ঢাকা শুক্রবার, ১২ জুন ২০২৬, ২৯ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩
নির্বাচন সর্বশেষ
Live Icon ●LIVE

ময়মনসিংহে একই স্থানে বিএনপির দুই গ্রুপের কর্মসূচি, ১৪৪ ধারা জারি

এশিয়া পোস্ট নিউজ, ময়মনসিংহ

  ১৯ এপ্রিল ২০২৬, ১৬:৩০
সংশ্লিষ্ট এলাকায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে সতর্ক অবস্থানে রাখা হয়েছে। ছবি: এশিয়া পোস্ট

ময়মনসিংহের তারাকান্দায় বিএনপির দুই গ্রুপের পৃথক বিক্ষোভ কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে আইনশৃঙ্খলা অবনতির আশঙ্কায় ১৪৪ ধারা জারি করেছে উপজেলা প্রশাসন।

পরিবর্তন অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন

উপজেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, রোববার (১৯ এপ্রিল) তারাকান্দা বাসস্ট্যান্ড ও আশপাশ এলাকায় একই সময় একই স্থানে বিএনপির দুই গ্রুপ বিক্ষোভ মিছিলের ঘোষণা দেয়। এ পরিস্থিতিতে সংঘর্ষ, নিরাপত্তা বিঘ্ন এবং জানমালের ক্ষয়ক্ষতির আশঙ্কা রয়েছে বলে পুলিশের পক্ষ থেকে প্রতিবেদন দেওয়া হয়। এর পরিপ্রেক্ষিতে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো. আমিনুল ইসলাম ১৪৪ ধারা জারি করেন।

জারি করা আদেশে বলা হয়েছে, রোববার দুপুর ১২টা থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত তারাকান্দা বাসস্ট্যান্ডসহ আশপাশের এলাকায় সব ধরনের সভা-সমাবেশ, বিক্ষোভ মিছিল, গণজমায়েত ও মাইক ব্যবহার নিষিদ্ধ থাকবে। একই সঙ্গে আগ্নেয়াস্ত্র ও দেশীয় অস্ত্র যেমন—দা, হাঁসুয়া, লাঠিসোঁটা বহনেও নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়েছে। এ ছাড়া সংশ্লিষ্ট এলাকায় পাঁচজন বা তার বেশি লোকের একত্রে অবস্থান বা চলাফেরাও নিষিদ্ধ ঘোষণা করা হয়েছে।

আদেশে আরও উল্লেখ করা হয়, ১৪৪ ধারার নির্দেশনা অমান্য করলে দণ্ডবিধি অনুযায়ী শাস্তিযোগ্য অপরাধ হিসেবে গণ্য হবে এবং আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তবে আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় নিয়োজিত সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের ক্ষেত্রে এ নিষেধাজ্ঞা প্রযোজ্য হবে না।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ময়মনসিংহ-২ (ফুলপুর-তারাকান্দা) আসনের ধানের শীষের পরাজিত প্রার্থী মোতাহার হোসেন তালুকদার ও একই আসনের বিএনপির মনোনয়ন বঞ্চিত ময়মনসিংহ মহানগর যুবদলের সাধারণ সম্পাদক যোবায়েদ হোসেন শাকিলের পাল্টাপাল্টি বিক্ষোভ কর্মসূচিকে ঘিরে সংঘর্ষের আশঙ্কা দেখা দেয়। এ কারণে উপজেলা প্রশাসন ১৪৪ ধারা জারি করে।

তারাকাদা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. তানবীর আহমেদ বলেন, ১৪৪ ধারা জারি করায় বাসস্ট্যান্ড ও আশপাশের এলাকায় পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। পরিবেশ শান্তিপূর্ণ রাখতে পুলিশ সতর্ক অবস্থানে রয়েছে।

এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. আমিনুল ইসলাম বলেন, জননিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট এলাকায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে সতর্ক অবস্থানে রাখা হয়েছে এবং আদেশ কার্যকর করতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।

ঘরে ঢুকে ঘুমন্ত বৃদ্ধাকে কুপিয়ে হত্যা, স্ত্রী হাসপাতালে
