
গাজীপুরের কাপাসিয়া উপজেলায় এক নারী ও তার তিন শিশুসন্তানসহ পাঁচজনকে গলা কেটে হত্যা করা হয়েছে। এ ঘটনার পর থেকে গৃহকর্তা ফোরকান মিয়া (৪৫) পলাতক রয়েছেন। স্বজন ও পুলিশের প্রাথমিক ধারণা, ফোরকান তাদের হত্যা করে পালিয়েছেন।
শনিবার (৯ মে) ভোর রাতে উপজেলার রাউতকোনা এলাকায় প্রবাসী মনির হোসেনের বাড়িতে এ ঘটনা ঘটে। তারা গোপালগঞ্জ থেকে এসে গত এক বছর ধরে এই বাসায় ভাড়া থাকছেন।
নিহত ব্যক্তিরা হলেন—গোপালগঞ্জের ফোরকান সরকারের স্ত্রী শারমিন আক্তার (৩৫), বড় মেয়ে মিম আক্তার (১৫), মারিয়া (১২) ও ফারিয়া (১) এবং শ্যালক রসুল হোসেন।
প্রত্যক্ষদর্শী ব্যক্তিরা জানান, শনিবার ভোরে খবর পেয়ে তারা বাড়িতে যান। ঘরে ঢুকে দেখেন শারমিনের দুই হাত জানালার সঙ্গে বাঁধা ও রক্তাক্ত মরদেহ, রুমের ফ্লোরে রক্তাক্ত তিন শিশুসন্তান, খাটের ওপর ক্ষতবিক্ষত শ্যালকের মরদেহ পড়ে আছে। এ খবর ছড়িয়ে পড়লে আশপাশের লোকজন ঘটনাস্থলে ভিড় করেন।
স্থানীয়দের মাধ্যমে বিষয়টি নিশ্চিত হয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে রক্তাক্ত মরদেহগুলো উদ্ধার করে।
নিহত শারমিনের স্বজনরা জানান, ফোরকান বিভিন্ন সময়ে নেশা করত। তবে পারিবারিকভাবে কোনো ঝামেলা ছিল কি না, তাদের জানা নেই।
তারা দাবি করে বলেন, গতকাল শুক্রবার বেলা ৩টার সময় ফোরকান তার শ্যালক রসুলকে ফোন করে জানান যে তার জন্য একটি চাকরি ব্যবস্থা করা হয়েছে। বেতন ধরা হয়েছে ১৯ হাজার ৫০০ টাকা। এ কথা শুনে রসুল সন্ধ্যায় চলে আসে তার বাসায়। রাত ৮টার পর থেকে তাদের ফোন বন্ধ পাওয়া যায়। পরে আজ শনিবার সকাল ৮টার সময় জানতে পারি ফোরকানের স্ত্রী-সন্তানদের মেরে ফেলা হয়েছে। এরপর পুলিশকে খবর দেওয়া হয়। ঘটনার পর থেকে ফোরকান পলাতক রয়েছে। সেই সবাইকে খুন করে পালিয়ে গেছে।
নিহত শারমিনের বড় ভাই শাহিন দাবি করে বলেন, ফোরকান আমার ভাই রসুলকে চাকরির প্রলোভন দিয়ে ডেকে এনেছে। পরিকল্পিতভাবে আমার বোন-ভাগনি ও ভাইকে হত্যা করে সে পালিয়ে গেছে। সে বিভিন্ন সময় নেশা করত। নেশা না করলে এভাবে কেউ হত্যা করতে পারে না।
এলাকাবাসী জানান, ফোরকান স্থানীয় একটি ব্যাটারি কারখানার গাড়িচালক। এক বছর ধরে এই এলাকায় তারা বসবাস করেন। আজ সকালে পাঁচজনের গলা কাটা মরদেহ উদ্ধারের খবর পেয়ে তারা এসেছেন।
কাপাসিয়া-কালীগঞ্জ সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আসাদুজ্জামান বলেন, মরদেহের পাশে একটি খালি দেশীয় মদের বোতল ও একটি কোকাকোলার বোতল পাওয়া গেছে। কোকাকোলার বোতলে কিছু পানীয় ছিল। আমরা কেমিক্যাল বিশ্লেষণ করে দেখব এতে ঘুমের ওষুধ বা অন্য কোনো মাদকদ্রব্য মেশানো হয়েছিল কি না।
তিনি আরও বলেন, ঘটনাস্থলে সিআইডি আসছে। ঘটনার পর সন্দেহভাজন স্বামী পলাতক রয়েছেন। ধারণা করছি তিনি এ হত্যাকাণ্ড ঘটিয়ে থাকতে পারেন। তার সঙ্গে অন্য কেউ জড়িত বা সহযোগী আছে কি না, তাদের গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে। এর পরেই জানা যাবে।
এ ব্যাপারে গাজীপুর পুলিশ সুপার মো. শরিফ উদ্দীন বলেন, ঘটনাস্থলে পুলিশের একাধিক টিম রয়েছে। মরদেহ উদ্ধারের পাশাপাশি ঘটনার মূল রহস্য উদঘাটনের চেষ্টা চলমান রয়েছে।




