ঢাকা শুক্রবার, ১২ জুন ২০২৬, ২৯ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩
নির্বাচন সর্বশেষ
Live Icon ●LIVE

ছেলেদের কী কী শর্ত মেনে চীনাবাদাম খাওয়া উচিত

এশিয়া পোস্ট ডেস্ক

  ০৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ২০:৪৯
ছবি: সংগৃহীত

চীনাবাদাম শুধু নাশতার জন্যই নয়, পিনাট বাটার, বেকড খাবার, স্মুথি, সসসহ নানা রেসিপিতেও ব্যবহার করা যায়। এটি পুষ্টিতেও বেশ সমৃদ্ধ। এতে আছে প্রচুর ম্যাগনেসিয়াম, ফোলেট এবং ভিটামিন ই, যা শরীরের জন্য উপকারী।

পরিবর্তন অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন

তবে, এত পুষ্টিকর খাবার হলেও অনেকেই ভাবতে থাকেন, এটি স্বাস্থ্যের জন্য উপকারী নাকি ক্ষতিকর। বিশেষ করে পুরুষদের জন্য এটি ভালো না খারাপ তা নিয়ে প্রশ্ন থেকেই যায়।

চলুন আজ হেল্থলাইনের প্রতিবেদন থেকে জেনে নিই কিভাবে চীনাবাদাম খেলে তা ছেলেদের জন্য নিরাপদ ও লাভজনক হতে পারে।

ছেলেদের জন্য চীনাবাদামের উপকারিতা

শক্তি ও সহনশীলতা বাড়ায়: চীনাবাদামে আছে প্রোটিন, স্বাস্থ্যকর চর্বি ও ম্যাগনেসিয়াম। এগুলো শরীরকে শক্তি দেয় এবং যারা খেলাধুলা বা শরীরচর্চা করেন তাদের জন্য দারুণ।

পুরুষ হরমোনের ভারসাম্য বজায় রাখে: চীনাবাদামের জিঙ্ক এবং স্বাস্থ্যকর চর্বি টেস্টোস্টেরনের মাত্রা ঠিক রাখতে সাহায্য করে। এটি পেশি গঠন, যৌন স্বাস্থ্য ও শক্তিশালী শরীরের জন্য গুরুত্বপূর্ণ।

হার্ট সুস্থ রাখতে সাহায্য করে: চীনাবাদামে থাকা ফ্যাটি অ্যাসিড ও অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট হৃৎপিণ্ডকে সুস্থ রাখে এবং খারাপ কোলেস্টেরল কমাতে সহায়ক।

পেশি ও হাড় মজবুত করে: প্রোটিন, ক্যালসিয়াম ও ম্যাগনেসিয়াম হাড় ও পেশি গঠনে সাহায্য করে।

চুল ও ত্বকের জন্য ভালো: ভিটামিন ই ও বায়োটিন থাকার কারণে চুল পড়া কমায় এবং ত্বক নরম ও উজ্জ্বল রাখে।

কিছু সতর্কতা মেনে চলা জরুরি

অতিরিক্ত খাওয়া যাবে না: চীনাবাদামে ক্যালরি বেশি। দিনে প্রায় ২০-৩০ গ্রাম বা এক মুঠো যথেষ্ট। বেশি খেলে ওজন বাড়তে পারে।

ভাজা বা লবণযুক্ত বাদাম এড়ানো ভালো: লবণযুক্ত বা ভাজা চীনাবাদাম উচ্চ রক্তচাপ বা হার্টের জন্য ক্ষতিকর হতে পারে। বরং কাঁচা বা হালকা রোস্ট করা বাদাম বেছে নিন।

অ্যালার্জির বিষয়টি মাথায় রাখুন: যাদের বাদামে অ্যালার্জি আছে, তাদের জন্য চীনাবাদাম বিপজ্জনক হতে পারে। অ্যালার্জি থাকলে একেবারেই এড়িয়ে চলা উচিত।

টিপস

সকালে নাশতার পর এক মুঠো চীনাবাদাম খেতে পারেন। বিকেলে হালকা খিদে মেটাতে এটাও ভালো। সঙ্গে একটি কলা বা সেদ্ধ ডিম রাখলে সম্পূর্ণ স্বাস্থ্যকর খাবারের কম্বিনেশন হবে।

ছেলেদের চীনাবাদাম অবশ্যই খাওয়া উচিত। তবে পরিমাণ ঠিক রাখতে হবে এবং স্বাস্থ্যকরভাবে খেতে হবে। ছোট একটি খাবার, কিন্তু বড় উপকার।

ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে সকালে যেসব কাজ করবেন
ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে রাখতে প্রতিদিনের জীবনযাপনে নিয়ম মেনে চলা খুবই জরুরি। শুধু ওষুধ বা চিকিৎসা নয়, বরং দৈনন্দিন অভ্যাস - বিশেষ করে দিনের শুরুটা কেমন হচ্ছে, তা রক্তে শর্করার মাত্রার ওপর বড় প্রভাব ফেলে। অনেক সময় দেখা যায়, সকালে কিছু ছোট ভুলের কারণে সারাদিনই শর্করার মাত্রা ওঠানামা করে। সঠিকভাবে দিন শুরু করলে শরীর স্থিতিশীল থাকে, শক্তি বজায় থাকে এবং হঠাৎ করে শর্করা বেড়ে বা কমে যাওয়ার ঝুঁকিও কমে। একটি নির্দিষ্ট ও স্বাস্থ্যকর সকালের রুটিন শুধু ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে সাহায্য করে না, এটি মানসিক চাপ কমাতে, কাজের গতি বাড়াতে এবং সারাদিন ভালো অনুভব করতেও সহায়ক হয়। তাই দিনের শুরুতে কিছু সহজ কিন্তু গুরুত্বপূর্ণ অভ্যাস গড়ে তোলা প্রয়োজন, যা দীর্ঘমেয়াদে উপকারে আসতে পারে। নিচে এমন ৮টি কাজ তুলে ধরা হলো, যা প্রতিদিন সকালে অনুসরণ করলে ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে রাখা সহজ হবে। প্রতিদিন একই সময়ে ঘুম থেকে উঠুন প্রতিদিন নির্দিষ্ট সময়ে ঘুম থেকে ওঠার অভ্যাস শরীরের অভ্যন্তরীণ ঘড়িকে ঠিক রাখে। এতে রক্তে শর্করার ওঠানামা নিয়ন্ত্রণে রাখা সহজ হয়। রক্তে শর্করা মাপুন সকালে ঘুম থেকে উঠেই রক্তে শর্করার মাত্রা পরীক্ষা করা ভালো। এতে দিনের শুরুতে শরীরের অবস্থা বোঝা যায় এবং প্রয়োজন অনুযায়ী খাদ্য বা ওষুধের পরিকল্পনা করা সহজ হয়। স্বাস্থ্যকর নাস্তা করুন সকালের নাস্তা বাদ দেওয়া ঠিক নয়। এমন খাবার খাওয়া উচিত যাতে কার্বোহাইড্রেট, প্রোটিন ও ভালো চর্বির ভারসাম্য থাকে। যেমন ওটস, ডিম, শাকসবজি বা দই দিয়ে তৈরি খাবার উপকারী হতে পারে। নিয়মমতো ওষুধ গ্রহণ করুন চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী নিয়মিত ওষুধ খাওয়া জরুরি। প্রতিদিন একই সময়ে ওষুধ নিলে রক্তে শর্করার মাত্রা স্থিতিশীল রাখতে সাহায্য করে। পর্যাপ্ত পানি পান করুন শরীরের পানির ভারসাম্য ঠিক রাখা খুব গুরুত্বপূর্ণ। সকালে উঠে এক গ্লাস পানি পান করার অভ্যাস শরীরকে সতেজ রাখে এবং বিপাকক্রিয়ায় সহায়তা করে। হালকা ব্যায়াম করুন সকালে কিছুটা সময় ব্যায়াম করলে রক্তে শর্করার মাত্রা নিয়ন্ত্রণে থাকে। হাঁটা, সাইক্লিং বা যোগব্যায়াম এর জন্য ভালো বিকল্প হতে পারে। দিনের পরিকল্পনা করুন আগেই দিনের কাজ ও খাবারের পরিকল্পনা করে রাখলে ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে রাখা সহজ হয়। এতে অনিয়ম বা হঠাৎ ভুল খাবার খাওয়ার ঝুঁকি কমে। নিয়ম বজায় রাখুন সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো ধারাবাহিকতা। প্রতিদিন একই রুটিন অনুসরণ করলে শরীর ধীরে ধীরে অভ্যস্ত হয়ে যায় এবং রক্তে শর্করার মাত্রা স্থিতিশীল থাকে। ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে রাখতে সকালের একটি সুসংগঠিত রুটিন অনেক সহায়ক হতে পারে। নিয়মিত অভ্যাস গড়ে তুললে শুধু রক্তে শর্করাই নয়, সামগ্রিক স্বাস্থ্যেরও উন্নতি হয়। তবে ব্যক্তিভেদে প্রয়োজন ভিন্ন হতে পারে, তাই চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী রুটিন তৈরি করাই সবচেয়ে ভালো। সূত্র : অলটাইস
ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে সকালে যেসব কাজ করবেন
হাম বা মিজেলস: সচেতনতায় কাটবে শঙ্কা