সিরাজগঞ্জের উল্লাপাড়া উপজেলায় পূর্ব বিরোধের এক দুগ্ধ সমিতির সাবেক ম্যানেজারকে নিজ বাড়িতে কুপিয়ে হত্যার ঘটনা ঘটেছে। এসময় তার স্ত্রীও আহত হয়। এ ঘটনায় একজনকে আটক করে পুলিশে সোপর্দ করেছে পুলিশ। রোববার (১০ মে) রাতে উপজেলার লাহিড়ী মোহনপুর ইউনিয়নের দত্তপাড়া এলংজানি গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।  নিহত সোবহান প্রামানিক (৭০) স্থানীয় এক দুগ্ধ সিমিতির সাবেক ম্যানেজার বলে জানা গেছে। এসময় তার স্ত্রী শেফালী খাতুনকেও কুপিয়ে আহত করা হয়েছে। আহত অবস্থায় তাকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। এ ঘটনায় আটককৃত হায়দুল ইসলাম (৫০) ওই গ্রামের ইসমাইলের ছেলে। স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, রাতে নিজ ঘরে ঘুমিয়ে ছিলেন সোবহান প্রামানিক ও তার স্ত্রী। এসময় দুর্বৃত্তরা ঘরে ঢুকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে তাদের ওপর হামলা চালায়। এতে ঘটনাস্থলেই সোবহান প্রামানিক নিহত হন। গুরুতর আহত হন তার স্ত্রী শেফালী খাতুন। পরে হামলাকারীরা দ্রুত ঘটনাস্থল ত্যাগ করে। ঘটনার পর স্থানীয়দের সন্দেহ হলে একই গ্রামের হায়দুল ইসলাম নামে একজনকে আটক করে পুলিশে সোপর্দ করা হয়। আটক হায়দুল ইসলাম ওই গ্রামের ইসমাইলের ছেলে। খবর পেয়ে উল্লাপাড়া মডেল থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য সিরাজগঞ্জ মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল মর্গে পাঠিয়েছে।  আরও জানা গেছে, একটি খাস পুকুরকে কেন্দ্র করে দীর্ঘদিন ধরে মোল্লা বংশ ও প্রামাণিক বংশের মধ্যে বিরোধ চলছিল। প্রায় দুই বছর আগে একই বিরোধকে কেন্দ্র করে ওই এলাকায় সংঘর্ষে বাবা-ছেলে নিহত হওয়ার ঘটনাও ঘটে। সেই ঘটনার জের ধরেই এই হত্যাকাণ্ড ঘটতে পারে বলে ধারণা করছেন তারা। এ বিষয়ে উল্লাপাড়া মডেল থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোক্তারুজ্জামান বলেন, ঘটনার খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। একজনকে আটক করেছে এলাকাবাসী। সে জড়িত কিনা যাচাই-বাছাই করা হচ্ছে। হত্যার কারণ ও জড়িতদের শনাক্তে তদন্ত চলছে।
ঘরে ঢুকে ঘুমন্ত বৃদ্ধাকে কুপিয়ে হত্যা, স্ত্রী হাসপাতালে
টর্চ জ্বালিয়ে জামায়াত কর্মীকে গুলি
নোয়াখালীর বেগমগঞ্জ দুর্বৃত্তের ছোড়া গুলিতে মাইনুল ইসলাম মাহিন (২৫) নামে এক জামায়াত কর্মী গুলিবিদ্ধ হয়েছেন।  রোববার (১০ মে) রাত সাড়ে ১১টার দিকে উপজেলার আমানউল্লাহপুর ইউনিয়নের আইয়ুবপুর গ্রামের ছাদু নেতার বাড়ি সংলগ্ন রাস্তায় এ ঘটনা ঘটে। গুলিবিদ্ধ মাহিন আইয়ুবপুর গ্রামের ছাদু নেতার বাড়ির আবুল হোসেনের ছেলে। গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট নোয়াখালী জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।  প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, সোমবার রাত সাড়ে ১১টায় নিজ বাড়ির সামনের রাস্তায় তার বন্ধুদের সঙ্গে কথা বলছিলেন মাহিন। হঠাৎ একটি সিএনজিচালিত অটোরিকশাযোগে কাপড়ে মুখ বাঁধা অবস্থায় ৪/৫ জন সেখানে এসে টর্চ লাইটের আলো জ্বালিয়ে হঠাৎ একটি গুলি করে। গুলিটি তার পায়ে লেগে সে পড়ে গেলে একই স্থানে আবারও গুলি করে তারা দ্রুত সিএনজিচালিত অটোরিকশাযোগে ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যায়। পরবর্তীতে স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে গুরুতর আহত অবস্থায় ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট নোয়াখালী জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করে। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে ঢাকায় রেফার করে। ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী শাইখুল আরেফিন শিহাব বলেন, আমরা রাস্তায় দাঁড়িয়ে কথা বলছিলাম। হঠাৎ কয়েকজন সিএনজিতে করে এসে গুলি করে আবার চলে যায়। তাদের মুখ কাপড় দিয়ে বাঁধা ছিল। বেগমগঞ্জ উপজেলা জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি আবদুর রহিম বলেন, অজ্ঞাত কয়েকজন সিএনজিযোগে আমাদের মাহিন নামে এক কর্মীকে গুলি করে পালিয়ে যায়। এটা রাজনৈতিক প্রতিহিংসা হতে পারে বলে আমরা প্রাথমিক ধারণা করছি। গুলিবিদ্ধ মাহিনকে ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট নোয়াখালী জেনারেল হাসপাতাল থেকে চিকিৎসকরা ঢাকায় রেফার করেছেন।  