
পৃথিবী কবে সৃষ্টি করা হয়েছে—এ বিষয়টি আল্লাহ ছাড়া কেউ জানে না। পৃথিবী সৃষ্টির তারিখ বা সুনির্দিষ্ট দিন কাউকে জানাননি আল্লাহ। একইভাবে বিশ্বজগত কতকাল থাকবে, সেটা কোনো মানুষ, জিন বা ফেরেশতা—কারও পক্ষে বলা সম্ভব নয়। এ বিষয়ে ইহুদি-খ্রিস্টানদের বইয়ে কিংবা পৃথিবীর অন্যান্য ধর্ম ও সংস্কৃতিতে যেসব বক্তব্য প্রচলিত আছে, সেগুলোর কোনোটিই গ্রহণযোগ্য নয়। একইভাবে বিভিন্ন সময়ের পশ্চিমা ও জ্যোতিষীরা পৃথিবী ধ্বংসের যে সময় নির্ধারণ করেছে, এসব পরিত্যাজ্য।
বিশ্বজগত কবে সৃষ্টি করা হয়েছে, এটি কখন ধ্বংস হবে—এ বিষয়ে একমাত্র জ্ঞান আছে আল্লাহর। কোনো কোনো আলেম পৃথিবীর ধ্বংসের বিষয়ে মতামত দিয়েছেন, পরে তা ভুল প্রমাণিত হয়েছে। এর মধ্যে ইবনে জারির তাবারি ও জালালুদ্দিন সুয়ুতি (রহ.) অন্যতম। ইবনে জারির তাবারি সহিহ হাদিস উল্লেখ করে সেগুলোর ব্যাখ্যা করেছেন ইসরায়েলি বর্ণনার আলোকে। তার মতে, মুসলিম উম্মাহর বয়স মাত্র অর্ধ সহস্র (৫০০) বছর। অর্থ্যাৎ হজরত মুহাম্মদের (সা.) ৫০০ বছর পর পৃথিবী ধ্বংস হয়ে যাবে। (তারিখু তাবারি: ১/১৭)। অথচ মহানবী মারা গেছেন আজ দেড় হাজার বছর হয়েছে।
পৃথিবীর বয়স মোট সাত হাজার বছর বলেও মতামত দিয়েছেন সুয়ুতি। তার মতে, মহানবী ছয় হাজার বছরের শেষের দিকে পৃথিবীতে এসেছেন। তাই তাঁর মৃত্যুর পর পৃথিবী সর্বোচ্চ দেড় হাজার বছর থাকবে। এরপর ধ্বংস হয়ে যাবে।’ (আল-হাভি লিল-ফতোয়া: ২/৮২)
সুয়ুতির এ বক্তব্য ভিত্তিহীন। তিনি যেসব হাদিস উল্লেখ করেছেন, সেগুলোও বানোয়াট ও ভিত্তিহীন। কোরআন-হাদিসে এর কোনো ভিত্তি নেই।
হজরত মুহাম্মদ (সা.) মারা গেছেন প্রায় দেড় হাজার বছর হয়ে যাচ্ছে, এখনও কেয়ামতের বড় বড় আলামতগুলোর একটাও প্রকাশিত হয়নি। অথচ সুয়ুতির হিসাব মতে, আর ষাট-সত্তর বছরের মাঝেই কেয়ামত হয়ে যাওয়ার কথা। এত দিনে দাজ্জাল, ইসা ও ইয়াজুজ-মাজুজ এসে যাওয়ার কথা। তাই আলেমরা সুয়ুতির বক্তব্য প্রত্যাখ্যান করেছেন।
কোরআন পাঠে বোঝা যায়, পৃথিবীর বয়স সুদীর্ঘ। পৃথিবীর বয়স আল্লাহ ছাড়া কারও জানা নেই। আল্লাহ বলেন, ‘আমি আসমান ও জমিন সৃষ্টির সময় তাদের স্বাক্ষী রাখিনি আর না তাদের নিজেদের সৃষ্টির সময়।’ (সুরা কাহাফ, আয়াত: ৫১)
বিজ্ঞানের মতে, পৃথিবীর বয়স অনেক। সম্ভবত লাখো কিংবা কোটি বছর—যা কারও জানা নেই।
সুয়ুতিসহ আগের আলেমদের বিচ্যুতি প্রমাণিত হওয়ার পরও সমকালের কিছু কিছু ব্যক্তি এ ধরনের কাজ করেছেন। তারাও পৃথিবীর বয়স সুনির্দিষ্ট হওয়ার পক্ষে মত দিয়েছেন। তাদের বক্তব্য ভুল।
পৃথিবীর বয়স নির্ধারণ করে দেওয়া কোনোভাবেই সম্ভব নয়। সম্ভব নয় কোনো জাতিগোষ্ঠীর উত্থান-পতনের সময় নির্ধারণ করে দেওয়া। এসব বিষয় একমাত্র আল্লাহই ভালো জানেন। শুধু তিনিই জানেন পৃথিবীর বয়স কত হয়েছে এবং কখন পৃথিবী ধ্বংস হবে। কোরআনে আছে, ‘তারা তোমাকে প্রশ্ন করছে কেয়ামত কখন হবে?’ বলে দাও, এর জ্ঞান শুধু আমার প্রতিপালকের কাছেই রয়েছে। এর নির্ধারিত সময় শুধু তিনিই প্রকাশ করে দেবেন। নভোমণ্ডল ও ভূমণ্ডলে সেটি হবে একটি ভয়ংকর বিষয়। যা তোমাদের কাছে আসবে আকস্মিকভাবে। তারা তোমাকে এ বিষয়ে জিজ্ঞেস করে যেন তুমি এ বিষয়ে পূর্ণ অবগত। বলে দাও, এর জ্ঞান শুধু আল্লাহর কাছেই রয়েছে। কিন্তু অধিকাংশ মানুষ তা জানে না।’ (সুরা আরাফ, আয়াত: ১৮৭)




