ঢাকা শুক্রবার, ১২ জুন ২০২৬, ২৯ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩
নির্বাচন সর্বশেষ
Live Icon ●LIVE

পরীক্ষা কেন্দ্রের বাইরে তসবি হাতে মায়ের প্রার্থনা

এশিয়া পোস্ট প্রতিবেদক

  ২১ এপ্রিল ২০২৬, ১০:৪৩
ছবি: এশিয়া পোস্ট

সারা দেশে একযোগে শুরু হয়েছে এসএসসি ও সমমান পরীক্ষা। জীবনের এই গুরুত্বপূর্ণ ধাপে লাখ লাখ শিক্ষার্থী এতে অংশ নিয়েছেন। কেন্দ্রের ভেতরে পিনপতন নীরবতায় এসএসসি পরীক্ষা চললেও বাইরে তপ্ত রোদে অপেক্ষার প্রহর গুনছেন হাজারো মা। তাদের চোখে-মুখে উৎকণ্ঠা, আর ঠোঁটে অবিরাম প্রার্থনার গুনগুন।

পরিবর্তন অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন

মঙ্গলবার (২১ এপ্রিল) রাজধানীর মতিঝিল বালক উচ্চ বিদ্যালয় পরীক্ষা কেন্দ্রের বাইরে এমন দৃশ্য দেখা গেছে।

আয়শা আফরোজের সন্তান মুত্তাসিন মিম বসির এই কেন্দ্রে এসএসসি পরীক্ষা দিচ্ছেন। ছেলের সুন্দর ভবিষ্যৎ আর সুস্থতার জন্য আল্লাহর দরবারে দুই হাত তুলে দোয়া করছেন তিনি।

তিনি বলেন, পরীক্ষা শুরুর আগের কয়েক ঘণ্টা যেন সন্তানের চেয়েও বড় পরীক্ষা মা-বাবার। সন্তান ছোট থেকে বড় হওয়ার প্রতিটি ধাপে মা যেমন পাশে থাকেন, পরীক্ষার এই কঠিন সময়েও আমি ব্যতিক্রম হয়নি।

তসবি হাতে দোয়া করতে করতে আয়শা আফরোজ বলেন, ছেলে ভেতরে পরীক্ষা দিচ্ছে, আর আমার মনটা পড়ে আছে ওর কাছে। ছেলে যেন ঠান্ডা মাথায় সব প্রশ্নের উত্তর দিতে পারে, সেই প্রার্থনাই করছি।

এদিকে, চলতি বছর ১১টি শিক্ষা বোর্ডের অধীনে পরীক্ষার্থী ১৮ লাখ ৫৭ হাজার ৩৪৪ জন। এর মধ্যে ছাত্র ৯ লাখ ৩০ হাজার ৩০৫ এবং ছাত্রী ৯ লাখ ২৭ হাজার ৩৯ জন। গত বছরের তুলনায় পরীক্ষার্থীর সংখ্যা কমেছে ৭১ হাজারের বেশি।

নকলমুক্ত পরিবেশে পরীক্ষা নিতে এবার ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি ঘোষণা করেছে শিক্ষা প্রশাসন। সব কেন্দ্র সিসিটিভির আওতায় আনা হয়েছে এবং প্রশ্নফাঁস রোধে গোয়েন্দা নজরদারি জোরদার করা হয়েছে।

এ ছাড়া কেন্দ্র এলাকায় ২০০ গজের মধ্যে ১৪৪ ধারা জারি করে বহিরাগতদের প্রবেশ সীমিত করা হয়েছে। কেন্দ্রের ভেতরে মোবাইল ফোনসহ ইলেকট্রনিক ডিভাইস নিষিদ্ধ করা হয়েছে।