হাসপাতালের ইমারজেন্সি মেডিকেল অফিসার ডা. হাসান আল মুলক বলেন, গুলিবিদ্ধ অবস্থায় হাসপাতালে আসার পর রোগীর অবস্থা গুরুতর হওয়ায় আমরা তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজে রেফার করেছি। এ বিষয়ে বেগমগঞ্জ থানার পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) হাবিবুর রহমান বলেন, আমানউল্লাহ পুরে একজন গুলিবিদ্ধ হয়েছে। ঘটনা জানার পর আমরা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছি। কারা গুলি করেছে তা এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি।  
টর্চ জ্বালিয়ে জামায়াত কর্মীকে গুলি
সিলেট-আখাউড়া রেলপথ / জোড়াতালির লাইনে ‘মৃত্যুফাঁদ’ হয়ে উঠছে শতবর্ষী রুট
ব্রিটিশ আমলের শতবর্ষী সিলেট-আখাউড়া রেলপথ এখন যেন চলমান ঝুঁকির আরেক নাম। জরাজীর্ণ লাইন, পুরোনো ইঞ্জিন, ঝুঁকিপূর্ণ সেতু আর ঘনঘন যান্ত্রিক ত্রুটিতে প্রতিদিনই বাড়ছে দুর্ভোগ। শুধু মার্চ-এপ্রিলেই অন্তত ৩০টি ট্রেন বিলম্ব আর একের পর এক দুর্ঘটনা এই রুটকে যাত্রীদের কাছে ‘মহাআতঙ্কে’ পরিণত করেছে। লক্কর-ঝক্কর ইঞ্জিন আর নড়বড়ে রেললাইন পাড়ি দিয়ে আসা পর্যটকদের নিত্যদিনই পোহাতে হচ্ছে ভোগান্তি।  সিলেট রুটে মার্চ ও এপ্রিল মাসেই ট্রেনের আলোচিত ৪টি দুর্ঘটনা ঘটছে। গত ২৬ মার্চ ভৈরব বাজার জংশনে ঢাকা থেকে চট্টগ্রামগামী ট্রেনের বগি লাইনচ্যুত হওয়ায় সিলেট রুটের ট্রেন চলাচল বন্ধ থাকে। এর চার দিন পর ৩১ মার্চে মৌলভীবাজারের ভানুগাছ-শমশেরনগর এলাকায় উপবন এক্সপ্রেস ট্রেনের ইঞ্জিন বিকল হওয়ার কারণে ট্রেন চলাচল বিঘ্নিত হয়। এরপর দিন ১ এপ্রিল কুমিল্লায় সিলেট থেকে ছেড়ে আসা চট্টগ্রামগামী উদয়ন এক্সপ্রেস ট্রেনের তিনটি বগি বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে। এ সময় বগি তিনটি লাইনের ওপর রেখে প্রায় ১ কিলোমিটার দূরে চলে যায় ট্রেনটি। সবশেষ গত ২ এপ্রিল হবিগঞ্জের মাধবপুর উপজেলার মনতলায় সিলেটগামী তেলবাহী ট্রেনের ৫টি ওয়াগন লাইনচ্যুত হয়ে ১৪ ঘণ্টার বেশি সময় রেল যোগাযোগ বন্ধ ছিল। ব্রিটিশ আমলের রেলপথে আধুনিকতার অভাব অনুসন্ধানে জানা গেছে, ব্রিটিশ শাসন আমলে আসাম ও চট্টগ্রামের মধ্যে সরাসরি যোগাযোগ স্থাপনে ১৮৯৮ সালে সিলেট, কুলাউড়া ও আখাউড়া হয়ে চট্টগ্রাম পর্যন্ত রেললাইন স্থাপন করা হয়। পুরোনো ইঞ্জিন ও দুর্বল অবকাঠামোর কারণে নিয়মিত ইঞ্জিন বিকল হওয়ায় ঘটনা ঘটছে। বিশেষ করে পাহাড়ি এলাকায় রাতের বেলা আপ উঠার সময় বেশিরভাগ ট্রেন আটকা পড়ে। বর্তমানে ঢাকা-চট্টগ্রাম থেকে সিলেট রুটে প্রতিদিন ছয়টি আন্তঃনগর ট্রেন চলে। এর মধ্যে চারটি ট্রেন সিলেট-ঢাকা এবং দুটি সিলেট-চট্টগ্রামে চলাচল করে। এই ছয়টি ট্রেনে প্রতিদিন প্রায় ৩০ থেকে ৩৫ হাজার যাত্রী আসা যাওয়া করেন। এরসঙ্গে রয়েছে মৌলভীবাজার ও সিলেট আসা পর্যটক। সবমিলিয়ে বছরে প্রায় ১০ কোটি যাত্রী ভোগান্তি নিয়েই চলতে হয় সবসময়। আরও জানা গেছে, ২৬১০, ২৯০২ সহ বেশকিছু নম্বরের পুরাতন ইঞ্জিন সিলেট রুটে দেওয়া হয়েছে। এই ইঞ্জিনগুলো অনেক পুরাতন থাকায় লাউয়াছড়া বনাঞ্চলের পাহাড়ি এলাকায় উঠার সময় বিকল হয়ে যায়। আর এতে অনেক সময় পুরাতন ইঞ্জিনগুলো আংশিক বিকল ও পুরোপুরি বিকল হয়ে যায়। তবে বিভিন্ন ট্রেনে ভালো ইঞ্জিন যখন দেওয়া হয় তখন সহজেই পাহাড়ি এলাকা অতিক্রম করতে পারে। পুরাতন ইঞ্জিন নিয়ে প্রায় প্রতিদিন ট্রেনের শিডিউল বিলম্বিত হয়। কারণ যে ইঞ্জিন ঢাকা থেকে সিলেট আসে একই ট্রেন একই ইঞ্জিন নিয়ে আবার ফিরতে হয়। রেলপথে বাড়ছে নিরাপত্তা শঙ্কা এদিকে সিলেট-আখাউড়া রেলপথে অন্তত ১০টি সেতু ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়েছে। এসব