
রাশিয়ার ইয়েকাতেরিনবার্গে অনুষ্ঠিতব্য ‘ইন্টারন্যাশনাল ফেস্টিভ্যাল অব ইয়ুথ-২০২৬’ এ অংশ নিতে বিশ্বের ১৯১টি দেশের এক লাখের বেশি আগ্রহী তরুণ-তরুণী আবেদন করেছেন। জমাকৃত আবেদন থেকে যাচাই-বাছাই এবং প্রতিযোগিতাশীল পদ্ধতির মাধ্যমে ১০ হাজার আবেদন অনুমোদন করা হবে। এদের মাধ্যমে রাশিয়ার ভেতর থেকে পাঁচ হাজার এবং বাকি পাঁচ হাজার আবেদনকারী বিশ্বের অন্যান্য দেশ থেকে নির্বাচিত হবে।
এ ছাড়াও রাশিয়ার ভেতর এবং বিশ্বের বিভিন্ন দেশ থেকে ৫০০ জন করে মোট এক হাজার শিশু প্রতিনিধিও অংশ নেবে আয়োজনে। আয়োজক কর্তৃপক্ষ বলছে, জমাকৃত আবেদনের মধ্যে বাংলাদেশ থেকে প্রায় এক হাজার আবেদন রয়েছে।
গত ৩০ এপ্রিল ইয়ুথ ফেস্টিভ্যাল-২০২৬ এ আবেদনের সময়সীমা শেষ হয়। আগামী ১১ থেকে ১৭ সেপ্টেম্বর ইয়েকাতেরিনবার্গে অনুষ্ঠিতব্য এ আয়োজনে ১০ হাজার যুব নেতৃত্ব দায়িত্ব ও উন্মুক্ত সংলাপে অংশ নিতে, অভিজ্ঞতা বিনিময়ে এবং আন্তর্জাতিক সহযোগিতা জোরদারে মিলিত হবেন।
যুব বিষয়ক রাশিয়ার কেন্দ্রীয় সংস্থা রসমোলোদেঝের সার্বিক নেতৃত্বে ওয়ার্ল্ড ইয়ুথ ফেস্টিভ্যাল অধিদপ্তর এই অনুষ্ঠানের আয়োজন করবে। ১৪ থেকে ৩৫ বছর বয়সী তরুণদের এই আয়োজনে আবেদনের সুযোগ ছিল। যাচাই-বাছাইয়ে নির্বাচিত প্রতিনিধিদের এই অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণের জন্য ভ্রমণ থেকে শুরু করে যাবতীয় ব্যয় বহন করবে আয়োজক কর্তৃপক্ষ।
আয়োজকদের পক্ষ থেকে এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বাংলাদেশ সময় সোমবার (৪ মে) দিবাগত মধ্যরাতে জানানো হয়, বিশ্বব্যাপী লক্ষাধিক যুব প্রতিনিধিদের আবেদনে উচ্ছ্বসিত রাশিয়া। রাশিয়ার উপ-প্রধানমন্ত্রী দিমিত্রি চেরনিশেঙ্কো এ বিষয়ে বলেন, ‘বিশ্বের ১৯১টি দেশ থেকে এক লাখের বেশি তরুণ আন্তর্জাতিক যুব উৎসবে অংশ নিতে আবেদন করেছে। তাদের মধ্যে অনেকে এর মধ্যে সামাজিক প্রকল্প বাস্তবায়ন করছেন, প্রযুক্তি উন্নয়নে কাজ করছেন, বিজ্ঞানক্ষেত্রে সফলতা অর্জন করছেন এবং নিজ নিজ দেশের প্রশাসনে কাজ করছেন। এই তরুণ নেতারা একত্রে বৈশ্বিক চ্যালেঞ্জের সমাধান খুঁজবেন। প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের নির্দেশনায় আমাদের দেশে তরুণদের আত্মপ্রকাশের জন্য বিস্তৃত সুযোগ তৈরি হচ্ছে—যা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।’