সম্প্রতি শিশুদের মধ্যে হাম বা মিজেলসের প্রাদুর্ভাব কিছুটা বেড়েছে। এটি শুধু একটি সাধারণ জ্বর বা চর্মরোগ নয়, বরং সঠিক সময়ে ব্যবস্থা না নিলে এটি শিশুর জীবনের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারে। হাম নিয়ে অভিভাবকদের মনে থাকা সাধারণ কিছু প্রশ্ন এবং এর সমাধান নিয়ে আলোচনা করা হলো। হামের প্রাথমিক লক্ষণগুলো কী কী হামের শুরুটা হয় উচ্চমাত্রার জ্বর দিয়ে। এর সঙ্গে কাশি, চোখ লাল হওয়া এবং অনবরত নাক দিয়ে পানি পড়তে পারে। জ্বরের প্রায় চার দিনের মাথায় কান বা গলার নিচ থেকে লালচে র‍্যাশ বা দানা বের হতে শুরু করে এবং দ্রুত তা মুখমণ্ডল হয়ে সারা শরীরে ছড়িয়ে পড়ে। হাম কতটা ছোঁয়াচে, এর জটিলতা কী হাম অত্যন্ত সংক্রামক রোগ। এটি মূলত শ্বাসনালির মাধ্যমে শরীরে প্রবেশ করে শিশুর রোগ-প্রতিরোধ ক্ষমতাকে সাময়িকভাবে ভেঙে দেয়। এর ফলে পরবর্তী সময়ে নিউমোনিয়া, মারাত্মক ডায়রিয়া, কান পাকা, মুখে ঘা এবং এমনকি মস্তিষ্কের প্রদাহ (এনসেফালাইটিস) হতে পারে। শরীরের ভিটামিন ‘এ’ কমে যাওয়ার ফলে চোখের শুষ্কতা থেকে শুরু করে অন্ধত্ব পর্যন্ত হতে পারে। জ্বরের সঙ্গে র‍্যাশ মানেই কী হাম জ্বরের সঙ্গে র‍্যাশ মানেই সবসময় হাম নয়। জার্মান হাম (রুবেলা), ভাইরাল একজ্যান্থেম (ভাইরাসজনিত র‍্যাশ) ডেঙ্গু বা চিকুনগুনিয়াতেও এমনটা হতে পারে। তবে উচ্চ জ্বর, চোখ লাল হওয়া এবং গলার নিচ থেকে র‍্যাশ শুরু হওয়া হামের জোরালো লক্ষণ। পরিসংখ্যানে দেখা গেছে, বর্তমানে হাসপাতালে ভর্তি হওয়া র‍্যাশ আক্রান্ত প্রতি ১০ জন শিশুর মধ্যে আটজনই মূলত হামে আক্রান্ত। বাকি দুজন জার্মান হাম বা রুবেলা ভাইরাসে আক্রান্ত। হাম নিশ্চিতে কী কী পরীক্ষা করা যায় IgM অ্যান্টিবডি টেস্ট: এর মাধ্যমে শরীরে সক্রিয় হামের সংক্রমণ আছে কি না তা নিশ্চিত হওয়া যায়। আরটি-পিসিআর (RT-PCR): নাক, গলা বা প্রস্রাবের নমুনা থেকে ভাইরাস শনাক্ত করা হয়। হামের ঝুঁকিতে কারা বেশি মায়ের বুকের দুধ না পাওয়া শিশু। বিশেষ করে পাঁচ বছরের কম বয়সি শিশু যারা টিকা নেয়নি। অপুষ্টিতে (বিশেষ করে ভিটামিন ‘এ’ এর অভাব) ভোগা শিশুরা বেশি ঝুঁকিপূর্ণ। গর্ভবতী নারী।  দুর্বল ইমিউনিটির শিশু। ঘনবসতিপূর্ণ এলাকায় বসবাসকারী শিশু।  হামে আক্রান্ত শিশুর ক্ষেত্রে অভিভাবকদের করণীয় র‍্যাশ দেখা দেওয়ার দিন থেকে অন্তত পাঁচ দিন শিশুকে অন্যদের থেকে আলাদা বা ‘আইসোলেশনে’ রাখুন। পুষ্টিকর খাবার ও পর্যাপ্ত তরলপানীয় নিশ্চিত করুন। জ্বর বা র‍্যাশ দেখা দিলে দেরি না করে চিকিৎসকের পরামর্শ নিন। শিশুকে কখন হাসপাতালে ভর্তি করাবেন শিশুর মধ্যে নিচের লক্ষণগুলো দেখা দিলে দ্রুত হাসপাতালে নিন— শ্বাসকষ্ট বা দ্রুত শ্বাস নেওয়া। বারবার বমি বা মারাত্মক দুর্বলতা। খিঁচুনি বা নিস্তেজ হয়ে পড়া। চোখের মণি ঘোলাটে হওয়া বা দৃষ্টিতে সমস্যা। মুখে গভীর ঘা দেখা দেওয়া। হামের চিকিৎসা ও ভিটামিন ‘এ’-এর প্রয়োজনীয়তা কী হামের জন্য কোনো সুনির্দিষ্ট অ্যান্টিভাইরাল ওষুধ নেই। ব্যবস্থাপনা প্রাথমিকভাবে সহায়ক, লক্ষণ উপশম এবং জটিলতা প্রতিরোধের ওপর জোর দেওয়া হয়। যেমন— জ্বর হলে প্যারাসিটামল  চুলকানি থাকলে এন্টিহিস্টামিন  পরপর দুদিন বয়স অনুযায়ী সঠিক ডোজে উচ্চক্ষমতাসম্পন্ন ভিটামিন ‘এ’ ক্যাপসুল খাওয়াতে হবে।  যদি হামে আক্রান্ত কোনো শিশুর দৃষ্টি সমস্যা বা দেখতে অসুবিধা হয়, কিংবা চোখের মণি ঘোলা লাগে, তাহলে ১৪ দিনের মাথায় আরও একটা ভিটামিন ‘এ’ ক্যাপসুল (মোট তিনটি) দিতে হবে।  চোখে বা কানে সংক্রমণ হলে চোখ, কান ও মুখে এন্টিবায়টিক বা এন্টিফাঙ্গাল ড্রপ/ক্রিম ব্যবহার করতে হয়। নিউমোনিয়া বা ডায়রিয়া আক্রান্ত হলে চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী মুখে বা হাসপাতালে ভর্তি হয়ে শিরাপথে অ্যান্টিবায়োটিক নেওয়া প্রয়োজন হতে পারে। টিকা নেওয়ার পরও শিশুদের হাম হচ্ছে কেন বিভিন্ন জায়গায় অনেক শিশু ‘এমআর’ টিকা পায়নি বা কেউ কেউ একটা নিয়েছে। এর ফলে এসব টিকাবঞ্চিত শিশুর আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি যেমন বেশি, আক্রান্ত হলে অন্যদের মধ্যে ছড়ানোর আশঙ্কাও অনেক বেশি। আবার অনেক সময় টিকাপ্রাপ্ত শিশুদের শরীরে আশানুরূপ হাম প্রতিরোধক অ্যান্টিবডি তৈরি না হলেও সে পুনরায় হামে আক্রান্ত হতে পারে।   যেসব শিশু এখনও হাম টিকা গ্রহণ করেনি বা পূর্ণ ডোজ (দুটি) সম্পন্ন করেনি, তাদের ক্ষেত্রে পরবর্তী করণীয় কী হওয়া উচিত আগামী ৫ এপ্রিল (রোববার) থেকে দেশে বড় পরিসরে হাম-রুবেলা ক্যাম্পেইন শুরু হতে যাচ্ছে। স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের এ কর্মসূচির আওতায় ৬ মাস থেকে ১৫ বছর বয়সি প্রায় দুই কোটির বেশি শিশুকে টিকা দেওয়া হবে। আগে টিকা নেওয়া থাকলেও আপনার শিশুকে এই ক্যাম্পেইনে অবশ্যই টিকা দিন। গর্ভবতী নারী ও প্রাপ্তবয়স্কদের জন্য পরামর্শ কারও জীবনে একবার হাম হয়ে থাকলে তবে সেটি তাকে আজীবন সুরক্ষা দেয়।  