
‘আমার পুলিশ, আমার দেশ, সবার আগে বাংলাদেশ’— প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে আগামীকাল রোববার (১০ মে) শুরু হচ্ছে চারদিনব্যাপী পুলিশ সপ্তাহ। বর্ণাঢ্য আয়োজনের মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠিতব্য এ কর্মসূচি চলবে আগামী ১৩ মে পর্যন্ত।
পুলিশ সপ্তাহের উদ্বোধনী দিনে সকালে রাজধানীর রাজারবাগ পুলিশ লাইন্স মাঠে অনুষ্ঠিত হবে বার্ষিক পুলিশ প্যারেড। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি বিভিন্ন কন্টিনজেন্ট ও পতাকাবাহী দলের সুশৃঙ্খল ও বর্ণিল প্যারেড পরিদর্শন ও অভিবাদন গ্রহণ করবেন। পাশাপাশি পুলিশ সদস্যদের উদ্দেশ্যে গুরুত্বপূর্ণ দিকনির্দেশনামূলক ভাষণ দেবেন।
পুলিশ সপ্তাহ উপলক্ষে পৃথক বাণী দিয়েছেন রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব মনজুর মোর্শেদ চৌধুরী ও ইন্সপেক্টর জেনারেল অব পুলিশ (আইজিপি) মো. আলী হোসেন ফকির।
রাষ্ট্রপতি তার বাণীতে বলেন, পুলিশের সততা, নিষ্ঠা, পেশাদারিত্ব ও শৃঙ্খলার ওপর রাষ্ট্রের স্থিতিশীলতা, সুশাসন ও উন্নয়ন অগ্রযাত্রা অনেকাংশে নির্ভরশীল।
তিনি বলেন, বর্তমান তথ্যপ্রযুক্তিনির্ভর বিশ্বে অপরাধের ধরন জটিল ও বহুমাত্রিক হয়ে উঠেছে। সাইবার অপরাধ, এআই ও ডিপফেক প্রযুক্তির অপব্যবহার মোকাবেলায় পুলিশ সদস্যদের আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহারে দক্ষ করে গড়ে তোলার ওপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি। একই সঙ্গে স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা ও মানবাধিকার সমুন্নত রেখে জনবান্ধব পুলিশিং জোরদারের আহ্বান জানান রাষ্ট্রপতি।
প্রধানমন্ত্রী তার বাণীতে বলেন, জনগণের নিরাপত্তা ও আস্থা নিশ্চিত না হলে উন্নয়ন ও গণতান্ত্রিক অগ্রযাত্রা ব্যাহত হতে পারে।
তিনি আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়নকে সরকারের অন্যতম অগ্রাধিকার উল্লেখ করে বলেন, মব সহিংসতা, কিশোর গ্যাং ও মাদকের বিস্তার রোধে পুলিশকে আরও কার্যকর ভূমিকা রাখতে হবে।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, প্রত্যেক পুলিশ সদস্যকে পেশাদারিত্বের আদর্শে উজ্জীবিত হয়ে মানুষের আস্থা ও সেবার প্রতীক হিসেবে গড়ে উঠতে হবে। নিরপরাধ মানুষ যাতে হয়রানির শিকার না হন, সে বিষয়ে সতর্ক থাকার নির্দেশনাও দেন তিনি।
স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব মনজুর মোর্শেদ চৌধুরী তার বাণীতে বলেন, আইনশৃঙ্খলা রক্ষা, অপরাধ প্রতিরোধ এবং জনগণের নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণে বাংলাদেশ পুলিশ প্রশংসনীয় ভূমিকা রেখে চলেছে। একটি কার্যকর, আধুনিক ও জনবান্ধব পুলিশ বাহিনী দেশের স্থিতিশীলতার জন্য অপরিহার্য বলেও উল্লেখ করেন তিনি।
আইজিপি মো. আলী হোসেন ফকির বলেন, প্রযুক্তিগত সক্ষমতা বৃদ্ধি ও আধুনিকায়নের মাধ্যমে বাংলাদেশ পুলিশকে আরও জনবান্ধব, গতিশীল ও জবাবদিহিমূলক বাহিনী হিসেবে গড়ে তোলার কার্যক্রম চলমান রয়েছে। তিনি জনগণের পাশে থেকে আন্তরিকতা ও নিষ্ঠার সঙ্গে সেবা প্রদানের প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।
এবারের বার্ষিক পুলিশ প্যারেডে অধিনায়ক হিসেবে নেতৃত্ব দেবেন ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের উপ-পুলিশ কমিশনার হাসান মোহাম্মদ নাছের রিকাবদার।
অনুষ্ঠানে ২০২৫ সালে অসীম সাহসিকতা ও বীরত্বপূর্ণ কাজের স্বীকৃতিস্বরূপ ‘বাংলাদেশ পুলিশ পদক (বিপিএম)’ ও ‘রাষ্ট্রপতির পুলিশ পদক (পিপিএম)’ প্রদান করা হবে। এছাড়া গুরুত্বপূর্ণ মামলার রহস্য উদঘাটন, অপরাধ নিয়ন্ত্রণ, কর্তব্যনিষ্ঠা, সততা ও শৃঙ্খলাপূর্ণ আচরণের জন্য ‘বিপিএম-সেবা’ ও ‘পিপিএম-সেবা’ পদক দেওয়া হবে। প্রধানমন্ত্রী পদকপ্রাপ্তদের হাতে পদক তুলে দেবেন।
বার্ষিক পুলিশ প্যারেড অনুষ্ঠানে মন্ত্রী, সংসদ সদস্য, বিদেশি কূটনীতিক, অতিরিক্ত আইজিপি, বিভিন্ন মেট্রোপলিটন পুলিশের কমিশনার, রেঞ্জ ডিআইজি, জেলার পুলিশ সুপারসহ বিশিষ্ট ব্যক্তিরা উপস্থিত থাকবেন।
পুলিশ সপ্তাহ উপলক্ষে জাতীয় দৈনিকগুলোতে বিশেষ ক্রোড়পত্র প্রকাশ করা হবে। সরকারি ও বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেলগুলোতে আয়োজন করা হয়েছে বিশেষ আলোচনা অনুষ্ঠান। এছাড়া রাজধানীর গুরুত্বপূর্ণ সড়ক ও সড়কদ্বীপ বর্ণিল সাজে সজ্জিত করা হবে।
পুলিশ সপ্তাহের উল্লেখযোগ্য কর্মসূচির মধ্যে রয়েছে— প্রধানমন্ত্রী কর্তৃক বাংলাদেশ পুলিশ নারী কল্যাণ সমিতির (পুনাক) স্টল পরিদর্শন, কল্যাণ প্যারেড, ঊর্ধ্বতন পুলিশ কর্মকর্তাদের উদ্দেশ্যে প্রধানমন্ত্রীর ভাষণ, আইজি’জ ব্যাজ প্রদান, শিল্ড প্যারেড, অস্ত্র ও মাদক উদ্ধার পুরস্কার বিতরণ এবং পুলিশ কর্মকর্তাদের সঙ্গে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ও বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রীদের সম্মেলন।
পুলিশ সপ্তাহের বিভিন্ন অধিবেশনে বিগত বছরের কার্যক্রম পর্যালোচনা করে আগামী বছরের কর্মপরিকল্পনা নির্ধারণ করা হবে। আগামী ১৩ মে আনুষ্ঠানিকভাবে শেষ হবে পুলিশ সপ্তাহ।




