সংসদে বিরোধী ও সরকারি দলের মধ্যে সহযোগিতামূলক মনোভাবের ওপর গুরুত্বারোপ করে জাতীয় সংসদের বিরোধী দলীয় নেতা ডা. মো. শফিকুর রহমান বলেছেন, আইন প্রণয়নের ক্ষেত্রে সবাইকে একসঙ্গে কাজ করতে হবে। এখানে প্রতিযোগিতা নয়, সহযোগিতা প্রয়োজন।
তিনি সংসদে অপ্রয়োজনীয় বিতর্ক ও ব্যক্তিগত আক্রমণ পরিহার করে দেশের ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য একটি ন্যায়ভিত্তিক ও নিরাপদ বাংলাদেশ গঠনে সকলকে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানান।
রোববার (৫ এপ্রিল) সংসদে সরকারি দলের সদস্য জয়নুল আবদিন ফারুক (নোয়াখালী-২) কর্তৃক আনীত জন-গুরুত্বসম্পন্ন বিষয়ে মুলতবি প্রস্তাবের (বিধি-৬২) ওপর আলোচনায় অংশ নিয়ে এসব কথা বলেন।
জুলাই জাতীয় সনদ ২০২৫ ভবিষ্যতের পথ রেখা- একটি রাজনৈতিক সমঝোতার দলিল যা সংবিধান সংশোধনসহ বিভিন্ন আইন-কানুন প্রণয়ন, সংশোধন, সংযোজন পরিমার্জনের বিষয়ে তিনি প্রস্তাবটি আনেন।
বিরোধী দলের নেতা গণভোটের মাধ্যমে সংস্কার কার্যক্রম এগিয়ে নেওয়ার আহ্বান জানিয়ে বলেন, সবাই মিলে গণভোটের সিদ্ধান্ত মেনে নিয়ে সংস্কার পরিষদ গঠন এবং প্রয়োজনীয় আইন ও সংবিধান সংশোধনের মাধ্যমে আমরা এগিয়ে যেতে পারি।
তিনি বলেন, অতীতে একটি নির্দিষ্ট রাজনৈতিক দলের ওপর সবচেয়ে জঘন্য নির্যাতন চালানো হয়েছে এবং সেই প্রেক্ষাপটে তাদের বিরুদ্ধে অপপ্রচার সংসদের মর্যাদার পরিপন্থি। তিনি অভিযোগ করেন, ওই দলের শীর্ষ নেতাদের বিচারিক ও বিচারবহির্ভূত হত্যার শিকার করা হয়েছে, হাজারো কর্মীকে হত্যা ও নিপীড়নের মুখে পড়তে হয়েছে এবং দলটির নিবন্ধন ও প্রতীকও বাতিল করা হয়েছে।
তাদের দল কখনোই সংবিধান বাতিল বা ছুড়ে ফেলার কথা বলেনি উল্লেখ করে তিনি আরও বলেন, আমরা সংবিধানের সংস্কার চাই, যাতে ন্যায়ভিত্তিক ও ইনসাফভিত্তিক সমাজ প্রতিষ্ঠা করা যায় এবং ফ্যাসিবাদী ব্যবস্থার পুনরাবৃত্তি রোধ করা সম্ভব হয়।
জুলাই জাতীয় সনদ ও গণঅভ্যুত্থানকে তারা সম্পূর্ণভাবে সমর্থন করেন এবং এর বাস্তবায়নে কোনো আপত্তি নেই উল্লেখ করে শফিকুর রহমান বলেন, আমরা অর্ডার মানি, গণভোট মানি, সংস্কার পরিষদ গঠনের প্রস্তাব মানি এবং প্রয়োজন অনুযায়ী সংবিধান সংশোধনও মানি।
বিরোধী দলের নেতা তার বক্তব্যে দেশের রাজনৈতিক ইতিহাসের বিভিন্ন অধ্যায় ১৯৪৭, ১৯৫২, ১৯৭১ এবং সাম্প্রতিক গণঅভ্যুত্থান একটি ধারাবাহিক প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, এই ইতিহাসের কোনো অংশ অস্বীকার করা যাবে না; বরং সেগুলোর অভিজ্ঞতা থেকে শিক্ষা নিয়েই নতুন বাংলাদেশ গড়তে হবে।
তিনি আরও বলেন, অতীতে বিরোধী দলসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক শক্তি, আলেম-ওলামা, সাংবাদিক ও সিভিল সোসাইটির সদস্যরা নির্যাতনের শিকার হয়েছেন। সারা দেশটাই যেন একসময় কারাগারে পরিণত হয়েছিল।
ভবিষ্যৎ বাংলাদেশ সম্পর্কে তার দৃষ্টিভঙ্গি তুলে ধরে তিনি বলেন, এমন একটি রাষ্ট্র গড়ে তুলতে হবে যেখানে কোনো নাগরিক বৈষম্যের শিকার হবে না এবং কেউ অপরাধ করেও পার পাবে না—তার পরিচয় বা ক্ষমতা যাই হোক না কেন।




