পাকিস্তানের সিনেমা-নাটকের জনপ্রিয়তা এখন প্রতিবেশী দেশগুলো তো বটেই, বিশ্বের নানা প্রান্তে বাড়ছে হুহু করে। পাকিস্তানি এসব নাটক-সিরিজের অভিনেতা-অভিনেত্রীদের ব্যক্তিগত জীবন নিয়েও ভক্তদের আগ্রহ প্রবল। তাদের পারিবারিক-সামাজিক বিষয়াদিতেও অনেকের জিজ্ঞাসা রয়ে যায়। সাফল্যের চূড়ায় থাকলেও পাকিস্তানি অনেক তারকাই এখনো বিয়ের পিঁড়িতে বসেননি। অনেকে আবার বিচ্ছেদের পর আবারও ‘ব্যাচেলর’। অনেকের মনে প্রশ্ন, ত্রিশ পেরিয়ে গেলেও কেন তারা বিয়ে করেননি? বিয়ে করা বা অবিবাহিত থাকা খুবই ব্যক্তিগত পছন্দ-অপছন্দের বিষয়। তারপরও দর্শক-ভক্তরা প্রিয় তারকার বিয়ের সানাই শোনার অপেক্ষায় থাকেন। ত্রিশ বছরের বেশি এরকম প্রিয় তারকাদের নিয়েই এবারের আয়োজন।
মেহবিশ হায়াত

একজন শিশুশিল্পী হিসেবে ক্যারিয়ার শুরু করা মেহবিশ হায়াত এখন পাকিস্তানি গ্ল্যামার ভুবনে জনপ্রিয়তার শীর্ষে। পরবর্তী সময় তিনি নাটক-সিনেমায় নিজেকে আলোকিত করেন। সাবলীল অভিনয় ও গ্ল্যামার দিয়ে মেহবিশ চলচ্চিত্র অঙ্গনে নিজেকে আলাদা করে তোলেন। ৪৩ বছর বয়সী মেহবিশ হায়াত এখনও অবিবাহিত। মাঝে দাউদ ইব্রাহিমের সঙ্গে তার নাম জড়ায়। মেহবিশ বিয়ে প্রসঙ্গে বলেন, তার ক্যারিয়ার ও নিজের কাজের প্রতি আবেগকে সম্মান করতে পারবে এমন পুরুষ খুঁজে পেলেই তিনি বিয়ে করবেন। মেহবিশ এমন একজন মানুষ, যিনি কখনও তার ব্যক্তিগত জীবন ভাগ করে নেন না। ‘জওয়ানি ফির নাহি আনি’ তারকার বিয়ে দেখতে ভক্তরা উন্মুখ।
সাবা কামার

সাবা কামার পাকিস্তানি আবেদনময়ী তারকার অন্যতম। ছোট ও বড় পর্দায় সমান সাফল্যের পাশাপাশি বলিউডের ‘হিন্দি মিডিয়াম’-এ অভিনয় করে তিনি প্রশংসা কুড়ান। কিছুদিন ধরে শোবিজ অঙ্গনে গুঞ্জন—বিয়ে করতে যাচ্ছেন ৪১ বছরের রাজকুমারী সাবা কামার। সম্প্রতি এই তারকা ইঙ্গিত দিয়েছেন যে, তিনি তার জীবনের ভালোবাসা খুঁজে পেয়েছেন এবং খুব শিগগির বিয়ে করতে যাচ্ছেন। তবে এর বেশি কিছু শেয়ার করেননি। এখনও অবিবাহিত এই ড্রিমগার্লের ভক্তরা তাকে তাদের প্রিয় কনে হিসেবে দেখতে আগ্রহী।
ইয়ুমনা জায়দি

হালের আলোচিত পাকিস্তানি টিভি ধারাবাহিক ‘তেরে বিন’-এ দুর্দান্ত অভিনয় করে প্রশংসা কুড়িয়েছেন অভিনেত্রী ইয়ুমনা জায়দি। তিনি একজন নতুন প্রজন্মের পাকিস্তানি নারী তারকা। বাণিজ্যিক ও সমালোচক উভয় মহলে প্রশংসিতদের একজন ইয়ুমনা। ছোট-বড় উভয় পর্দায় আর শক্তিশালী উপস্থিতি দর্শকের হৃদয়কে তৃপ্ত করে। প্রতিটি চরিত্রের সঙ্গেই তিনি সাবলীলভাবে মানিয়ে নিতে পারেন। অসাধারণ প্রতিভাবান এই অবিবাহিত অভিনেত্রীর ভক্তরা তার ব্যক্তিগত জীবন সম্পর্কে আরও জানতে চান। তবে ক্যারিয়ারের সোনালি গগনে থাকা ইয়ুমনা জানান, তার বিয়ে এমন একটি বিষয়, যার জন্য ভক্তদের অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করতে হবে।
বিলাল আব্বাস খান