সেতুতে রেলের গতি কমিয়ে চালানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। রেললাইন থেকে নিয়মিত নাট, বল্টু ও ক্লিপও চুরি হচ্ছে। এতে তীব্র গরমে লাইন বাঁকা হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। টুকটাক লাইন মেরামত করা হলেও বড় ধরনের মেরামতের উদ্যোগ নিচ্ছে না কর্তৃপক্ষ। পুরাতন রেললাইন থাকায় কোনো কারণ ছাড়াই ট্রেন লাইনচ্যুত হয়। ফলে এই অঞ্চলে সাধারণ যাত্রী ও আগত পর্যটকেরা যাতায়াত ব্যবস্থায় চরম ভোগান্তি পোহাতে হয়। বাংলাদেশ রেলওয়ে বলছে, দেশে চাহিদার তুলনায় ৭০ শতাংশ ট্রেনের ইঞ্জিন আছে। এজন্য পুরাতন ইঞ্জিন দিয়ে চলতে হচ্ছে। প্রয়োজনে ইঞ্জিন মেরামত করা হয়। এছাড়া বিকল্প কোনো রাস্তা নেই। অবকাঠামো যেখানে প্রয়োজন সেখানে মেরামত করা হয়। এই অঞ্চলে রেলের অবকাঠামো যে পুরোপুরি ঝুঁকিপূর্ণ সেটা বলা যাচ্ছে না, আবার পুরো খারাপ সেটাও বলা যাচ্ছে না। ঘনঘন রেলের ইঞ্জিন বিকল হওয়ায় বিষয়ে বাংলাদেশ রেলওয়ের অতিরিক্ত মহাপরিচালক (রোলিং স্টক) আহমেদ মাহবুব চৌধুরী এশিয়া পোস্টকে বলেন, ‘হঠাৎ করে এই রুটে কেন এই সমস্যাটা বেড়ে গেলো আমিও বুঝতে পারছি না। এর বিশেষ কোনো কারণ আছে কিনা, তা দেখতে হবে। ট্রেনের ইঞ্জিনের সমস্যা আছে ঠিক, তবে ঈদের পর থেকে বেশি সমস্যা হচ্ছে। আমরা খোঁজ খবর নিচ্ছি কী কারণে এই সমস্যাটা বেড়ে গেছে।’ এ বিষয়ে বাংলাদেশ রেলওয়ের অতিরিক্ত মহাপরিচালক (অবকাঠামো) আল ফাত্তাহ মো. মাসউদুর রহমান এশিয়া পোস্টকে বলেন, ‘সারাদেশে আমাদের ৮৫টি রেলের ইঞ্জিন প্রয়োজন। তবে আমাদের কাছে ৭০ শতাংশ ইঞ্জিন থাকায় কিছু সমস্যা হচ্ছে। এ কারণেই অনেক ট্রেনের বিলম্ব হয়। নতুন করে এডিপির একটি প্রকল্প শুরু করেছি, আগামী দুই থেকে তিন বছরের মধ্যে এ সমস্যা সমাধান হবে।’ অবকাঠামোর বিষয়ে তিনি আরও বলেন, ‘রেললাইনের অবস্থা অনুযায়ী মেরামত করা হয়। অবকাঠামো একেবারে ভালো বলবো না, তবে একেবারে খারাপও না। লাইনের অবস্থা অনুযায়ী রেলের গতি নির্ধারণ করে দেওয়া হয়। অবকাঠামোর জন্য আমাদের পূর্বাঞ্চলের রেললাইন পুনর্বাসনের জন্য একটি নতুন প্রকল্প অনুমোদনের প্রক্রিয়াধীন আছে। এটা অনুমোদন হলে বিভিন্ন কাজ করা যাবে।’  
জোড়াতালির লাইনে ‘মৃত্যুফাঁদ’ হয়ে উঠছে শতবর্ষী রুট
ফেনীতে ছেলের ছুরিকাঘাতে মায়ের মৃত্যু, বাবা-বোনের অবস্থা আশঙ্কাজনক
ফেনীর দাগনভূঞায় মাদক সেবনের টাকা না পেয়ে ছেলের ছুরিকাঘাতে লাকি বেগম (৪৫) নামের এক নারীর মৃত্যু হয়েছে। এ ঘটনায় গুরুতর আহত হয়েছেন তার স্বামী মোহাম্মদ মোস্তফা (৫৫) ও মেয়ে মিথিলা মোস্তফা (১৮)। আশঙ্কাজনক অবস্থায় তাদের চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। রোববার (১০ মে) রাত সাড়ে ৯টার দিকে উপজেলার সিন্দুরপুর ইউনিয়নের দিলপুর গ্রামের মকবুল আহমদ হুদুর বাড়িতে এ ঘটনা ঘটে। ঘটনার পর অভিযুক্ত ছেলে মোহাম্মদ রাফিককে (২১) আটক করেছে পুলিশ। এ সময় হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত দুটি ছুরি জব্দ করা হয়। পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, রাফিক দীর্ঘদিন ধরে মাদকাসক্ত ছিলেন। রোববার রাতে তিনি বাড়িতে এসে মাদক সেবনের জন্য মায়ের কাছে টাকা চান। মা টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানালে এবং তাকে শাসন করলে রাফিক ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠেন। একপর্যায়ে ধারালো ছুরি দিয়ে তিনি মায়ের ওপর হামলা করেন। মাকে বাঁচাতে বোন মিথিলা এগিয়ে গেলে তাকেও ছুরিকাঘাত করা হয়। পরে বাবা মোহাম্মদ মোস্তফা তাদের রক্ষা করতে গেলে তাকেও এলোপাতাড়ি কুপিয়ে জখম করা হয়। পরিবারের সদস্যদের চিৎকারে স্থানীয়রা এগিয়ে এসে রাফিককে আটক করে পুলিশে খবর দেন। পরে আহতদের উদ্ধার করে ফেনী ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক লাকি বেগমকে মৃত ঘোষণা করেন। হাসপাতালের জরুরি বিভাগের চিকিৎসক শাহরিয়ার কবির জানান, হাসপাতালে আনার আগেই অতিরিক্ত রক্তক্ষরণে লাকি বেগমের মৃত্যু হয়। আহত দুজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে তাদের চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। দাগনভূঞা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মুহাম্মদ ফয়জুল আজীম নোমান এশিয়া পোস্টকে জানান, খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে অভিযুক্ত রাফিককে আটক করেছে। হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত দুটি ছুরি জব্দ করা হয়েছে। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে রাফিক অনলাইনে ছুরি কেনার কথা স্বীকার করেছেন। ওসি আরও জানান, নিহত নারীর মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে রাখা হয়েছে। এ ঘটনায় আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন।
ফেনীতে ছেলের ছুরিকাঘাতে মায়ের মৃত্যু, বাবা-বোনের অবস্থা আশঙ্কাজনক
নিজের গরুর শিংয়ের আঘাতে বৃদ্ধের মৃত্যু
মৌলভীবাজারের কুলাউড়ায় নিজের গরুর শিংয়ের আঘাতে মো. কালাম মিয়া (৬৫) নামের এক বৃদ্ধের মৃত্যু হয়েছে। রোববার (১০ মে) সন্ধ্যায় উপজেলার হাজীপুর ইউনিয়নের চকরনচাপ গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। স্থানীয় সূত্র ও পুলিশ জানায়, বিকেল ৫টার দিকে প্রতিদিনের মতো মাঠ থেকে গরু আনতে যান কালাম মিয়া। সন্ধ্যার দিকে গরুটি হঠাৎ অস্বাভাবিক আচরণ শুরু করে। একপর্যায়ে সেটি আক্রমণাত্মক হয়ে কালাম মিয়াকে শিং দিয়ে আঘাত করে। এতে তিনি গুরুতর আহত হন। পরে ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয় বলে স্থানীয়রা জানান। কুলাউড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মনিরুজ্জামান মোল্যা ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে যায়। এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় আইনগত প্রক্রিয়া চলছে।
নিজের গরুর শিংয়ের আঘাতে বৃদ্ধের মৃত্যু
ঘরে ঢুকে ঘুমন্ত বৃদ্ধাকে কুপিয়ে হত্যা, স্ত্রী হাসপাতালে
ঘরে ঢুকে ঘুমন্ত বৃদ্ধাকে কুপিয়ে হত্যা, স্ত্রী হাসপাতালে
সিরাজগঞ্জের উল্লাপাড়া উপজেলায় পূর্ব বিরোধের এক দুগ্ধ সমিতির সাবেক ম্যানেজারকে নিজ বাড়িতে কুপিয়ে হত্যার ঘটনা ঘটেছে। এসময় তার স্ত্রীও আহত হয়। এ ঘটনায় একজনকে আটক করে পুলিশে সোপর্দ করেছে পুলিশ। রোববার (১০ মে) রাতে উপজেলার লাহিড়ী মোহনপুর ইউনিয়নের দত্তপাড়া এলংজানি গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।  নিহত সোবহান প্রামানিক (৭০) স্থানীয় এক দুগ্ধ সিমিতির সাবেক ম্যানেজার বলে জানা গেছে। এসময় তার স্ত্রী শেফালী খাতুনকেও কুপিয়ে আহত করা হয়েছে। আহত অবস্থায় তাকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। এ ঘটনায় আটককৃত হায়দুল ইসলাম (৫০) ওই গ্রামের ইসমাইলের ছেলে। স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, রাতে নিজ ঘরে ঘুমিয়ে ছিলেন সোবহান প্রামানিক ও তার স্ত্রী। এসময় দুর্বৃত্তরা ঘরে ঢুকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে তাদের ওপর হামলা চালায়। এতে ঘটনাস্থলেই সোবহান প্রামানিক নিহত হন। গুরুতর আহত হন তার স্ত্রী শেফালী খাতুন। পরে হামলাকারীরা দ্রুত ঘটনাস্থল ত্যাগ করে। ঘটনার পর স্থানীয়দের সন্দেহ হলে একই গ্রামের হায়দুল ইসলাম নামে একজনকে আটক করে পুলিশে সোপর্দ করা হয়। আটক হায়দুল ইসলাম ওই গ্রামের ইসমাইলের ছেলে। খবর পেয়ে উল্লাপাড়া মডেল থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য সিরাজগঞ্জ মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল মর্গে পাঠিয়েছে।  