নাটোরে ঘণ্টাব্যাপী আকস্মিক ঝড় ও শিলাবৃষ্টিতে আমসহ বিভিন্ন ফসলের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। বিশেষ করে আমের গুটি অবস্থায় এমন দুর্যোগে চরম দুশ্চিন্তায় পড়েছেন জেলার কৃষকরা।
মঙ্গলবার (৭ এপ্রিল) বিকেল ৫টার পর থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত জেলার বিভিন্ন এলাকায় দমকা হাওয়া, বজ্রপাত ও শিলাবৃষ্টি হয়। বিকেলের দিকে হঠাৎ আকাশ মেঘাচ্ছন্ন হয়ে পড়লে ঝড়-বৃষ্টি শুরু হয়, পরে থেমে থেমে শিলাবৃষ্টি চলতে থাকে।
দীর্ঘ সময় ধরে শিলাবৃষ্টি হওয়ায় মাঠের ফসলের ব্যাপক ক্ষতির আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। নাটোর সদর, বড়াইগ্রাম ও বাগাতিপাড়া উপজেলার আমবাগানগুলোতে শিলার আঘাতে গুটি ঝরে পড়েছে। পাশাপাশি অনেক জায়গায় ভুট্টা গাছ ভেঙে গেছে ও হেলে পড়েছে।
এদিকে নলডাঙা ও সিংড়া উপজেলার চলনবিল এলাকার বোরো ধানের ক্ষেতও ক্ষতির মুখে পড়েছে। ধানের শীষ বের হওয়ার সময়ে শিলাবৃষ্টি হওয়ায় ফলন কমে যাওয়ার শঙ্কা করছেন কৃষকরা।
বড়াইগ্রাম উপজেলার আমচাষি জামাল উদ্দিন জানান, হঠাৎ করে প্রচণ্ড ঝড় শুরু হয়ে পরে শিলাবৃষ্টি হয়। বাগানের প্রচুর আমের গুটি ঝরে গেছে। এ বছর সারসহ কীটনাশকের জন্য বাড়তি খরচ করতে হয়েছে। আবার যদি এমন প্রাকৃতিক দুর্যোগ হয় তাহলে ক্ষতির মুখে পড়তে হবে।
বাগাতিপাড়া উপজেলার ডুমরাই এলাকার কৃষক জহুরুল ইসলাম জনান, হঠাৎ ঝড় ও শিলাবৃষ্টিতে তার দেড় বিঘা জমির ভুট্টা ক্ষেতে ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। প্রবল বাতাসে অধিকাংশ গাছ হেলে পড়েছে, ফলে ফলন বিপর্যয়ের আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।
এদিকে, ঝড়-শিলাবৃষ্টির পর তাৎক্ষণিকভাবে ক্ষতির পরিমাণ নিরূপণ করা সম্ভব হয়নি বলে জানিয়েছে কৃষি বিভাগ।
জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক হাবিবুর রহমান বলেন, শিলাবৃষ্টিতে সাধারণত সব ধরনের ফসলই ক্ষতিগ্রস্ত হয়। ক্ষয়ক্ষতির সঠিক পরিমাণ জানতে মাঠ পর্যায়ে কাজ চলছে। শিগগিরই পূর্ণাঙ্গ তথ্য পাওয়া যাবে।