গর্ভাবস্থায় হামের টিকা নেওয়া সাধারণত নিষিদ্ধ। কারণ, এটি ভ্রূণের ক্ষতি করতে পারে। প্রাপ্তবয়স্কদের কারও যদি আগে হাম না হয়ে থাকে, টিকা না নিয়ে থাকেন বা টিকাদান সম্পর্কে নিশ্চিত না হন—তাহলে চিকিৎসকের পরামর্শে অন্তত একটি এমএমআর টিকা নেওয়া উচিত। বিশেষ করে সংক্রমিত ব্যক্তির সংস্পর্শে আসার শঙ্কা থাকলে বা ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় ভ্রমণের আগে বুস্টার ডোজ বা কমপক্ষে একটি ডোজ এমএমআর টিকা গ্রহণ করা প্রয়োজন। হামের টিকা একটি ‘লাইভ ভ্যাকসিন’, তাই টিকা নেওয়ার আগে নিজের স্বাস্থ্যের অবস্থা সম্পর্কে চিকিৎসককে জানাতে হবে। হামের টিকা নিলে পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া হয়? না, হামের টিকা নেওয়ার পর কিছু হালকা পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া দেখা যেতে পারে, যা সাধারণত স্বাভাবিক এবং সাময়িক। যথা— হালকা জ্বর ইনজেকশনের জায়গায় ব্যথা বা লালচে হওয়া হালকা র‍্যাশ (ফুসকুড়ি) সামান্য দুর্বলতা বা অস্বস্তি। এগুলো সাধারণত কয়েক দিনের মধ্যেই নিজে থেকেই সেরে যায়। গুরুতর পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া খুবই বিরল। টিকার উপকারিতা এ সামান্য পার্শ্বপ্রতিক্রিয়ার তুলনায় অনেক বেশি। লেখক: এমডি (পেডিয়াট্রিক্স), ডিসিএইচ (শিশু স্বাস্থ্য); সহকারী অধ্যাপক, শিশু বিভাগ, শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ, ঢাকা।
হাম বা মিজেলস: সচেতনতায় কাটবে শঙ্কা
ছড়িয়ে পড়েছে হাম, বাঁচার উপায় ও করণীয়
হাম রুবেওলা ভাইরাস দ্বারা সৃষ্ট অত্যন্ত সংক্রামক একটি রোগ, যা সাধারণত জ্বর, সর্দি, কাশি, লাল চোখ এবং ত্বকে ফুসকুড়ির মাধ্যমে প্রকাশ পায়। হঠাৎ করেই বাংলাদেশে এ রোগের প্রকোপ ব্যাপক আকারে ছড়িয়েছে, যা শিশুদের অভিভাবকদের মাঝেও এক ধরনের ভীতিকর পরিস্থিতি সৃষ্টি করেছে।  হামের ক্ষেত্রে দুটি বিষয় অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। হাম সদৃশ্য জীবাণু দ্বারা নিউমোনিয়া ও হাম জীবাণু দ্বারা আক্রান্ত হওয়ার পরবর্তী নিউমোনিয়া। বিশেষ করে বাংলাদেশসহ উন্নয়নশীল দেশগুলোতে হাম সংক্রমণের পর নিউমোনিয়া একটি বড় জটিলতা হিসেবে দেখা যায়।  হাম সদৃশ জীবাণু দ্বারা নিউমোনিয়া হাম সদৃশ জীবাণু দ্বারা নিউমোনিয়া বলতে এমন অসুখকে বোঝায়, যেখানে রোগীর জ্বর, কাশি, নাক দিয়ে পানি পড়া, চোখ লাল হওয়া, শরীরে র‍্যাশ থাকে। কিন্তু এটি সব সময় হাম ভাইরাস দ্বারা নাও হতে পারে। অন্য ভাইরাসও একই ধরনের উপসর্গ তৈরি করতে পারে। হাম সদৃশ সম্ভাব্য ভাইরাসগুলোর মধ্যে রয়েছে—রুবেলা ভাইরাস, অ্যাডিনোভাইরাস, ইন্টারোভাইরাস, পারভোভাইরাস বি১৯, হিউম্যান হারপাসভাইরাস ৬।  হাম সংক্রমণের পথ সাধারণ তিনটি। এটি কাশি ও হাঁচির মাধ্যমে ছড়ায়, আক্রান্ত ব্যক্তির সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সংস্পর্শ এবং জনসমাগমপূর্ণ পরিবেশে (স্কুল, ডে-কেয়ার)। এসব ঘটনা ও পরিস্থিতির সঙ্গে শিশুদের সম্পর্ক অনেক বেশি হওয়ায় অন্যান্য বয়সিদের তুলনায় তারাই বেশি আক্রান্ত হয়। বিশেষ করে আক্রান্তের ঝুঁকিতে থাকে অপুষ্ট, টিকা না নেওয়া ও ৫ বছরের কম বয়সি শিশু।  হাম জীবাণু দ্বারা আক্রান্ত হওয়ার পরবর্তী নিউমোনিয়া:  অন্যদিকে, হাম হওয়ার পরে যখন ফুসফুসে সংক্রমণ হয়ে নিউমোনিয়া হয়, তাকে পোস্ট মায়াসলেস নিউমোনিয়া বা হাম জীবাণু দ্বারা আক্রান্ত হওয়ার পরবর্তী নিউমোনিয়া বলা হয়। এটি হাম রোগের সবচেয়ে মারাত্মক জটিলতা। কারণ, পোস্ট মায়াসলেস নিউমোনিয়া দুই ধরনের হতে পারে। একটি প্রাইমারি ভাইরাল নিউমোনিয়া, যে হাম ভাইরাস সরাসরি ফুসফুস আক্রান্ত করে। অন্যটি হলো—সেকেন্ডারি ব্যাকটেরিয়াল নিউমোনিয়া। হামের পরে ইমিউনিটি (রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা) কমে যাওয়ার কারণে ব্যাকটেরিয়া সংক্রমণ হয়। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও) বলছে, হাম অত্যন্ত সংক্রামক রোগ। একজন আক্রান্ত ব্যক্তি ৯০ শতাংশ পর্যন্ত সংবেদনশীল ব্যক্তিকে সংক্রমিত করতে পারে। বিশ্বে প্রতি বছর ৯০ লাখ মানুষ এতে আক্রান্ত হয়। মৃত্যু এক লাখ। মৃত্যুর বড় অংশ নিউমোনিয়ার কারণে ঘটে।  বাংলাদেশে হাম নিয়ন্ত্রণে টিকাদান কর্মসূচি থাকলেও মাঝে মাঝে প্রাদুর্ভাব দেখা যায়। এর মূলে সময়মতো টিকা না নেওয়া, অপুষ্টি, ঘনবসতি, সীমান্ত অঞ্চলে সংক্রমণ। আক্রান্তদের মধ্যে ৫ থেকে ৬ শতাংশের নিউমোনিয়া হয়। মারাত্মক ক্ষেত্রে মৃত্যুর প্রধান কারণ নিউমোনিয়া।  হাম জীবাণু দ্বারা আক্রান্ত হওয়ার পরবর্তী নিউমোনিয়ায় মৃত্যুর কারণ এটি দ্রুত রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা নষ্ট করে দেয়। টি-সেল কমে যায়, ম্যাক্রোফেজ কার্যকারিতা কমে এবং অ্যান্টিবডি প্রতিক্রিয়া দুর্বল হয়। ফলে শিশুদের মধ্যে এ রোগের প্রকোপ বেশি।  ক্লিনিক্যাল লক্ষণ: শিশু হামে আক্রান্ত হলে সাধারণত জ্বর, কাশি, চোখ লাল হয়ে যাওয়া।  করণীয়:  হামের নির্দিষ্ট কোনো অ্যান্টিভাইরাল চিকিৎসা নেই। তবে বিশ্রাম, প্রচুর পানি পান এবং চিকিৎসকের পরামর্শে প্যারাসিটামল অথবা আইবুপ্রোফেন দিয়ে উপসর্গ নিয়ন্ত্রণ করা হয়।  হাম থেকে সুরক্ষায় সবচেয়ে কার্যকর উপায় হলো টিকা। বাংলাদেশে এটি দুটি ডোজ দেওয়া হয়। প্রথম ডোজ এমআর ভ্যাকসিন, যেটি ৯ মাস বয়সে দিতে হয়। আর বুস্টার ডোজ দিতে হয় ১৫ মাস বয়সে। এছাড়াও উচ্চমাত্রার ভিটামিন এ, অপুষ্টি প্রতিরোধ ও সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণ। এছাড়াও সাধারণ চিকিৎসা হিসেবে অক্সিজেন থেরাপি, ভিটামিন এ ও পর্যাপ্ত বিশ্রাম নিতে হবে।  লেখক : সহযোগী অধ্যাপক  পালমনোলজি বিভাগ,  বাংলাদেশ শিশু হাসপাতাল ও ইনস্টিটিউট
ছড়িয়ে পড়েছে হাম, বাঁচার উপায় ও করণীয়
ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে সকালে যেসব কাজ করবেন
ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে সকালে যেসব কাজ করবেন
ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে রাখতে প্রতিদিনের জীবনযাপনে নিয়ম মেনে চলা খুবই জরুরি। শুধু ওষুধ বা চিকিৎসা নয়, বরং দৈনন্দিন অভ্যাস - বিশেষ করে দিনের শুরুটা কেমন হচ্ছে, তা রক্তে শর্করার মাত্রার ওপর বড় প্রভাব ফেলে। অনেক সময় দেখা যায়, সকালে কিছু ছোট ভুলের কারণে সারাদিনই শর্করার মাত্রা ওঠানামা করে। সঠিকভাবে দিন শুরু করলে শরীর স্থিতিশীল থাকে, শক্তি বজায় থাকে এবং হঠাৎ করে শর্করা বেড়ে বা কমে যাওয়ার ঝুঁকিও কমে। একটি নির্দিষ্ট ও স্বাস্থ্যকর সকালের রুটিন শুধু ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে সাহায্য করে না, এটি মানসিক চাপ কমাতে, কাজের গতি বাড়াতে এবং সারাদিন ভালো অনুভব করতেও সহায়ক হয়। তাই দিনের শুরুতে কিছু সহজ কিন্তু গুরুত্বপূর্ণ অভ্যাস গড়ে তোলা প্রয়োজন, যা দীর্ঘমেয়াদে উপকারে আসতে পারে। নিচে এমন ৮টি কাজ তুলে ধরা হলো, যা প্রতিদিন সকালে অনুসরণ করলে ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে রাখা সহজ হবে। প্রতিদিন একই সময়ে ঘুম থেকে উঠুন প্রতিদিন নির্দিষ্ট সময়ে ঘুম থেকে ওঠার অভ্যাস শরীরের অভ্যন্তরীণ ঘড়িকে ঠিক রাখে। এতে রক্তে শর্করার ওঠানামা নিয়ন্ত্রণে রাখা সহজ হয়। রক্তে শর্করা মাপুন সকালে ঘুম থেকে উঠেই রক্তে শর্করার মাত্রা পরীক্ষা করা ভালো। এতে দিনের শুরুতে শরীরের অবস্থা বোঝা যায় এবং প্রয়োজন অনুযায়ী খাদ্য বা ওষুধের পরিকল্পনা করা সহজ হয়। স্বাস্থ্যকর নাস্তা করুন সকালের নাস্তা বাদ দেওয়া ঠিক নয়। এমন খাবার খাওয়া উচিত যাতে কার্বোহাইড্রেট, প্রোটিন ও ভালো চর্বির ভারসাম্য থাকে। যেমন ওটস, ডিম, শাকসবজি বা দই দিয়ে তৈরি খাবার উপকারী হতে পারে। নিয়মমতো ওষুধ গ্রহণ করুন চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী