
নেত্রকোনার মদনে ধর্ষণে ১১ বছর বয়সি এক মাদ্রাসাছাত্রী অন্তঃসত্ত্বা হওয়ার ঘটনায় অভিযুক্ত আমানুল্লাহ মাহমুদী সাগর নামের ওই শিক্ষককে গ্রেপ্তার করেছে র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র্যাব)।
বুধবার (৬ মে) ভোরে ময়মনসিংহের গৌরিপুরের সোনামপুর এলাকা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। তবে গ্রেপ্তারের পর প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে ধর্ষণের ঘটনায় নিজের সম্পৃক্ততার বিষয়টি অস্বীকার করেছেন তিনি।
দুপুরে ময়মনসিংহ র্যাব-১৪ সদর দপ্তরে এক সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানান অধিনায়ক নয়মুল হাসান। তিনি বলেন, ঘটনাটি জানাজানি হওয়ার পরপরই আত্মগোপনে চলে যান শিক্ষক আমানুল্লাহ মাহমুদী সাগর। সঙ্গে মোবাইল না রাখায় তার অবস্থান নিশ্চিত হওয়া যাচ্ছিল না। পরে উন্নত তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় জেলার গৌরীপুরে অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
নয়মুল হাসান বলেন, আমানুল্লাহ মাহমুদী সাগর গ্রেপ্তার এড়াতে প্রথমে গাজিপুর, পরে টঙ্গী এবং পরে ময়মনসিংহের গৌরীপুরে যান। গ্রেপ্তারের পর তাকে প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে। তবে ঘটনার বিষয়ে তিনি কিছু জানাননি। ধর্ষণ করেছেন বলে স্বীকার করছেন না। তাকে সংশ্লিষ্ট থানায় হস্তান্তর করা হবে। পুলিশ প্রয়োজনে রিমান্ড আবেদন করে তাকে আদালতে পাঠাতে পারে। কারণ, তাকে রিমান্ডে নিতে পারলে হয়তো সাগর ঘটনার বিস্তারিত বলবে।
তিনি বলেন, ক্লিনিকে প্রয়োজনীয় বিভিন্ন পরীক্ষা-নিরীক্ষা শেষে চিকিৎসক জানিয়েছিলেন শিশুটি অন্তঃসত্ত্বা। তাই চিকিৎসকের নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। ধর্ষণের ঘটনায় আরও কেউ সম্পৃক্ত আছে কি না, তাও তদন্ত করা হবে।
গ্রেপ্তার মাদ্রাসাশিক্ষক নেত্রকোনার মদনে একটি মহিলা কওমি মাদ্রাসার পরিচালক ও শিক্ষকতার পাশাপাশি মসজিদে ইমামতিও করেন। তিনি উপজেলার কাইটাইল ইউনিয়নের পাঁচহার বড়বাড়ি গ্রামের বাসিন্দা।
ভুক্তভোগী শিশুটি স্বামী পরিত্যক্তা নারীর একমাত্র সন্তান। জীবিকার তাগিদে শিশুটির মা সিলেটে গৃহপরিচারিকার কাজ করেন। শিশুটি তার নানির কাছে থেকে ওই মাদ্রাসায় লেখাপড়া করত।
ভুক্তভোগীর পরিবার ও মামলা সূত্রে জানা গেছে, আমান উল্লাহ সাগর গত বছরের ২ অক্টোবর মাদ্রাসা ছুটি শেষে শিশুটিকে ঝাড়ু দিতে বলেন। এ সময় একটি কক্ষে নিয়ে শিশুটিকে ধর্ষণ করেন তিনি। ভয়ে পরিবারের কাউকে বিষয়টি জানায়নি শিশুটি। সম্প্রতি শিশুটির শারীরিক অবস্থার পরিবর্তন দেখে শিশুটির মা ১৮ এপ্রিল মদনের একটি ডায়াগনস্টিক সেন্টারে নেন। সেখানে স্বাস্থ্য পরীক্ষা করে জানা যায়, শিশুটি সাত মাসের অন্তঃসত্ত্বা। পারিবারিক জিজ্ঞাসাবাদে শিশুটি সেদিনের ঘটনা বলে দেয়। এ ঘটনায় ২৩ এপ্রিল রাতে শিশুটির মা বাদী হয়ে মদন থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে মামলা করেন।
শিশুটির মা বলেন, ‘মেয়েডারে আমার বাপের বাড়িতে থইয়্যা মাদ্রাসায় লেখাপড়া করাতে দিছিলাম। কিন্তু হুজুর আমার এই শিশু বাচ্চাটার সঙ্গে এমন কাজটি করল! এই নরপিশাচের উপযুক্ত শাস্তি চাই।’
এ বিষয়ে নেত্রকোনার মদন থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) তরিকুল ইসলাম বলেন, আসামিকে আমাদের কাছে হস্তান্তর করা হবে। এরপর আদালতে পাঠানো হবে। মামলার তদন্ত কর্মকর্তা নিরপেক্ষভাবে তদন্তকাজ শেষ করে দ্রুত সময়ের মধ্যেই আদালতে চার্জশিট জমা দেবেন।




