বোনের বাড়িতে ঈদ করতে এসে বগুড়ার আদমদীঘিতে প্রতিপক্ষের মারধরে উম্মে হাবিবা উর্মি (৩২) নামে এক নারী নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় নিহতের বোন, বোনের স্বামী ও দুই সন্তানসহ আরও অন্তত ৪ জন গুরুতর আহত হয়েছেন।
শুক্রবার (২০ মার্চ) সন্ধ্যায় উপজেলার উজ্জ্বলতা গ্রামে এ হামলার ঘটনা ঘটে। আজ শনিবার (২১ মার্চ) এ ঘটনায় নিহতের বড় বোন মোছা. উম্মে হাফিজা বাদী হয়ে প্রতিবেশি কহির ফকির ও সিরাজুল ইসলামসহ ১৩ জনের নাম উল্লেখ করে থানায় একটি এজাহার দায়ের করেছেন।
উম্মে হাবিবা উর্মি নওগাঁর রানীনগর উপজেলার ভেবরা গ্রামের বাসিন্দা। সম্প্রতি তিনি তার বোনের বাড়ি উজ্জ্বলতা গ্রামে বেড়াতে এসেছিলেন।
এজাহার সূত্রে জানা গেছে, মামলার বাদী উম্মে হাফিজার সঙ্গে একই এলাকার মো. কহির ফকির ও সিরাজুল ইসলামদের দীর্ঘদিনের পারিবারিক বিরোধ চলছিল। গত বছরের ৪ সেপ্টেম্বর বিবাদীপক্ষ হাফিজা ও তার ছেলেকে মারধর করলে থানায় একটি মামলা দায়ের করেন হাফিজা। ওই মামলাটি বর্তমানে আদালতে বিচারাধীন। এরপর থেকে বিবাদীপক্ষ বেশ কিছুদিন ধরেই মামলাটি তুলে নেওয়ার জন্য হাফিজার পরিবারকে প্রাণনাশের হুমকি ও চাপ দিয়ে আসছিল।
ঘটনার দিন সন্ধ্যায় কেনাকাটার জন্য হাফিজা ও তার বোন হাবিবা আদমদীঘি যাওয়ার পথে অভিযুক্তরা রামদা, কুড়াল, শাবল ও লোহার রড নিয়ে তাদের ওপর হামলা করে।
হামলায় প্রথমে হাফিজার স্বামী ফয়সাল ইসলাম লিটনের মাথায় কুড়াল দিয়ে আঘাত করে গুরুতর জখম করেন তারা। পরে হাফিজা, তার মেয়ে নুসরাত জাহান, ছেলে ফারসিদ ও ছোট বোন উম্মে হাবিবা উর্মি তাদের বাঁচাতে এগিয়ে এলে বিবাদীরা এলোপাতাড়ি কোপাতে শুরু করে। প্রাণ বাঁচাতে নুসরাত ও উর্মি স্থানীয় শফিকুল ইসলামের বাড়িতে আশ্রয় নিলে হামলাকারীরা সেখানে ঢুকেও তাদের ওপর হামলা চালায়। এতে মাথায় ও শরীরে গুরুতর আঘাত পেয়ে ঘটনাস্থলেই উম্মে হাবিবা উর্মির মৃত্যু হয়।
মামলার বাদি উম্মে হাফিজা জানান, আমার ছোট বোন হাবিবার স্বামী বাড়িতে না থাকায় গত ১৫ দিন আগে ঈদ উদযাপনের জন্য আমাদের বাড়িতে আসে। গতকাল কেনাকাটার জন্য আমরা সপরিবারে বের হলে প্রতিপক্ষরা এ ঘটনা ঘটায়। আমার স্বামী গুরুতর আহত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি আছেন।
এ বিষয়ে আদমদিঘী থানার ওসি কামরুজ্জামান জানান, খবর পেয়ে নিহতের মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। এ ঘটনায় এখনও কেউ গ্রেপ্তার নেই। পুলিশ অভিযুক্তদের ধরতে অভিযান চালাচ্ছে।




