সংগীতের সুরের তালে হৃদয়কে আন্দোলিত করাতে পারতেন সুরসম্রাজ্ঞী আশা ভোসলে। শুধু সুরের মায়ায় বুঁদ করে রাখাই নয়, ভারতীয় সংগীতের এই কিংবদন্তি ছিলেন একজন অনুরাগী গৃহিণী ও খাদ্যরসিক। মাইক্রোফোনের পেছনে যেমন সুরের জাদু তুলে তৃপ্তি পেতেন, রান্নাঘরেও ছিলেন ঠিক ততটাই।
শুধু গানই নয়, আশা ভোসলের রান্নাও মন জয় করেছিল সবার। গানের পাশাপাশি তিনি একটি রেস্তোরাঁর চেইনও প্রতিষ্ঠা করেছিলেন। কিংবদন্তি এই গায়িকার হাতে বানানো শামি কাবাবের ভক্ত ছিলেন বোন লতা মুঙ্গেশকর। তার রেস্তোরাঁর সিগনেচার ‘মা কা ডাল’ এবং বিরিয়ানি মানুষের মন জয় করে। দুবাইয়ে নিজের নামে একটি ভারতীয় রেস্তোরাঁ খুলেছিলেন আশা ভোসলে। সেই রেস্তোরাঁর ভারতীয় খাবার সেখানকার মানুষের খুবই প্রিয়।

সারা বিশ্বে তার প্রায় ১০টি রেস্তোরাঁ রয়েছে। দুবাই ছাড়াও লন্ডন ও ম্যানচেস্টারে একটি করে এবং বার্মিংহামে রয়েছে দুটি রেস্তোরাঁ। কুয়েতে পাঁচটি রেস্তোরাঁয় ভারতীয় খাবার পরিবেশন করা হয়। এ ছাড়াও দোহা, কাতার, বাহরাইন, আবুধাবির মতো মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোয় রয়েছে তার নামকরা রেস্তোরাঁ।

রান্না করা ও খাবার পরিবেশনের প্রতি আশা ভোসলের ছিল গভীর ভালোবাসা। সুরের মূর্ছনায় ভক্তদের মুগ্ধ করা আশা ভোসলে নিজেই রান্না করতে ভালোবাসতেন। এক সাক্ষাৎকারে সেফ কোটে তাকে দেখতে খুব ভালো লাগে বলে জানিয়েছিলেন। ফিল্ম ইন্ডাস্ট্রির মানুষজনের জন্য তিনি নিয়মিত প্রচুর খাবার রান্না করতেন।
কিংবদন্তি সংগীতশিল্পী আশা ভোসলে রোববার (১২ এপ্রিল) কোটি কোটি ভক্তকে কাঁদিয়ে চলে গেলেন না ফেরার দেশ। ৯২ বছর বয়সে মুম্বাইয়ের ব্রিচ ক্যান্ডি হাসপাতালে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন নন্দিত এই সংগীতশিল্পী। তার কিংবদন্তিতুল্য সংগীতজীবনে তিনি যেমন শীর্ষে ছিলেন, তেমনি ছিলেন এক অনুরাগী খাদ্যরসিক।



-1778389301-16579_1778389350.webp)