আরও জানা গেছে, একটি খাস পুকুরকে কেন্দ্র করে দীর্ঘদিন ধরে মোল্লা বংশ ও প্রামাণিক বংশের মধ্যে বিরোধ চলছিল। প্রায় দুই বছর আগে একই বিরোধকে কেন্দ্র করে ওই এলাকায় সংঘর্ষে বাবা-ছেলে নিহত হওয়ার ঘটনাও ঘটে। সেই ঘটনার জের ধরেই এই হত্যাকাণ্ড ঘটতে পারে বলে ধারণা করছেন তারা। এ বিষয়ে উল্লাপাড়া মডেল থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোক্তারুজ্জামান বলেন, ঘটনার খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। একজনকে আটক করেছে এলাকাবাসী। সে জড়িত কিনা যাচাই-বাছাই করা হচ্ছে। হত্যার কারণ ও জড়িতদের শনাক্তে তদন্ত চলছে।
টর্চ জ্বালিয়ে জামায়াত কর্মীকে গুলি
টর্চ জ্বালিয়ে জামায়াত কর্মীকে গুলি
নোয়াখালীর বেগমগঞ্জ দুর্বৃত্তের ছোড়া গুলিতে মাইনুল ইসলাম মাহিন (২৫) নামে এক জামায়াত কর্মী গুলিবিদ্ধ হয়েছেন।  রোববার (১০ মে) রাত সাড়ে ১১টার দিকে উপজেলার আমানউল্লাহপুর ইউনিয়নের আইয়ুবপুর গ্রামের ছাদু নেতার বাড়ি সংলগ্ন রাস্তায় এ ঘটনা ঘটে। গুলিবিদ্ধ মাহিন আইয়ুবপুর গ্রামের ছাদু নেতার বাড়ির আবুল হোসেনের ছেলে। গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট নোয়াখালী জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।  প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, সোমবার রাত সাড়ে ১১টায় নিজ বাড়ির সামনের রাস্তায় তার বন্ধুদের সঙ্গে কথা বলছিলেন মাহিন। হঠাৎ একটি সিএনজিচালিত অটোরিকশাযোগে কাপড়ে মুখ বাঁধা অবস্থায় ৪/৫ জন সেখানে এসে টর্চ লাইটের আলো জ্বালিয়ে হঠাৎ একটি গুলি করে। গুলিটি তার পায়ে লেগে সে পড়ে গেলে একই স্থানে আবারও গুলি করে তারা দ্রুত সিএনজিচালিত অটোরিকশাযোগে ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যায়। পরবর্তীতে স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে গুরুতর আহত অবস্থায় ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট নোয়াখালী জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করে। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে ঢাকায় রেফার করে। ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী শাইখুল আরেফিন শিহাব বলেন, আমরা রাস্তায় দাঁড়িয়ে কথা বলছিলাম। হঠাৎ কয়েকজন সিএনজিতে করে এসে গুলি করে আবার চলে যায়। তাদের মুখ কাপড় দিয়ে বাঁধা ছিল। বেগমগঞ্জ উপজেলা জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি আবদুর রহিম বলেন, অজ্ঞাত কয়েকজন সিএনজিযোগে আমাদের মাহিন নামে এক কর্মীকে গুলি করে পালিয়ে যায়। এটা রাজনৈতিক প্রতিহিংসা হতে পারে বলে আমরা প্রাথমিক ধারণা করছি। গুলিবিদ্ধ মাহিনকে ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট নোয়াখালী জেনারেল হাসপাতাল থেকে চিকিৎসকরা ঢাকায় রেফার করেছেন।  হাসপাতালের ইমারজেন্সি মেডিকেল অফিসার ডা. হাসান আল মুলক বলেন, গুলিবিদ্ধ অবস্থায় হাসপাতালে আসার পর রোগীর অবস্থা গুরুতর হওয়ায় আমরা তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজে রেফার করেছি। এ বিষয়ে বেগমগঞ্জ থানার পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) হাবিবুর রহমান বলেন, আমানউল্লাহ পুরে একজন গুলিবিদ্ধ হয়েছে। ঘটনা জানার পর আমরা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছি। কারা গুলি করেছে তা এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি।  
জোড়াতালির লাইনে ‘মৃত্যুফাঁদ’ হয়ে উঠছে শতবর্ষী রুট
সিলেট-আখাউড়া রেলপথ / জোড়াতালির লাইনে ‘মৃত্যুফাঁদ’ হয়ে উঠছে শতবর্ষী রুট
