পাকিস্তানি নাটক এখন বিশ্বব্যাপী জনপ্রিয়তার শীর্ষে। কিছুটা ধীরগতির হলেও এসব নাটক হৃদয়স্পর্শী প্রেম ও সামাজিক গল্পের এক অনন্য আখ্যান। খুব বেশি দীর্ঘ বা অতিনাটকীয় না হয়ে পাকিস্তানি নাটকগুলো ২০ থেকে ৩৫ পর্বের মধ্যে শেষ হয়। এসব সিরিয়াল বাস্তবধর্মী গল্পের পাশাপাশি পারিবারিক টানাপোড়েনের অসাধারণ উপস্থাপন। অনেক সময় সাধারণ মানের চিত্রনাট্যও সফল হয় প্রধান চরিত্রগুলোর রসায়নে। কয়েক বছর ধরে পাকিস্তানি নাটকে বেশ কিছু দুর্দান্ত অন-স্ক্রিন জুটির দেখা মিলেছে, যাদের রসায়ন দর্শকের হৃদয়কে আন্দোলিত করে। জুটিগুলোর আকর্ষণ এতটাই যে, পর্দার বাইরেও তাদের নিয়ে চলে চর্চা। সাম্প্রতিক কালের এমন সাড়া জাগানো কয়েকটি অন-স্ক্রিন জুটি নিয়েই এবারের আয়োজন।
দানিশ তাইমুর ও সারা খান

পাকিস্তানের অন্যতম জনপ্রিয় সিরিয়াল ‘শের’-এ প্রথমবারের মতো দুই সুপারস্টার দানিশ তাইমুর ও সারা খানকে দেখা যায়। অন-স্ক্রিনে তাদের রসায়ন মুগ্ধতা ছড়ায়। শের ও ডক্টর ফজরের মধ্যে ভালোবাসা কীভাবে গড়ে উঠবে এবং এগিয়ে যাবে, তা দেখার জন্য ভক্তরা প্রতি সপ্তাহে টিভির সামনে অধীর হয়ে থাকত। দানিশ-সারার চরিত্রগুলো ছিল অত্যন্ত শক্তিশালী। তবে প্রতিটি দৃশ্যে তারা একে অন্যের পরিপূরক হিসেবে দারুণ কাজ করেছেন।
আহাদ রাজা মীর ও দানানির মোবিন

আহাদ রাজা মীর ও দানানির মোবিন রোমান্টিক ড্রামা ‘মিম সে মোহাব্বত’-এ নজরকাড়া অভিনয় করেন। বয়সের ব্যবধান থাকলেও আহাদ-মোবিন জুটি দর্শকদের মনোযোগ আকর্ষণ করতে সক্ষম হয়। প্রথম দিকে কিছুটা জড়তা দৃষ্টিগোচর হলেও দর্শকরা ধীরে ধীরে এই জুটিকে ভালোবাসতে শুরু করে। শেষ পর্যন্ত তালহা ও রোশি চরিত্রে তাদের জুটির আবেদন এতটাই ছড়িয়েছিল, ভক্তরাও চাওয়া শুরু করেছিল বাস্তবেও যেন বিয়ে করুক।
আলি রাজা ও আনমোল বালোচ

আলি রাজা তুলনামূলক নতুন অভিনেতা হলেও আনমোল বালোচের সঙ্গে তার জুটি নিয়ে চলছে আলোচনা। ‘ইকতিদার’-এ তাদের জুটি অন্য এক আবহ সৃষ্টি করেছে দর্শকমনে। গ্রিন টিভিতে প্রচারিত নাটকে এই জুটি জাদু সৃষ্টি করে এবং তাদের উত্তপ্ত রসায়নে ভক্তদের বুঁদ করে রাখে। ভক্তরা তাদের প্রতিটি দৃশ্য নিয়ে সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার ও রিল তৈরি করছিল। আলি ও আনমোল এখন নিঃসন্দেহে টেলিভিশনের প্রিয় জুটিগুলোর একটি।
আরসালান নাসির ও সিদরা নিয়াজি

মূল চরিত্র না হয়েও দর্শককে কীভাবে আকৃষ্ট করা যায় তা দেখিয়েছে আরসালান নাসির ও সিদরা নিয়াজি জুটি। ‘জিন কি শাদি উনকি শাদি’-তে দ্বিতীয় জুটি হলেও দর্শকরা তাদের গ্রহণ করেন প্রধান জুটি হিসেবেই। প্রথমবার একসঙ্গে অভিনয় করলেও ছিল না কোনো জড়তা। সিদরা ও আরসালান শুধু মিষ্টি প্রেমই নয়, চমৎকার হাস্যরসাত্মক অভিনয়ও উপহার দিয়েছিলেন।
সামার জাফরি ও আইনা আসিফ

পাকিস্তানি নাটকের নতুন তারকাদের মধ্যে সামার জাফরি ও আইনা আসিফ ‘মায়ি রি’ নাটকে অভিনয় করে দর্শকের ভালোবাসা পেয়েছিলেন। এই তরুণ তারকারা ‘পারওয়ারিশ’ নাটকেও একসঙ্গে কাজ করেন। ভক্তরা এই তরুণ দুই প্রতিভাকে একসাথে দেখতে ভালোবাসেন। ওয়ালি ও মায়া চরিত্রে তাদের রসায়ন দুর্দান্ত ছিল। প্রথমদিকে তাদের ঘনিষ্ঠতা নিয়ে সমালোচনা হলেও পরে তারা সবার মন জয় করেন।
ওয়াহাজ আলী ও সেহার খান

নতুন জুটি হলেও ওয়াহাজ আলী ও সেহার খান পাকিস্তানি নাটকে এখন জনপ্রিয়তার শীর্ষে। ‘জিন কি শাদি উনকি শাদি’ নাটকে জিন ও মানুষের চরিত্রে তাদের রসায়ন এক কথায় অভাবনীয়। ওয়াহাজ ও সেহারকে একসঙ্গে দেখতে উন্মুখ হয়ে থাকে ভক্তরা। মজাদার ও মিষ্টি অভিনয়ে তারা তাক লাগিয়ে দেন সবাইকে। ভক্তরা এই জুটিকে আবারও দেখতে চান।



-1778389301-16579_1778389350.webp)