নিয়মিত ওষুধ খাওয়া জরুরি। প্রতিদিন একই সময়ে ওষুধ নিলে রক্তে শর্করার মাত্রা স্থিতিশীল রাখতে সাহায্য করে। পর্যাপ্ত পানি পান করুন শরীরের পানির ভারসাম্য ঠিক রাখা খুব গুরুত্বপূর্ণ। সকালে উঠে এক গ্লাস পানি পান করার অভ্যাস শরীরকে সতেজ রাখে এবং বিপাকক্রিয়ায় সহায়তা করে। হালকা ব্যায়াম করুন সকালে কিছুটা সময় ব্যায়াম করলে রক্তে শর্করার মাত্রা নিয়ন্ত্রণে থাকে। হাঁটা, সাইক্লিং বা যোগব্যায়াম এর জন্য ভালো বিকল্প হতে পারে। দিনের পরিকল্পনা করুন আগেই দিনের কাজ ও খাবারের পরিকল্পনা করে রাখলে ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে রাখা সহজ হয়। এতে অনিয়ম বা হঠাৎ ভুল খাবার খাওয়ার ঝুঁকি কমে। নিয়ম বজায় রাখুন সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো ধারাবাহিকতা। প্রতিদিন একই রুটিন অনুসরণ করলে শরীর ধীরে ধীরে অভ্যস্ত হয়ে যায় এবং রক্তে শর্করার মাত্রা স্থিতিশীল থাকে। ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে রাখতে সকালের একটি সুসংগঠিত রুটিন অনেক সহায়ক হতে পারে। নিয়মিত অভ্যাস গড়ে তুললে শুধু রক্তে শর্করাই নয়, সামগ্রিক স্বাস্থ্যেরও উন্নতি হয়। তবে ব্যক্তিভেদে প্রয়োজন ভিন্ন হতে পারে, তাই চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী রুটিন তৈরি করাই সবচেয়ে ভালো। সূত্র : অলটাইস
হাম বা মিজেলস: সচেতনতায় কাটবে শঙ্কা
হাম বা মিজেলস: সচেতনতায় কাটবে শঙ্কা
সম্প্রতি শিশুদের মধ্যে হাম বা মিজেলসের প্রাদুর্ভাব কিছুটা বেড়েছে। এটি শুধু একটি সাধারণ জ্বর বা চর্মরোগ নয়, বরং সঠিক সময়ে ব্যবস্থা না নিলে এটি শিশুর জীবনের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারে। হাম নিয়ে অভিভাবকদের মনে থাকা সাধারণ কিছু প্রশ্ন এবং এর সমাধান নিয়ে আলোচনা করা হলো। হামের প্রাথমিক লক্ষণগুলো কী কী হামের শুরুটা হয় উচ্চমাত্রার জ্বর দিয়ে। এর সঙ্গে কাশি, চোখ লাল হওয়া এবং অনবরত নাক দিয়ে পানি পড়তে পারে। জ্বরের প্রায় চার দিনের মাথায় কান বা গলার নিচ থেকে লালচে র‍্যাশ বা দানা বের হতে শুরু করে এবং দ্রুত তা মুখমণ্ডল হয়ে সারা শরীরে ছড়িয়ে পড়ে। হাম কতটা ছোঁয়াচে, এর জটিলতা কী হাম অত্যন্ত সংক্রামক রোগ। এটি মূলত শ্বাসনালির মাধ্যমে শরীরে প্রবেশ করে শিশুর রোগ-প্রতিরোধ ক্ষমতাকে সাময়িকভাবে ভেঙে দেয়। এর ফলে পরবর্তী সময়ে নিউমোনিয়া, মারাত্মক ডায়রিয়া, কান পাকা, মুখে ঘা এবং এমনকি মস্তিষ্কের প্রদাহ (এনসেফালাইটিস) হতে পারে। শরীরের ভিটামিন ‘এ’ কমে যাওয়ার ফলে চোখের শুষ্কতা থেকে শুরু করে অন্ধত্ব পর্যন্ত হতে পারে। জ্বরের সঙ্গে র‍্যাশ মানেই কী হাম জ্বরের সঙ্গে র‍্যাশ মানেই সবসময় হাম নয়। জার্মান হাম (রুবেলা), ভাইরাল একজ্যান্থেম (ভাইরাসজনিত র‍্যাশ) ডেঙ্গু বা চিকুনগুনিয়াতেও এমনটা হতে পারে। তবে উচ্চ জ্বর, চোখ লাল হওয়া এবং গলার নিচ থেকে র‍্যাশ শুরু হওয়া হামের জোরালো লক্ষণ। পরিসংখ্যানে দেখা গেছে, বর্তমানে হাসপাতালে ভর্তি হওয়া র‍্যাশ আক্রান্ত প্রতি ১০ জন শিশুর মধ্যে আটজনই মূলত হামে আক্রান্ত। বাকি দুজন জার্মান হাম বা রুবেলা ভাইরাসে আক্রান্ত। হাম নিশ্চিতে কী কী পরীক্ষা করা যায় IgM অ্যান্টিবডি টেস্ট: এর মাধ্যমে শরীরে সক্রিয় হামের সংক্রমণ আছে কি না তা নিশ্চিত হওয়া যায়। আরটি-পিসিআর (RT-PCR): নাক, গলা বা প্রস্রাবের নমুনা থেকে ভাইরাস শনাক্ত করা হয়। হামের ঝুঁকিতে কারা বেশি মায়ের বুকের দুধ না পাওয়া শিশু। বিশেষ করে পাঁচ বছরের কম বয়সি শিশু যারা টিকা নেয়নি। অপুষ্টিতে (বিশেষ করে ভিটামিন ‘এ’ এর অভাব) ভোগা শিশুরা বেশি ঝুঁকিপূর্ণ। গর্ভবতী নারী।  দুর্বল ইমিউনিটির শিশু। ঘনবসতিপূর্ণ এলাকায় বসবাসকারী শিশু।  