রসমোলোদেঝের প্রধান গ্রিগরি গুরভ বলেন, ‘তরুণদের আত্মপ্রকাশের সুযোগ বাড়ানো, আন্তর্জাতিক বন্ধুত্ব ও পেশাগত সম্পর্ক গড়ে তোলা এবং যৌথ প্রকল্প চালু করা; এই উৎসবের মূল অগ্রাধিকার। রাশিয়ার সব অঞ্চল থেকে ৪০ হাজার ২৩১টি আবেদন এসেছে। একইসঙ্গে আধুনিক ইতিহাসে প্রথমবারের মতো বিদেশি আবেদনকারীর সংখ্যা রাশিয়ানদের তুলনায় ২০ হাজার বেশি। ইউরোপ, আমেরিকা, আফ্রিকা, এশিয়া, মধ্যপ্রাচ্য এমনকি অস্ট্রেলিয়া থেকেও ৬২ হাজারের বেশি আবেদন এসেছে।’
ওয়ার্ল্ড ইয়ুথ ফেস্টিভ্যাল অধিদপ্তরের মহাপরিচালক দিমিত্রি ইভানভ বলেন, ‘ইয়েকাতেরিনবার্গে তরুণদের সক্রিয়তা আমাদের আনন্দিত করেছে। তারা দুই হাজারের বেশি আবেদন জমা দিয়েছে। তারা শুধু নিজেদের অর্জনই তুলে ধরেনি, বরং বিদেশি সমবয়সীদের সঙ্গে সম্পর্ক গড়ার আন্তরিক আগ্রহও দেখিয়েছে। বিদেশি দেশগুলোর মধ্যে আবেদন সংখ্যায় শীর্ষে রয়েছে আলজেরিয়া, পাকিস্তান ও ব্রাজিল। এ ছাড়া মরক্কো, উজবেকিস্তান, ভারত, ইন্দোনেশিয়া, কিরগিজস্তান, ভিয়েতনাম ও লিবিয়াও শীর্ষ দশে রয়েছে। রাশিয়া সারা বিশ্বের অংশগ্রহণকারীদের উন্মুক্ততা ও সম্মানের সঙ্গে স্বাগত জানাবে।’
এছাড়াও এশিয়া পোস্টের এক প্রশ্নের জবাবে অধিদপ্তরের পক্ষ থেকে জানানো হয়, এ বছর এই আয়োজনে বাংলাদেশ থেকে প্রায় এক হাজার আবেদন সফলভাবে জমা পড়েছে।
আয়োজকদের পক্ষ থেকে আরও জানানো হয়, এর মধ্যে বিশেষজ্ঞরা আবেদনগুলোর মূল্যায়ন শুরু করেছেন। সেখান থেকে ১০ হাজার সেরা প্রার্থী নির্বাচন করা হবে। মূল্যায়নের ক্ষেত্রে বিজ্ঞান ও শিক্ষা, ক্রীড়া, উদ্যোক্তা, গণমাধ্যম, আইটি ও ডিজিটাল, সৃজনশীল শিল্প, জনপ্রশাসন ও নাগরিক অংশগ্রহণ—এই আটটি ক্ষেত্রে দক্ষতাকে গুরুত্ব দেওয়া হবে। পাশাপাশি আন্তর্জাতিক সহযোগিতার আগ্রহ ও অভিজ্ঞতা বিনিময়ের মনোভাবও বিবেচনায় নেওয়া হবে। যারা মূল সময়ে আবেদন করতে পারেননি, তাদের জন্য ৩১ মে পর্যন্ত ‘রিজার্ভ’ নিবন্ধন চালু রয়েছে। মূল তালিকা থেকে কেউ অংশ নিতে না পারলে রিজার্ভ তালিকার আবেদনকারীরা সুযোগ পাবেন। আগামী জুলাইয়ের শেষে বা আগস্টের শুরুতে আবেদনের ফলাফল জানতে পারবেন আবেদনকারীরা।