আলিম পরীক্ষার্থীদের ফরম পূরণের সময় বাড়ল
২০২৬ সালের আলিম পরীক্ষার্থীদের জন্য ফরম পূরণের সময় বাড়িয়েছে বাংলাদেশ মাদরাসা শিক্ষা বোর্ড। এক বিজ্ঞপ্তিতে এ সিদ্ধান্তের কথা জানানো হয়েছে। বৃহস্পতিবার (৩০ এপ্রিল) প্রকাশিত ওই বিজ্ঞপ্তিতে পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ কামরুল আহসানের স্বাক্ষর রয়েছে। এতে বলা হয়েছে, শিক্ষার্থীরা আগামী ৬ মে পর্যন্ত ফরম পূরণের সুযোগ পাবেন। তবে ফি জমা দেওয়ার সময়সীমা নির্ধারণ করা হয়েছে ৭ মে পর্যন্ত এবং এ সময়ের মধ্যে বিলম্ব ফি প্রযোজ্য হবে। বোর্ডের আওতাধীন দেশের সব আলিম পর্যায়ের মাদরাসার অধ্যক্ষ ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে, যাতে বর্ধিত সময়সীমার মধ্যে ফরম পূরণের কার্যক্রম যথাযথভাবে সম্পন্ন করা হয়। বিজ্ঞপ্তিতে আরও উল্লেখ করা হয়েছে, কোনো শিক্ষার্থী যেন ফরম পূরণ থেকে বাদ না পড়ে সেই বিষয়টি নিশ্চিত করতে মাদরাসা প্রধানদের বিশেষভাবে সতর্ক থাকতে বলা হয়েছে।
আলিম পরীক্ষার্থীদের ফরম পূরণের সময় বাড়ল
এসএসসি পরীক্ষার তৃতীয় দিনে সর্বোচ্চ বহিষ্কার
চলমান এসএসসি ও সমমান পরীক্ষার তৃতীয় দিনে বহিষ্কারের সংখ্যা সর্বোচ্চ। এদিন ৯টি সাধারণ শিক্ষা বোর্ড, মাদ্রাসা ও কারিগরি বোর্ড মিলিয়ে এদিন মোট ৩৯ জন পরীক্ষার্থীকে বহিষ্কার করা হয়েছে। রোববার (২৬ এপ্রিল) পরীক্ষা শেষে আন্তঃশিক্ষা বোর্ড সমন্বয় কমিটি এ তথ্য নিশ্চিত করেছে। আন্তঃশিক্ষা বোর্ড সমন্বয় কমিটি জানিয়েছে, এদিন এসএসসিতে ইংরেজি প্রথমপত্র, দাখিলে গণিত এবং এসএসসি ও দাখিল ভোকেশনালে গণিত-২ বিষয়ের পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়। সব বোর্ডে মোট ৩৯ জন পরীক্ষার্থীকে বহিষ্কার করা হয়েছে। কমিটির বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, ঢাকা বোর্ডে একজন, চট্টগ্রাম বোর্ডে পাঁচজন, রাজশাহী বোর্ডে তিনজন, বরিশাল বোর্ডে আটজন, কুমিল্লা বোর্ডে একজন এবং ময়মনসিংহ বোর্ডে দুজন পরীক্ষার্থীকে বহিষ্কার করা হয়েছে। এদিকে মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ডে ১৫ জন এবং কারিগরি শিক্ষা বোর্ডে চারজন পরীক্ষার্থী বহিষ্কৃত হয়েছেন। এর আগে পরীক্ষার প্রথম দিনে বহিষ্কার হন ছয়জন পরীক্ষার্থী এবং দ্বিতীয় দিনে এ সংখ্যা ছিল ১৯। ওই হিসাবে তৃতীয় দিনেই সর্বোচ্চ সংখ্যক পরীক্ষার্থী বহিষ্কারের ঘটনা ঘটল। আন্তঃশিক্ষা বোর্ডের পরিসংখ্যান অনুযায়ী, এ বছর ১১টি শিক্ষা বোর্ডের অধীনে মোট ১৮ লাখ ৫৭ হাজার ৩৪৪ জন পরীক্ষার্থী অংশ নিচ্ছেন। এর মধ্যে ছাত্র ৯ লাখ ৩০ হাজার ৩০৫ জন এবং ছাত্রী ৯ লাখ ২৭ হাজার ৩৯ জন। এর মধ্যে ৯টি সাধারণ শিক্ষা বোর্ডে মোট ১৪ লাখ ১৮ হাজার ৩৯৮ জন পরীক্ষার্থী অংশ নিচ্ছে। ছাত্র ৬ লাখ ৬৭ হাজার ৩০৫ জন এবং ছাত্রী ৭ লাখ ৫১ হাজার ৯৩ জন। মঙ্গলবার (২১ এপ্রিল) শুরু হয় এ পরীক্ষা। 
এসএসসি পরীক্ষার তৃতীয় দিনে সর্বোচ্চ বহিষ্কার
প্রশ্নফাঁস নিয়ে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সতর্কীকরণ বিজ্ঞপ্তি