বিলাল আব্বাস খান উর্দু নাটক-সিরিজকে বৈশ্বিকতায় পৌঁছে দিচ্ছেন। বৈচিত্র্যময় চরিত্রে অভিনয়ের জন্য সুপরিচিত। চরিত্রের প্রয়োজনে বারবার নিজেকে ভেঙে আবার গড়তে পছন্দ করেন। এ মুহূর্তে বিলাল আব্বাস খান পাকিস্তানের সবচেয়ে প্রিয় তারকাদের মধ্যে একজন। হানিয়া আমিরের সঙ্গে সাড়া জাগানো ‘মেরে জিন্দেগি হ্যায় তু’ নাটকে রোমান্টিক আবহ দেখে ভক্তরা তাকেও বিয়ের পিঁড়িতে দেখতে আগ্রহী। তবে হাজার হাজার তরুণীর হৃদয়কে দোলা দেওয়া বিলাল আব্বাস কবে বিয়ে করবেন, সে ব্যাপারে কখনোই কোনো ধারণা দেননি। তাই ভক্তরা বত্রিশ বছরের এই অভিনেতার বিয়ে নিয়ে কিছুটা দ্বিধান্বিত।
সজল আলি

পাকিস্তানি টিভি তারকা সজল আলী আবারও বিয়ে করছেন—কয়েক দিন ধরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে গুঞ্জন ছড়িয়েছে। হাল আমলের অন্যতম সেরা এই অভিনেত্রী নতুন বছরের শুরুতেই সহশিল্পী হামজা সোহাইলকে বিয়ে করবেন বলে চারদিকে চাউর হয়। তবে বৈচিত্র্যময় এই অভিনেত্রী জানান, ‘জীবনের কোনো খবর থাকলে, যদি বিয়ের খবর হয়, তা সরাসরি আমার কাছ থেকেই আসবে।’ তিনি বলিউডের ‘মম’ ও পাকিস্তানের ‘জিন্দেগি কিতনি হাসিন হ্যায়’সহ বেশ কয়েকটি সিনেমায় অভিনয় করেছেন। এর আগে সহ-অভিনেতা আহাদ রাজা মীরের সঙ্গে বিয়ে হলেও দ্রুতই তাদের মধ্যে বিবাহবিচ্ছেদ ঘটে। তিনি এখন অবিবাহিত, এবং তার ভক্তরা তাকে আবার সুখ খুঁজে পেতে দেখতে চান।
আহাদ রাজা মীর

পাকিস্তানি অভিনেতা আহাদ রাজা মীর অভিনয়ের পাশপাশি সংগীতশিল্পী এবং লেখক হিসেবেও সুপরিচিত। অবশ্য টেলিভিশন সিরিয়ালের জন্যই তিনি জনপ্রিয়তা অর্জন করেছেন। পাকিস্তানি বিনোদন অঙ্গনে মোস্ট ভ্যালুয়েবল ব্যাচেলর হিসেবেই দেখা হয় তাকে। এর আগে বিয়ে হলেও খুব বেশিদিন সংসার হয়নি। বিবাহবিচ্ছেদের পর অনেক তারকার সঙ্গে নাম যুক্ত হলেও সেগুলো নিয়ে খুব বেশি উচ্চবাচ্য করেননি আহাদ রাজা মীর। এর পরও ভক্তরা তার প্রেমজীবন সম্পর্কে জানতে আগ্রহী। এ মুহূর্তে বত্রিশ বছর বয়সী এ তারকাকে ব্যাচেলরই বলা যায়। ভক্তরা তাকে শিগগির বিয়ে করতে দেখতে চান।
মায়া আলী

৩৬ বছর বয়সী মায়া আলী পাকিস্তানি সুন্দরী তারকাদের অন্যতম। এখনও তিনি অবিবাহিত। ক্যারিয়ারে দুর্দান্ত কিছু কাজ করে জনপ্রিয়তার চূড়ায় পৌঁছান তিনি। নাটক ও চলচ্চিত্র উভয় ক্ষেত্রেই দীপ্ত পদচারণা মায়া আলীর। ২০২৪ সালে আলী ওয়াহাজ আলী ও হাসিব হাসানের সঙ্গে রোমান্টিক নাটক ‘সুন্ন মেরে দিল’-এ অনবদ্য অভিনয় করেন। মায়া আলী একটি অত্যন্ত সফল ব্র্যান্ডের গর্বিত মালিক। ক্যারিয়ারে খ্যাতির শীর্ষে গেলেও এখনও অবিবাহিত হাজারো পুরুষের হৃদয় কাড়া এই অভিনেত্রী। ভক্তরা অধীর আগ্রহে অপেক্ষায় আছেন প্রিয় অভিনেত্রীর বিয়ে দেখার জন্য। কার ভাগ্যে জুটবে সেই মালা, এ নিয়ে আলোচনার কমতি নেই।



-1778389301-16579_1778389350.webp)