
ফেনীর পরশুরামে একটি ধর্ষণ মামলায় গ্রেপ্তার হয়ে কারাভোগের পর ডিএনএ পরীক্ষায় নির্দোষ প্রমাণিত হয়েছেন ইমাম ও জুলাই বিপ্লবের সম্মুখযোদ্ধা মুজাফফর আহমদ জুবায়ের।
শনিবার (৯ মে) দুপুরে চাকরিতে পুনর্বহাল, ক্ষতিপূরণ এবং ষড়যন্ত্রকারীদের বিচারের দাবিতে ফেনী রিপোর্টার্স ইউনিটিতে সংবাদ সম্মেলন করেছেন তিনি।
সংবাদ সম্মেলনে জুবায়ের অভিযোগ করেন, রাজনৈতিক ও সামাজিক বিরোধের জেরে তাকে পরিকল্পিতভাবে একটি মামলায় ফাঁসানো হয়েছিল। তিনি বলেন, ২০১৯ সালে স্থানীয় একটি মক্তবে পড়াশোনা শেষ করা এক কিশোরী অন্তঃসত্ত্বা হওয়ার ঘটনায় ২০২৪ সালের ২৪ নভেম্বর তার বিরুদ্ধে মামলা করা হয়। পরে নিজেকে নির্দোষ দাবি করে পাল্টা মামলা করতে গেলে ২৬ নভেম্বর আদালত প্রাঙ্গণ থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। ৩২ দিন কারাভোগের পর তিনি জামিনে মুক্তি পান।
জুবায়ের বলেন, পরে ডিএনএ পরীক্ষার প্রতিবেদনে দেখা যায়, শিশুটির জৈবিক পিতার সঙ্গে ওই কিশোরীর ভাইয়ের ডিএনএর ৯৯ দশমিক ৯৯ শতাংশ মিল রয়েছে। তার সঙ্গে কোনো মিল পাওয়া যায়নি। পরে ২০২৫ সালের ১৯ মে অভিযুক্ত ভাইকে গ্রেপ্তার করা হলে তিনি আদালতে ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন।
সংবাদ সম্মেলনে জুবায়ের বলেন, মামলার কারণে কোনো ধরনের নোটিশ ছাড়াই তাকে মসজিদের ইমামতি এবং ইসলামিক ফাউন্ডেশনের মসজিদভিত্তিক শিশু ও গণশিক্ষা কার্যক্রমের চাকরি থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়। মামলার খরচ চালাতে গিয়ে তাকে পৈতৃক জমি বিক্রি করতে হয়েছে বলেও দাবি করেন তিনি। এ ছাড়া সামাজিকভাবে তাকে ও তার পরিবারকে হেয় প্রতিপন্ন করা হয়েছে বলে অভিযোগ করেন।
সংবাদ সম্মেলনে তিনি তিনটি দাবি তুলে ধরেন। দাবিগুলো হলো—চাকরিতে সসম্মানে পুনর্বহাল, বকেয়া বেতন ও মানসিক ক্ষতির জন্য উপযুক্ত ক্ষতিপূরণ এবং তাকে মিথ্যা মামলায় জড়ানোর সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি।
সংবাদ সম্মেলনে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) কেন্দ্রীয় ধর্ম ও সম্প্রীতি সেলের সম্পাদক তারেক রেজা বলেন, জুলাই বিপ্লবের একজন যোদ্ধা মসজিদের ইমামকে এভাবে কর্মহীন ও সামাজিকভাবে হেয় করা অত্যন্ত নিন্দনীয়। আমরা জুবায়েরের চাকরিটি ফেরত ও মামলার ক্ষতিপূরণ প্রদানের দাবি জানাচ্ছি।
এ সময় আরও উপস্থিত ছিলেন এনসিপির কেন্দ্রীয় ধর্ম ও সম্প্রীতি সেলের সম্পাদক তারেক রেজা, ফেনী জেলা আহ্বায়ক জাহিদুল ইসলাম সৈকত, যুগ্ম সদস্যসচিব মুহায়মিন তাজিম, সাংগঠনিক সম্পাদক সুজা উদ্দিন সজিব এবং যুবশক্তির জেলা আহ্বায়ক পারভেজ আহমেদসহ স্থানীয় নেতারা।




