
সভামঞ্চে বক্তব্য দিচ্ছিলেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। এর মধ্যে একদল যুবক ‘দুলাভাই, দুলাভাই’ স্লোগান শুরু করেন। দীর্ঘক্ষণ এমন স্লোগান চলতে থাকে। হঠাৎ মঞ্চের একপাশে এগিয়ে যান প্রধানমন্ত্রী–বলে ওঠেন, ‘দুলাভাইকে কথা বলতে না দিলে দুলাভাই যাবে গিয়া, যাই আমি? যাবো?’ প্রধানমন্ত্রীর এই কথায় জনসভাস্থলে হাসির রোল পড়ে যায়।
শনিবার (২ মে) দুপুরে সিলেট সদর উপজেলার কান্দিগাঁও ইউনিয়নে বাসিয়া নদী খননের পরে জনসভায় এমন হাস্যরসের ঘটনা ঘটে।
এর আগে কোদাল হাতে এই নদী খনন করেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। এরপর নদী তীরে জনসভায় বক্তব্য দেন তিনি।
এ সময় প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, ‘কথা বলতে চুপ করতে হবে। আমি কথা বলি, শ্বশুরবাড়ির লোকজনকে শুনতে হবে কথা।’
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের শ্বশুর বাড়ি সিলেটে। সিলেটে তাকে ‘দুলাভাই’ হিসেবে সম্বোধন করেন অনেকে। শনিবার স্ত্রী ডা. জুবাইদা রহমানকে নিয়েই সিলেটে পৌঁছেন তারেক রহমান।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, ১৯৭৭ সালে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান খালটি খনন করেছিলেন। পরে এটি বন্ধ হয়ে যায়। এই খাল পুনঃখননের মাধ্যমে প্রত্যক্ষভাবে প্রায় ৮০ হাজার এবং পরোক্ষভাবে দেড় লাখ কৃষক উপকৃত হবেন। এতে প্রায় ৭ হাজার মেট্রিক টন ফসল বেশি উৎপাদন হবে। শুধু খাল খনন নয়, খালের দুই পাশে ফলের গাছ লাগানো হবে যাতে এলাকার মানুষ ফল খেতে পারেন।
তিনি বলেন, এই সরকার কৃষকবান্ধব সরকার। শুধু বাসিয়া নয়, দেশের সকল খাল পর্যায়ক্রমে খনন করা হবে। নির্বাচনের আগে দেওয়া প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী সরকার কৃষকদের জন্য কৃষি কার্ড প্রদান কার্যক্রম ইতোমধ্যে শুরু করা হয়েছে।
নির্বাচনের ১০ দিন পর ১২ লাখ কৃষকের ১০ হাজার টাকা করে ঋণ সুদসহ মওকুফ করে দেওয়া হয়েছে উল্লেখ করে তারেক রহমান বলেন, আমরা চাই এদেশের কৃষক ভাইয়েরা ভালো থাকুক। ১২ তারিখ দেশের মানুষ এমন একটি সরকার নির্বাচিত করেছে, যে সরকার মানুষের কাছে জবাবদিহি করবে।
সিলেটে ৪০ কিলোমিটার দীর্ঘ বাসিয়া নদীর ২৩ কিলোমিটার খনন করতে ১২ কোটি টাকা ব্যয় হবে। এর মাধ্যমে স্থানীয় কৃষকরা উপকৃত হবেন, শুষ্ক মৌসুমে ফসল উৎপাদন সহজতর হবে বলে আশা করছেন স্থানীয়রা।
তারা জানান, এর আগে ১৯৭৭ ও ১৯৮১ সালে বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা ও শহীদ রাষ্ট্রপতি মেজর জিয়াউর রহমান তার জীবদ্দশায় দুইবার সিলেটে এই খাল খনন কর্মসূচিতে অংশ নিয়েছিলেন। পুনরায় খনন শুরু হওয়ায় এই নদীর দুইপাড়ের মানুষের মাঝে আনন্দ বিরাজ করছে।




