
মহান আল্লাহ পবিত্র ও সুন্দর। তিনি পবিত্রতা পছন্দ করেন। পবিত্র ও সুন্দর মানুষদের ভালোবাসেন। হজরত মুহাম্মদ (সা.) বলেছেন, ‘নিশ্চয়ই আল্লাহ তাআলা সুন্দর। সৌন্দর্যতা তিনি পছন্দ করেন।’ (সহিহ মুসলিম, হাদিস: ৯১)
মানুষ স্বভাবতই সুন্দরপ্রিয়। সে সুন্দর ও পরিপাটি থাকতে পছন্দ করে। সুন্দরের পাশাপাশি মানুষ নিজেকে ফুটিয়ে তুলতে সুগন্ধি ব্যবহার করতে চায়। কারণ, সুগন্ধি আভিজাত্যের প্রতীক। রাসুলুল্লাহ (সা.) সব সময় সুগন্ধি ব্যবহার করতেন। সাহাবিদের সুগন্ধি ব্যবহার করতে পরামর্শ দিয়েছেন। তাঁকে কেউ সুগন্ধি উপহার দিলে ফিরিয়ে দিতেন না। আনাস (রা.) বলতেন, ‘আল্লাহর রাসুল (সা.) কখনও সুগন্ধি ফিরিয়ে দিতেন না।’ (সহিহ বুখারি, হাদিস: ২৫৮২)
শালীন, পরিপাটি ও সুন্দর পোশাক পরিধানকারীকে মানুষ ভালোবাসে। তার সঙ্গে মানুষ মিশতে চায়। তার সঙ্গলাভ কাঙ্ক্ষিত থাকে অনেকের।
রাসুলুল্লাহ (সা.)-কে সবসময় ঘিরে থাকত সাহাবিদের জটলা। দূর-দূরান্ত থেকে মানুষজন তার সান্নিধ্যে আসতেন। তিনি সব ধরনের মানুষকে সময় দিতেন। মিশতেন সবার সঙ্গে। বলতেন কথা। এ জন্য তিনি বেশিরভাগ সময় সুগন্ধি ব্যবহার করতেন। সাহাবিদেরও সুগন্ধি ব্যবহারের প্রতি উৎসাহিত করেছেন। আনাস (রা.) বলেন, রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘দুনিয়ার মধ্যে আমার কাছে স্ত্রী এবং সুগন্ধিকে প্রিয় করা হয়েছে। নামাজকে করা হয়েছে আমার চক্ষুশীতলতা।’ (সুনানে নাসায়ি, হাদিস: ৮৮৮৭)
এই হাদিসে রাসুলুল্লাহ (সা.) পৃথিবীতে উপভোগ করার মতো সবচেয়ে হালাল বস্তু হিসেবে দুটি বিষয়কে নির্ধারণ করেছেন। স্ত্রীদের সঙ্গে মিলিত হওয়া এবং সুগন্ধি ব্যবহার করা। এই শ্রেষ্ঠ উপভোগ্য দুটি বিষয় বাস্তবেই খুব চমৎকার। কারণ, এর উপকারিতা শুধু নিজের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকে না; বরং অন্যদের মাঝেও ছড়িয়ে যায়। নারীদের প্রতি ভালোবাসার অর্থ হলো স্ত্রীদের সম্মান করা, তাদের খুশি রাখা। আর সুগন্ধি পছন্দ করার অর্থ হলো সংশ্রবে আসা ব্যক্তিদের অনন্দিত করা। তাদের মুগ্ধ করা।
রাসুলুল্লাহ (সা.) বেশি পরিমাণে সুগন্ধি ব্যবহার করতেন। আয়েশা বলেন, ‘আমি যত উত্তম সুগন্ধি পেতাম, তা রাসুলুল্লাহ (সা.)-কে মেখে দিতাম। এমনি কি সেই সুগন্ধির চমক তাঁর মাথায় ও দাড়িতে দেখতে পেতাম।’ (সহিহ বুখারি, হাদিস: ৬৮২)
হজরত মুহাম্মদ (সা.) সব সময় সুগন্ধি ব্যবহার করতেন। তবে ইহরাম পরা অবস্থায় সুগন্ধি ব্যবহার করতেন না। কেউ তাঁকে সুগন্ধি উপহার দিলে তিনি তা গ্রহণ করতেন। কখনও ফিরিয়ে দিতেন না। রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘চারটি বস্তু নব নবীর সুন্নত—আতর, বিয়ে, মিসওয়াক ও লজ্জাস্থান ঢেকে রাখা।’ (মুসনাদে আহমাদ, হাদিস: ২২৪৭৮)
যেসব পারফিউমে অ্যালকোহল আছে অথবা শরিয়ত সমর্থন করে না—এমন বস্তু দিয়ে তৈরি পারফিউম ব্যবহার করা যাবে না। হজরত মুহাম্মদ (সা.) বলেছেন, ‘নেশা সৃষ্টিকারী প্রতিটি বস্তুই হারাম।’ (সহিহ বুখারি, হাদিস: ৪৩৪৩)
ইবনুল কাইয়ুম (রহ.) বলেন, ‘সুগন্ধি হলো আত্মার খোরাক। আর আত্মা হলো শক্তির বাহন। সুগন্ধি শক্তি বৃদ্ধি করে। মন, মস্তিষ্ক, হৃদযন্ত্র ও শরীর ভালো রাখে। এসব কারণে সুগন্ধি ছিল নবীর (সা.) কাছে দুনিয়ার সবচেয়ে প্রিয় বস্তু।’




