার (১০ মে), ২৭ বৈশাখ ১৪৩৩ বাংলা, ২১ জিলকদ ১৪৪৭ হিজরি। ঢাকা ও এর পার্শ্ববর্তী এলাকার নামাজের সময় তুলে ধরা হলো— জোহর-১১:৫৬ মিনিট আসর-৪:৩২ মিনিট মাগরিব-৬:৩৪ মিনিট এশা-৭:৫৩ মিনিট ফজর (সোমবার)-৩:৫৬ মিনিট অন্যান্য বিভাগে নামাজের সময়সূচিতে কয়েক মিনিট যোগ/বিয়োগ করতে হবে। বিয়োগ চট্টগ্রাম : ৫ মিনিট সিলেট : ৬ মিনিট যোগ খুলনা : ৩ মিনিট রাজশাহী : ৭ মিনিট রংপুর : ৮ মিনিট বরিশাল : ১ মিনিট