হামে আক্রান্ত শিশুর ক্ষেত্রে অভিভাবকদের করণীয় র‍্যাশ দেখা দেওয়ার দিন থেকে অন্তত পাঁচ দিন শিশুকে অন্যদের থেকে আলাদা বা ‘আইসোলেশনে’ রাখুন। পুষ্টিকর খাবার ও পর্যাপ্ত তরলপানীয় নিশ্চিত করুন। জ্বর বা র‍্যাশ দেখা দিলে দেরি না করে চিকিৎসকের পরামর্শ নিন। শিশুকে কখন হাসপাতালে ভর্তি করাবেন শিশুর মধ্যে নিচের লক্ষণগুলো দেখা দিলে দ্রুত হাসপাতালে নিন— শ্বাসকষ্ট বা দ্রুত শ্বাস নেওয়া। বারবার বমি বা মারাত্মক দুর্বলতা। খিঁচুনি বা নিস্তেজ হয়ে পড়া। চোখের মণি ঘোলাটে হওয়া বা দৃষ্টিতে সমস্যা। মুখে গভীর ঘা দেখা দেওয়া। হামের চিকিৎসা ও ভিটামিন ‘এ’-এর প্রয়োজনীয়তা কী হামের জন্য কোনো সুনির্দিষ্ট অ্যান্টিভাইরাল ওষুধ নেই। ব্যবস্থাপনা প্রাথমিকভাবে সহায়ক, লক্ষণ উপশম এবং জটিলতা প্রতিরোধের ওপর জোর দেওয়া হয়। যেমন— জ্বর হলে প্যারাসিটামল  চুলকানি থাকলে এন্টিহিস্টামিন  পরপর দুদিন বয়স অনুযায়ী সঠিক ডোজে উচ্চক্ষমতাসম্পন্ন ভিটামিন ‘এ’ ক্যাপসুল খাওয়াতে হবে।  যদি হামে আক্রান্ত কোনো শিশুর দৃষ্টি সমস্যা বা দেখতে অসুবিধা হয়, কিংবা চোখের মণি ঘোলা লাগে, তাহলে ১৪ দিনের মাথায় আরও একটা ভিটামিন ‘এ’ ক্যাপসুল (মোট তিনটি) দিতে হবে।  চোখে বা কানে সংক্রমণ হলে চোখ, কান ও মুখে এন্টিবায়টিক বা এন্টিফাঙ্গাল ড্রপ/ক্রিম ব্যবহার করতে হয়। নিউমোনিয়া বা ডায়রিয়া আক্রান্ত হলে চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী মুখে বা হাসপাতালে ভর্তি হয়ে শিরাপথে অ্যান্টিবায়োটিক নেওয়া প্রয়োজন হতে পারে। টিকা নেওয়ার পরও শিশুদের হাম হচ্ছে কেন বিভিন্ন জায়গায় অনেক শিশু ‘এমআর’ টিকা পায়নি বা কেউ কেউ একটা নিয়েছে। এর ফলে এসব টিকাবঞ্চিত শিশুর আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি যেমন বেশি, আক্রান্ত হলে অন্যদের মধ্যে ছড়ানোর আশঙ্কাও অনেক বেশি। আবার অনেক সময় টিকাপ্রাপ্ত শিশুদের শরীরে আশানুরূপ হাম প্রতিরোধক অ্যান্টিবডি তৈরি না হলেও সে পুনরায় হামে আক্রান্ত হতে পারে।   যেসব শিশু এখনও হাম টিকা গ্রহণ করেনি বা পূর্ণ ডোজ (দুটি) সম্পন্ন করেনি, তাদের ক্ষেত্রে পরবর্তী করণীয় কী হওয়া উচিত আগামী ৫ এপ্রিল (রোববার) থেকে দেশে বড় পরিসরে হাম-রুবেলা ক্যাম্পেইন শুরু হতে যাচ্ছে। স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের এ কর্মসূচির আওতায় ৬ মাস থেকে ১৫ বছর বয়সি প্রায় দুই কোটির বেশি শিশুকে টিকা দেওয়া হবে। আগে টিকা নেওয়া থাকলেও আপনার শিশুকে এই ক্যাম্পেইনে অবশ্যই টিকা দিন। গর্ভবতী নারী ও প্রাপ্তবয়স্কদের জন্য পরামর্শ কারও জীবনে একবার হাম হয়ে থাকলে তবে সেটি তাকে আজীবন সুরক্ষা দেয়।  গর্ভাবস্থায় হামের টিকা নেওয়া সাধারণত নিষিদ্ধ। কারণ, এটি ভ্রূণের ক্ষতি করতে পারে। প্রাপ্তবয়স্কদের কারও যদি আগে হাম না হয়ে থাকে, টিকা না নিয়ে থাকেন বা টিকাদান সম্পর্কে নিশ্চিত না হন—তাহলে চিকিৎসকের পরামর্শে অন্তত একটি এমএমআর টিকা নেওয়া উচিত। বিশেষ করে সংক্রমিত ব্যক্তির সংস্পর্শে আসার শঙ্কা থাকলে বা ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় ভ্রমণের আগে বুস্টার ডোজ বা কমপক্ষে একটি ডোজ এমএমআর টিকা গ্রহণ করা প্রয়োজন। হামের টিকা একটি ‘লাইভ ভ্যাকসিন’, তাই টিকা নেওয়ার আগে নিজের স্বাস্থ্যের অবস্থা সম্পর্কে চিকিৎসককে জানাতে হবে। হামের টিকা নিলে পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া হয়? না, হামের টিকা নেওয়ার পর কিছু হালকা পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া দেখা যেতে পারে, যা সাধারণত স্বাভাবিক এবং সাময়িক। যথা— হালকা জ্বর ইনজেকশনের জায়গায় ব্যথা বা লালচে হওয়া হালকা র‍্যাশ (ফুসকুড়ি) সামান্য দুর্বলতা বা অস্বস্তি। এগুলো সাধারণত কয়েক দিনের মধ্যেই নিজে থেকেই সেরে যায়। গুরুতর পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া খুবই বিরল। টিকার উপকারিতা এ সামান্য পার্শ্বপ্রতিক্রিয়ার তুলনায় অনেক বেশি। লেখক: এমডি (পেডিয়াট্রিক্স), ডিসিএইচ (শিশু স্বাস্থ্য); সহকারী অধ্যাপক, শিশু বিভাগ, শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ, ঢাকা।
ছড়িয়ে পড়েছে হাম, বাঁচার উপায় ও করণীয়
ছড়িয়ে পড়েছে হাম, বাঁচার উপায় ও করণীয়
