খাগড়াছড়ির মানিকছড়ি উপজেলায় গত তিন মাসে অন্তত আটটি পাহাড় কেটে ফেলার অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয়দের দাবি, ভূমিদস্যু ও পাহাড়খেকোদের অব্যাহত তৎপরতায় এসব পাহাড় ধ্বংস হয়েছে।
পার্বত্য চট্টগ্রামের অন্যতম প্রাকৃতিক সৌন্দর্যমণ্ডিত জেলা খাগড়াছড়িতে সারা বছরই পর্যটকদের আনাগোনা থাকে। তবে নির্বিচারে পাহাড় কাটা ও বন উজাড়ের কারণে সেই প্রাকৃতিক ভারসাম্য এখন হুমকির মুখে।
স্থানীয় সূত্র জানায়, যোগ্যাছোলা ইউনিয়নের খাড়িছড়া, বড়ডলু, মহামুনি ও এয়াতলংপাড়া এলাকায় অবৈধভাবে পাহাড় কাটা হয়েছে। অরণ্য দখল, অবৈধ ভূমি দখল এবং বিভিন্ন নির্মাণকাজের আড়ালে এসব পাহাড় ধ্বংস করা হচ্ছে। অনেক ক্ষেত্রে রাতের আঁধারে গোপনে চলছে এ কার্যক্রম।
পিঠাছড়া বন ও বন্যপ্রাণী সংরক্ষণ উদ্যোগের নির্বাহী পরিচালক মাহফুজ রাসেল বলেন, একসময় মানিকছড়ির বিস্তীর্ণ এলাকায় প্রাকৃতিক বন ও পাহাড়ের সমৃদ্ধ পরিবেশ ছিল। কিন্তু লাগামহীন পাহাড় কাটা ও বৃক্ষনিধনের ফলে স্থানীয় প্রতিবেশ ব্যবস্থায় বড় ধরনের পরিবর্তন এসেছে, যা পরিবেশের জন্য মারাত্মক হুমকি।
প্রকৃতিপ্রেমী চাথোয়াই মারমা বলেন, আগে এসব পাহাড়ে ঘন সবুজ বন ছিল, ছিল নানা প্রজাতির বন্য প্রাণী। এখন নির্বিচারে গাছ কাটা ও পাহাড় ধ্বংসের কারণে জীববৈচিত্র্য বিলুপ্তির পথে। তিনি পাহাড় রক্ষায় দ্রুত কার্যকর উদ্যোগ নেওয়ার আহ্বান জানান।
খাগড়াছড়ির পরিবেশ অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক হাসান আহম্মদ জানান, অনুমতি ছাড়া পাহাড় কাটার দায়ে বাংলাদেশ পরিবেশ সংরক্ষণ আইন, ১৯৯৫ (সংশোধিত ২০১০) অনুযায়ী পাঁচজনের বিরুদ্ধে তিনটি মামলা করা হয়েছে। এ ছাড়া উপজেলা প্রশাসনের সঙ্গে যৌথভাবে অভিযান চালিয়ে এক লাখ টাকা জরিমানা আদায় করা হয়েছে।
জেলা প্রশাসক মো. আনোয়ার সাদাত বলেন, পাহাড় কাটা বন্ধে নিয়মিত অভিযান চালানো হচ্ছে। অভিযোগ পাওয়া মাত্র ঘটনাস্থলে গিয়ে জরিমানা এবং সরঞ্জাম জব্দ করা হচ্ছে। জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে বলেও জানান তিনি।




