
কক্সবাজারের টেকনাফের নাফ নদীতে ৩৫ কেজি ২০০ গ্রাম ওজনের ছয়টি কোরাল মাছ ধরা পড়েছে এক জেলের টানা জালে। এর মধ্যে বড় কোরাল মাছটির ওজন ২৩ কেজি, অন্য ছোট পাঁচটির ওজন ১২ কেজি। মাছগুলোর দাম হাঁকা হয়েছিল ৪৫ হাজার টাকা।
বৃহস্পতিবার (৭ মে) দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে টেকনাফ উপজেলার সাবরাং ইউনিয়নের শাহপরীর দ্বীপ জেটিঘাট-সংলগ্ন নাফ নদীতে নুরুল আমিন মাঝির জালে কোরাল মাছগুলো ধরা পড়ছে।
পরে তিনি মাছগুলো চট্টগ্রামের শাহপরীর গ্রুপের চেয়ারম্যান মো. ইয়াহিয়াকে ৪২ হাজার টাকায় বিক্রি করেন।
জেলে নুরুল আমিন মাঝি জানান, সকাল ৯টার সময় শাহপরীর দ্বীপ ঘোলার চর ও জেটিঘাট এলাকার নাফ নদীতে জাল ফেলেন তিনি। জাল ফেলার প্রায় দুই ঘণ্টা পর জাল তোলা শুরু করেন। প্রথমে ২৩ কেজি ওজনের বড় কোরাল মাছ ধরা পড়ে। এরপরে আরও ছোট ছোট পাঁচটি মাছ ধরা পড়ে। মাছগুলো তুলে জেটিঘাটে নিয়ে আসলে পর্যটক ও স্থানীয়রা দেখতে ভিড় করে। পরে মাছগুলো ১২০০ টাকা কেজি দরে ৪২ হাজার টাকায় বিক্রি করা হয়েছে।
শাহপরীর দ্বীপ জেটিঘাটে দিনাজপুর থেকে বেড়াতে আসা এক পর্যটক দম্পতি বলেন, আগে এমন বড় কোরাল মাছ টেলিভিশনে দেখেছি, কিন্তু আজ নিজের চোখে দেখলাম। তবে আমাদের এলাকায় এই মাছকে ভেটকি মাছ বলি।
মাছ ব্যবসায়ী মোহাম্মদ ইলিয়াস বলেন, সাগরে মাছ ধরা বন্ধ। ইদানীং নাফ নদীতে জেলেদের জালে বড়-বড় কোরাল মাছ ধরা পড়ছে। চট্টগ্রামে নাফ নদীর দেশি বড় কোরালের বেশি চাহিদা ও দাম রয়েছে।
টেকনাফ উপজেলার সিনিয়র মৎস্য কর্মকর্তা মো. ওবায়দুল হক জানান, প্রায় সময়ই নাফ নদীতে এখন কোরাল মাছ ধরা পড়ে। নাফের কোরালের স্বাদও বেশ ভালো। এই মাছগুলো সাধারণত বড় ৩০ থেকে ৩৫ কেজি ওজনের হয়। দীর্ঘদিন ধরে রোহিঙ্গা ইস্যুতে নাফ নদীতে মাছ শিকার বন্ধ ছিল। এ ছাড়া প্রজনন মৌসুমসহ সরকারি বিভিন্ন নিষেধাজ্ঞা মেনে চলায় নাফ নদীতে এখন বড় বড় কোরাল মাছ পাওয়া যাচ্ছে।