হাম রুবেওলা ভাইরাস দ্বারা সৃষ্ট অত্যন্ত সংক্রামক একটি রোগ, যা সাধারণত জ্বর, সর্দি, কাশি, লাল চোখ এবং ত্বকে ফুসকুড়ির মাধ্যমে প্রকাশ পায়। হঠাৎ করেই বাংলাদেশে এ রোগের প্রকোপ ব্যাপক আকারে ছড়িয়েছে, যা শিশুদের অভিভাবকদের মাঝেও এক ধরনের ভীতিকর পরিস্থিতি সৃষ্টি করেছে।  হামের ক্ষেত্রে দুটি বিষয় অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। হাম সদৃশ্য জীবাণু দ্বারা নিউমোনিয়া ও হাম জীবাণু দ্বারা আক্রান্ত হওয়ার পরবর্তী নিউমোনিয়া। বিশেষ করে বাংলাদেশসহ উন্নয়নশীল দেশগুলোতে হাম সংক্রমণের পর নিউমোনিয়া একটি বড় জটিলতা হিসেবে দেখা যায়।  হাম সদৃশ জীবাণু দ্বারা নিউমোনিয়া হাম সদৃশ জীবাণু দ্বারা নিউমোনিয়া বলতে এমন অসুখকে বোঝায়, যেখানে রোগীর জ্বর, কাশি, নাক দিয়ে পানি পড়া, চোখ লাল হওয়া, শরীরে র‍্যাশ থাকে। কিন্তু এটি সব সময় হাম ভাইরাস দ্বারা নাও হতে পারে। অন্য ভাইরাসও একই ধরনের উপসর্গ তৈরি করতে পারে। হাম সদৃশ সম্ভাব্য ভাইরাসগুলোর মধ্যে রয়েছে—রুবেলা ভাইরাস, অ্যাডিনোভাইরাস, ইন্টারোভাইরাস, পারভোভাইরাস বি১৯, হিউম্যান হারপাসভাইরাস ৬।  হাম সংক্রমণের পথ সাধারণ তিনটি। এটি কাশি ও হাঁচির মাধ্যমে ছড়ায়, আক্রান্ত ব্যক্তির সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সংস্পর্শ এবং জনসমাগমপূর্ণ পরিবেশে (স্কুল, ডে-কেয়ার)। এসব ঘটনা ও পরিস্থিতির সঙ্গে শিশুদের সম্পর্ক অনেক বেশি হওয়ায় অন্যান্য বয়সিদের তুলনায় তারাই বেশি আক্রান্ত হয়। বিশেষ করে আক্রান্তের ঝুঁকিতে থাকে অপুষ্ট, টিকা না নেওয়া ও ৫ বছরের কম বয়সি শিশু।  হাম জীবাণু দ্বারা আক্রান্ত হওয়ার পরবর্তী নিউমোনিয়া:  অন্যদিকে, হাম হওয়ার পরে যখন ফুসফুসে সংক্রমণ হয়ে নিউমোনিয়া হয়, তাকে পোস্ট মায়াসলেস নিউমোনিয়া বা হাম জীবাণু দ্বারা আক্রান্ত হওয়ার পরবর্তী নিউমোনিয়া বলা হয়। এটি হাম রোগের সবচেয়ে মারাত্মক জটিলতা। কারণ, পোস্ট মায়াসলেস নিউমোনিয়া দুই ধরনের হতে পারে। একটি প্রাইমারি ভাইরাল নিউমোনিয়া, যে হাম ভাইরাস সরাসরি ফুসফুস আক্রান্ত করে। অন্যটি হলো—সেকেন্ডারি ব্যাকটেরিয়াল নিউমোনিয়া। হামের পরে ইমিউনিটি (রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা) কমে যাওয়ার কারণে ব্যাকটেরিয়া সংক্রমণ হয়। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও) বলছে, হাম অত্যন্ত সংক্রামক রোগ। একজন আক্রান্ত ব্যক্তি ৯০ শতাংশ পর্যন্ত সংবেদনশীল ব্যক্তিকে সংক্রমিত করতে পারে। বিশ্বে প্রতি বছর ৯০ লাখ মানুষ এতে আক্রান্ত হয়। মৃত্যু এক লাখ। মৃত্যুর বড় অংশ নিউমোনিয়ার কারণে ঘটে।  বাংলাদেশে হাম নিয়ন্ত্রণে টিকাদান কর্মসূচি থাকলেও মাঝে মাঝে প্রাদুর্ভাব দেখা যায়। এর মূলে সময়মতো টিকা না নেওয়া, অপুষ্টি, ঘনবসতি, সীমান্ত অঞ্চলে সংক্রমণ। আক্রান্তদের মধ্যে ৫ থেকে ৬ শতাংশের নিউমোনিয়া হয়। মারাত্মক ক্ষেত্রে মৃত্যুর প্রধান কারণ নিউমোনিয়া।  হাম জীবাণু দ্বারা আক্রান্ত হওয়ার পরবর্তী নিউমোনিয়ায় মৃত্যুর কারণ এটি দ্রুত রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা নষ্ট করে দেয়। টি-সেল কমে যায়, ম্যাক্রোফেজ কার্যকারিতা কমে এবং অ্যান্টিবডি প্রতিক্রিয়া দুর্বল হয়। ফলে শিশুদের মধ্যে এ রোগের প্রকোপ বেশি।  ক্লিনিক্যাল লক্ষণ: শিশু হামে আক্রান্ত হলে সাধারণত জ্বর, কাশি, চোখ লাল হয়ে যাওয়া।  করণীয়:  হামের নির্দিষ্ট কোনো অ্যান্টিভাইরাল চিকিৎসা নেই। তবে বিশ্রাম, প্রচুর পানি পান এবং চিকিৎসকের পরামর্শে প্যারাসিটামল অথবা আইবুপ্রোফেন দিয়ে উপসর্গ নিয়ন্ত্রণ করা হয়।  হাম থেকে সুরক্ষায় সবচেয়ে কার্যকর উপায় হলো টিকা। বাংলাদেশে এটি দুটি ডোজ দেওয়া হয়। প্রথম ডোজ এমআর ভ্যাকসিন, যেটি ৯ মাস বয়সে দিতে হয়। আর বুস্টার ডোজ দিতে হয় ১৫ মাস বয়সে। এছাড়াও উচ্চমাত্রার ভিটামিন এ, অপুষ্টি প্রতিরোধ ও সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণ। এছাড়াও সাধারণ চিকিৎসা হিসেবে অক্সিজেন থেরাপি, ভিটামিন এ ও পর্যাপ্ত বিশ্রাম নিতে হবে।  লেখক : সহযোগী অধ্যাপক  পালমনোলজি বিভাগ,  বাংলাদেশ শিশু হাসপাতাল ও ইনস্টিটিউট