এসএসসি ও সমমান পরীক্ষায় প্রশ্নফাঁস নিয়ে  সতর্কীকরণ বিজ্ঞপ্তি দিয়েছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়। রোববার (২৬ এপ্রিল) সকালে দেওয়া বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, সংশ্লিষ্ট সবার অবগতির জন্য জানানো যাচ্ছে, বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ও নিউজ পোর্টালে এসএসসি পরীক্ষা ২০২৬ সালের বাংলা প্রথম পত্রের (১০১) সব বোর্ডের প্রশ্নফাঁস হয়েছে মর্মে একটি সংবাদ ছড়িয়ে পড়েছে, যা সম্পূর্ণ অসত্য, ভিত্তিহীন ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। এরইমধ্যে ২১ এপ্রিল বাংলা প্রথম পত্র ও ২৩ এপ্রিল বাংলা দ্বিতীয় পত্রের পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়েছে। কোথাও কোনো ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনার সংবাদ পাওয়া যায়নি। পরীক্ষা শেষ হওয়ার একদিন পর প্রশ্নফাঁস সম্পর্কিত সংবাদটি শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের মধ্যে উদ্বেগের সৃষ্টি করেছে। সতর্কীকরণ বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়, প্রকৃতপক্ষে প্রশ্নপত্র ফাঁসের সংবাদটি একটি গুজব এবং সরকারের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ণ করার উদ্দেশ্যে এটি প্রচার করা হচ্ছে। এ বিষয়ের সঙ্গে মন্ত্রণালয় বা এর অধীনস্ত দফতরের কোনো কর্মকর্তা-কর্মচারী জড়িত নয়। জনগণকে এ ধরনের মিথ্যা সংবাদের বিষয়ে বিভ্রান্ত না হয়ে সতর্ক থাকার ও কোনো ধরনের অর্থ লেনদেন না করার পরামর্শ দেয়া হচ্ছে।  প্রশ্নফাঁস সংক্রান্ত এ ধরনের অপপ্রচার নজরে এলে শিক্ষা মন্ত্রণালয়কে অবহিত করতে অনুরোধ জানানো হয়েছে।
প্রশ্নফাঁস নিয়ে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সতর্কীকরণ বিজ্ঞপ্তি
লজ্জা থাকলে শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগ করা উচিত: সালাহউদ্দিন আম্মার
এসএসসি পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁসের ঘটনার শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগ দাবি করেছেন রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (রাকসু) সাধারণ সম্পাদক (জিএস) সালাহউদ্দিন আম্মার। শনিবার (২৫ এপ্রিল) বিকেলে ফেসবুকে দেওয়া এক পোস্টে তিনি এ দাবি করেন। সালাহউদ্দিন আম্মার লিখেছেন, এসএসসি পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ১০ থেকে ১১ হাজার টাকায় পাওয়া যাচ্ছে। নকল আর হবে না—এই কথাটা বাস্তবে রূপ দেওয়ার জন্য শিক্ষামন্ত্রীকে ধন্যবাদ।  ‘প্রশ্ন পাওয়া গেলে আর নকল কে করে ভাই! লজ্জা থাকলে পদত্যাগ করা উচিত। শিক্ষাব্যবস্থা ধ্বংস করার জন্য পার্ফেক্ট চয়েজ ফ্রম বিএনপি।’ রাকসুর জিএস আরও লিখেছেন, একজন আন্টি অনুরোধ করছে আমি যেন গালি কম দেই, উনি ওমরায় গিয়ে আমার জন্য এই দোয়া করেছেন। আমি আর গালি দেব না বলে সিদ্ধান্ত নিয়েছি—কিন্তু বাংলাদেশের অবস্থা দেখে ফেরেশতায়ও গালি দিবে। এদিকে প্রশ্নপত্র ফাঁসের ঘটনায় শিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক মিলনকে খোঁচা দিয়ে ফেসবুকে পোস্ট করেছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) উত্তরাঞ্চলের মুখ্য সমন্বয়ক সারজিস আলম। তিনি লিখেছেন, ‘নকল আর হবে না! কিন্তু পরীক্ষার আগের রাতে প্রশ্ন পাওয়া যাবে।’ ফেসবুক পোস্টের কমেন্টে একটি লিংক শেয়ার করে তিনি আরও লিখেছেন, পরীক্ষার আগের রাতে টেলিগ্রাম গ্রুপে টাকার বিনিময়ে প্রশ্ন পাওয়া যাচ্ছে!  
লজ্জা থাকলে শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগ করা উচিত: সালাহউদ্দিন আম্মার
এসএসসির প্রশ্নফাঁসের নামে অনলাইনে প্রতারণা, গ্রেপ্তার ৪
চলতি এসএসসি পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁসের নামে অনলাইনে প্রতারণার সাথে জড়িত চারজনকে গ্রেপ্তার করেছে ডিএমপির কাউন্টার টেরোরিজম এন্ড ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইম (সিটিটিসি)। গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন মো. সিফাত আহমেদ সজিব (২২), মো. সালমান (২২), মো. মেছবাউল আলম মাহিন (১৯) এবং মো. মহিদুজ্জামান মুন্না (১৯)। শনিবার (২৫ এপ্রিল) ডিএমপির মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে সিটিটিসি ইউনিটের যুগ্ম কমিশনার মুনশী শাহাবুদ্দীন এ তথ্য জানান।  তিনি বলেন, গত ২০ এপ্রিল সিটি-ইন্টেলিজেন্স অ্যানালাইসিস বিভাগ (সিউটিসি) কর্তৃক সোশ্যাল মিডিয়া মনিটরিংয়ের সময় ‘এসএসসি-২০২৬ প্রশ্নপত্র ফাঁস গ্রুপ’ নামক একটি ফেসবুক পেইজ থেকে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য সংগ্রহ করা হয়। প্রাপ্ত তথ্য ও প্রযুক্তিগত বিশ্লেষণের ভিত্তিতে সিটিটিসির একটি দল ওইদিন রাতে ঢাকার আশুলিয়া থানার জিরাবো তাঁজপুর এলাকায় অভিযান চালিয়ে করে মো. সিফাত আহমেদ সজিবকে গ্রেপ্তার করে। গ্রেপ্তারকৃত ব্যক্তির স্বীকারোক্তি ও প্রাপ্ত তথ্য বিশ্লেষণের পর ২৩ এপ্রিল বগুড়ার ধুনট থানা এলাকায় অভিযান চালিয়ে মো. সালমানকে তার নিজ বাড়ি থেকে গ্রেপ্তার করা হয়। একই দিন দিনাজপুর জেলার নবাবগঞ্জ থেকে মো. মেছবাউল আলম মাহিনকেও গ্রেপ্তার করা হয়। পরবর্তীতে তাদের দেওয়া তথ্যে ২৪ এপ্রিল সিরাজগঞ্জ জেলার তাড়াশে শ্বশুর বাড়ি থেকে মো. মহিদুজ্জামান মুন্নাকে গ্রেপ্তার করা হয়। গ্রেপ্তারকৃতদের মোবাইল ফোনে এসএসসি পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁস সংক্রান্ত কার্যক্রমে সম্পৃক্ততার প্রমাণ পাওয়া গেছে। তাদের ফোনগুলো জব্দ করা হয়েছে। প্রাথমিক তদন্তে জানা যায়, গ্রেপ্তারকৃতরা অবৈধভাবে আর্থিক লাভের উদ্দেশ্যে একটি স্বচ্ছ, সুন্দর ও সুষ্ঠু পরীক্ষা ব্যবস্থাকে ব্যাহত করার চেষ্টা করেছে। পাশাপাশি তারা প্রশ্নপত্র ফাঁসের গুজব ছড়িয়ে শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের মধ্যে নৈরাজ্য, হতাশা, উদ্বেগ ও নৈতিক বিপর্যয় সৃষ্টি করার অপচেষ্টা চালায়। গ্রেপ্তারকৃতদের বিরুদ্ধে ডিএমপি রমনা মডেল থানায় একটি নিয়মিত মামলা রুজু করা হয়েছে। ঘটনার সাথে সংশ্লিষ্ট অন্যান্যদের গ্রেপ্তারের চেষ্টা অব্যাহত রয়েছে।
এসএসসির প্রশ্নফাঁসের নামে অনলাইনে প্রতারণা, গ্রেপ্তার ৪
আলিম পরীক্ষার্থীদের ফরম পূরণের সময় বাড়ল
আলিম পরীক্ষার্থীদের ফরম পূরণের সময় বাড়ল
২০২৬ সালের আলিম পরীক্ষার্থীদের জন্য ফরম পূরণের সময় বাড়িয়েছে বাংলাদেশ মাদরাসা শিক্ষা বোর্ড। এক বিজ্ঞপ্তিতে এ সিদ্ধান্তের কথা জানানো হয়েছে। বৃহস্পতিবার (৩০ এপ্রিল) প্রকাশিত ওই বিজ্ঞপ্তিতে পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ কামরুল আহসানের স্বাক্ষর রয়েছে। এতে বলা হয়েছে, শিক্ষার্থীরা আগামী ৬ মে পর্যন্ত ফরম পূরণের সুযোগ পাবেন। তবে ফি জমা দেওয়ার সময়সীমা নির্ধারণ করা হয়েছে ৭ মে পর্যন্ত এবং এ সময়ের মধ্যে বিলম্ব ফি প্রযোজ্য হবে। বোর্ডের আওতাধীন দেশের সব আলিম পর্যায়ের মাদরাসার অধ্যক্ষ ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে, যাতে বর্ধিত সময়সীমার মধ্যে ফরম পূরণের কার্যক্রম যথাযথভাবে সম্পন্ন করা হয়। বিজ্ঞপ্তিতে আরও উল্লেখ করা হয়েছে, কোনো শিক্ষার্থী যেন ফরম পূরণ থেকে বাদ না পড়ে সেই বিষয়টি নিশ্চিত করতে মাদরাসা প্রধানদের বিশেষভাবে সতর্ক থাকতে বলা হয়েছে।
এসএসসি পরীক্ষার তৃতীয় দিনে সর্বোচ্চ বহিষ্কার
এসএসসি পরীক্ষার তৃতীয় দিনে সর্বোচ্চ বহিষ্কার
চলমান এসএসসি ও সমমান পরীক্ষার তৃতীয় দিনে বহিষ্কারের সংখ্যা সর্বোচ্চ। এদিন ৯টি সাধারণ শিক্ষা বোর্ড, মাদ্রাসা ও কারিগরি বোর্ড মিলিয়ে এদিন মোট ৩৯ জন পরীক্ষার্থীকে বহিষ্কার করা হয়েছে। রোববার (২৬ এপ্রিল) পরীক্ষা শেষে আন্তঃশিক্ষা বোর্ড সমন্বয় কমিটি এ তথ্য নিশ্চিত করেছে। আন্তঃশিক্ষা বোর্ড সমন্বয় কমিটি জানিয়েছে, এদিন এসএসসিতে ইংরেজি প্রথমপত্র, দাখিলে গণিত এবং এসএসসি ও দাখিল ভোকেশনালে গণিত-২ বিষয়ের পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়। সব বোর্ডে মোট ৩৯ জন পরীক্ষার্থীকে বহিষ্কার করা হয়েছে। কমিটির বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, ঢাকা বোর্ডে একজন, চট্টগ্রাম বোর্ডে পাঁচজন, রাজশাহী বোর্ডে তিনজন, বরিশাল বোর্ডে আটজন, কুমিল্লা বোর্ডে একজন এবং ময়মনসিংহ বোর্ডে দুজন পরীক্ষার্থীকে বহিষ্কার করা হয়েছে। এদিকে মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ডে ১৫ জন এবং কারিগরি শিক্ষা বোর্ডে চারজন পরীক্ষার্থী বহিষ্কৃত হয়েছেন। এর আগে পরীক্ষার প্রথম দিনে বহিষ্কার হন ছয়জন পরীক্ষার্থী এবং দ্বিতীয় দিনে এ সংখ্যা ছিল ১৯। ওই হিসাবে তৃতীয় দিনেই সর্বোচ্চ সংখ্যক পরীক্ষার্থী বহিষ্কারের ঘটনা ঘটল। আন্তঃশিক্ষা বোর্ডের পরিসংখ্যান অনুযায়ী, এ বছর ১১টি শিক্ষা বোর্ডের অধীনে মোট ১৮ লাখ ৫৭ হাজার ৩৪৪ জন পরীক্ষার্থী অংশ নিচ্ছেন। এর মধ্যে ছাত্র ৯ লাখ ৩০ হাজার ৩০৫ জন এবং ছাত্রী ৯ লাখ ২৭ হাজার ৩৯ জন। এর মধ্যে ৯টি সাধারণ শিক্ষা বোর্ডে মোট ১৪ লাখ ১৮ হাজার ৩৯৮ জন পরীক্ষার্থী অংশ নিচ্ছে। ছাত্র ৬ লাখ ৬৭ হাজার ৩০৫ জন এবং ছাত্রী ৭ লাখ ৫১ হাজার ৯৩ জন। মঙ্গলবার (২১ এপ্রিল) শুরু হয় এ পরীক্ষা। 
প্রশ্নফাঁস নিয়ে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সতর্কীকরণ বিজ্ঞপ্তি
প্রশ্নফাঁস নিয়ে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সতর্কীকরণ বিজ্ঞপ্তি
এসএসসি ও সমমান পরীক্ষায় প্রশ্নফাঁস নিয়ে  সতর্কীকরণ বিজ্ঞপ্তি দিয়েছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়। রোববার (২৬ এপ্রিল) সকালে দেওয়া বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, সংশ্লিষ্ট সবার অবগতির জন্য জানানো যাচ্ছে, বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ও নিউজ পোর্টালে এসএসসি পরীক্ষা ২০২৬ সালের বাংলা প্রথম পত্রের (১০১) সব বোর্ডের প্রশ্নফাঁস হয়েছে মর্মে একটি সংবাদ ছড়িয়ে পড়েছে, যা সম্পূর্ণ অসত্য, ভিত্তিহীন ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। এরইমধ্যে ২১ এপ্রিল বাংলা প্রথম পত্র ও ২৩ এপ্রিল বাংলা দ্বিতীয় পত্রের পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়েছে। কোথাও কোনো ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনার সংবাদ পাওয়া যায়নি। পরীক্ষা শেষ হওয়ার একদিন পর প্রশ্নফাঁস সম্পর্কিত সংবাদটি শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের মধ্যে উদ্বেগের সৃষ্টি করেছে। সতর্কীকরণ বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়, প্রকৃতপক্ষে প্রশ্নপত্র ফাঁসের সংবাদটি একটি গুজব এবং সরকারের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ণ করার উদ্দেশ্যে এটি প্রচার করা হচ্ছে। এ বিষয়ের সঙ্গে মন্ত্রণালয় বা এর অধীনস্ত দফতরের কোনো কর্মকর্তা-কর্মচারী জড়িত নয়। জনগণকে এ ধরনের মিথ্যা সংবাদের বিষয়ে বিভ্রান্ত না হয়ে সতর্ক থাকার ও কোনো ধরনের অর্থ লেনদেন না করার পরামর্শ দেয়া হচ্ছে।  প্রশ্নফাঁস সংক্রান্ত এ ধরনের অপপ্রচার নজরে এলে শিক্ষা মন্ত্রণালয়কে অবহিত করতে অনুরোধ জানানো হয়েছে।
লজ্জা থাকলে শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগ করা উচিত: সালাহউদ্দিন আম্মার
লজ্জা থাকলে শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগ করা উচিত: সালাহউদ্দিন আম্মার
এসএসসি পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁসের ঘটনার শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগ দাবি করেছেন রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (রাকসু) সাধারণ সম্পাদক (জিএস) সালাহউদ্দিন আম্মার। শনিবার (২৫ এপ্রিল) বিকেলে ফেসবুকে দেওয়া এক পোস্টে তিনি এ দাবি করেন। সালাহউদ্দিন আম্মার লিখেছেন, এসএসসি পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ১০ থেকে ১১ হাজার টাকায় পাওয়া যাচ্ছে। নকল আর হবে না—এই কথাটা বাস্তবে রূপ দেওয়ার জন্য শিক্ষামন্ত্রীকে ধন্যবাদ।  ‘প্রশ্ন পাওয়া গেলে আর নকল কে করে ভাই! লজ্জা থাকলে পদত্যাগ করা উচিত। শিক্ষাব্যবস্থা ধ্বংস করার জন্য পার্ফেক্ট চয়েজ ফ্রম বিএনপি।’ রাকসুর জিএস আরও লিখেছেন, একজন আন্টি অনুরোধ করছে আমি যেন গালি কম দেই, উনি ওমরায় গিয়ে আমার জন্য এই দোয়া করেছেন। আমি আর গালি দেব না বলে সিদ্ধান্ত নিয়েছি—কিন্তু বাংলাদেশের অবস্থা দেখে ফেরেশতায়ও গালি দিবে। এদিকে প্রশ্নপত্র ফাঁসের ঘটনায় শিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক মিলনকে খোঁচা দিয়ে ফেসবুকে পোস্ট করেছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) উত্তরাঞ্চলের মুখ্য সমন্বয়ক সারজিস আলম। তিনি লিখেছেন, ‘নকল আর হবে না! কিন্তু পরীক্ষার আগের রাতে প্রশ্ন পাওয়া যাবে।’ ফেসবুক পোস্টের কমেন্টে একটি লিংক শেয়ার করে তিনি আরও লিখেছেন, পরীক্ষার আগের রাতে টেলিগ্রাম গ্রুপে টাকার বিনিময়ে প্রশ্ন পাওয়া যাচ্ছে!