ব্রিটিশ আমলের শতবর্ষী সিলেট-আখাউড়া রেলপথ এখন যেন চলমান ঝুঁকির আরেক নাম। জরাজীর্ণ লাইন, পুরোনো ইঞ্জিন, ঝুঁকিপূর্ণ সেতু আর ঘনঘন যান্ত্রিক ত্রুটিতে প্রতিদিনই বাড়ছে দুর্ভোগ। শুধু মার্চ-এপ্রিলেই অন্তত ৩০টি ট্রেন বিলম্ব আর একের পর এক দুর্ঘটনা এই রুটকে যাত্রীদের কাছে ‘মহাআতঙ্কে’ পরিণত করেছে। লক্কর-ঝক্কর ইঞ্জিন আর নড়বড়ে রেললাইন পাড়ি দিয়ে আসা পর্যটকদের নিত্যদিনই পোহাতে হচ্ছে ভোগান্তি।  সিলেট রুটে মার্চ ও এপ্রিল মাসেই ট্রেনের আলোচিত ৪টি দুর্ঘটনা ঘটছে। গত ২৬ মার্চ ভৈরব বাজার জংশনে ঢাকা থেকে চট্টগ্রামগামী ট্রেনের বগি লাইনচ্যুত হওয়ায় সিলেট রুটের ট্রেন চলাচল বন্ধ থাকে। এর চার দিন পর ৩১ মার্চে মৌলভীবাজারের ভানুগাছ-শমশেরনগর এলাকায় উপবন এক্সপ্রেস ট্রেনের ইঞ্জিন বিকল হওয়ার কারণে ট্রেন চলাচল বিঘ্নিত হয়। এরপর দিন ১ এপ্রিল কুমিল্লায় সিলেট থেকে ছেড়ে আসা চট্টগ্রামগামী উদয়ন এক্সপ্রেস ট্রেনের তিনটি বগি বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে। এ সময় বগি তিনটি লাইনের ওপর রেখে প্রায় ১ কিলোমিটার দূরে চলে যায় ট্রেনটি। সবশেষ গত ২ এপ্রিল হবিগঞ্জের মাধবপুর উপজেলার মনতলায় সিলেটগামী তেলবাহী ট্রেনের ৫টি ওয়াগন লাইনচ্যুত হয়ে ১৪ ঘণ্টার বেশি সময় রেল যোগাযোগ বন্ধ ছিল। ব্রিটিশ আমলের রেলপথে আধুনিকতার অভাব অনুসন্ধানে জানা গেছে, ব্রিটিশ শাসন আমলে আসাম ও চট্টগ্রামের মধ্যে সরাসরি যোগাযোগ স্থাপনে ১৮৯৮ সালে সিলেট, কুলাউড়া ও আখাউড়া হয়ে চট্টগ্রাম পর্যন্ত রেললাইন স্থাপন করা হয়। পুরোনো ইঞ্জিন ও দুর্বল অবকাঠামোর কারণে নিয়মিত ইঞ্জিন বিকল হওয়ায় ঘটনা ঘটছে। বিশেষ করে পাহাড়ি এলাকায় রাতের বেলা আপ উঠার সময় বেশিরভাগ ট্রেন আটকা পড়ে। বর্তমানে ঢাকা-চট্টগ্রাম থেকে সিলেট রুটে প্রতিদিন ছয়টি আন্তঃনগর ট্রেন চলে। এর মধ্যে চারটি ট্রেন সিলেট-ঢাকা এবং দুটি সিলেট-চট্টগ্রামে চলাচল করে। এই ছয়টি ট্রেনে প্রতিদিন প্রায় ৩০ থেকে ৩৫ হাজার যাত্রী আসা যাওয়া করেন। এরসঙ্গে রয়েছে মৌলভীবাজার ও সিলেট আসা পর্যটক। সবমিলিয়ে বছরে প্রায় ১০ কোটি যাত্রী ভোগান্তি নিয়েই চলতে হয় সবসময়। আরও জানা গেছে, ২৬১০, ২৯০২ সহ বেশকিছু নম্বরের পুরাতন ইঞ্জিন সিলেট রুটে দেওয়া হয়েছে। এই ইঞ্জিনগুলো অনেক পুরাতন থাকায় লাউয়াছড়া বনাঞ্চলের পাহাড়ি এলাকায় উঠার সময় বিকল হয়ে যায়। আর এতে অনেক সময় পুরাতন ইঞ্জিনগুলো আংশিক বিকল ও পুরোপুরি বিকল হয়ে যায়। তবে বিভিন্ন ট্রেনে ভালো ইঞ্জিন যখন দেওয়া হয় তখন সহজেই পাহাড়ি এলাকা অতিক্রম করতে পারে। পুরাতন ইঞ্জিন নিয়ে প্রায় প্রতিদিন ট্রেনের শিডিউল বিলম্বিত হয়। কারণ যে ইঞ্জিন ঢাকা থেকে সিলেট আসে একই ট্রেন একই ইঞ্জিন নিয়ে আবার ফিরতে হয়। রেলপথে বাড়ছে নিরাপত্তা শঙ্কা এদিকে সিলেট-আখাউড়া রেলপথে অন্তত ১০টি সেতু ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়েছে। এসব সেতুতে রেলের গতি কমিয়ে চালানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। রেললাইন থেকে নিয়মিত নাট, বল্টু ও ক্লিপও চুরি হচ্ছে। এতে তীব্র গরমে লাইন বাঁকা হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। টুকটাক লাইন মেরামত করা হলেও বড় ধরনের মেরামতের উদ্যোগ নিচ্ছে না কর্তৃপক্ষ। পুরাতন রেললাইন থাকায় কোনো কারণ ছাড়াই ট্রেন লাইনচ্যুত হয়। ফলে এই অঞ্চলে সাধারণ যাত্রী ও আগত পর্যটকেরা যাতায়াত ব্যবস্থায় চরম ভোগান্তি পোহাতে হয়। বাংলাদেশ রেলওয়ে বলছে, দেশে চাহিদার তুলনায় ৭০ শতাংশ ট্রেনের ইঞ্জিন আছে। এজন্য পুরাতন ইঞ্জিন দিয়ে চলতে হচ্ছে। প্রয়োজনে ইঞ্জিন মেরামত করা হয়। এছাড়া বিকল্প কোনো রাস্তা নেই। অবকাঠামো যেখানে প্রয়োজন সেখানে মেরামত করা হয়। এই অঞ্চলে রেলের অবকাঠামো যে পুরোপুরি ঝুঁকিপূর্ণ সেটা বলা যাচ্ছে না, আবার পুরো খারাপ সেটাও বলা যাচ্ছে না। ঘনঘন রেলের ইঞ্জিন বিকল হওয়ায় বিষয়ে বাংলাদেশ রেলওয়ের অতিরিক্ত মহাপরিচালক (রোলিং স্টক) আহমেদ মাহবুব চৌধুরী এশিয়া পোস্টকে বলেন, ‘হঠাৎ করে এই রুটে কেন এই সমস্যাটা বেড়ে গেলো আমিও বুঝতে পারছি না। এর বিশেষ কোনো কারণ আছে কিনা, তা দেখতে হবে। ট্রেনের ইঞ্জিনের সমস্যা আছে ঠিক, তবে ঈদের পর থেকে বেশি সমস্যা হচ্ছে। আমরা খোঁজ খবর নিচ্ছি কী কারণে এই সমস্যাটা বেড়ে গেছে।’ এ বিষয়ে বাংলাদেশ রেলওয়ের অতিরিক্ত মহাপরিচালক (অবকাঠামো) আল ফাত্তাহ মো. মাসউদুর রহমান এশিয়া পোস্টকে বলেন, ‘সারাদেশে আমাদের ৮৫টি রেলের ইঞ্জিন প্রয়োজন। তবে আমাদের কাছে ৭০ শতাংশ ইঞ্জিন থাকায় কিছু সমস্যা হচ্ছে। এ কারণেই অনেক ট্রেনের বিলম্ব হয়। নতুন করে এডিপির একটি প্রকল্প শুরু করেছি, আগামী দুই থেকে তিন বছরের মধ্যে এ সমস্যা সমাধান হবে।’ অবকাঠামোর বিষয়ে তিনি আরও বলেন, ‘রেললাইনের অবস্থা অনুযায়ী মেরামত করা হয়। অবকাঠামো একেবারে ভালো বলবো না, তবে একেবারে খারাপও না। লাইনের অবস্থা অনুযায়ী রেলের গতি নির্ধারণ করে দেওয়া হয়। অবকাঠামোর জন্য আমাদের পূর্বাঞ্চলের রেললাইন পুনর্বাসনের জন্য একটি নতুন প্রকল্প অনুমোদনের প্রক্রিয়াধীন আছে। এটা অনুমোদন হলে বিভিন্ন কাজ করা যাবে।’  
ফেনীতে ছেলের ছুরিকাঘাতে মায়ের মৃত্যু, বাবা-বোনের অবস্থা আশঙ্কাজনক
ফেনীতে ছেলের ছুরিকাঘাতে মায়ের মৃত্যু, বাবা-বোনের অবস্থা আশঙ্কাজনক
ফেনীর দাগনভূঞায় মাদক সেবনের টাকা না পেয়ে ছেলের ছুরিকাঘাতে লাকি বেগম (৪৫) নামের এক নারীর মৃত্যু হয়েছে। এ ঘটনায় গুরুতর আহত হয়েছেন তার স্বামী মোহাম্মদ মোস্তফা (৫৫) ও মেয়ে মিথিলা মোস্তফা (১৮)। আশঙ্কাজনক অবস্থায় তাদের চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। রোববার (১০ মে) রাত সাড়ে ৯টার দিকে উপজেলার সিন্দুরপুর ইউনিয়নের দিলপুর গ্রামের মকবুল আহমদ হুদুর বাড়িতে এ ঘটনা ঘটে। ঘটনার পর অভিযুক্ত ছেলে মোহাম্মদ রাফিককে (২১) আটক করেছে পুলিশ। এ সময় হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত দুটি ছুরি জব্দ করা হয়। পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, রাফিক দীর্ঘদিন ধরে মাদকাসক্ত ছিলেন। রোববার রাতে তিনি বাড়িতে এসে মাদক সেবনের জন্য মায়ের কাছে টাকা চান। মা টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানালে এবং তাকে শাসন করলে রাফিক ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠেন। একপর্যায়ে ধারালো ছুরি দিয়ে তিনি মায়ের ওপর হামলা করেন। মাকে বাঁচাতে বোন মিথিলা এগিয়ে গেলে তাকেও ছুরিকাঘাত করা হয়। পরে বাবা মোহাম্মদ মোস্তফা তাদের রক্ষা করতে গেলে তাকেও এলোপাতাড়ি কুপিয়ে জখম করা হয়। পরিবারের সদস্যদের চিৎকারে স্থানীয়রা এগিয়ে এসে রাফিককে আটক করে পুলিশে খবর দেন। পরে আহতদের উদ্ধার করে ফেনী ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক লাকি বেগমকে মৃত ঘোষণা করেন। হাসপাতালের জরুরি বিভাগের চিকিৎসক শাহরিয়ার কবির জানান, হাসপাতালে আনার আগেই অতিরিক্ত রক্তক্ষরণে লাকি বেগমের মৃত্যু হয়। আহত দুজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে তাদের চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। দাগনভূঞা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মুহাম্মদ ফয়জুল আজীম নোমান এশিয়া পোস্টকে জানান, খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে অভিযুক্ত রাফিককে আটক করেছে। হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত দুটি ছুরি জব্দ করা হয়েছে। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে রাফিক অনলাইনে ছুরি কেনার কথা স্বীকার করেছেন। ওসি আরও জানান, নিহত নারীর মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে রাখা হয়েছে। এ ঘটনায় আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন।