রোজা শুধু রমজান মাসে নয়, সারা বছরই রাখা যায়। রমজানের রোজা ফরজ এবং ফজিলতের দিক দিয়ে সব থেকে বেশি মর্যাদাশীল। অন্যান্য মাসের রোজার ক্ষেত্রেও বিভিন্ন ফজিলতের কথা আছে। হজরত মুহাম্মদ (সা.) প্রায়ই রোজা রাখতেন। তবে তিনি কিছু কিছু রোজার ক্ষেত্রে বিশেষভাবে গুরুত্ব দিয়েছেন। শাওয়াল মাসের ছয় রোজা এর মধ্যে অন্যতম।
শাওয়ালের রোজা রাখার বিধান
প্রাপ্তবয়স্ক নারী-পুরুষের জন্য শাওয়ালের ছয় রোজা রাখা সুন্নত। অনেকে মনে করেন, শুধু নারীরা এ রোজা রাখবেন, তাদের ধারণা সঠিক নয়। রাসুলুল্লাহ (সা.) শাওয়ালের ছয় রোজা রাখতেন এবং সাহাবিদের রাখার নির্দেশ দিতেন। তাঁর সুন্নত অনুসরণে এ রোজা রাখা উত্তম। তবে না রাখলে কোনো অসুবিধা নেই। গুনাহ হবে না।
ইমাম নববি (রহ.) বলেন, ‘আমাদের মাজহাবের আলেমদের বক্তব্য হলো, শাওয়ালের ছয় রোজা আদায় করা মুস্তাহাব।’
শাওয়ালের রোজা রাখার নিয়ম
শাওয়াল মাসের যে কোনো দিন এ রোজা রাখা যায়। তবে ঈদের দিন রোজা রাখা যাবে না। এ দিন রোজা রাখা হারাম। ঈদের পর দিন থেকেই রোজা রাখা যেতে পারে। একনাগাড়ে অথবা মাঝে ফাঁক দিয়ে পৃথকভাবেও রাখা যায়। মাসের মধ্যে ছয় রোজা রাখা হলেই এর সওয়াব পাওয়া যাবে। তবে শাওয়ালের প্রথম দিকে একসঙ্গে ছয়টি রোজা রাখা উত্তম।
ইমাম নববি (রহ.) বলেন, ‘শাওয়ালের রোজা ধারাবাহিকভাবে একসঙ্গে মাসের শুরুতেই আদায় করা মুস্তাহাব। যদি ভিন্ন-ভিন্নভাবে রাখা হয় অথবা শাওয়াল চলে যাওয়ার পরে রাখা হয়, তবুও তা জায়েজ হবে।’
শাওয়ালের রোজার ফজিলত
শাওয়ালের ছয় রোজা রোখলে এক বছর রোজা রাখার সওয়াব পাওয়া যায়। রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘যে রমজানের রোজা রাখার পর শাওয়ালের ছয়টি রোজা রাখল, যে যেন এক বছর রোজা রাখল।’ (সহিহ মুসলিম, হাদিস: ১১৬৪)
আবু আইয়ুব আল আনসারি (রা.) এ হাদিসের বিশ্লেষণ করে বলেছেন, রমজানের রোজার বিনিময়ে দশ মাস এবং শাওয়ালের রোজার বিনিময় দুই মাস— মোট এক বছরের সমপরিমাণ সওয়াব পাওয়া যাবে। কারণ, একটি সৎকাজের বিনিময়ে দশটি সওয়াব পাওয়া যায়।
সাওবান (রা.) বলেন, রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘রমজানের রোজা দশ মাসের রোজার সমতুল্য আর (শাওয়ালের) ছয় রোজা দুই মাসের রোজার সমান। সুতরাং এ হলো এক বছরের রোজা।’
রমজানের ৩০টি রোজার সঙ্গে শাওয়ালের ৬টি রোজা যুক্ত হলে ৩৬টি রোজা হয়। ইসলামে প্রতিটি ভালো কাজের জন্য ১০ গুণ পুরস্কারের কথা উল্লেখ আছে। ৩৬ রোজার ১০ গুণ হলো ৩৬০ রোজার সমান।




